আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ বৌদ্ধ ধর্মের অনাগত বুদ্ধকে আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ নামে অভিহিত করা হয়।

বুদ্ধ হওয়ার বর প্রাপ্তির ঘটনা[সম্পাদনা]

খৃষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীতে (১৫৩০ খৃঃ) থাইল্যান্ডের ভিক্ষু শ্রীমত্‍ ফ্রা রতন পঞঞা স্থবির কর্তৃক দেশিত "জিনকাল মালীপকরণ" নামক পুস্তক হতে আমরা জানতে পারি যে,আমাদের ভবিষ্যত বুদ্ধ আর্য মৈত্রেয় মারজয়ী তথাগত মহুত সম্যক সম্বুদ্ধ হতে বুদ্ধ হওয়ার বর প্রাপ্ত হয়েছিলেন।মৈত্রেয় বুদ্ধের বর প্রাপ্তির পর তিনি ষোল অসংখ্যেয় কালসহ লক্ষাধিক কল্প পারমী পূর্ণ করেছেন।বর্তমানে তিনি তুষিত স্বর্গে (১৩) অবস্থান করেছেন।ভবিষ্যতে জগতে তিনি সম্যক সম্বুদ্ধরূপে আবির্ভূত হবেন।

আবির্ভাবের সময়[সম্পাদনা]

মানুষের আয়ু তাদের অকুশল কর্মের প্রভাবে ত্রূমে ১০ বত্সসরে এসে পৌঁছবে এবং কুশল কর্মের প্রভাবে তাদের আয়ু বাড়তে থাকবে।যখন তাদের আয়ু ৮০ হাজার বত্স।র হবে তখন জগতে মৈত্রেয় বুদ্ধের আর্বিভাব হবে।কিন্তু অটঠকথায় উল্লেখ আছে যে,সংবর্ত কল্পে (৩০) বুদ্ধের আবির্ভাব হয় না।তাহলে মানুষেয় আয়ু অসংখ্যেয় বত্সটর হয়ে আবার যখন ত্রূমে ৮০ হাজার বত্স র হবে তখন জগতে আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধের আর্বিভাব হবে।গৌতম বুদ্ধ ও আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধের সময়ের কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নেই।তবে অনাগতবংশ গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে,আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ দশ কোটি বত্সনর পর জগতে আবির্ভূত হবেন।কিন্তু অটঠকথা মতে ইহাতে অনেক শত সহস্র বত্স্রেয় কোটিগুণ বুঝায়।আর্য মৈত্রেয় বোধিসত্ত্ব ষোল অসংখ্যেয় কালসহ লক্ষাধিক কল্প পারমী পরিপূর্ণ করে বর্তমানে তুষিত স্বর্গে অবস্থান করতেছেন।তিনি সেখানে স্মৃতিমান হয়ে অবস্থান করতেছেন।তিনি তাঁর পূর্বজন্ম সম্বন্ধে অবগত আছেন।তিনি তুষিত স্বর্গে দেবতাদের আয়ুষ্কাল পর্যন্ত অবস্থান করবেন।এখানকার দেবতাদের আয়ুষ্কাল ৫৭ কোটি ৬০ লক্ষ বত্স়র।জগতে বুদ্ধরূপে আবির্ভাব হওয়ার এক হাজার বছর পূর্বে দেব ব্রক্ষাগণ তার আবির্ভাবের ঘোষণা দেবেন।এই ঘোষণাকে "বুদ্ধ কোলাহল" বলা হয়।

প্রতিসন্ধি গ্রহণ[সম্পাদনা]

আর্য মৈত্রেয় বোধিসত্ত্ব তুষিত দেবলোক হতে চ্যুত হয়ে স্মৃতিমান ও সম্প্রজ্ঞান সমন্বিত অবস্থায় মাতৃগর্ভে প্রবেশ করবেন।বোধিসত্ত্বের প্রতিসন্ধি গ্রহণকালে নিম্নলিখিত আশ্চর্য ও অদ্ভুত ঘটনার আবির্ভাব হবে।যখন বোধিসত্ত্ব তুষিত দেবলোক হতে চ্যুত হয়ে মাতৃকুক্ষিতে প্রবেশ করবেন,তখন,দেবলোক,মারভুবন,ব্রক্ষলোক এবং শ্রমণ ব্রাক্ষণ ও দেব মনুষ্য সহিত এই পৃথিবীতে দেবতাগণের দেবানুভাব অতিক্রম করে অপরিমিত মহান আলোকের প্রকাশ হবে।অনন্ত ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন লোকান্তরিক নিরয় যে স্থানে মহাবলশালী চন্দ্র ও সূর্যের কিরণ প্রবেশ করতে অক্ষম,সে স্থান ও দেবতাগণের দেবতানুভাব অতিক্রম করে অপরিমিত মহান আলোকের প্রকাশ হবে।যে সকল প্রাণী ঐ স্থানে উৎপন্ন তারা ঐ আলোকে পরস্পর জানতে সক্ষম হবে, “ওহে অন্যান্য প্রাণীও এ স্থানে উৎপন্ন হয়েছে।দশ সহস্র জগৎ সম্পন্ন এই ব্রক্ষান্ড কম্পিত হবে,প্রকম্পিত হবে,সঞ্চারিত হবে।এ দেবতাগণের দেবানুভাব অতিক্রম করে অপরিমেয় বিপুল দীপ্ত বিশ্বে প্রাদুর্ভূত হবে।এইরূপ অদ্ভুত ঘটনার আবির্ভাব হবে।আর্য মৈত্রেয় বোধিসত্ত্ব মাতৃকুক্ষিতে প্রবিষ্ট হলে তাঁর রক্ষার জন্য চার দেবপুত্র আগমন করবেন যাহাতে মনুষ্য অথবা অমনুষ্য কেহই বোধিসত্ত্ব অথবা তাঁর মাতার কোন অনিষ্ট সাধন করতে না পারে।বোধিসত্ত্ব মা্তৃকুক্ষিতে প্রবিষ্ট হলে তার মাতা স্বভাবতঃ শীলবর্তী হবেন;প্রাণাতিপাত,অদত্তের গ্রহণ,ব্যভিচার,মুষাবাদ,সুরামেয়াদি মদ্যপান হতে বিরত হবেন এবং তিনি পুরুষের প্রতি রাগোপসংহিত চিত্ত উৎপাদন করবেন না।তিনি রক্তচিত্ত পুরুষের প্রভাবের অতীত হবেন।বোধিসত্ত্বের মাতা পঞ্চেন্দ্রিয়ের পরিতৃপ্তিরূপে সুখের অধিকারী হবেন এবং এই সুখের উপকরণরুপ ভোগ্য বস্তুসমূহের দ্বারা পরিবেষ্টিত ও সেবিত হয়ে বিহার করবেন।তিনি কোন প্রকার রোগাক্রান্ত হবেন না,অক্লান্ত দেহে সুখ অনুভব করবেন।কুক্ষিগত বোধিসত্ত্বকে সর্বাঙ্গ ও সর্বেন্দ্রিয় সম্পন্ন দেখতে পাবেন।

