কম্পাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
তরল পদার্থে পরিপূর্ণ কম্পাস
সাধারণ শুষ্ক ও বহনযোগ্য চৌম্বকীয় কম্পাস
স্মার্টফোনকে ম্যাগনেটোমিটারের সাহায্যে কম্পাস হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

কম্পাস (ইংরেজি: Compass) নৌপথে অথবা জরীপ কার্যে ব্যবহৃত প্রধান উপকরণ বা যন্ত্রাংশ যা কাঠামো নির্দেশক হিসেবে চৌম্বকীয় দণ্ডের সাহায্যে দিক নির্দেশনা করে। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিম - এ চারটি মৌলিক দিক কম্পাসে উল্লেখ থাকে। এছাড়াও অন্যান্য দিকগুলোও সংক্ষিপ্ত আকারে এতে চিহ্নিত থাকতে পারে। গোলাকৃতি কাঠামোর ব্যাসার্ধটি কম্পাস রোজ নামে পরিচিত। যখন এটি সমান্তরালে রাখা হয়, তখন এর কাটা সর্বদাই উত্তর দিককে নির্দেশনা দিয়ে থাকে। কৌণিকভাবে উত্তরকে ০ (শূন্য), পূর্বকে ৯০, দক্ষিণকে ১৮০ এবং পশ্চিমকে ২৭০ ডিগ্রীরূপে প্রকাশ করা হয়। এর সাহায্যে ব্যক্তি ভূ-ত্বকে সঠিক দিক-নির্দেশনার মাধ্যমে কাঙ্খিত লক্ষ্যস্থল খুঁজে পায়। চৌম্বক অথবা ঘূর্ণায়মান নীতিমালার সাহায্যে এ যন্ত্রের সাহায্যে পরিচালিত হয় কিংবা সূর্য অথবা তারার মাধ্যমেও দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সাগর-মহাসাগরের জাহাজ চলাচলে এবং মরুভূমিতে কিংবা অন্যকোন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্দেশনায় এর জুরি মেলা ভার।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

খ্রিষ্ট-পূর্ব ২০৬ সালের হ্যান রাজত্বকালে প্রাচীন চীনারা ভবিষ্যৎবাণী করার জন্যে প্রথম কম্পাস আবিষ্কার করেছিল বলে ধারনা করা হয়।[১][২][৩] বড় ধরনের চামচের ন্যায় চুম্বকজাতীয় পদার্থের সাহায্যে বর্গাকৃতি ব্রোঞ্জ প্লেটে এটিকে রাখা হয়েছিল।[৪] পরবর্তীতে ১০৪০-১০৪৪ সাল পর্যন্ত সং রাজত্বকালে সামরিকবাহিনীর মাধ্যমে নৌপথ পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করতো।[৫][৬][৭] এছাড়াও, ১১১১-১১১৭ সাল পর্যন্ত নৌপথ নজরদারীতে এর প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়।[৮] কিন্তু পশ্চিম ইউরোপে সর্বপ্রথম কম্পাসের ব্যবহারের প্রামাণ্য দলিল চিত্রিত রয়েছে ১১৮৭ থেকে ১২০২ সালের মধ্যে।[৯][১০][১১] পারস্যে ১২৩২ সালে কম্পাস ব্যবহার করা হয়েছিল।[৫] ইউরোপে ১৩০০ সালে শুষ্ক কম্পাস আবিষ্কৃত হয়।[১২] বিংশ শতকের প্রথমার্থে এর পরিবর্তে তরল পদার্থে পরিপূর্ণ চৌম্বকীয় কম্পাসের প্রচলন ঘটে।[১৩] প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও কম্পাস ব্যবহৃত হয়েছিল।

প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

বিশ্বব্যাপী দুই ধরনের কম্পাস ব্যবহার করা হয়। (ক) চৌম্বকীয় কম্পাস এবং (খ) জাইরো কম্পাস। মৌলিকভাবে এক হলেও কম্পাসের আকার-আকৃতি ভিন্নতর হতে পারে। তন্মধ্যে, চৌম্বকীয় কম্পাসে চুম্বক পদার্থ রয়েছে যা পৃথিবী পৃষ্ঠের চৌম্বক ক্ষেত্রগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং চৌম্বক দণ্ডের সাহায্যে দিক নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।[১৪] এটি সর্বদাই উত্তর মেরু পথকে নির্দেশ করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Merrill, Ronald T.; McElhinny, Michael W. (1983)। The Earth's magnetic field: Its history, origin and planetary perspective (2nd printing সংস্করণ)। San Francisco: Academic press। পৃ: 1। আইএসবিএন 0-12-491242-7  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  2. Li Shu-hua, p. 176
  3. Lowrie, William (2007)। Fundamentals of Geophysics। London: Cambridge University Press। পৃ: 281। আইএসবিএন 9780521675963। "Early in the Han Dynasty, between 300-200 BC, the Chinese fashioned a rudimentary compass out of lodestone... the compass may have been used in the search for gems and the selection of sites for houses... their directive power led to the use of compasses for navigation" 
  4. Compass, China, 220 BCE by Susan Silverman AC, Retrieved: 21 April, 2013
  5. ৫.০ ৫.১ Kreutz, p. 367
  6. Needham, p. 252
  7. Li Shu-hua, p. 182f.
  8. Colin A. Ronan; Joseph Needham (25 July 1986)। The Shorter Science and Civilisation in China। Cambridge University Press। পৃ: 28–29। আইএসবিএন 978-0-521-31560-9 
  9. Kreutz, p. 368
  10. Schmidl, Petra G. (1996–1997)। "Two Early Arabic Sources On The Magnetic Compass"। Journal of Arabic and Islamic Studies 1: 81–132  http://www.uib.no/jais/v001ht/01-081-132schmidl1.htm#_ftn4
  11. Lanza, Roberto; Meloni, Antonio (2006)। The earth's magnetism an introduction for geologists। Berlin: Springer। পৃ: 255। আইএসবিএন 978-3-540-27979-2 
  12. Lane, p. 615
  13. W. H. Creak: "The History of the Liquid Compass", The Geographical Journal, Vol. 56, No. 3 (1920), pp. 238-239
  14. The Earth's magnetic field is approximately that of a tilted dipole. If it were exactly dipolar, the compass would point to the geomagnetic poles, which would be identical to the North Magnetic Pole and South Magnetic Pole; however, it is not, so these poles are not equivalent and the compass only points 360' off at the geomagnetic poles.

