ট্রান্সফরমার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
WeldingTransformer-1.63.png
আদর্শ ট্রান্সফর্মার

ট্রান্সফরমার বা ট্রান্সফর্মার একটি গতিহীন নিশ্চল বৈদ্যুতিক যন্ত্র (কোনো গতিশীল যন্ত্রাংশ নাই) যা বিদ্যুৎ শক্তিকে একটি বৈদ্যুতিক বর্তনী থেকে অপর একটি বৈদ্যুতিক বর্তনীতে একই কম্পাংকে স্থানান্তর করে। এ.সি. (Alternating Current) ব্যবস্থায় কম ভোল্টেজকে বেশি ভোল্টেজে বা বেশি ভোল্টেজকে কম ভোল্টেজে রূপান্তর করার জন্য ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়। কম থেকে বেশি ভোল্টেজে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সফর্মারকে "স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার" বা "উচ্চধাপী ট্রান্সফর্মার" এবং বেশি থেকে কম ভোল্টেজে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সফর্মারকে "স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার" বা "নিম্নধাপী ট্রান্সফর্মার" বলা হয়।

পোল মাঊন্ট ট্রান্সফর্মার

গঠন[সম্পাদনা]

ট্রান্সফর্মারে মূলত দুটি অংশ থাকে:

  1. প্রাইমারি কয়েল বা মুখ্য কুণ্ডলী: এই কয়েলে এ.সি. বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
  2. সেকেন্ডারি কয়েল বা গৌণ কুণ্ডলী: এই কয়েলে বিদ্যুৎ শক্তি স্থানান্তর হয়।

একটি কাঁচা লোহার আয়তাকার মজ্জা বা কোর-এর দুই বিপরীত বাহুতে তার পেঁচিয়ে ট্রান্সফরমার তৈরি করা যায়। কোরের যে বাহুতে পরিবর্তী প্রবাহ বা বিভব (এ.সি.) প্রয়োগ করা হয় তাকে মুখ্য কুণ্ডলী বলে। আর যে কুণ্ডলীতে পরিবর্তী বিভব আবিষ্ট হয় তাকে গৌণ কুণ্ডলী বলে। স্টেপ-আপ (উচ্চধাপী) ট্রান্সফর্মারে প্রাইমারি কয়েলের চেয়ে সেকেন্ডারি কয়েলের পাক সংখ্যা বেশি থাকে। আর স্টেপ-ডাউন (নিম্নধাপী) ট্রান্সফর্মারে প্রাইমারি কয়েলের চেয়ে সেকেন্ডারি কয়েলের পাক সংখ্যা কম থাকে।

ট্রান্সফর্মারের কর্মদক্ষতা[সম্পাদনা]

ট্রান্সফরমার-এর কর্মদক্ষতা নির্ভর করে ২টি উপাদানের উপর

  1. ২৪ ঘন্টার প্রবেশিত শক্তি
  2. ২৪ ঘন্টার বহিরাগত শক্তি

তাই ট্রান্সফরমার এর কর্মদক্ষতা নির্ণয় করার জন্য উক্ত দুটি বিষয় পুর্ণভাবে নির্ণয় করে জানতে হয়। শক্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ট্রান্সফর্মার-এর প্রথমা সব সময় উৎসের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং ২৪ ঘন্টাই উৎস থেকে সরবরাহ পেয়ে থাকে। তাই উক্ত স্থান পরিমাপ করে ২৪ ঘন্টার বহিরাগত শক্তির মান জানা যায়। কিন্তু দিতীয়া সব সময় চালিতর সাথে সংযুক্ত থাকে, আর ২৪ ঘন্টার প্রবেশিত শক্তির মান ৩টি বিষয়ের সমষ্টির উপর নির্ভর করে:

  1. ২৪ ঘন্টার বহিরাগত শক্তি
  2. ২৪ ঘন্টার কোরক্ষয়
  3. কপার ক্ষয়। আর কপার ক্ষয় নির্ভর করে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি চালানোর উপর, যেহেতু চালিত যন্ত্রপাতি সব সময় চালু থাকে না সুতরাং কপার ক্ষয়ও সব সময় এক থাকেনা। তাই প্রবেশিত শক্তির মানও এক থাকে না। তাই এরকম সময় যদি কোনো এক সময়ের কর্মদক্ষতা নির্ণয় করা হয় তবে সেই মান নির্ণয় ভুল মান প্রদর্শণ করবে। তাই প্রকৃত ট্রান্সফর্মার-এর কর্মদক্ষতার মান জানতে সারাদিনের, অর্থাৎ ২৪ ঘন্টার কর্মদক্ষতার মান নির্ণয় করাই উত্তম।

সারাদিনের কর্মদক্ষতা = {২৪ ঘন্টার বহিরাগত শক্তি ÷ (২৪ ঘন্টার বহিরাগত শক্তি + ২৪ ঘন্টার কোরক্ষয় + কপারক্ষয়)} × ১০০

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]