অতুল সমরসেকরা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Athula Samarasekera থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অতুল সমরসেকরা
අතුල සමරසේකර
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমৈতিপাজে অতুল রোহিত সমরসেকরা
জন্ম৫ আগস্ট, ১৯৬১
গল
ডাকনামবিগ স্যাম
উচ্চতা৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৯১ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাব্যাটসম্যান, কোচ
সম্পর্কঅনূঢ়া সামারাসেকেরা (ভ্রাতা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪২)
২৫ আগস্ট ১৯৮৮ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১২ ডিসেম্বর ১৯৯১ বনাম পাকিস্তান
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৩৬)
৯ জুন ১৯৮৩ বনাম পাকিস্তান
শেষ ওডিআই১৮ এপ্রিল ১৯৯৪ বনাম নিউজিল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৮৩ - ১৯৯৪কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৯ ৫৭
রানের সংখ্যা ১১৮ ৮৪৪ ২৭৩৭
ব্যাটিং গড় ১৬.৮৫ ২২.৮১ ৩৩.৭৯
১০০/৫০ –/১ –/৪ ৬/১৩
সর্বোচ্চ রান ৫৭ ৭৬ ১৯১
বল করেছে ১৯২ ৩৩৮ ৩৭৭৪
উইকেট ৪৬
বোলিং গড় ৩৪.৪৬ ৩৯.৫৮
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ২/৩৮ ৩/৩১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/– ৫/– ৩৬/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৯ অক্টোবর ২০১৯

মৈতিপাজে অতুল রোহিত সমরসেকরা (সিংহলি: අතුල සමරසේකර; জন্ম: ৫ আগস্ট, ১৯৬১) গল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শ্রীলঙ্কান সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও কোচ।[১] বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৪ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।[২]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কলম্বো ক্রিকেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ‘বিগ স্যাম’ ডাকনামে পরিচিত অতুল সমরসেকরা

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

গলের মাহিন্দ কলেজে পড়াশুনো করেন। সেখানে থাকাকালেই ক্রিকেটের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৮১ সালে বার্ষিকাকারে রিচমন্ড-মাহিন্দ ক্রিকেট এনকাউন্টারে কলেজ ক্রিকেট একাদশেরর অধিনায়কত্ব করেন। এরপর কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবে যোগদানের পর থেকে দলের নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে থাকেন।

১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত অতুল সমরসেকরা’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে চারটিমাত্র টেস্ট ও ঊনচল্লিশটি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন অতুল সমরসেকরা। ২৫ আগস্ট, ১৯৮৮ তারিখে লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১ তারিখে সিয়ালকোটে স্বাগতিক পাকিস্তান দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৮৩ সালে সোয়ানসীতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলার মাধ্যমে ওডিআইয়ে অভিষেক ঘটে অতুল সমরসেকরা’র। নিজস্ব প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিকে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন তিনি। এর ৫ বছর পর আগস্ট, ১৯৮৮ সালে লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। টেস্ট অভিষেক পর্বও এর ব্যতিক্রম ছিল না। প্রথম ইনিংসে কোন রান সংগ্রহ করা বাদেই প্যাভিলিয়নের পথে পা বাড়ান। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৭ রানের দর্শনীয় অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। এ ইনিংসে বেশ কয়েকটি বাউন্ডারির মার ছিল। এছাড়াও, দুই উইকেট ও দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলায় ৩ উইকেট পান তিনি। ঐ টেস্টে তার দল ৭ উইকেটে পরাভূত হয়েছিল।[৩]

১৯৮৩১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন অতুল সমরসেকরা।[৪] তন্মধ্যে, ১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে স্মরণীয় খেলা উপস্থাপন করেছিলেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঝড়োগতিতে ৭৫ রান তুলেন। এ পর্যায়ে তিনি ৩১ বলে অর্ধ-শতরান করেন। ফলশ্রুতিতে, ওডিআইয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন শতাধিক রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা সফলতার সাথে অতিক্রম করে তার দল।[৫]

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

মারমুখী ভঙ্গীমায় আক্রমণধর্মী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। আকর্ষণীয় শারীরিক গড়নের অধিকারী ছিলেন। মিডিয়াম-পেস বোলিংয়ের তুলনায় ব্যাট হাতে নিয়ে শক্তিশালী স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি ছোটাতেন। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে যাত্রাটি মোটেই সুবিধের হয়নি। যখনই ভাবা হয় যে, বোলারদের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন ও দলের রানের প্রয়োজন তখনই তিনি বিদেয় নিতেন। আক্রমণধর্মী ব্যাটিংয়ের কারণে দর্শকদের মনোরঞ্জন করতে পারতেন। ফিল্ডিংয়ের সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে শুরুরদিকের অন্যতম উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে বল শূন্যে ফেলে সফলতার সাথে রান সংগ্রহের প্রবণতায় সমর্থ ছিলেন তিনি। কিন্তু, নিজেকে কখনো দলের নিয়মিত খেলোয়াড়ে পরিণত করতে পারেননি।

দীর্ঘদেহের অধিকারী অতুল সমরসেকরা আগ্রাসী ব্যাটসম্যান ছিলেন। বল হাতে নিয়েও সাফল্য লাভ করেন। তবে, আন্তর্জাতিকে অঙ্গনে তেমন কোন প্রভাব ফেলতে পারেননি। ফলে, জাতীয় দলে তার অংশগ্রহণ সীমিত পর্যায়ের ছিল।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৯৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর বাংলাদেশে পেশাদারী পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার সিদ্ধান্ত নেন।[২] বর্তমানে তরুণ ক্রিকেটারদেরকে ব্যাটিং ও বোলিং কৌশল শেখাচ্ছেন। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা অনূঢ়া সামারাসেকেরা শ্রীলঙ্কায় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।[২]

বর্তমানে তিনি মেলবোর্নের শহরতলী এলাকায় হ্যাম্পটন পার্কে বসবাস করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত অতুল সমরসেকরা থিলানী নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। তাদের সংসারে শিখি ও শেঠ নামীয় দুই পুত্র এবং সিনাই নাম্নী এক কন্যা রয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]