ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়া
| ধরন | অলাভজনক সংস্থা |
|---|---|
| শিল্প | সংবাদ মাধ্যম সংবাদ সংস্থা |
| প্রতিষ্ঠাকাল | ১৯ ডিসেম্বর ১৯৫৯ |
| প্রতিষ্ঠাতা | ড. বিধানচন্দ্র রায় |
| সদরদপ্তর | ৯, রফি মার্গ, নয়া দিল্লি-১১০০০১, ভারত |
প্রধান ব্যক্তি | সাগর মুখ্যপাধ্যায় (চেয়ারম্যান) |
| বিভাগসমূহ |
|
| ওয়েবসাইট | www www www |
ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়া (সংক্ষেপে ইউএনআই) ভারতের একটি বহুভাষিক সংবাদ সংস্থা। এটি ১৯৫৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর একটি ইংরেজি সংবাদ সংস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। ১৯৬১ সালের ২১ মার্চ থেকে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। হিন্দি সংবাদ পরিষেবা "ইউনিবার্তা" -এর মাধ্যমে, ইউএনআই বিশ্বের বহুভাষিক সংবাদ পরিষেবাগুলির মধ্যে একটি হয়ে ওঠে। ১৯৯২ সালে, এটির উর্দু সংবাদ পরিষেবা শুরু হয় এবং এর ফলে এটি উর্দু সংবাদ সরবরাহকারী প্রথম সংবাদ সংস্থা হয়ে ওঠে। বর্তমানে, এটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম সংবাদ সংস্থা, যা ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু এবং কন্নড় ভাষায় সংবাদ সরবরাহ করে। এর সংবাদ ব্যুরো ভারতের সমস্ত রাজ্যের রাজধানী এবং প্রধান শহরগুলিতে রয়েছে।
পটভূমি
[সম্পাদনা]প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (পিসিআই) তার প্রথম প্রেস কমিশন রিপোর্টে (১৯৫২-১৯৫৪) দ্বিতীয় একটি সংবাদ সংস্থার গুরুত্বের উপর জোর দেয়, যাতে সেগুলো একে অপরের জন্য সংশোধনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে।[১] কিন্তু পিসিআই-র সমর্থন সত্ত্বেও, ইউনাইটেড প্রেস অব ইন্ডিয়া ১৯৫৮ সালে আর্থিক সমস্যার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। তাই প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া-র পাশাপাশি একটি দ্বিতীয় সংবাদ সংস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে কিছু শীর্ষ সংবাদপত্র। এর ফলশ্রুতিতেই ড. বিধানচন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে আটটি শীর্ষ সংবাদপত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত হয় ইউনাইটেড নিউজ অফ ইন্ডিয়া (ইউএনআই)।[২] এই সংবাদপত্রগুলি ছিল দ্য হিন্দু, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য স্টেটসম্যান, অমৃতবাজার পত্রিকা, হিন্দুস্তান টাইমস, হিন্দুস্তান স্ট্যান্ডার্ড, ডেকান হেরাল্ড এবং দ্য ইন্ডিয়ান নেশন।[৩]
প্রাথমিক সময়কাল (১৯৬১ - ১৯৭৫)
[সম্পাদনা]শুরুর দিনগুলোতে, সংস্থাটিকে পুরানো ইউনাইটেড প্রেস অব ইন্ডিয়া টেলিপ্রিন্টার ব্যবহার করতে হয়েছিল, যা ১৯৫৮ সাল থেকে অব্যবহারের কারণে মরিচা ধরে গিয়েছিল।[৩] সংস্থাটি ১৯৬১ সালে ১৩টি টেলিপ্রিন্টার থেকে তার ক্ষমতা বাড়িয়ে ১৯৭৫ সালের শেষ নাগাদ ৪০৮-এ উন্নীত করে। ১৯৭১ সালে, সংস্থাটির আয় ছিল ₹ ৫৪.৩১ লক্ষ, যা ১৯৭৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ₹৬৭.৭৩ লক্ষ এবং ১৯৭৫ সালে ₹৮৭.১৪ লক্ষ। ইউএনআই তার কার্যক্রম শুরু করার সময় ৫ জন কর্মী ছিল, কিন্তু ১৯৭৫ সালের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে ৬৯৭-এ পৌঁছায়, যার মধ্যে ছিল ১৩৯ জন সাংবাদিক, ৩৯২ জন অ-সাংবাদিক এবং ১৬৬ জন স্ট্রিংগার।[৩]