আয়ুষ্কাল ও শারিরীক বর্ণনা[সম্পাদনা]

আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধের আয়ুষ্কাল হবে বিরাশি (৮২) হাজার বৎসর,তিনি উচ্চতায় অষ্টাশি (৮৮) হাত হবেন।প্রস্থে পঁচিশ (২৫) হাত হবেন এবং উচ্চতা ও প্রস্থানুযায়ী অন্যান্য বিষয়ের দৈর্ঘ্য প্রস্থ হবে।পায়ের তলা হতে হাটু পর্যন্ত তাঁর পরিমাপ হবে বাইশ (২২) হাত,হাটু হতে নাভিমন্ডলের পরিমাণ হবে বাইশ (২২) হাত,নাভিমন্ডল হতে কন্ঠাস্থির পরিমাণ হবে বাইশ (২২) হাত,কন্ঠাস্থি হতে মস্তকশীর্ষ পর্যন্ত পরিমাপ হবে বাইশ (২২) হাত,তাঁর উভয় বাহুদ্বয়ের দৈর্ঘ্য হবে পাঁচ (৫) হাত,প্রত্যেক আঙ্গুল হবে চার (৪) হাত,প্রত্যেক হাতের তালু পাঁচ (৫) হাত,নাকের উচ্চতা সাত (৭) হাত,প্রত্যেক চক্ষুগর্ত সাত (৭) হাত,প্রত্যেক চক্ষু সাত (৭) হাত,চক্ষুদ্বয়ের মধ্যে ফাঁক পাঁচ (৫) হাত,প্রত্যেক কান সাত (৭) হাত এবং প্রত্যেক কানের পরিধি পঁচিশ (২৫) হাত হবে।তিনি বত্রিশ মহাপুরুষ লক্ষণ এবং অশীতি অনুব্যঞ্জন যুক্ত হবেন।চন্দ্র সূর্য আলোক উজ্জ্বলতার মধ্যে সুবর্ণ তারকার ন্যায় তাঁর শরীর হতে ষড়রশ্মি (৩১) নির্গত হবে।এই ষড়রশ্মি দশ সহস্র চক্রবাল পর্যন্ত আলোকিত করবে।সর্বক্ষণ বুদ্ধের রশ্মি বিদ্যমান থাকবে এবং দিবারাত্রির মধ্যে তারতম্য প্রত্যক্ষ করতে অসম্ভব হয়ে পড়বে।

জনসাধারণ ও রাজার কথা[সম্পাদনা]

