ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ

ইউএসবি ফ্লাশ ড্রাইভ ফ্লাশ ডাটা স্টোরেজ ডিভাইস এবং ইউএসবি (ইউনিভারসাল সিরিয়াল বাস) ইন্টারফেস এর সমন্বয়ে গঠিত। ইউএসবি ফ্লাশ ড্রাইভ সাধারণত সিস্টেম থেকে বিচ্ছিন্নকরণযোগ্য এবং এতে পুনরায় ডাটা লিখা যায়। এটি বাহ্যিকভাবে ফ্লপি ড্রাইভ থেকে অনেক ছোট । অধিকাংশ ইউ এস বি ফ্লাশ ড্রাইভ ওজনে ৩০ গ্রাম এর চেয়ে কম ।[১] আকার ও খরচ ঠিক রেখে ২০১০ সালে ২৫৬ গিগা বাইট ধারণক্ষমতা পর্যন্ত ইউ এস বি ফ্লাশ ড্রাইভ তৈরী করা সম্ভব হয়েছে ।[২] কিছু ইউ এস বি ফ্লাশ ড্রাইভ ১০ বছর পর্যন্ত ডাটা ধরে রাখতে পারে। [৩]

ফ্লপি ড্রাইভ যে কারণে ব্যবহার করা হত ইউএসবি ফ্লাশ ড্রাইভ ও একই কারণে ব্যবহার করা হয় । ইউ এস বি ফ্লাশ ড্রাইভ আকারে ছোট, অনেক দ্রুত, হাজার গুণ বেশি ধারণক্ষমতা এবং চলমান পার্টস না থাকায় অনেক বেশি টেকসই এবং নির্ভরযোগ্য। আনুমানিক ২০০৫ সাল পর্যন্ত সকল ডেস্কটপ এবং ল্যাপ্টপ এর সাথে ফ্লপি ডিস্ক ড্রাইভ দেয়া হত, কিন্ত ইদানিং ইউ এস বি পোর্ট এর আনুকূল্যে ডেস্কটপ এবং ল্যাপ্টপ এর সাথে ফ্লপি ডিস্ক ড্রাইভ দেয়া হয় না। ফ্লাশ ড্রাইভ এ ইউএসবি মাস স্টোরেজ স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করা হয় যা আধুনিক অপারেটিং সিস্টেম যেমন উইন্ডোজ, ম্যাক ওএস এক্স, লিনাক্স ইত্যাদি স্বভাবতই চিনতে পারে। ইউ এস বি ২.০ ইন্টারফেস সম্পন্ন ইউ এস বি ড্রাইভগুলো অনেক বেশি ডাটা অপ্টিকাল ড্রাইভ এর চেয়ে অনেক দ্রুত স্থানান্তর করতে পারে এবং বেশ কিছু নতুন সিস্টেম যেমন এক্সবক্স ৩৬০, প্লেস্টেশন ৩, ডিভিডি প্লেয়ার ও কিছু স্মার্টফোন ইউ এস বি ২.০ সমর্থন করে এবং ডাটা পরতে পারে।

ফ্লাশ ড্রাইভ এ কোন কিছু এ যান্ত্রিকভাবে চলাচল করে না; তার পরেও ড্রাইভ নামটি রয়ে গেছে, এর কারণ হল কম্পিউটার যান্ত্রিক ডিস্ক এর ডাটা পড়ার জন্য যে সকল সিস্টেম ইন্সট্রাকশন ব্যবহার করত, ফ্লাশ ড্রাইভ এর ডাটা পড়ার জন্য ও একই সিস্টেম ইন্সট্রাকশন ব্যবহার করে যেন ইউ এস বি স্টোরেজটি কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম ও ব্যবহারকারীর ইন্টারফেস এর কাছে অন্য একটা ড্রাইভ হিসেবে উপস্থাপিত হয়। যান্ত্রিক হিসেবে ফ্লাশ ড্রাইভ অনেক ক্ষমতাসম্পন্ন। ফ্লাশ ড্রাইভে একটি ছোট ছাপানো সার্কিট বোর্ড থাকে যাতে এর অন্যান্ন যন্ত্রাংশ এবং ইউ এস বি কানেক্টর থাকে। সার্কিট বোর্ডটি ইলেকট্রিসিটি অপরিবাহি প্লাস্টিক বা ধাতু বা রাবার কেস দিয়ে আবৃত যা পকেটে বহনযোগ্য। ইউ এস বি কানেক্টর সাধারণত একটি অপসারণযোগ্য ক্যাপ দিয়ে ঢাকা থাকে বা কেস এর ভিতরে ঢুকিয়ে রাখা যায়। অধিকাংশ ফ্লাশ ড্রাইভ স্ট্যান্ডার্ড টাইপ-এ এউ এস বি কানেক্টর ব্যবহার করে। অধিকাংশ ফ্লাশ ড্রাইভ ইউ এস বি কানেকশন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেয়। এর জন্য কোন ব্যাটারি দরকার হয় না। কিছু ডিভাইস যাতে ডিজিটাল অডিও প্লেয়ার এর সাথে ফ্লাশ ড্রাইভ স্টোরেজ থাকে, এই ধরনের ডিভাইস এর জন্য ব্যাটারি দরকার হয়।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস [সম্পাদনা]

