ফরচুন বরিশাল
| কর্মীবৃন্দ | ||
|---|---|---|
| অধিনায়ক | তামিম ইকবাল | |
| কোচ | মিজানুর রহমান বাবুল | |
| মালিক | ফরচুন গ্রুপ | |
| দলের তথ্য | ||
| শহর | বরিশাল | |
| প্রতিষ্ঠা | '২০১২-১৩: বরিশাল বার্নার্স ২০১৫-১৬: বরিশাল বুলস ২০২১-২০২৫: ফরচুন বরিশাল | |
| ইতিহাস | ||
| শিরোপার সংখ্যা | ২ | |
| বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ জয় | ২ (১০ম, ১১ম) | |
| ||
ফরচুন বরিশাল হলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএল এ অংশগ্রহণকারী একটি ক্রিকেট দল, যেটি বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করছে। দলটি বিপিএল-এর ২০২৪ ও ২৫ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়।[১]
দলটি ২০১২ সালে বরিশাল বার্নার্স হিসাবে বিপিএলের উদ্বোধনী মৌসুমের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বার্নার্স ২০১২ সালে বিপিএল রানার্সআপ ছিল। বিপিএলের দ্বিতীয় মৌসুমের পরে ২০১৩ সালে বিলুপ্ত হওয়া দলগুলির মধ্যে একটি ছিল বার্নার্স। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ২ কোটি টাকার বিনিময়ে দলটির মালিকানা ফরচুন গ্রুপের কাছে বিক্রয় করেন।[২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]২০১২ মৌসুম
[সম্পাদনা]২০১২ সালে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড টি২০ পদ্ধতিতে খেলার জন্য বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করে। ছয়টি দল নিয়ে একই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে টুর্নামেন্টটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।[৩] ১০ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে হোটেল র্যাডিসনে বরিশালসহ বিভাগগুলিকে প্রতিনিধিত্ব করা দলগুলিকে নিলামে তোলা হয়। ১.০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আলিফ এসএসএল স্পোর্টস হোল্ডিং লিমিটেড বরিশাল বার্নাসকে কিনে নেয় যা ছিল নিলামে সবচেয়ে কম দামে কিনে নেয়া দল।[৪]
এই মৌসুমে বরিশালের সবচেয়ে বড় ক্রয় ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিসের ওপেনার ক্রিস গেইলকে ৫৫১,০০০ মার্কিন ডলারে কিনে নেয়া, যা ছিল বিপিএলের প্রথম মৌসুমের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে কেনা। যদিও ক্রিস গেইল মাত্র ৫টি খেলার জন্য উপলব্ধ ছিল। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে ক্রিস গেইল দুটি শতকসহ সর্বোচ্চ ৯৭.০০ গড়ে রান তুলতে সক্ষম হয়। আসরের বাকী ম্যাচে বরিশাল বার্নাস পাকিস্তানি ওপেনার আহমেদ শেহজাদ ও অস্ট্রেলীয় অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ব্র্যাড হজকে দিয়ে ইনিংসের শুরু করত। দলের অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল শাহরিয়ার নাফিস, যিনি "আইকন খেলোয়াড়" ছিলেন। এছাড়া আরো ছিলেন মমিনুল হক, আল আমিন, সৌরাওয়ার্দী শুভ, ইংরেজ উইকেটকিপার ফিল মাস্টার্ড ও পাকিস্তানি ইয়াসির আরাফাত। বরিশাল বার্নাসের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ দলটিকে সেমিফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেমিফাইনালে গ্রুপ পর্বের শীর্ষ দল দুরন্ত রাজশাহীকে হারিয়ে ফাইনালে যায় বরিশাল কিন্তু ফাইনালে বরিশাল বার্নাস ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের কাছে ৮ উইকেটে পরাজিত হয়।[৫]
২০১৩ মৌসুম
[সম্পাদনা]এই মোসুম বরিশাল বার্নাসের জন্য ভালো যায়নি। তারা পয়েন্ট তালিকার ষষ্ঠ দল হিসেবে গ্রুপ পর্ব শেষ করে ও প্লেঅফের জন্য যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। এই মৌসুমে বরিশাল ক্রিস গেইলকে ধরে ব্যর্থ হয়, ক্রিস গেইল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলার জন্য চুক্তি করেন। তারা সুনীল নারাইনকে তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করে এবং ফিল মাস্টার্ড ও ব্র্যাড হজকে ধরে রাখে। জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারায় বরিশাল বার্নাস ষষ্ঠ হিসেবে এই মৌসুম শেষ করে এবং এটি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ-এ বরিশাল বার্নাসের শেষ মৌসুম ছিল। যাবতীয় বকেয়া পরিশোধের করতে না পারায় পরে আসরে দলটি বাদ দেয়া হয় ও তাদের পরিবর্তে নতুন দল বরিশাল বুলস-কে নেয়া হয়।
২০১৫ মৌসুম