জনসাধারণ জলপদ্ম ও স্থলপদ্মের পাতা ও পাঁপড়ি দেখে এবং পক্ষীদের কলরব শুনে সন্ধ্যা এবং সূর্যাস্ত নির্ণয় করবে।মানুষেরা পক্ষীর কলরব শুনে সূর্যোদয় এবং সকাল সম্বন্ধে অবগত হবে এবং বাহির হয়ে জল পদ্ম ও স্থল পদ্মের পাতা ও পাঁপড়ির উন্মোচন দেখে দিবা সম্বন্ধে অবগত হবে।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ যখন মাটিতে পা স্থাপন করবেন তখন তাঁর পাদতল হতে ত্রিশ হাত বহিঃ পাঁপড়ি,পঁচিশ হাত অন্তঃ পাঁপড়ি,ষোল হাত পুষ্পবৃন্ত,দশ হাত পুষ্প রেণু বিশিষ্ট পদ্ম প্রস্ফুটিত হবে।জনসাধারণ বাণিজ্য ও কৃষিকার্যে নিয়োজিত না হয়েও সুস্বাদু ভাত খেয়ে কোন রোগবালাই ছাড়া স্বচ্ছন্দে জীবন যাপন করবে।বুদ্ধের মহিমায় এবং করুণায় জনসাধারণ ধর্মের প্রতি উৎসাহিত হয়ে সংসার হতে মুক্ত হয়্র সুন্দর কাপড়ে ও অলংকারে সুসজ্জিত হবে।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধের পারমীর পরিপূর্ণ করার সময় অন্যান্য বুদ্ধের হতে সম্পূর্ণ পারমীর বৈশিষ্ট্যের জন্য একইরূপ হবে।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ চক্রবর্তীরাজা শঙ্খের রাজধানী কেতুমতী (বর্তমান বারাণসী) নগরে জন্মগ্রহণ করবেন।তখন জম্বুদ্বীপে ৮৪ হাজার নগর থাকবে।নব্বই কোটি রাজপুত্র থকবে।জম্বুদ্বীপের পরিধি হবে ১ লক্ষ লীগ।কেতুমতী নগর কন্টক বিহীন স্বচ্ছ সবুজ তৃণাবৃত থাকবে।এই তৃণের উচ্চতা হবে আঙ্গুলের মত এবং উহা নরম কাপড়ের মত সুকোমল হবে।আবহাওয়া সব সময় অনুকূলে থাকবে।বৃষ্টিপাত সময়োপযোগী হবে এবং বাতাস অতি উষ্ণ হবে না,অতি শীতল হবে না।নদ-নদী ও পুষ্করিনীতে জল পূর্ণ থাকবে।মটর এবং শিমের আকৃতিতে মসৃণ শ্বেত বালুরাশি হবে।সমস্ত জম্বুদ্বীপ ফুলে ফুলে সজ্জিত থাকবে।গ্রামে নিগমে জনসাধারণ খুব কাছাকাছি বসবাস করবে।তারা শান্ত নিরাপদ এবং নিঃশংক থাকবে।তাদের প্রীতি,সুখ ও আনন্দ মুখর আয়োজন অনুষ্ঠান হবে।তাদের খাদ্য পানীয় প্রচুর পরিমাণে থাকবে।কুরুরাজ্যের রাজধানী অলকানন্দের ন্যা্য জম্বুদ্বীপ সদা উল্লাসিত থাকবে।কেতুমতী ১২ লীগ লম্বা এবং ৭ লীগ প্রস্থ জম্বুদ্বীপের রাজধানী।রাজধানীতে পদ্ম প্রস্ফুটিত পুষ্করিনী থাকবে।পুষ্করিনীর জল স্বচ্ছ,পরিষ্কার,সুস্বাদু ও সুগন্ধযুক্ত।জনসাধারণের পক্ষে সহজেই পুষ্কারিনীতে সকল সময়ে উঠতে নামতে কোন অসুবিধা হবে না।কেতুমতী নগরের সপ্ত রং সজ্জিত সাত সারি তাল গাছ থাকবে।কেতুমতী শহরের অভ্যন্তরে পীত লোহিত শ্বেত কল্পতরু (২৪) সজ্জিত থাকবে।এই কল্পতরু হতে স্বর্গীয় মনিরত্ন ঝুলতে থাকবে এবং ইচ্ছানুযায়ী ধন-সম্পদ কল্পতরু হতে পাওয়া যাবে।এই কেতুমতী নগরে শঙ্খ নামে একজন চক্রবর্তী রাজার আবির্ভাব হবে।অতীত জন্মে তিনি ও তাঁর পিতা একজন পচ্চেক বুদ্ধের জন্য একটা পর্ণকুটির তৈরী করে দিয়েছিলেন।তাঁরা পচ্চেক বুদ্ধকে এখানে তিন মাস বর্ষাবাসের জন্য আহবান করেছিলেন এবং বর্ষাবাসের পর ত্রিচীবর (৩৫) দান করেছিলেন।এই পর্ণকুটিরে সাতজন পচ্চে বুদ্ধ(৩৫) কে এইভাবে বসবাস করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।মৃত্যেুর পর তাঁরা তাবতিংস দেবলোকে উৎপন্ন হয়েছিলেন।শক্র তাঁর পিতাকে মর্তে মহাপনাদ রাজপুত্র হিসেবে জন্মগ্রহণ করার অনুরোধ করেন।দেবতাদের মধ্যে স্থপতি বিশ্বকর্মা মহাপনাদের জন্য একটা প্রাসা্দ নি্র্মাণ করেছিলেন।গৌতম বুদ্ধের সময় মহাপনাদ ভদ্দজী স্থবির ছিলেন।এক সময় গঙ্গা নদীর তলদেশ হতে মহাপনাদের প্রাসাদ স্বোদর হয়ে এসেছিল।এই প্রাসাদ ভবিষ্যত শঙ্খের জন্যে অপেক্ষা করছে।এই শঙ্খরাজ অতীত জন্মে পচ্চেক বুদ্ধকে পর্ণকুটির নির্মাণ করে দিয়েছিলেন।যখন চক্রবর্তী শঙ্খ জগতে আবির্ভূত হবেন,তখন কেতুমতী নগরের মধ্যস্থলে মহাপনাদ প্রাসাদ স্বতঃস্ফুর্তভাবে বের হয়ে আসবে।এই প্রাসাদ এত চোখজ্বলসানো যে উহার প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করা কঠিন হবে।রাজা শঙ্খ সপ্তরত্নের অধিকারী হবেন।যথা-চক্ররত্ন,হস্তীরত্ন,অশ্বরত্ন,মনিরত্ন,স্ত্রীরত্ন,গৃহপতিরত্ন ও বিনায়ক রত্ন।রাজার শীল প্রভাবে রাজ্যে কল্পতরুর আবির্ভাব হবে।রাজ্যের জনসাধারণের শীল প্রভাবে বিনা চাষে স্বয়ং জাত তন্ডুল উৎপন্ন হবে।উহা বিশুদ্ধ,সুগন্ধযুক্ত এবং কনবদ্ধ তুষবিহীন হবে।কেতুমতী বাসীদের যে যত তন্ডুল চাইবে,সে তত পরিমাণ তন্ডুল পাবে।কেতুমতী বাসীগণ অত্যন্ত ধনী হবে,তারা মানসিক ও শারিরীক দিক দিয়ে অত্যন্ত সুখী হবে।রাজা শঙ্খের ৮৪ হাজার নর্তকী থাকবে।তাঁর এক সহস্র পুত্র থাকবে।তাঁর শ্রেষ্ঠ পুত্র তার প্রধান মন্ত্রী হবে।রাজা বিনা অস্ত্রে বিনা যুদ্ধে ধর্মানুসারে সসাগরা জম্বুদ্বীপ জয় করবেন।

