জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা সংক্ষেপে জেএসসি, বাংলাদেশের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য একটি গণপরীক্ষা। মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য প্রদানকৃত সমমানের সনদকে বলা হয় জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট বা জেডিসি। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় এবং তাদের নবম শ্রেণীতে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়। এছাড়া এ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে জুনিয়র বৃত্তি প্রদান করা হবে। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সাধারণ স্কুল ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষা পরিচালনা[সম্পাদনা]

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা বাংলাদেশের সমগ্র দেশব্যাপী আটটি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিকট থেকে পরীক্ষা আরম্ভের কমপক্ষে তিন দিন পূর্বে সংগ্রহ করতে হয়। প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী পরীক্ষায় একই উত্তরপত্র ব্যবহার করতে হয়। পরীক্ষার্থীদেরকে তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে তার পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হয়। যেহেতু ওএমআর ফরম ওএমআর মেশিন দিয়ে যাচাই করা হয় তাই উত্তরপত্র ভাঁজ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকে। পরীক্ষার্থীকে প্রত্যেক বিষয়ে স্বাক্ষরলিপিতে অবশ্যই স্বাক্ষর করতে হয় কেননা এর দ্বারা নিশ্চিত হওয়া যায় পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন কিনা। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয় বা বিষয়সমূহের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কোনো অবস্থায়ই ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যায় না, কিংবা করলে তা বাতিল বলে গণ্য হয়। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করার অধিকার পেয়ে থাকেন। পরীক্ষায় নকল ঠেকাতে পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ব্যতীত অন্য কারোই পরীক্ষা-কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারে অনুমতি থাকে না। পরীক্ষার ফল প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য ঝগঝ-এর মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ থাকে।[১]

পরীক্ষার কাঠামো[সম্পাদনা]

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা ৯টি বিষয়ে গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি বিষয়ে ১০০ নম্বর করে ৯টি বিষয়ে ৯০০ নম্বরের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। ইংরেজি প্রথম পত্র, ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র ও গণিত বিষয়ে বহুনির্বাচনী অংশ থাকে না। বাংলা প্রথম পত্র, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, সাধারণ বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, ধর্মশিক্ষা, কৃষিবিজ্ঞান/গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ে রচনামূলক অংশ ও বহুনির্বাচনী অংশ হিসেবে প্রশ্ন থাকবে।

এ পরীক্ষার মোট ৯০০ নম্বরের মধ্যে ২৫০ নম্বরই রয়েছে বহুনির্বাচনী অংশে। বাংলা প্রথম পত্র, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, সাধারণ বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, ধর্মশিক্ষা, কৃষিবিজ্ঞান/গার্হস্থ্য অর্থনীতি —এ ছয়টি বিষয়ে বহুনির্বাচনী অংশ থাকে। শিক্ষার্থীদের বহুনির্বাচনী ও রচনামূলক প্রশ্নের উত্তর একই খাতায় দিতে হয়। কোনো বিষয়ে কত নম্বরের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন রয়েছে তা সাধারণত এরকম:[২]

  • বাংলা ১ম পত্র (মোট নম্বর ১০০) — ৪০ নম্বর
  • বাংলা ২য় পত্র (মোট নম্বর ৫০) — ২০ নম্বর
  • ইংরেজি ১ম পত্র (মোট নম্বর ১০০) — বহুনির্বাচনী প্রশ্ন থাকে না
  • ইংরেজি ২য় পত্র (মোট নম্বর ৫০) — বহুনির্বাচনী প্রশ্ন থাকে না
  • গণিত (মোট নম্বর ১০০) — বহুনির্বাচনী প্রশ্ন থাকে না
  • সাধারণ বিজ্ঞান (মোট নম্বর ১০০) — ৪০ নম্বর
  • সামাজিক বিজ্ঞান (মোট নম্বর ১০০) — ৪০ নম্বর
  • ধর্মশিক্ষা (মোট নম্বর ১০০) — ৪০ নম্বর
  • কৃষি শিক্ষা/গার্হস্থ্য অর্থনীতি —১০০ নম্বর
  • শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য - ৫০ নম্বর
  • চারু ও কারুকলা - ৫০ নম্বর

জেএসসি ২০১১[সম্পাদনা]

২০১১ খ্রিস্টাব্দের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ১৪ লাখ ৯০ হাজার ৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং উত্তীর্ণ হয়ে ১২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ জন। ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট ও দিনাজপুর—এ আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পরিচালনায় জেএসসি পরীক্ষায় অনুষ্ঠিত হয়।[৩] ২০১১ খ্রিস্টাব্দের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীদের সংখ্যা সোয়া লাখ বেশি ছিল।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার সময়সূচি
  2. অংশে পুরো নম্বর পাওয়ার কৌশল
  3. শোর তুলেছে কৈশোর
  4. ছাত্রীরা অংশগ্রহণে এগিয়ে, ফলাফলে ছাত্ররা

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]