[সম্পাদনা]বরিশাল বুলস নামে দলটি পূর্বের দল বরিশাল বার্নার্সের পরিবর্তে বিপিএলে আসে। দলটির স্বত্বাধিকারী অ্যক্সিওম টেকনোলজিস যারা ২০১৫ সালে দলটির মালিকানা কিনে নেয়। আর্থিক শর্ত না মানায় দলটিকে বিপিএল ৫ থেকে বাদ দেয়া হয়।[৬] ২০১৮ সালে ষষ্ঠ বিপিএলে অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা দিতে না পারায় দলটিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল।[৭]
২০১৫ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে দলটিকে নেতৃত্ব দেয় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও দলটির কোচ ছিলেন গ্রাহাম ফোর্ড। ২০১৬ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে দলটির প্রধান কোচ ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভ হোয়াটমোর এবং অধিনায়ক ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম
২০১৬ মৌসুম
মূল নিবন্ধ: ২০১৬ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
২০১৬ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমটি বরিশাল বুলসের জন্য প্রত্যাশামতো সফল হয়নি। তারা গ্রুপ পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকায় নিচের দিকে অবস্থান করে এবং প্লেঅফের জন্য যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। এই মৌসুমে দলটি অভিজ্ঞ ও তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে স্কোয়াড সাজালেও ধারাবাহিক জয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি।
দলটির নেতৃত্বে ছিলেন মুশফিকুর রহিম, যিনি দলের উইকেটকিপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। স্কোয়াডে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে দলে ছিল দাভিদ মালান, ধিসারা পেরেরা ও জিভান মেন্ডিসের মতো ক্রিকেটার। তবে ব্যাটিং ও বোলিং—দুটি বিভাগেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে না পারায় বরিশাল বুলস বর্তমান ফরচুন বরিশাল প্রতিটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি।
এই মৌসুমে বরিশাল বুলস ১২টি ম্যাচ খেলে মাত্র ৪টিতে জয় পায় এবং পয়েন্ট তালিকায় নিম্ন অবস্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে। ব্যাটসম্যানদের অনিয়মিত পারফরম্যান্স, বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রত্যাশামতো অবদান না রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে মৌসুমটি তাদের জন্য হতাশাজনক হয়ে ওঠে।
২০১৬ মৌসুম
মূল নিবন্ধ: ২০১৬ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
এই মৌসুম বরিশাল বুলসের জন্য সন্তোষজনক যায়নি। তারা পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকের দল হিসেবে গ্রুপ পর্ব শেষ করে এবং প্লেঅফের জন্য যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। মৌসুম শুরুর আগে বরিশাল দলে অভিজ্ঞ ও বিদেশি তারকা খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও মাঠের পারফরম্যান্সে সেই শক্তি প্রতিফলিত হয়নি।
দলটি অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে ধরে রাখে এবং বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে দাভিদ মালান, ধিসারা পেরেরা ও জিভান মেন্ডিসকে দলে নেয়। অন্যদিকে দেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে শামসুর রহমান, শাহরিয়ার নাফীস, আবু হায়দার রনি ও আল-আমিন হোসেনকে নিয়ে স্কোয়াড গঠন করা হয়। তবে ব্যাটিং লাইনআপের অনিয়মিত পারফরম্যান্স ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বোলিং ব্যর্থতার কারণে বরিশাল বুলস জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি।
এই মৌসুমে বরিশাল বুলস মোট ১২টি ম্যাচ খেলে মাত্র ৪টিতে জয় পায়, ফলে তারা পয়েন্ট তালিকায় নিচের দিকে অবস্থান করে মৌসুম শেষ করে। ধারাবাহিকতার অভাব, মাঝমাঠে ভুল সিদ্ধান্ত এবং বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রত্যাশানুযায়ী পারফরম্যান্স না পাওয়া—সব মিলিয়ে এই মৌসুম বরিশাল বুলসের জন্য হতাশাজনক হয়ে ওঠে।
২০১৭ মৌসুম
মূল নিবন্ধ: ২০১৭ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
