গ্লেন হল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Glen Hall (cricketer) থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
গ্লেন হল
গ্লেন হল.jpg
১৯৬৬ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে গ্লেন হল
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামগ্লেন গর্ডন হল
জন্ম(১৯৩৮-০৫-২৪)২৪ মে ১৯৩৮
প্রিটোরিয়া, ট্রান্সভাল, দক্ষিণ আফ্রিকা
মৃত্যু২৬ জুন ১৯৮৭(1987-06-26) (বয়স ৪৯)
র‍্যামসগেট, কোয়াজুলু-নাটাল, দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনলেগ ব্রেক
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ২২৩)
১ জানুয়ারি ১৯৬৫ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩২
রানের সংখ্যা ৩০৬
ব্যাটিং গড় ০.০০ ৭.৮৪
১০০/৫০ ০/০ ০/২
সর্বোচ্চ রান ৬৩
বল করেছে ১৮৬ ৬১০৫
উইকেট ১১০
বোলিং গড় ৯৪.০০ ২৯.৬৬
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৯৪ ৯/১২২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ০/- ১২/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২০ জুন ২০১৯

গ্লেন গর্ডন হল (ইংরেজি: Glen Hall; জন্ম: ২৪ মে, ১৯৩৮ - মৃত্যু: ২৬ জুন, ১৯৮৭) ট্রান্সভাল প্রদেশের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১][২][৩] দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬৫ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স ও নর্থ ইস্টার্ন দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ লেগ ব্রেক বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিংশৈলী উপস্থাপন করেছেন রোডস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রীধারী গ্লেন হল

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৬০-৬১ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত গ্লেন হলের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দূর্দান্তভাবে সূচনা করেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে সাউথ আফ্রিকান ইউনিভার্সিটিজের সদস্যরূপে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। খেলায় তিনি ৪/২৪ ও ৯/১২২ লাভ করেন। খেলায় তিনি ১৪৬ রান খরচায় ১৩ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে ট্রান্সভালের বিপক্ষে ইস্টার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬৩ রান তুলেন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও ঐ খেলায় তার দল ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। তবে, পরবর্তী মৌসুমগুলোয় তিনি তার প্রতিশ্রুতিশীলতা ধরে রাখতে পারেননি। এরপর থেকে অবশ্য অনিয়মিতভাবে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিতে থাকেন।

কিন্তু, ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে আবারও খেলার জগতে ঝড় তুলেন। সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে ৪/১১৩ ও নর্থ-ইস্টার্ন ট্রান্সভালের বিপক্ষে ৬/১৪৫ পান। তবে, উভয় খেলাতেই তার দল ইনিংস ব্যবধানে পরাভূত হয়েছিল। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে কারি কাপে নর্থ-ইস্টার্ন ট্রান্সভালের পক্ষে বি গ্রুপে খেলেন। ২৬.১১ গড়ে ২৭ উইকেট পান। তন্মধ্যে, প্রিটোরিয়ায় অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে ৭/১৩৭ ও ৪/৯৫ পান। এর পর থেকেই তার খেলার মান ক্রমশঃ দূর্বলতর হতে থাকে। ফলশ্রুতিতে, ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম শেষে আর কোন প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিতে তাকে আর দেখা যায়নি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন গ্লেন হল। ১ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে কেপ টাউনে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে ইংল্যান্ড দল দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করে। সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকান দলের সদস্যরূপ অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তবে, খেলায় তিনি ৯৪ রান খরচায় মাত্র একটি উইকেট লাভ করেছিলেন।[৪]

দীর্ঘদেহী লেগ স্পিনার হিসেবে সুনাম ছিল তার। দ্রুতলয়ে গুগলি ও টপ স্পিন বোলিং করতেন।[৫] ব্যাটসম্যান হিসেবে সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে মাত্র দুইবার বিশরানের কোটা অতিক্রমণ করতে পেরেছিলেন। তবে, উভয় ক্ষেত্রেই পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ৩০ বছর পূর্তি হবার পূর্বেই তার প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটে।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। সাবেক মিস সাউথ আফ্রিকার সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির দুই পুত্র সন্তান ছিল। ১৯৮০-এর দশকে তাদের মধ্যকার বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এরপর থেকে তিনি নিভৃতচারী হয়ে পড়েন। বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পরবর্তীতে, ২৬ জুন, ১৯৮৭ তারিখে ৪৯ বছর বয়সে কোয়াজুলু-নাটালের র‍্যামসগেট এলাকায় গ্লেন হল গুলি করে আত্মহননের দিকে চলে যান।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "South Africa – Players by Test cap"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১৯ 
  2. "South Africa – Test Batting Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১৯ 
  3. "South Africa – Test Bowling Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১৯ 
  4. Wisden 1966, pp. 805-809.
  5. Wisden 1988, p. 1204.
  6. David Frith, Silence of the Heart, Mainstream, London, 2001, pp. 105-106.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]