অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান
| গঠিত | ১৯৪৯ |
|---|---|
| ধরন | সংবাদ সংস্থা |
| সদরদপ্তর | ইসলামাবাদ |
| অবস্থান | |
যে অঞ্চলে | বিশ্বব্যাপী |
| মালিক | পাকিস্তান সরকার |
মূল ব্যক্তিত্ব | মুহাম্মদ আসিম (ম্যানেজিং ডিরেক্টর)[১] |
প্রধান প্রতিষ্ঠান | তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় |
স্টাফ | নিচে দেখুন |
| ওয়েবসাইট | www |
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান (সংক্ষেপে এপিপি; উর্দু : مشارکتِ مطبع ، پاکستان) পাকিস্তানের সরকার-চালিত জাতীয় সংবাদ সংস্থা।[২][৩] এপিপির ৩৭টি বিদেশি সংবাদ সংস্থার সাথে চুক্তি রয়েছে এবং "জেলা ও তহসিল পর্যায়ে প্রায় ১০০ জন সংবাদদাতা সহ প্রায় ৪০০ সম্পাদকীয় কর্মী" রয়েছে।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]পূর্বপট
[সম্পাদনা]অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব ইন্ডিয়া (এপিআই) নামক সংবাদ সংস্থাটি ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ ভারতে গঠিত হয় এবং ১৯১৫ সালে রয়টার্স কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হয়।[৪] ১৯৪০-এর দশকে, রয়টার্স তার গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে ব্রিটিশ ডোমিনিয়নগুলিতে সংবাদ সংস্থাগুলোর অংশীদারিত্বের সুযোগ সৃষ্টি করে। এর ফলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অফ ইন্ডিয়া ১৯৪৬ সালে একটি স্বাধীন কোম্পানিতে পরিণত হয়, যদিও রয়টার্সের উল্লেখযোগ্য সমর্থন তখনও ছিল।[৫]
১৯৪৭ সালের আগস্টে ভারত বিভাজনের পর, এপিআই আরও এক বছরের বেশি সময় ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যায়। জি. কে. রেড্ডির মতো কিছু ভারতীয় সাংবাদিক পাকিস্তানি অঞ্চলে কাজ করেন। ১৯৪৮ সালে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এপিআই-এর কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া গঠন করে, যা ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটে।[৬] ১৯৪৯ সালের জানুয়ারিতে, পাকিস্তানি কার্যক্রম "অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অফ পাকিস্তান" নামে একটি রয়টার্স সহায়ক সংস্থা হিসেবে পুনর্গঠিত হয়। ১৯৪৯ সালের সেপ্টেম্বরে, কোম্পানিটি জাতীয় নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তরিত হয়।[৭][৮]
প্রাথমিক বছরগুলো
[সম্পাদনা]এপিপি একটি ট্রাস্ট হিসেবে সংগঠিত হয়, যেখানে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বোর্ডের অবশিষ্ট সদস্যদের দুই বছরের মেয়াদে নির্বাচিত করা হয়।[৭] নবগঠিত দেশটির সংবাদমাধ্যম আর্থিকভাবে দুর্বল ছিল, ফলে সংস্থাটিকে আর্থিকভাবে সমর্থন করতে অক্ষম ছিল। এপিপি পাকিস্তান সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চায়, যা ঋণ ও ভর্তুকির আকারে মঞ্জুর করা হয়। সরকারি সহায়তার ফলে এপিপি বিশ্বের সংবাদ সংস্থাগুলোর সেবা গ্রহণ করতে এবং পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে অফিস খুলতে সক্ষম হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
সরকারি অধিগ্রহণ
[সম্পাদনা]এপিপির আর্থিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে, এমনকি এটি ধ্বসের মুখে পৌঁছে যায়। এটি সরাসরি পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ প্রদান আটকে রাখার ফলাফল ছিল। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতীয় সংবাদ সংস্থাটির জন্য আর্থিক সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এপিপির প্রাপ্য তহবিল আটকানো হয়েছিল। ১৯৬০-এর দশকের শুরুর দিকে, এপিপি সরকারের ডাক ও তার বিভাগকে প্রায় ৮ লক্ষ রুপি (৮০০,০০০ রুপি) এবং বিদেশি সংবাদ সংস্থাগুলোর কাছে চাঁদার বকেয়া হিসেবে আরও ১২ লক্ষ রুপি (১,২০০,০০০ রুপি) দেনা রাখে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] পাকিস্তান সরকার হস্তক্ষেপ করে এবং ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই সরকারের অভ্যন্তরীণ কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের নির্দেশে সংস্থাটি অধিগ্রহণ করে। এর জন্য একটি সরকারি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। প্রদত্ত কারণ ছিল এপিপির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা।[৯][১০]