ইউএনআই অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি চালু করে যা এর জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়তা করে। ১৯৬৮ সালে, এটি চলমান বিষয়গুলির জন্য একটি সাপ্তাহিক ব্যাকগ্রাউন্ডার সার্ভিস চালু করে যা গভীর পটভূমি জ্ঞানসহ ভালোভাবে নথিবদ্ধ ছিল। ১৯৭০ সালে, এটি ইউএনআই কৃষি সংবাদ ও ফিচার সার্ভিস চালু করে কৃষি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করে। ফাইনান্সিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল সার্ভিসের মতো আরও অনেক পরিষেবা সফলভাবে চালু করা হয়, যা ভারতীয় ও বিদেশী বাজারগুলির প্রতিবেদনের জন্য, ইউএনআই এয়ারমেইল নিউজ সার্ভিস (১৯৭১), এবং এটি বিজ্ঞান প্রতিবেদন ক্ষেত্রে একজন পূর্ণকালীন বিজ্ঞান প্রতিবেদক দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রথম ছিল।[৩]
বিশ্ব সংবাদের জন্য, ইউএনআই অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (ইউএসএ), ডয়েচে প্রেস-এজেন্টুর (পশ্চিম জার্মানি), এজেনজিয়া নাজিওনালে স্টাম্পা অ্যাসোসিয়াটা (ইতালি), আগারপ্রেস (রোমানিয়া) এবং আরও অনেকের সাথে সহযোগিতা করেছিল।[৩] বর্তমানে এর স্পুটনিক, সিনহুয়া এবং কাতার নিউজ এজেন্সির (কিউএনএ) সাথে সংবাদ বিনিময় চুক্তি রয়েছে।
জরুরি অবস্থা (১৯৭৫-১৯৭৮)
[সম্পাদনা]জরুরি অবস্থার সময়কালে, ১৯৭৫ সালের ২৬ জুলাই, ইন্দিরা গান্ধী সরকার ভারতের চারটি টেলিপ্রিন্টার সংবাদ সংস্থাকে একত্রিত করে একটি একক সত্তা গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।[২] চার সংস্থার কর্মচারী ইউনিয়নগুলি একটি একক সংবাদ সত্তা গঠনের ধারণা গ্রহণ করে প্রস্তাব পাস করে।[৪] তাই ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ইউএনআই-কে পিটিআই, হিন্দুস্থান সমাচার এবং সমাচার ভারতীর সাথে একত্রিত করে একটি নতুন সত্তা সমাচার গঠন করা হয়।[৫][৬][৭][৮][৯] ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের পরাজয়ের পর, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংবাদ সংস্থার স্বাধীনতা বিবেচনায় নিয়ে সমাচারের কার্যক্রম পরীক্ষা করার জন্য নতুন সরকার কুলদীপ নায়ার কমিটি গঠন করে।[৫] ১৯৭৭ সালের ১৪ নভেম্বর, কমিটি সমাচারকে পুনর্গঠিত করে দুটি সংবাদ সংস্থা বার্তা ও সংবাদ গঠনের সুপারিশ করে।[১০] তবে কমিটির সুপারিশের বিপরীতে, সমাচারকে বিভক্ত করা হয় এবং চারটি সংস্থার একত্রীকরণ বাতিল করা হয়।[১১] এভাবে ১৯৭৮ সালের ১৪ এপ্রিল, অন্য তিনটি সংবাদ সংস্থার পাশাপাশি ইউএনআই আবার পুনরুজ্জীবিত হয়।[১২]
জরুরি অবস্থা পরবর্তী সময়কাল (১৯৭৮ – বর্তমান)
[সম্পাদনা]জরুরি পরবর্তী সময়কালে, ইউএনআই-র গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। জানুয়ারি ১৯৭৯ সালে, আর্থিক ও পণ্য বাজারের বৈশ্বিক কভারেজ প্রদানের জন্য UNI's Financial Services (UNIFIN) চালু করা হয়, যা ওয়াল স্ট্রিট ও ন্যাসড্যাক থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ও এশীয় বাজার পর্যন্ত কভার করত। UNIFIN-এ আর্থিক বিশ্বকে প্রভাবিত করা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক খবরও অন্তর্ভুক্ত ছিল।[১৩]
মে ১৯৮২ সালে, ইউএনআই তার হিন্দি পরিষেবা UNIVarta চালু করে। এরপর ৫ জুন ১৯৯২ সালে উর্দু সংবাদ পরিষেবা শুরু হয়। এটি টেলিপ্রিন্টারে উর্দুতে সংবাদ সরবরাহকারী বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র সংবাদ সংস্থায় পরিণত হয়।[১৩][১৪] ২০০৫-পরবর্তী সময়ে, এর যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ভারত ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে ৯০,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত। বিশ্বের সমস্ত প্রধান শহরে এর সংবাদদাতা রয়েছে। রয়টার্স-সহ বেশ কয়েকটি বিদেশি সংবাদ সংস্থার সাথে এর সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে।[১৫]