জন্ম[সম্পাদনা]

আর্য মৈত্রে্য বুদ্ধ কেতুমতী রাজ্যর এক বিখ্যাত ব্রাক্ষণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করবেন।তাঁর পিতার নাম হবে সুব্রক্ষ।তিনি চক্রবর্তী রাজা শঙ্খের প্রধান পুরোহিত হবেন।তাঁর মাতার নাম হবে ব্রক্ষবর্তী।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধের গৃহী নাম হবে অজিত।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ কেতুমতী নগরের এক অরণ্যে জন্মগ্রহণ করবেন।তাঁর মাতা ব্রক্ষবতীর দন্ডায়মান অবস্থায় বুদ্ধের জন্ম হবে।তিনি যখন মাতৃকুক্ষি হতে নিষ্ক্রান্ত হবেন,প্রথমে দেবগণ তাঁকে গ্রহণ করবেন।মাতৃকুক্ষি হতে নিষ্ক্রান্ত হয়ে ভূমিস্পর্শে আসার আগে দেবগণ তাঁকে গ্রহণ করে তাঁর মাতার সম্মুখে স্থাপন করে ব্লবেনঃ-দেবী!সুপ্রসন্ন হউন,আপনার মহাশক্তি সম্পন্ন পুত্র জন্মগ্রহণ করেছেন।বোধিসত্ত্ব যখন তাঁর মাতৃকুক্ষি হতে নিষ্ক্রান্ত হবেন তখন তিনি সুনির্মল থাকবেন;জল,শ্রেষ্মা,রুধির অথবা কোন প্রকার অশুচি দ্বারা লিপ্ত হবেন না।মাতৃকুক্ষি হতে নিষ্ক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে অন্তরীক্ষ হতে দুটা জল ধারা নির্গত হবে একটা শীতল,অপরটা উষ্ণ।এই জল ধারায় বোধিসত্ত্ব ও তাঁর মাতার প্রক্ষালন কার্য সম্পন্ন হবে।তারপর তিনি সমপাদদোপরি স্থিত হবেন এবং উত্তরাভিমুখী হয়ে সপ্ত পদ গমন করবেন।দেবগণ তাঁর মস্তকপরি শ্বেতছত্র ধারণ করবেন।তিনি সর্বদিকে দৃষ্টিপাতপূর্বক এই মহত্ব ব্যঞ্জক বাক্য উচ্চারণ করবেন-এই পৃথিবীতে আমি অগ্র,আমি জ্যেষ্ঠ এবং আমি শ্রেষ্ঠ।ইহাই আমার সর্বশেষ জন্ম আর আমার পুনঃজন্ম নাই।বোধিসত্ত্বের জন্মের সাথে দেবলোক,মারভুবন,ব্রক্ষলোক এবংশ্রমণ ব্রাক্ষণ ও দেব-মনুষ্য সহিত এই পৃথিবীতে দেবগণের দেবানুভাব অতিক্রম করে অপ রিমেয় বিপুল দীপ্তি বিশ্বে প্রাদুর্ভূত হবে।অনন্ত ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন লোকান্তরিক নিরয় যে স্থানে মহাবলশালী চন্দ্র ও সূর্যের কিরণ ও প্রবেশ করতে অক্ষম,সে স্থানেও দেবগণের দেবানুভাব অতিক্রম করে অপরিমেয় বিপুল দীপ্তি প্রাদুর্ভূত হবে।যে সকল প্রানী ঐ স্থানে উৎপন্ন হয়েছে তারাও এই আলোকে পরস্পরকে জানতে সক্ষম হবে ওহে,অন্যান্য প্রাণীও এই স্থানে উৎপন্ন হয়েছে।দশ সহস্র জগৎ সম্পন্ন ব্রক্ষান্ড কম্পিত হবে,প্রকম্পিত হবে,সঞ্চারিত হবে।দেবতাগণের দেবতানুভাব অতিক্রম করে অপরিমেয় বিপুল দীপ্তি বিশ্বে প্রাদুর্ভূত হবে।আর্য মৈত্রেয় বোধিসত্ত্বের জন্মের পর নৈমিত্তিক ব্রাক্ষণ তাঁকে দেখে তাঁর বত্রিশ মহাপুরুষ লক্ষণের প্রতি আকৃষ্ট হবেন।এই বত্রিশ মহাপুরুষ লক্ষণ সমন্বিত ব্যক্তির মাত্র দুই গতি,অন্য গতি নাই।যদি তিনি গৃহবাসী হন,তাহলে তিনি চক্রবর্তী রাজা হবেন,ধার্মিক ধর্মরাজ চতুরন্ত বিজেতা হন,তাঁর রাজ্য শান্তি দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত হয়,তিনি সপ্ত রত্নের অধিকারী হন,যথা-চক্ররত্ন,হস্তীরত্ন,অশ্বরত্ন,মনিরত্ন,স্ত্রীরত্ন,গৃহপতিরত্ন ও মন্ত্রীরত্ন।তিনি সুর বীর শত্রু সেনা মর্দনক্ষম সহস্রাধিক পুত্র লাভ করেন।তিনি এই সসাগরা পৃথিবী দন্ড ও অস্ত্রবিনা ধর্ম্মানুসারে জয় করে বাস করেন।যদি তিনি গৃহত্যাগ করে প্রবজ্যা আশ্রয় নেন,তাহলে জগতে তিনি মায়াবরণ মুক্ত অর্হৎ সম্যক সম্বুদ্ধ হন।নৈমিত্তিক ব্রাক্ষণদের ভবিষ্যৎ বাণী শুনে বোধিসত্ত্বের পিতা সুব্রক্ষ তাঁকে যাতে সংসার ত্যাগী সন্ন্যাসী হতে না পারেন তজ্জন্য সচেষ্ট হবেন।তিনি তাঁর ভোগ বিলাসের বিবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