অধিগ্রহণের সময় বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়: মালিক তাজউদ্দিনকে অপসারণ করা হয় এবং কিছু সাংবাদিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা এ. কে. কুরেশিকে এপিপির প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়। সংস্থার প্রধান কার্যালয় পাকিস্তানের নতুন রাজধানী ইসলামাবাদে স্থানান্তরিত হয়। সংস্থাটির আর্থিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং এর সংবাদকভারেজ আরও পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে ওঠে, কারণ সরকার এটি একটি সরকারি মুখপাত্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। এ. কে. কুরেশি দূর্ভাগ্যজনক ন্যাশনাল প্রেস ট্রাস্ট-এর প্রতিনিধিদলের সদস্য ছিলেন, যারা লন্ডনে যাচ্ছিলেন পিআইএ ফ্লাইট ৭০৫-এ করে। বিমানটি ১৯৬৫ সালের ২০ মে কায়রোতে বিধ্বস্ত হয়। তিনি তার সহযাত্রীদের পাশে কায়রোতে একটি গণকবরে সমাহিত আছেন: পাকিস্তানের প্রথম জেট বিমান দুর্ঘটনার শিকার।[১১]
২০১৫ সালে, তথ্যমন্ত্রী পারভেজ রশীদ এবং একটি তিন সদস্যের কমিটি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অফ পাকিস্তানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে ১৮ জন প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, যাতে চূড়ান্তভাবে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ করা যায়।[২]
সম্পাদকীয় কার্যক্রম
[সম্পাদনা]প্রধান কার্যালয় ও নেটওয়ার্ক
[সম্পাদনা]ইসলামাবাদ-এ প্রধান কার্যালয় ছাড়াও এপিপির পাঁচটি ব্যুরো রয়েছে করাচি, লাহোর, পেশাওয়ার, কোয়েটা ও রাওয়ালপিন্ডিতে। এছাড়া আটটি সংবাদ কেন্দ্র রয়েছে সুক্কুর, মুলতান, কোয়েট্টা, ফয়সালাবাদ, লারকানা, হায়দরাবাদ, মুজাফফারাবাদ, শিয়ালকোট এবং বর্তমানে গিলগিচ-বালোচিস্তানে।
যেকোনো সংবাদ সংস্থার সম্পাদকীয় কার্যক্রম পত্রিকার মতোই, অর্থাৎ এটি রিপোর্টিং টিম ও নিউজ ডেস্কে বিভক্ত। ছোট কেন্দ্রগুলোতে সম্পাদকীয় স্টাফ হিসেবে থাকেন একজন প্রতিবেদক ও সাব-এডিটর। রিপোর্টিং টিমে প্রায় ৫০ জন প্রতিবেদক রয়েছেন, যারা অর্থনীতি, ক্রীড়া, অপরাধ, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ বা প্রধান সরকারি দপ্তরের মতো বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব পালন করেন। নিউজ ডেস্কগুলো কপি-লিখন ও রিপোর্টিং টিমের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকে। এগুলো সরকারি তথ্য ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও, দূতাবাস, বৈদেশিক মিশন) এর প্রেস রিলিজও হ্যান্ডল করে।
সমগ্র সংবাদ কার্যক্রম প্রধান কার্যালয়ে অবস্থিত সেন্ট্রাল নিউজ ডেস্ক (সিএনডি) দ্বারা মনিটর করা হয়। সব ব্যুরো থেকে সংবাদ, ফিচার, রচনা ইসলামাবাদে এডিটিংয়ের জন্য পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে সমন্বিত সার্ভিস সারাদেশে বিতরণ করা হয়। সিএনডি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদেশী সংবাদ সংস্থা, স্থানীয় ও বিদেশী পত্রিকা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, টিভি চ্যানেল, রেডিওর সাথে সংযুক্ত।
যোগাযোগ নেটওয়ার্ক
[সম্পাদনা]এপিপিকে পাকিস্তানের "শীর্ষ" সংবাদ সংস্থা বিবেচনা করা হলেও দশকজুড়ে এটি পুরনো, অচল ও অবিশ্বস্ত যন্ত্রপাতিতে চলত। ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরের মধ্যে সংবাদ কপি বহন করা হত ৫০-বাউড ডুপ্লেক্স সার্কিটে।