এই মৌসুমটি বরিশাল বুলসের জন্য সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতা বয়ে আনে, কারণ তারা ২০১৭ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অংশগ্রহণ করতেই পারেনি। পূর্বের মৌসুমগুলোতে আর্থিক সমস্যায় ভুগলেও এই মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বোর্ডের কাছে প্রয়োজনীয় আর্থিক নিশ্চয়তা (ব্যাংক গ্যারান্টি) জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দলটি আসর থেকে বাদ পড়ে যায়।
বরিশাল বুলসের মালিকপক্ষ মৌসুম শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেও খেলোয়াড়দের পাওনা, ব্যবস্থাপনাগত খরচ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির বাধ্যতামূলক আর্থিক দায়বদ্ধতা পূরণ করতে ব্যর্থ ছিল। যার ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ঘোষণা করে যে বরিশাল বুলস ২০১৭ সালের বিপিএলে অংশগ্রহণের যোগ্য নয়। এতে দলটির আইকন হিসেবে নির্বাচিত মুস্তাফিজুর রহমানসহ অনেক খেলোয়াড় ড্রাফটে অন্য দলে ভাগ হয়ে যায়।
দলটি অংশ নিতে না পারায় বরিশাল সমর্থকরাও হতাশায় পড়ে, এবং ২০১৭ মৌসুম বরিশাল বুলসের ইতিহাসে একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হয়। আর্থিক দুর্বলতা ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার কারণে এটি ছিল সেই মৌসুম, যখন বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজি বিপিএল থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় এবং তাদের ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
২০১৮ মৌসুম
মূল নিবন্ধ: ২০১৮ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
২০১৮ মৌসুমেও বরিশাল বুলসের পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসে না। আগের মৌসুমে আর্থিক নিশ্চয়তার অভাবে যেভাবে তারা বিপিএল থেকে বাদ পড়েছিল, ঠিক সেই একই কারণ ও প্রশাসনিক জটিলতার জন্য ২০১৮ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও দলটি অংশগ্রহণ করতে পারেনি। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আগের মৌসুমের বকেয়া পরিশোধ, নতুন মৌসুমের আর্থিক নিশ্চয়তা এবং পরিচালনাগত ব্যয় মেটানোর মতো স্থিতিশীলতা দেখাতে ব্যর্থ হয়।
২০১৮ মৌসুম শুরুর আগেও বরিশাল বুলস মালিকপক্ষ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের শর্ত পূরণ করতে পারেনি, যার ফলে তাদের দলটি পুনরায় ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগও সফল হয়নি। খেলোয়াড়দের পাওনা, দলের অপারেশন খরচ এবং চুক্তিগত দায়বদ্ধতা—কোনো ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অগ্রগতি না হওয়ায় বরিশালকে আবারও আসর থেকে বাদ দেওয়া হয়।
বরিশাল সমর্থকদের জন্য এটি আরেকটি হতাশাজনক মৌসুম ছিল। একসময়ের জনপ্রিয় বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজি ধারাবাহিক প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে বিপিএল থেকে কার্যত সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ২০১৮ মৌসুম তাই বরিশালের অনুপস্থিতির বছর হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকে, এবং দলটির ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ সেই সময়ে পুরোপুরি অনিশ্চিত অবস্থায় ঝুলে ছিল।
২০১৯ মৌসুম
মূল নিবন্ধ: ২০১৯ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
২০১৯ মৌসুমেও বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজির বিপিএলে ফেরার কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। আর্থিক অস্থিতিশীলতা ও পূর্বের মৌসুমগুলোর বকেয়া সমস্যা সমাধান করতে না পারায় দলটি ২০১৯ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অংশগ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়। ২০১৯-২০ মৌসুমটি ছিল বঙ্গবন্ধু বিপিএল, যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক মালিকানার পরিবর্তে পুরো টুর্নামেন্টটি সরাসরি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়। এর ফলে পূর্ববর্তী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে যায়।
বরিশাল বুলসের মালিকপক্ষ ২০১৯ মৌসুম শুরু হওয়ার আগেও প্রয়োজনীয় আর্থিক নিশ্চয়তা, খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধ এবং ব্যবস্থাপনাগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেনি। বোর্ড কর্তৃপক্ষ আগের বছরের মতোই স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে বরিশাল দলটি অংশগ্রহণের যোগ্য নয়। ফলে বরিশালের সম্ভাব্য আইকন খেলোয়াড়রাও ড্রাফটে অন্যান্য দলে ছড়িয়ে পড়ে।