গৃহীজীবন[সম্পাদনা]

আর্য মৈত্রেয় বোধিসত্ত্ব আট হাজার বৎসর গৃহী জীবন যাপন করবেন।তাঁর জন্য চারটা প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে।যথা-(১) শ্রীবদ্ধ,(২)বর্দ্ধমান,(৩)সিদ্ধার্থ ও (৪)ছন্দক।তাঁর শত সহস্র নর্তকী পরিচারিকা থাকবে। আর্য মৈত্রেয় বোধিসত্ত্বের স্ত্রীর নাম হবে চন্দ্রমুখী এবং তাঁর পুত্রের নাম হবে ব্রক্ষবর্ধন।

চারনিমিত্ত দর্শন এবং মহাভিনিষ্ক্রমণ[সম্পাদনা]

আট হাজার বৎসর গৃহীজীবন যাপনের পর একদিন আর্য মৈত্রেয় বোধিসত্ত্ব কেতুমতী নগরের উদ্যানভূমি দর্শনার্থে সারথী নিয়ে রথে যাত্রা করবেন।তাঁর রথ স্বর্গীয় সুষমন্ডিত প্রাসাদের মত দেখাবে।তিনি চার প্রকার নিমিত্ত দেখে সংসার জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হবেন।চারনিমিত্ত হল-(১)জরাগ্রস্থ বৃদ্ধ ব্যক্তি,(২)ব্যাধিগ্রস্থ জীর্ণ ব্যক্তি,(৩)মৃত ব্যক্তি শ্মশানের দিকে বহন করার দৃশ্য ও (৪)প্রব্রজিত সন্ন্যাসী।এই চারনিমিত্ত দেখে সংসারত্যাগের জন্য অত্যন্ত উদগ্রীব হবেন।আর্য মৈত্রেয় বোধিসত্ত্ব সোভিত,পদুমুত্তর,ধর্মদর্শী এবং কশ্যপ বুদ্ধের মত আপন প্রাসাদ নিয়ে মহাভিনিষ্ক্রমন করবেন।বুদ্ধবংশ অর্থকথায় উল্লেখ আছে যে,উদ্বায়ী ভাসমান প্রাসাদ আকাশে,উড্ডীয়মান হয় এবং যে বোধিবৃক্ষ মূলে বোধিসত্ত্ব বুদ্ধ হবেন সেই বৃক্ষে পরিবেষ্টিত হয়ে পৃথিবীতে নেমে আসেন।প্রাসাদের মহিলাবৃন্দ নিজ নিজ ইচ্ছামত প্রাসাদ ত্যাগ করে চলে যায়।বোধিসত্ত্ব বোধিবৃক্ষ মূলে একাকী ধ্যান মগ্ন হন।আর্য মৈত্রেয় বোধিসত্ত্ব প্রাসাদে অবস্থান করে যখন অভিনিষ্ক্রয়মনের কথা চিন্তা করবেন,এই প্রাসাদ আকাশে উত্থিত হবে এবং বোধিসত্ত্বের সপরিষদ এই প্রাসাদে অবস্থান করবেন।তখন দশ সহস্র চক্রবালে দেবগণ পুষ্প দিয়ে তাঁকে পূজা করবেন।জম্বুদ্বীপের ৮৪ হাজার নগরের এবং দেশের জনগণ তাঁকে ফুল সুগন্ধি দিয়ে পূজা করবেন,অসুর পুরীর রাজাগণ আর্য মৈত্রেয় বোধিসত্ত্বের প্রাসাদ পাহাড়া দেবেন। নাগরাজগণ বোধিসত্ত্বকে মূল্যবান মনি দিয়ে পূজা করবেন।সুপর্ণ রাজাগণ তাদের গলার মনিরত্ন খচিত মালা উপহার দেবেন।গন্ধর্বগণ তাঁকে নৃত্য বাদ্য সহকারে সম্মান প্রদর্শন করবেন।বোধিসত্ত্বের সহিত কেতুমতী রাজ্যের চক্রবর্তী রাজসহ সকল রাজপরিষদ থাকবেন।চক্রবর্তী রাজা ও মহাসত্ত্বের মহিমায় সকল পরিষদ প্রবজ্যা গ্রহণ করবেন।তারা মহাসত্ত্বের সহিত বোধিবৃক্ষের মূলে সমবেত হবেন তখন মহাব্রক্ষা ষাট লীগ বিশিষ্ট শ্বেতছত্র নিয়ে বোধিসত্ত্বের মস্তকোপরি উত্তোলন করবেন।দেবরাজ শক্র বিজুত্তর শঙ্খধ্বনি করবেন।যাম স্বর্গের দেব রাজ সুযাম চমরীধেনুর পূচ্ছানির্মিত পাখা দিয়ে বোধিসত্ত্বকে পূজা করবেন।তুষিত স্বর্গের দেবপুত্র সন্তষিত মনিরত্নময় পাখা ধরবেন।গন্ধর্বরাজ পঞ্চসিখ স্বর্গীয় বীণা বেলুপণ্ড নিয়ে বাজাতে থাকবেন।চতুর্মহারাজিক দেবগণ প্রাসাদের চারদিকে বেষ্টন করে অবস্থান করবেন এবং প্রাসাদ পাহাড়া দেবেন।এই স্থানের দেবগণ,মনুষ্যগণ,গন্ধর্বগণ,যক্ষগণ,নাগগণ,সুপর্ণগণ বোধিসত্ত্বের সম্মুখে পশ্চাতে পাশে থেকে তাঁর সহিত গমন করবেন।এইভাবে মহাজাকজমকে বোধিসত্ত্ব দেব মনুষ্য পরিবেষ্টিত হয়ে আকাশে প্রাসাদোপরি অবস্থান করবেন।এই সময়ে মহাব্রক্ষা ব্রক্ষলোক হতে অবতরণ করবেন এবং তাঁর ঋদ্ধিবলে অষ্টপরিষ্কার (৩৬) সৃষ্টি করে বোধিসত্ত্ব্কে অর্পণ করবেন।বোধিসত্ত্ব তাঁর মাথার কেশ কর্তন করে আকাশের দিকে ছুঁড়ে দেবেন।তারপর তিনি মহাব্রক্ষা প্রদত্ত অষ্টপরিষ্কার পরিধান করে প্রবজ্জিতরূপে সজ্জিত হবেন।এই বোধিবৃক্ষস্থলে বোধিসত্ত্ব সাতদিন কঠোর সাধনা করবেন।বোধিসত্ত্বের সহিত আগত মনুষ্যগণ প্রবজ্যা গ্রহণ করে নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করে সাধনায় মগ্ন হবেন।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধের বোধিবৃক্ষ হবে নাগেশ্বর বৃক্ষ।এই বৃক্ষ উচ্চতায় ১২০ হাত এবং চার প্রধান শাখা থাকবে উহাদের ১২০ হতে ১৩০ হাত হবে।তাহা ছাড়া এই বৃক্ষের দুই হাজার ছোট ছোট শাখা থাকবে।এই শাখাগুলি অগ্রভাগ নিম্নমুখী থকবে এবং সর্ব সময়ে নড়তে থাকবে।এই বৃক্ষে চক্রের মত বড় বড় নাগফুলে শোভিত থাকবে।এই পুষ্পের পুষ্পরেণু স্বর্গীয় সুগন্ধে সুবাসিত করে রাখবে।এই সুবাসিত সুগন্ধ বাতাসের অনুকূলে প্রতিকূলে প্রবাহিত হয়ে দশ লীগ বেষ্টিত এলাকায় বিস্তৃত থাকবে।এই বৃক্ষের পত্রগুলি সকল ঋতুতে গাঢ় সবুজ থাকবে এবং পুষ্প মানুষের দিকে বিস্তৃত থাকবে।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ তাঁর পরিবারের লোকজনসহ বন্ধু-বান্ধব ও রাজপরিষদকে সঙ্গে নিয়ে এই অভিনিষ্ক্রমণ করবেন।তাদের মধ্যে চতুরঙ্গ সেনা এবং চর্তুবর্ণ পরিষদ থাকবে এবং তারা প্রবজ্যা গ্রহণ করবে।তাঁর সহিত ৮৪ হাজার রাজপুত্র এবং ৮৪ হাজার ত্রিদেবজ্ঞ ব্রাক্ষণও থাকবেন।বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে ইসিদত্ত ও পুরাণ ভ্রাত্রদ্বয়,জাতিমিত্র ও বিজয় অপরিমিত প্রাজ্ঞদ্বয়,সুদ্ধিক গৃহপতি,সুদত্ত জনৈক মহৎ ব্যক্তি,বিসাখ ও যশবতী দম্পতি প্রভৃতি থাকবেন।তাহা ছাড়া সামাজিক বিভিন্ন পদবিধারী লোকজন তাঁর সহিত থাকবেন।বুদ্ধদের চারটি অপরিবর্তিত স্থান থাকে।যথাঃ-(১)সম্বোধিলাভের স্থান বুদ্ধগয়া,(২)ধর্মচক্র প্রবর্তনের স্থান ঋষিপতন,(৩)অভিধর্ম দেশনার প্র মর্তে অবতরণের স্থান সাংকাশ্য ও (৪)শ্রাবস্তীর বুদ্ধের দীর্ঘকাল অবস্থানের স্থান গন্ধকুটি বিহার।

বুদ্ধত্ব লাভ ও ধর্মপ্রচার[সম্পাদনা]

