কম্পাঙ্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিভিন্ন কম্পাঙ্কের সাইন তরঙ্গ। নীচের দিকের তরঙ্গগুলোর কম্পাঙ্ক উপরের দিকের তরঙ্গগুলোর কম্পাঙ্কের চেয়ে বেশি। আনুভূমিক অক্ষ সময় নির্দেশ করছে।

কম্পাঙ্ক হলো একক সময়ে কোন পূনর্ঘটমান ঘটনা ঘটবার সংখ্যা। অর্থাৎ একটি ঘটনা যদি বারবার ঘটতে থাকে, তবে একক সময়ে ঐ ঘটনাটি যতবার ঘটবে তা হলো ঐ ঘটনার কম্পাঙ্ক।

সংজ্ঞা এবং একক[সম্পাদনা]

কোন পর্যাবৃত্ত গতি(Periodic Motion), যেমন ঘূর্ণন, স্পন্দন বা তরঙ্গ ইত্যাদির ক্ষেত্রে, কম্পাঙ্ক হলো এক সেকেন্ডে সম্পন্ন পূর্ণ স্পন্দনের সংখ্যা। পদার্থবিজ্ঞান এবং প্রকৌশলের বিষয়গুলিতে, যেমন আলোকবিজ্ঞান, বেতার বা শব্দ বিজ্ঞানে,কম্পাঙ্ককে ইংরেজি অক্ষর f বা গ্রিক অক্ষর ν (nu) দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

এস আই এককে কম্পাঙ্কের একক হলো হার্জ, প্রখ্যাত জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হাইনরিখ হার্জের নামানুসারে। এই একককে প্রথমদিকে পূর্ণস্পন্দন প্রতি সেকেন্ড বলা হতো। যেহেতু স্পন্দনকে শুধুমাত্র সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই কম্পাঙ্কের একক অনেক সময় :
\frac{1}{S}.
বা সময়−১ দিয়ে লেখা হয়[১]তরঙ্গের বেলায় তরঙ্গ দ্রুতিকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য দিয়ে ভাগ করে তরঙ্গের কম্পাঙ্ক পাওয়া যায়। হৃদস্পন্দন এবং সাংগীতিক তাল মাপা হয় বিপিএম (BPM-বিটস পার মিনিট) বা প্রতি সেকেন্ডে বিট সংখ্যা দিয়ে। ঘুর্ণণের বেলায় আবার কম্পাঙ্ক মাপা হয় আরপিএম (rpm-রেভোলিউশন পার মিনিট) বা প্রতি সেকেন্ডে ঘুর্ণন সংখ্যা দিয়ে। বিপিএম এবং আরপিএমকে ৬০ দ্বারা ভাগ করলে হার্জে পরিণত হয়। সুতরাং, ৬০ আরপিএম = ১ হার্জ।

পর্যায়কাল ও কম্পাঙ্ক[সম্পাদনা]

পর্যায়কাল বা দোলনকালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়, এবং এটি হচ্ছে কম্পাঙ্কের (f) ব্যস্তানুপাতঃ


T = \frac{1}{f}.

পর্যায়কালের এস আই একক হচ্ছে সেকেন্ড।

বোঝার সুবিধার্থে দীর্ঘ ও ধীরগতির তরঙ্গগুলোকে, যেমন সামুদ্রিক তরঙ্গকে, কম্পাঙ্কের বদলে পর্যায়কাল দ্বারা প্রকাশ করা হয়। অন্যপক্ষে ক্ষুদ্র ও দ্রুতগামী তরঙ্গগুলোকে, যেমন বেতার তরঙ্গ বা শব্দ তরঙ্গকে, হার্জ বা কম্পাঙ্কে প্রকাশ করা হয়। এদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিচের ছক থেকে বের করা যায়ঃ

কম্পাঙ্ক ১ মিলিহার্জ(mHz) (১০−৩) ১ হার্জ (Hz) (১০) ১ কিলোহার্জ (kHz) (১০) ১ মেগাহার্জ (MHz) (১০) ১ গিগাহার্জ (GHz) (১০) ১ টেরাহার্জ (THz) (১০১২)
পর্যায়কাল (সময়) ১ কিলো সেকেন্ড (ks) (১০) ১ সেকেন্ড (s) (১০) ১ মিলি সেকেন্ড (ms) (১০−৩) ১ মাইক্রো সেকেন্ড (µs) (১০−৬) ১ ন্যানো সেকেন্ড (ns) (১০−৯) ১ পিকো সেকেন্ড (ps) (১০−১২)

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত নবম ও দশম শ্রেণীর মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, পরিমার্জিত সংস্করণঃ ডিসেম্বর ২০০৮, পৃষ্ঠা নং ১০৬

{| class="wikitable"

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]