২০১৯ মৌসুমে বরিশালের অনুপস্থিতি সমর্থকদের জন্য আরও একটি হতাশার বছর তৈরি করে। দীর্ঘদিনের আর্থিক দুর্বলতা, ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি পরিচালনায় অনিয়মের কারণে বরিশাল দলটি বিপিএল থেকে কার্যত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়ে যায়। এই মৌসুম বরিশালের জন্য পুনর্জাগরণের সম্ভাবনা না তৈরি হওয়ার বছর হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
২০২০ মৌসুম
মূল নিবন্ধ: ২০২০ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
২০২০ মৌসুমে বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজির বিপিএলে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগই তৈরি হয়নি। ২০১৯ সালে বঙ্গবন্ধু বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি বাদ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে বোর্ড পরিচালিত একটি বিশেষ আসর হিসেবে আয়োজন করা হয়েছিল, এবং তার পরপরই ২০২০ সালে কোভিড–১৯ মহামারির কারণে নিয়মিত বিপিএল আয়োজন সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়ে যায়। ফলে বরিশালসহ কোনো পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে ফেরার সুযোগ পায়নি।
বরিশাল বুলস পূর্বের বকেয়া পরিশোধ, আর্থিক নিশ্চয়তা প্রদান এবং নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি কোনোটিই সম্পন্ন করতে না পারায় তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি পুনঃঅন্তর্ভুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনাও সামনে আসেনি। বোর্ডের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট জানানো হয় যে মহামারির পরিস্থিতিতে বিপিএল আয়োজন করা অসম্ভব, ফলে ২০২০ মৌসুমটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এই মৌসুমে বরিশালের অনুপস্থিতি সমর্থকদের হতাশাকে আরও দীর্ঘায়িত করে। বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজি আগের তিন মৌসুম ধরে যেভাবে আর্থিক ও প্রশাসনিক সমস্যার কারণে মাঠের বাইরে ছিল, ২০২০ সালের বিপিএল বাতিল হয়ে যাওয়া সেই দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে ২০২০ সাল বরিশালের জন্য এমন একটি বছর হিসেবে স্মরণীয়, যখন দলটির পুনরায় বিপিএলে ফেরার সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে থমকে যায়।
২০২১ সালের মৌসুম
মূল নিবন্ধ: ২০২১ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
২০২১ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজি এখনও সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। ২০১৭–২০২০ সালের আর্থিক ও প্রশাসনিক সমস্যার ধারাবাহিক প্রভাব এবং কোভিড–১৯ মহামারির কারণে টুর্নামেন্টের সীমিত আয়োজনের ফলে বরিশাল দলটি পুনরায় অন্তর্ভুক্তি পায়নি।
ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকপক্ষ পূর্বের মৌসুমের বকেয়া পরিশোধ, নতুন মৌসুমের আর্থিক নিশ্চয়তা এবং দল পরিচালনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়। বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয় যে, এই পরিস্থিতিতে বরিশাল দল অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য নয়। ফলে তাদের আইকন খেলোয়াড়দেরও অন্য দলে স্থানান্তরিত হতে হয়।
বরিশাল সমর্থকদের জন্য এটি আরেকটি হতাশাজনক বছর ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক আর্থিক দুর্বলতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং মহামারির প্রভাবের কারণে বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজি বিপিএল থেকে কার্যত অনুপস্থিত থাকল। ২০২১ মৌসুম তাই বরিশালের ইতিহাসে একটি বড় বিরতির বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়, যখন দলটির পুনর্জাগরণের সম্ভাবনা দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত থাকে।
২০২২ মৌসুম
মূল নিবন্ধ: ২০২২ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