আর্য মৈত্রেয় বোধিসত্ত্ব বুদ্ধত্ব লাভের দিন পায়সান্ন গ্রহণ করবেন।তারপর বোধিবৃক্ষের মূলে ঘাস প্রসারিত করে নির্দিষ্ট আসনে বসবেন।প্রথমে তিনি আনাপান স্মৃতিপ্রস্থান অনশীলন করবেন।তখন মার তাঁর সৈন্যসহ বোধিসত্ত্বকে ধ্যান চ্যুত করতে অগ্রসর হবেন।কিন্তু বুদ্ধের পারমী পূরণের প্রভাবে মার পরাজিত হয়ে দুঃখিত মনে বোধিবৃক্ষের স্থান হতে প্রস্থান করবেন।সম্বোধিলাভের পর তিনি আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ নামে অভিহিত হবেন।সম্বোধি প্রাপ্তির পর আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ বোধিবৃক্ষের চারপাশে সাত সপ্তাহ বিমুক্তি সুখে অতিবাহিত করবেন।তারপর তিনি তাঁর অধীত ধর্ম প্রচারের জন্য মহাব্রক্ষা কর্তৃক অনুরুদ্ধ হবেন।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ নাগবনে সর্ব প্রথম ধর্ম প্রবর্তন করবেন।এই নাগবন কেতুমতী নগরের ঋষিপত্তন নামক স্থানে অবস্থিত।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ ধর্ম প্রবর্তন কালে একশত লীগ বিস্তৃত স্থানে মহাজনতা সম্মেলন হবে।সেই সময়ে দেবলোক হতে দেবতাগণ সম্মেলনে যোগদান করবেন।ধর্মচক্র প্রবর্তনকালে একশত কোটি সত্ত্বের ধর্মচক্ষু উন্মিলিত হবে।চতুরার্য সত্য প্রকাশের আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধের এটা প্রথম অভিসময় (৩৭)।চক্রবর্তী রাজা শঙ্খ তাঁর জন্য মনিরত্ন প্রাসাদ বুদ্ধ প্রমুখ ভিক্ষু সংঘকে দান করবেন।তিনি দরিদ্র,দুঃস্থ এবং ভিক্ষুকদের অকাতরে দান দেবেন।রাজা তাঁর নব্বইশত কোটি পরিষদসহ তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে বুদ্ধের নিকট উপনীত হবেন।তারা সকলে ‘এহি ভিকখু’ বা ‘এস ভিক্ষু’ বলার সাথে সাথে অষ্টপরিষ্কার পরিবৃত হয়ে ভিক্ষু-ভিক্ষুনীতে পরিণত হবেন।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধের এটাই হবে দ্বিতীয় অভিসময়।যখন আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধের তৃতীয় অভিসময় বা সম্মেলন হবে তখন দেব-মনুষ্য অর্হৎ বিষয়ে আলোচনার জন্য তাঁর নিকট সমবেত হবেন।তখন আশি কোটি সত্ত্বের ধর্মচক্ষু উৎপন্ন হবে।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধের সময়ে অর্হৎদের তিনটা সন্নিপাদ (৩৮) বা সম্মেলন হবে।প্রথম সন্নিপাদ (৩৮) এ লক্ষ কোটি অর্হৎ ভিক্ষু উপস্থিত থাকবেন।অন্যান্য বুদ্ধের ন্যায় আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ ও মাঘী পূর্ণিমায় প্রাতিমোক্ষ (৩৯) উদ্দেশ্যের সময় এই সম্মেলন হবে।এই সম্মেলনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-(১)এই সময়ে উপস্থিত সকল ভিক্ষু ‘এহি ভিকখু’ হবেন,(২)তারা ষড়াভিজ্ঞ (৪০) হবেন,(৩)তারা পূর্বঘোষণা ছাড়াই উপ স্থিত হবেন,(৪)পঞ্চদশ দিবসে এই উপসোথ অনুষ্ঠিত হবে।দ্বিতীয় সন্নিপাদ হবে,বর্ষাবাসের প্রবারণা (৪১) পূর্ণিমায়।তখন নব্বই কোটি অর্হৎ ভিক্ষু উপস্থিত থাকবেন।তৃতীয় সন্নিপাদ হবে যখন আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ হিমবন্ত প্রদেশের গন্ধমাদন ঢুলু অঞ্চলে নির্জনে বাস করতে যাবেন।তখন অর্হৎদের সংখ্যা হবে আশি লক্ষ কোটি।