এরাসমুস রাইনহোল্ড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

এরাসমুস রাইনহোল্ড (জার্মান ভাষায়: Erasmus Reinhold) (২২শে অক্টোবর, ১৫১১ - ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ১৫৫৩) ছিলেন একজন জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ যাকে তার প্রজন্মের সবচেয়ে প্রভাবশালী জ্যোতির্বিদ্যা শিক্ষকদের একজন হিসেবে গণ্য করা হতো।[১] তিনি জার্মানির জাখসেন অঞ্চলের অন্তর্গত সালফেল্ড নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন ভিটেনবের্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইয়াকব মিলিশের অধীনে। ১৫৩৬ সালে তিনি প্রথমে উচ্চতর গণিতের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। সে সময় গণিতের অংশ হিসেবে ফলিত গণিতও পড়ানো হতো যার অংশ ছিল জ্যোতির্বিদ্যা।

রাইনহোল্ড অনেকগুলো তারার একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন। তার জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রকাশনার মধ্যে রয়েছে গেয়র্গ পুরবাখের Theoricae novae planetarum বইয়ের ব্যাপারে মন্তব্য। কোপের্নিকুস তার বিখ্যাত De revolutionibis বই প্রকাশের পূর্বেই রাইনহোল্ড তার সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন এবং পুরবাখের বইয়ের মন্তব্যে কোপের্নিকুসের পক্ষে লিখেছিলেন।[২] অবশ্য ইয়োহানেস কেপলার এবং গালিলেও গালিলেই এর আগের অন্য সব জ্যোতির্বিদদের মতো রাইনহোল্ডও কোপের্নিকুসের গাণিতিক মডেলটিকে আরেকটি ভূকেন্দ্রিক মডেলের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে পরিশেষে সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ বর্জন করেন। এর পেছনে মূল কারণ ছিল ধর্মীয়।[৩]

প্রুশিয়ার ডিউক আলবার্ট রাইনহোল্ডের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন এবং তার প্রুশীয় তালিকা (বা প্রুটেনীয় তালিকা) প্রকাশের ব্যাপারে আর্থিক সাহায্য দিয়েছিলেন। এই তালিকা পুরো সম্রাজ্যের সবখানে কোপের্নিকুসের পদ্ধতিতে গতিপথ নির্ণয়ের প্রক্রিয়া ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছিল। অবশ্য সব সময়ি এমনভাবে গণনাটি সাজানো হতো যাতে পৃথিবীকে স্থির ধরলেও কোন সমস্যা না হয়।[৪] রাইনহোল্ডের প্রুটেনীয় তালিকা এবং কোপের্নিকুসের গবেষণার ভিত্তিতেই পোপ গ্রেগরি ১৩ ১৫৮২ সালে বর্সপঞ্জি সংস্কার করেছিলেন।

রাইনহোল্ড কোপের্নিকুসের De revolutionibus বইয়ের যে কপিটিতে প্রচুর টীকা সংযুক্ত করেছিলেন সেটি এডিনবরার রাজকীয় মানমন্দির থেকে সংগ্রহ করেছিলেন ওয়েন জিঞ্জারিশ। জিঞ্জারিশের কর্ম তৎপরতায়ই পরবর্তীতে কোপের্নিকুসের এই বইটির প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণের বিস্তৃত গবেষণা সম্ভব হয়। এ কারণেই বলা হয় গুটেনবার্গ বাইবেলের পর অন্য কোন প্রাচীন বইয়ের প্রথম সংস্করণ নিয়ে এতো বিস্তারিত গবেষণা সম্ভব হয়নি।[৫] কোপের্নিকুসের বইয়ের উপর করা একটি মন্তব্য থেকে জানা যায় রাইনহোল্ড পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব মেপেছিলেন। অবশ্য তিনি পরিমাপের পদ্ধতিটি একটু অদল বদল করেছিলেন যাতে টলেমির উত্তরে পৌঁছানো যায়।[৬]

রাইনহোল্ডের নামে চাঁদের একটি সংঘর্ষ খাদের নাম রাখা হয়েছে। ইনসুলারুম সাগরে অবস্থিত কোপের্নিকুস খাদের দক্ষিণ-পূর্বে এই খাদটি অবস্থিত।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Owen Gingerich: The Role of Erasmus Reinhold and the Prutenic Tables in the Dissemination of the Copernican Theory, 1973, Studia Copernicana, Poland [১]
  2. Owen Gingerich, The Book Nobody Read (Heinman, 2004, p. 19)
  3. Hanne Andersen, Peter Barker, and Xiang Chen. The Cognitive Structure of Scientific Revolutions. New York: Cambridge University Press, 2006. pp 138-148
  4. Owen Gingerich, From Copernicus to Kepler (Proceedings of the American Philosophical Society, 1973)
  5. Owen Gingerich, The Book Nobody Read (Heinman, 2004, p. 25)
  6. Richard Kremer, Book review of On the distances between the sun, moon and earth [২]