২০২২ সালে বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজি নতুনভাবে ফিরেছে এবং বিপিএলে অংশগ্রহণ শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক বছরের অনুপস্থিতি ও আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতার পরে দলটি নতুন নাম ফরচুন বরিশাল নিয়ে মাঠে নামে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আগের মৌসুমের সকল বকেয়া মেটিয়ে এবং নতুন মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক নিশ্চয়তা প্রদান করে, ফলে বোর্ড তাদের পূর্ণ যোগ্যতা অনুমোদন করে। দলটির স্কোয়াডে দেশি ও বিদেশি খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়, এবং নেতৃত্বে রাখা হয় অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের।
২০২২ মৌসুমে বরিশাল সমর্থকদের জন্য এটি নতুন আশার বার্তা বয়ে আনে। দীর্ঘ সময় ধরে বিপিএল থেকে অনুপস্থিত থাকার পর দলটি ফিরে আসে এবং নতুন উদ্যমে খেলার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করে। যদিও পুরো মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কঠিন ছিল, তবুও এটি বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে মনে করা হয়।
২০২৩ মৌসুম
মূল নিবন্ধ: ২০২৩ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
২০২৩ সালে বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজি ফরচুন বরিশাল নামে বিপিএলে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখে। দীর্ঘ দিনের অনুপস্থিতি ও পুনর্গঠনের পরে দলটি নতুন উদ্যম ও পরিকল্পনার সঙ্গে মাঠে আসে। স্কোয়াডে দেশি ও বিদেশি খেলোয়াড়দের সমন্বয় ঘটানো হয় এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নেতৃত্বে রাখা হয়।
মৌসুম শুরু হওয়ার আগে দলটি আগের বকেয়া ও আর্থিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করে এবং বোর্ডের পূর্ণ অনুমোদন পায়। ২০২৩ মৌসুমে বরিশাল সমর্থকরা আগের তুলনায় আরও দৃঢ় প্রত্যাশা নিয়ে তাদের দলকে দেখতে পান। দলটি প্রতিটি ম্যাচে নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করে, যদিও পুরো মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করা সহজ হয়নি।
২০২৩ মৌসুম বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য একটি নতুন ও স্থিতিশীল অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়, যেখানে দলটি পূর্বের ব্যর্থতা ও অনুপস্থিতি কাটিয়ে নতুন উদ্যমে বিপিএলে ফিরে আসে।
২০২৪ মৌসুম
মূল নিবন্ধ: ২০২৪ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
২০২৪ সালে বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজি ফরচুন বরিশাল নামে বিপিএলে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখে। পূর্বের কয়েক বছরের অনুপস্থিতি ও পুনর্গঠনের পর দলটি নতুন উদ্যম ও পরিকল্পনার সঙ্গে মাঠে নামে। স্কোয়াডে দেশি ও বিদেশি খেলোয়াড়দের সমন্বয় ঘটানো হয় এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নেতৃত্বে রাখা হয়।
মৌসুম শুরু হওয়ার আগে দলটি আগের বকেয়া ও আর্থিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করে এবং বোর্ডের পূর্ণ অনুমোদন পায়। ২০২৪ মৌসুমে বরিশাল সমর্থকরা আগের তুলনায় আরও দৃঢ় প্রত্যাশা নিয়ে তাদের দলকে দেখতে পান। দলটি নিয়মিত প্রতিটি ম্যাচে অংশগ্রহণ করে এবং তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করে, যা ধারাবাহিক সাফল্যের পথে বড় ভূমিকা রাখে।
মৌসুমের প্রধান আকর্ষণ ছিল ফাইনাল খেলা, যেখানে ফরচুন বরিশাল চূড়ান্ত ম্যাচে কুমিলা ভিক্টোরিয়ান্স-এর বিরুদ্ধে জয়ী হয়। দলটি ৬ উইকেটে ফাইনাল জয় অর্জন করে এবং এই বিপিএল খেতাব তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সাফল্য হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকে। ফাইনালে কাইল মায়ার্স কে “ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়” হিসেবে এবং তামিম ইকবাল কে “সিরিজের সেরা খেলোয়াড়” হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
২০২৪ মৌসুম ফরচুন বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য একটি নতুন ও উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়, যেখানে দলটি পূর্বের ব্যর্থতা ও অনুপস্থিতি কাটিয়ে নতুন উদ্যমে বিপিএলে ফিরে আসে এবং প্রতিযোগিতায় শীর্ষে উঠে।
২০২৫ মৌসুম
মূল নিবন্ধ: ২০২৫ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