অন্য সময়ে আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ ষড়াভিজ্ঞ সম্পন্ন এবং ঋদ্ধিপ্রাপ্ত লক্ষ কোটি ভিক্ষুদের দ্বারা পরিবৃত্ত থাকবেন।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ অনেক লোকের ধর্মচক্ষু উৎপন্নের জন্য তাঁর ধর্মদেশনা করে গ্রামে গঞ্জে ঘুরতে থাকবেন।অনেকে তাঁর নিকট ত্রিশরণাগমন করবেন,অনেকে পঞ্চশীলে প্রতিষ্ঠিত হবেন এবং অনেকে দশশীলে প্রতিষ্ঠিত হবেন,অনেকে তাঁর নিকট উপসম্পদা গ্রহণ করে চতুর্বিধ ফল সমাপত্তি লাভ করবেন।অনেকে বিদর্শন জ্ঞান,অষ্ট সমাপত্তি,ত্রিবিদ্যা এবং ষড়াভিজ্ঞ লাভ করবেন।বুদ্ধের দেশনা বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হবে।বুদ্ধ কোন ব্যক্তি অর্হৎ প্রাপ্তির সম্ভাবনা দেখে সেই ব্যক্তির জন্য মুহুর্তে লক্ষ লীগ পথ অতিক্রম করবেন।এমনকি সত্ত্বগণ যাহাতে নিম্ন যোনিতে (নরক,প্রেতলোক,অসুরলোক,তীর্যকলোক) উৎপন্ন না হয়,সেই জন্য তিনি তাদের সমুত্তেজিত রাখতে প্রচেষ্টা করবেন।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধের অগ্রশ্রাবক হবেন চক্রবর্তীরাজা শঙ্খ।তাঁর প্রবজিত নাম হবে অশোক।তাঁর দ্বিতীয় অগ্রশ্রাবক হবেন ব্রক্ষদেব।বুদ্ধের উপস্থাপক হবেন সীল।বুদ্ধের প্রধান মহিলা শিষ্যা হবেন সীহা।বুদ্ধের প্রধান মহিলা শিষ্যা হবেন পদুমা ও সুমনা।বুদ্ধের প্রধান গৃহী উপাসক হবেন সুমন ও শঙ্খ এবং গৃহী উপাসিকা হবেন যশবতী ও সংঘা।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ কোথাও গমন করলে বিপুল সংখ্যক দেবতা বুদ্ধের সম্মান করতে করতে তাঁর সহিত গমন করবেন।কামাবচর ভূমির দেবতাগণ,নাগ ও সুপর্ণগণ সজ্জিত মণি মুক্তা দিয়ে তৈরী করে পরিধান করবেন।স্বর্ণ রৌপ্য মণি প্রবাল প্রভৃতি দিয়ে তৈরী আটটি গলার মালা থাকবে।বিভিন্ন রং সজ্জিত শত শত পতাকা উড়তে থাকবে।চাঁদোয়ার অলংকিত মনিরত্নগুলি চন্দ্রের মত দেখাবে।এইগুলি মনিরত্ন খচিত এবং বাজনার দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকবে।তখন দেব ও মনুষ্যলোকীয় সুগন্ধ পুষ্প ও ধূপে ভরপুর থাকবে।বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধাবান হয়ে তারা বুদ্ধের গুণকীর্তন করতে থাকবে।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধের শীল গুণে বিভিন্ন প্রকার অলৌকিক ঘটনা ঘটবে।এই সব অলৌকিক ঘটনা দর্শন করে অনেকে মৃত্যুকেও তুচ্ছ জ্ঞান করে বুদ্ধের শরণাপন্ন হবে।তাতে অনেকে ভব যন্ত্রণা হতে মুক্ত হবেন এবং যদি কেহ মুক্ত হতে না পারেন,তবে স্বর্গে গমনের পথ প্রশস্ত করতে পারবেন।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ সময়োপযোগী বিনয় বিধান নির্দেশ করবেন প্রয়োজনে অন্যান্য সত্ত্বদের উপযোগী তিনি জাতক বর্ণনা করবেন।তিনি তাঁর আত্নীয়-স্বজনদের নিকট বুদ্ধবংশ প্রকাশ করবেন।অন্যান্য বুদ্ধের মত তিনি তাঁর প্রাত্যহিক বুদ্ধকৃত্য সম্পাদন করবেন।তিনি আগন্তুক ভিক্ষুদেরকে স্বাগত জানিয়ে তাদের কুশলাদি জিজ্ঞেস করবেন।তিনি নিমন্ত্রিত স্থানে বর্ষাবাস করবেন এবং নিমন্ত্রিত ব্যক্তিকে জানিয়ে সেই স্থান ত্যাগ করবেন।তিনি প্রত্যেক দিবারাত্রি বুদ্ধকৃত্য সম্পাদন করবেন এবং রাত্রি প্রথম যামে ধ্যান করে দ্বিতীয় যামে শয্যা গ্রহণ করবেন এবং তৃতীয় যামে দেবতাদের সহিত কথোপকথন করবেন।