ট্রেক টেকনোলজি এবং আইবিএম সর্বপ্রথম ইউ এস বি ফ্লাশ ড্রাইভ বাজারে ছাড়ে ২০০০ সালে। ট্রেক টেকনোলজি একটি সিংগাপুরের কম্পানি। ট্রেক টেকনোলজি কর্তৃক প্রথম বাজারজাতকৃত ব্র্যান্ডের নাম "থাম্বড্রাইভ"। আইবিএম কর্তৃক বাজারজাতকৃত প্রথম ফ্লাশ ড্রাইভের নাম ছিল "ডিস্কঅনকি"। এটি একটি ইসরাইলি কম্পানি এম-সিস্টেমস কর্তৃক উদ্ভাবিত। উত্তর আমেরিকায় ইউ এস বি ফ্লাশ ড্রাইভ লভ্য হয় ২০০০ সালের ১৫ ই ডিসেম্বর। প্রথম "ডিস্কঅনকি" এর ধারণক্ষমতা ছিল ৮ মেগা বাইট।[৪] ট্রেক টেকনোলজি এবং নেটাক টেকনোলজি উভয় কম্পানি তাদের কৃতিস্বত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করে। যুক্তরাজ্যের একটি আদালত ট্রেক টেকনোলজির কৃতিস্বত্ব বাতিল করে।[৫]

ফিশন ইলেক্ট্রনিক্স কর্পোরেশন সর্বপ্রথম বিচ্ছিন্নকরণযোগ্য ইউ এস বি ফ্লাশ ড্রাইভ তৈরী করে এবং "পেন ড্রাইভ" নাম প্রচলন করে। [৬] আধুনিক ফ্লাশ ড্রাইভে ইউ এস বি ২.০ সংযোগ থাকে। ইউ এস বি ২.০ সংযোগের সর্বোচ্চ ডাটা স্থানান্তর গতি ৬০ মেগা বাইট/সেকেন্ড। কিন্ত নান্ড ফ্লাশের কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে ফ্লাশ ড্রাইভগুলো এত গতিময় নয়। তবে অধিকাংশ ফ্লাশ ড্রাইভের ডাটা পড়ার গতি ২০ মেগা বাইট/সেকেন্ড, এবং ডাটা লিখার গতি ১০ মেগা বাইট/সেকেন্ড। [৭]

নকশা এবং গঠন [সম্পাদনা]

ডিভাইসের এক প্রান্ত একটি পুরুষ টাইপ-এ ইউ এস বি সংযোজক দিয়ে লাগানো থাকে। প্লাস্টিক কেসের ভিতরে একটি ছোট সার্কিট বোর্ড বা বর্তনী মঞ্চ থাকে। বর্তনী মঞ্চে বৈদ্যুতিক যন্ত্রাদি এবং অল্প কিছু তল আরোহিত সমাকলিত বর্তনী (ইন্ট্রিগেটেড সার্কিট) বা আইসি থাকে। সাধারণত এর একটি আইসিতে ইউ এস বি পোর্ট ব্যবহারের ইন্টারফেস বা মাধ্যম থাকে অন্য একটি আইসি মঞ্চস্থিত স্মৃতি চালনা করে এবং অপর আইসিটি হল ফ্লাশ স্মৃতি বা মেমরি।