২০২৫ সালে বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজি ফরচুন বরিশাল নামে বিপিএলে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখে। আগের সফল মৌসুমের অভিজ্ঞতা এবং পরিকল্পনার ভিত্তিতে দলটি নতুন উদ্যম ও শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামে। স্কোয়াডে দেশি ও বিদেশি খেলোয়াড়দের সমন্বয় ঘটানো হয় এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নেতৃত্বে রাখা হয়।
মৌসুম শুরু হওয়ার আগে দলটি আগের বকেয়া ও আর্থিক বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করে এবং বোর্ডের পূর্ণ অনুমোদন পায়। ২০২৫ মৌসুমে বরিশাল সমর্থকরা আগের তুলনায় আরও দৃঢ় প্রত্যাশা নিয়ে তাদের দলকে দেখতে পান। দলটি নিয়মিত প্রতিটি ম্যাচে অংশগ্রহণ করে এবং তাদের দক্ষতা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার মাধ্যমে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে।
মৌসুমের প্রধান আকর্ষণ ছিল প্লে-অফ এবং ফাইনাল খেলা, যেখানে ফরচুন বরিশাল চূড়ান্ত ম্যাচে চিটাগং কিংস-এর বিরুদ্ধে জয়ী হয়। দলটি ৩ উইকেটে ফাইনাল জয় অর্জন করে এবং এই বিপিএল খেতাব তাদের ধারাবাহিক সাফল্য ও দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার ফলাফল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকে। ফাইনালে তামিম ইকবাল কে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
২০২৫ মৌসুম ফরচুন বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য একটি উজ্জ্বল ও গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়, যেখানে দলটি আগের বছরের সফলতা ধরে রাখে, নতুন উদ্যমে বিপিএলে ফিরে আসে এবং প্রতিযোগিতায় শীর্ষে উঠে।
বর্তমান দল
[সম্পাদনা]ফরচুন বরিশাল : সাম্প্রতিক বাস্তবতা ও ২০২৬ বিপিএল-এর অবস্থান
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে ফরচুন বরিশাল ২০২৫ মৌসুমে দারুণ সাফল্য অর্জন করে। দলটি সেই মৌসুমের ফাইনালে চিটাগং কিংসকে ৩ উইকেটে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তামিম ইকবাল। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে তারা সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হয়।
তবে মৌসুম শেষে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে ফরচুন বরিশাল আগামী পাঁচ বছরের চক্রে—অর্থাৎ ২০২৬ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত—বিপিএলে অংশগ্রহণ করবে না। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল দলটির EOI (Expression of Interest) জমা না দেওয়া। অর্থাৎ, নতুন চক্রের জন্য যে প্রশাসনিক এবং চুক্তিগত প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তা তারা সম্পন্ন করেনি।
বিভিন্ন সূত্রে আরও জানা যায় যে দলটির মালিকপক্ষ প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ার অভিযোগ করেছে। নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার আগে স্কোয়াড গঠন, অর্থায়ন, পরিকল্পনা ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় সংকটের কারণে তারা অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সময়সীমার মধ্যে প্লেয়ার সংগ্রহ এবং ফান্ড ম্যানেজমেন্ট তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সব মিলিয়ে, কাগজে-কলমে শক্তিশালী দল হওয়া সত্ত্বেও ফরচুন বরিশালের ২০২৬ বিপিএলে অংশগ্রহণের পথ বন্ধ হয়ে যায় প্রশাসনিক প্রস্তুতির অভাব ও সময় সংকটের কারণে।
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "বিপিএলে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন বরিশাল"। মানবজমিন। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২৪।
- ↑ "Five corporates pick up teams for Bangabandhu T20 Cup"। www.espncricinfo.com। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২০।
- ↑ "Bangladesh Premier League to begin on 9 February"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০১১।
- ↑ "BPL franchises fetch low prices"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০১২।
- ↑ "Barisal Burners v Dhaka Gladiators, BPL final, 2012"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০১৬।
- ↑ "বরিশাল বুলস থাকছে না বিপিএলে"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "এবারের বিপিএলও খেলা হচ্ছে না বরিশাল বুলসের"। প্রিয়.কম। ১৩ আগস্ট ২০১৮। ২৬ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