মহাপরিনির্বাণ লাভ[সম্পাদনা]

বুদ্ধগণ ধর্মদেশনাকালে আদিতে শীল,মধ্যে আর্যমার্গ ও অবসানে নির্বাণ সম্বন্ধীয় ধর্মদেশনা করে থাকেন।সেই হেতু বলা হয়েছে-যোধম্মং দেসেতি আদি কল্যাণং মজঝো কল্যাণং পরিয়োসানে কল্যাণং।মজাঝিমনিকায়ের চুল হস্তি পদোপম সূত্রে আছে-আদি মিহং দস্মেয়্য মজমে সগগং বিভাবয়ে,পারিযোসানামিহং কল্যাণং এসাকধিক সন্ঠিতরীতি।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ সম্বন্ধে এই কথা প্রযোজ্য।কিন্তু বুদ্ধগণও অনিত্য ধর্মের অধীন,তাঁদেরকেও মৃত্যুর সম্মুখীন হতে হয়।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধকেও পরিনির্বাণে নির্বাপিত হতে হবে।সকল বুদ্ধগণ পরিনির্বাণের পূর্বে মাংস রস গ্রহণ করে থাকেন।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধ পরিনির্বাণের পূর্বে মাংস রস গ্রহ্ণ করবেন।বুদ্ধের পরিনির্বাণের পূর্বে ২,৪০০,০০০ কোটি সত্ত্ব (অরহত্ব) প্রাপ্ত হবেন।আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধের পরিনির্বাণের বিপাক কর্মজ রূপের প্রভাবে কোন দেহাবশেষ থাকবে না।তিনি নির্বাণ ধাতুতে নির্বাপিত হবার সাথে সাথে তাঁর আর কোন অবশিষ্ট থাকবে না।

বুদ্ধের ধর্মের আয়ুষ্কাল[সম্পাদনা]

অনাগত বংশে উল্লেখ আছে যে,আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধের ধর্মের আয়ুষ্কাল হবে ১ লক্ষ ৮০ হাজার বৎসর।কিন্তু অর্থকথায় উল্লেখ আছে যে,আর্য মৈত্রেয় বুদ্ধের ধর্ম ৩ লক্ষ ৮০ হাজার বৎসর বিদ্যমান থাকবে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

১।ভদ্রকল্পের পঞ্চম ও শেষ বুদ্ধ - ডা. সিতাংশু বিকাশ বড়ুয়া।