চিত্র:ফ্লাশ ড্রাইভের অভ্যন্তর.jpg
ফ্লাশ ড্রাইভের অভ্যন্তর

ইউ এস বি সংযোজক
ইউ এস বি ব্যাপক ভান্ডার নিয়ন্ত্রক ডিভাইস
পরীক্ষাকারী পিন
ফ্লাশ স্মৃতি
স্ফটিক স্পন্দক
এল ই ডি
লিখন-নিয়ন্ত্রন চাবি
বেদখল জায়গা

অত্যাবশ্যক অংশ [সম্পাদনা]

ফ্লাশ ড্রাইভের চারটি অত্যাবশ্যক অংশ আছে। এগুলো হলঃ

  • পুরুষ টাইপ-এ ইএ এস বি সংযোজক- কম্পিউটারের সাথে সংযোজন মাধ্যম প্রদান করে।
  • ইউ এস বি ব্যাপক ভান্ডার নিয়ন্ত্রক- ইউ এস বি পোষক নিয়ন্ত্রক তৈরী করে। এই নিয়ন্ত্রকে একটি ছোট ক্ষুদ্র-নিয়ন্ত্রক (মাইক্রোকন্ট্রোলার) থাকে যাতে অল্প পরিমাণ চিপস্থিত আর ও এম এবং আর এ এম থাকে।
  • নান্ড ফ্লাশ স্মৃতি বা মেমরি চিপ- তথ্য সংরক্ষণ করে।
  • স্ফটিক স্পন্দক- এটা ডিভাইসে ১২ মেগা হার্টজ স্পন্দন উৎপন্ন করে এবং একটি দশা-আটকানো ঘূর্ণনের মাধ্যমে তথ্য উৎপাদ প্রদান করে।

অতিরিক্ত অংশ [সম্পাদনা]

একটি ফ্লাশ ড্রাইভে আরও থাকতে পারেঃ

  • জাম্পার এবং পরীক্ষাকারী পিন- উৎপাদন বা ক্ষুদ্র-প্রক্রিয়াকারীতে (মাইক্রোপ্রসেসর) কোড বোঝাই করার সময় পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
  • এল ই ডি- তথ্য লিখা বা পড়ার সময় তা নির্দেশ করে।
  • লিখন-নিয়ন্ত্রন চাবি- স্মৃতিভান্ডারে লিখার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রন করে।
  • বেদখল জায়গা- আরেকটি স্মৃতিভান্ডার চিপের জন্য জায়গা।
  • ইউ এস বি সংযোজক আবরণী বা টুপি- ক্ষতির ঝুকি কমায়, ধূলা-বালি ও অন্যান্ন দূষকের প্রবেশ থামায় এবং ডিভাইসের আকৃতির উন্নয়ন সাধন করে। কিছু ফ্লাশ ড্রাইভে ভিতরে ঢুকানো যায় এরকম ইউ এস বি সংযোজক ব্যবহার করা হয়। কিছু ডিভাইস এমন থাকে যে এর একটি অংশের ভিতরে আরেকটি অংশ ঘুরিয়ে ঢুকিয়ে রাখা যায়।
  • বহন সহায়িকা- কেসে বা টুপিতে একটি ছিদ্র থাকে যাতে একটি ফিতা বা শৃঙ্খল লাগানো যায়।
  • কিছু ড্রাইভে স্মৃতি কার্ডের সরু ছিদ্র থাকে যাতে এর ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো যায়।


ইউএসবি ১.০ [সম্পাদনা]

১৯৯৬ সালের জানুয়ারিতে এই প্রযুক্তি মুক্তি পায়।

ইউএসবি ২.০ [সম্পাদনা]

২০০০ সালের এপ্রিলে এই প্রযুক্তি মুক্তি পায়।

ইউএসবি ৩.০ [সম্পাদনা]

২০০৮ সালের নভেম্বরে এই প্রযুক্তি মুক্তি পায়। এর ফলে তথ্য আদান প্রদানের সময় কমেছে, বিদ্যুৎ খরচ কমেছে।

তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]