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  • Admiralty, Great Britain (1915) Admiralty manual of navigation, 1914, Chapter XXV: "The Magnetic Compass (continued): the analysis and correction of the deviation", London : HMSO, 525 p.
  • Aczel, Amir D. (2001) The Riddle of the Compass: The Invention that Changed the World, 1st Ed., New York : Harcourt, ISBN 0-15-600753-3
  • Carlson, John B. (1975) "Lodestone Compass: Chinese or Olmec Primacy?: Multidisciplinary analysis of an Olmec hematite artifact from San Lorenzo, Veracruz, Mexico”, Science, 189 (4205 : 5 September), p. 753-760, DOI 10.1126/science.189.4205.753
  • Gies, Frances and Gies, Joseph (1994) Cathedral, Forge, and Waterwheel: Technology and Invention in the Middle Age, New York : HarperCollins, ISBN 0-06-016590-1
  • Gubbins, David, Encyclopedia of Geomagnetism and Paleomagnetism, Springer Press (2007), ISBN 1-4020-3992-1, ISBN 978-1-4020-3992-8
  • Gurney, Alan (2004) Compass: A Story of Exploration and Innovation, London : Norton, ISBN 0-393-32713-2
  • Johnson, G. Mark, The Ultimate Desert Handbook, 1st Ed., Camden, Maine: McGraw-Hill (2003), ISBN 0-07-139303-X
  • King, David A. (1983)। "The Astronomy of the Mamluks"। Isis 74 (4): 531–555। ডিওআই:10.1086/353360 
  • Kreutz, Barbara M. (1973) "Mediterranean Contributions to the Medieval Mariner's Compass", Technology and Culture, 14 (3: July), p. 367–383
  • Lane, Frederic C. (1963) "The Economic Meaning of the Invention of the Compass", The American Historical Review, 68 (3: April), p. 605–617
  • Li Shu-hua (1954) "Origine de la Boussole 11. Aimant et Boussole", Isis, 45 (2: July), p. 175–196
  • Ludwig, Karl-Heinz and Schmidtchen, Volker (1997) Metalle und Macht: 1000 bis 1600, Propyläen Technikgeschichte, Berlin : Propyläen-Verl., ISBN 3-549-05633-8
  • Ma, Huan (1997) Ying-yai sheng-lan [The overall survey of the ocean's shores (1433)], Feng, Ch'eng-chün (ed.) and Mills, J.V.G. (transl.), Bangkok : White Lotus Press, ISBN 974-8496-78-3
  • Needham, Joseph (1986) Science and civilisation in China, Vol. 4: "Physics and physical technology", Pt. 1: "Physics", Taipei: Caves Books, originally publ. by Cambridge University Press (1962), ISBN 0-521-05802-3
  • Needham, Joseph and Ronan, Colin A. (1986) The shorter Science and civilisation in China : an abridgement of Joseph Needham's original text, Vol. 3, Chapter 1: "Magnetism and Electricity", Cambridge University Press, ISBN 0-521-25272-5
  • Seidman, David, and Cleveland, Paul, The Essential Wilderness Navigator, Ragged Mountain Press (2001), ISBN 0-07-136110-3
  • Taylor, E.G.R. (1951) "The South-Pointing Needle", Imago Mundi, 8, p. 1–7
  • Williams, J.E.D. (1992) From Sails to Satellites: the origin and development of navigational science, Oxford University Press, ISBN 0-19-856387-6
  • Wright, Monte Duane (1972) Most Probable Position: A History of Aerial Navigation to 1941, The University Press of Kansas, Library of Congress Catalog Card Number 72-79318
  • Zhou, Daguan (2007) The customs of Cambodia, translated into English from the French version by Paul Pelliot of Zhou's Chinese original by J. Gilman d'Arcy Paul, Phnom Penh : Indochina Books, prev publ. by Bangkok : Siam Society (1993), ISBN 974-8298-25-6

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Flight instruments টেমপ্লেট:Aircraft components টেমপ্লেট:Aviation lists টেমপ্লেট:Orienteering