১৯৯১ সালে এপিপির জেনারেল ম্যানেজার এম. আফতাব সংস্থার প্রযুক্তিগত সম্পদ উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। এর ফলে ডেটা আউটপুট গতি প্রতি মিনিটে ৫০ শব্দ (ডব্লিউপিএম) থেকে বেড়ে ১২০০ ডব্লিউপিএম-এ রূপান্তরিত হয়, যার বেশিরভাগ এখন সরাসরি পাকিস্তান ও বিদেশে গ্রাহকদের কম্পিউটারে একই সময়ে প্রবেশ করানো হয়।
গ্রাহক
[সম্পাদনা]পাকিস্তানের জাতীয় সংবাদ সংস্থা হিসেবে এপিপি দেশি-বিদেশি সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশন করে পাকিস্তানের ৮৪টি (১৯৯২) পত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশন, সরকারি অফিস ও কিছু বিদেশী মিডিয়ায়। এপিপির সাবস্ক্রিপশন রেট পাকিস্তানের অন্যান্য সংস্থার চেয়ে বেশি, এর বিশ্বাসযোগ্যতা ও সেবার কারণে। এ কারণে পাকিস্তানের প্রতিটি পত্রিকা এর সেবা নিতে চেষ্টা করে। এপিপির উল্লেখযোগ্য গ্রাহক পত্রিকাগুলো হলো: ডন, পাকিস্তান টাইমস, দ্য ফ্রন্টিয়ার পোস্ট, দ্য স্টেটসম্যান, দ্য নেশন, দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল, বিজনেস রেকর্ডার, দি অবজার্ভার, নাওয়া-ই-ওয়াক্ত, জাং গ্রুপ, খাবরাইন, ডেইলি এক্সপ্রেস, দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এবং আরও কিছু ইংরেজি ও উর্দু জাতীয় পত্রিকা।[১২]
কর্মী
[সম্পাদনা]এপিপির কর্মীসংখ্যা আনুমানিক ৮০০ থেকে ১০০০, যার মধ্যে ২০০ থেকে ৩৫০ জন সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফার, বাকিরা প্রশাসনিক স্টাফ (কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান, পিয়ন, ট্রাফিক অ্যাটেনডেন্ট, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ও ফাইন্যান্স স্টাফ)।
এছাড়া পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলা সদরে ও বিদেশে অল্প সংখ্যক খণ্ডকালীন সংবাদদাতা রয়েছেন।
দশকের ব্যবধানে সাংবাদিকদের বিদেশে পোস্টিং পদ্ধতি পুনরুজ্জীবিত হয় জনাব এম. আফতাবের প্রথম মেয়াদে। তিনি ওয়াশিংটন ডি.সি., লন্ডন, বেইজিং ও নতুন দিল্লিতে চারজন সিনিয়র সাংবাদিককে বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে পোস্ট করার জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেন।
মুশারফ সরকারের তথ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ আলি দুররানির সময় বৃহৎ রাজনৈতিক নিয়োগ এবং পরবর্তীতে ২০০৮ থেকে বর্তমান (অক্টোবর ২০১৫) পর্যন্ত পিপিপি-নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারের ফেডারেল পর্যায়ের নিয়োগ এপিপির আর্থিক অবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসা, টেলিফোন, পত্রিকা বিল, ওভারটাইম, ফিচার ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধ করতে অক্ষম। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো—প্রতিষ্ঠানের মেরুদণ্ড হলেন সাংবাদিকরা, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য স্টাফ সদস্যের তুলনায় তাদের সংখ্যা খুবই কম।
ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়ন
[সম্পাদনা]এপিপি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সরকারি সংস্থা। সংস্থাটির প্রধান একজন মহাপরিচালক, যিনি মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিযুক্ত হন। এছাড়া সরকার কর্তৃক নিযুক্ত একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকও রয়েছেন।[২]
সরকারি নিয়ন্ত্রণ শুরুর পর থেকে এপিপি একটি অনির্ধারিত মর্যাদা নিয়ে কাজ করছে – এটি না কোনো সরকারি সংস্থা, না কোনো স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম। ফলে এপিপি যুগপৎ সরকারের মুখপাত্র হিসেবে সমালোচনার শিকার হয়েছে। তবে ১৯৯৮ সালে এপিপি-কে একটি কর্পোরেশনে রূপান্তরের জন্য একটি বিল প্রস্তাব করা হয়। ২০০২ সালের ১৯ অক্টোবর এক অধ্যাদেশবলে এপিপি'কে কর্পোরেশনে রূপান্তরিত করে এর নামকরণ করা হয় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান কর্পোরেশন (এপিপিসি)।