ইউএনআই দ্বারা আরও অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এটি ইউএনআই ফটো পরিষেবা, ইউএনআই গ্রাফিক্স শুরুকারী প্রথম সংবাদ সংস্থা।[১৪] [১৬] বর্তমানে এটি UniDarshan (দূরদর্শনের জন্য সংবাদ ক্লিপ ও ফিচার, জুলাই ১৯৮৬ সালে চালু), UNICON (UNI ইকোনমিক সার্ভিস, ১৯৭৯ সালে চালু), UNEN (UNI এনার্জি নিউজ সার্ভিস, সেপ্টেম্বর ১৯৮০ সালে চালু), ইউএনআই এগ্রিকালচার সার্ভিস (১৯৬৭ সালে চালু), ইউএনআই ব্যাকগ্রাউন্ডার সার্ভিস (১৯৬৮ সালে চালু), ইউএনআই ফিচার্স, UNISCAN, UNIStock, UNIFIN (জানুয়ারি ১৯৭৯ সালে চালু) ইত্যাদির মতো অনেক পরিষেবা প্রদান করে।[১৬][১৭]
পরিচালনা
[সম্পাদনা]ইউএনআই ভারতীয় কোম্পানি আইনের ধারা ২৫ অনুযায়ী একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত। এটি সেই সংবাদপত্র গোষ্ঠীর মালিকানাধীন যারা শেয়ার কিনে সেগুলো পরিচালনা করে। সংবাদপত্রগুলি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন করে, যার নেতৃত্বে থাকেন একজন চেয়ারম্যান। সংবাদ সংস্থাটির নীতি নির্ধারণে চেয়ারম্যানই প্রধান কর্তৃপক্ষ। চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন এই বোর্ডে শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অন্তর্ভুক্ত থাকেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Shrivastava 2007, পৃ. 48।
- 1 2 Kumar 2000।
- 1 2 3 4 5 Shrivastava 2007, পৃ. 49।
- ↑ Shrivastava 2007, পৃ. 56।
- 1 2 Mehta 1979, পৃ. 84।
- ↑ Shrivastava 2007, পৃ. 51।
- ↑ Aggarwal 1989, পৃ. 190।
- ↑ Kanung 2001, পৃ. 114।
- ↑ Jones 2015।
- ↑ Mehta 1979, পৃ. 85।
- ↑ Mehta 1979, পৃ. 87।
- ↑ Shrivastava 2007, পৃ. 57।
- 1 2 Shrivastava 2007, পৃ. 61।
- 1 2 Mehta 1979, পৃ. 94।
- ↑ Shrivastava 2007, পৃ. 60।
- 1 2 Shrivastava 2007, পৃ. 62।
- ↑ Mehta 1979, পৃ. 95।
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- Shrivastava, K. M. (২০০৭)। News Agencies from Pigeon to Internet। Sterling Publishers Pvt. Ltd। আইএসবিএন ৯৭৮১৯৩২৭০৫৬৭৬।
- Mehta, D. S. (১৯৭৯)। Mass Communication and Journalism in India। Allied Publishers। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭০২৩৩৫৩৪।
- Kumar, Keval J. (২০০০)। Mass Communication in India। Jaico Publishing House। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭২২৪৩৭৩৯।
- Aggarwal, S. K. (১৯৮৯)। Media Credibility। Mittal Publications। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭০৯৯১৫৭১।
- Kanung, Chitra (২০০১)। Freedom Under Assault। A.P.H. Publishing Corporation। পৃ. ১১৪। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭৬৪৮২২৬৪।
- Censorship: A World Encyclopedia। Routledge। ২০১৫। আইএসবিএন ৯৭৮১১৩৬৭৯৮৬৩৪।
- Sharma, Diwakar (২০০৪)। Mass Communication: Theory and Practice in the 21st Century। Deep and Deep Publications। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭৬২৯৫০৭৯।