এই অস্পষ্ট অবস্থানের কারণে এপিপি-র জন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ব্যবস্থা নেই; তথ্য মন্ত্রণালয় বার্ষিক বরাদ্দের মাধ্যমে এর ব্যয় নির্বাহ করে। এপিপি-র বর্তমান বার্ষিক ব্যয় ধরা হয় ১৪ কোটি পাকিস্তানি রুপি। সংস্থাটি তার মোট আয়ের ৬০% পায় সরকারি অনুদান থেকে। বাকি ৪০% আয় আসে টেলিভিশন, রেডিও, পত্রিকার পাশাপাশি বিদেশি সংবাদ সংস্থা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও অ-মিডিয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে সদস্যতা ফির মাধ্যমে।
পরিষেবা
[সম্পাদনা]সংবাদ সেবা
[সম্পাদনা]পাকিস্তানের দুটি প্রধান সংবাদ সংস্থা হলো: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি) এবং পাকিস্তান প্রেস ইন্টারন্যাশনাল।[১৩]
এপিপি-এর সংবাদ সেবা মূলত তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে বিভক্ত: সরকারি, রাজনৈতিক ও জেলা সংবাদ।
সরকারি সংবাদ
[সম্পাদনা]এপিপি সরকারি ব্যক্তিত্বদের কার্যক্রম ও বক্তব্যের বিস্তারিত কভারেজ সরবরাহ করে। সংবাদপত্র ও সরকার নিয়ন্ত্রিত রেডিও-টেলিভিশন সরকারি সংবাদের জন্য এপিপি-এর উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। প্রখ্যাত সাংবাদিক জামির নিজামির মতে:
- "আইয়ুব খানের আমল থেকে এপিপি-এর সময় ও শক্তির বেশিরভাগই রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘ বক্তৃতা লেখায় ব্যয় হয়, বাকিটা বরাদ্দ থাকে সরকারি প্রেস নোট ও অন্যান্য নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য।"
রাজনৈতিক ও অন্যান্য সংবাদ
[সম্পাদনা]সরকারি সংস্থা হওয়ায় এপিপি প্রধানত সরকারি সংবাদের পাশাপাশি জাতীয় জীবনের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য খাতের প্রচার করে। সংস্থাটি তার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য সুপরিচিত, কারণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদ সংস্থা হিসেবে এটি তা প্রদর্শন করতে বাধ্য।
এপিপি কেন্দ্র ও প্রাদেশিক পর্যায়ে বিরোধী নেতা ও দলগুলোর কভারেজও দেয়, তবে নিজ নীতি মেনে এবং যতটুকু ফেডারেল সরকার অনুমতি দেয় তার সীমার মধ্যে।
জেলা সংবাদ
[সম্পাদনা]এপিপি-এর জেলা সংবাদ সেবা খুব বেশি সমাদৃত নয়, কারণ দেশজুড়ে এর সম্পদ এতটাই সীমিত যে এই বিভাগের বেশিরভাগ তথ্য আসে সরকারি তথ্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে।
বিদেশি সংবাদ
[সম্পাদনা]এপিপি পাকিস্তানি গণমাধ্যমের জন্য আন্তর্জাতিক সংবাদের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। সংস্থাটি রয়টার্স, এএফপি এবং আমেরিকার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর সদস্য। ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনালের (ইউপিআই) সাথেও এপিপি-এর সম্পর্ক ছিল, তবে চুক্তিটি নবায়ন করা হয়নি।
এপিপি প্রায় ৩৫টি সংবাদ সংস্থার সাথে সহযোগিতা চুক্তি করেছে, প্রধানত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে। এসব চুক্তির আওতায় বিনিময় ভিত্তিতে সংবাদ বিনিময় করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (আইআরএনএ), প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া এবং মেনা (মিশর)।
বাণিজ্যিক সেবা
[সম্পাদনা]এপিপি-এর বাণিজ্যিক সেবা রয়টার্স থেকে মুদ্রা ও পণ্যের মূল্য, আর্থিক ও অর্থনৈতিক সেবা, ব্যাংক ও বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সরবরাহ করে। এপিপি এই সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে একটি ধাক্কা খায় যখন রয়টার্স এপিপি-কে বাইপাস করে সরাসরি পাকিস্তানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সংবাদপত্রগুলোর কাছে তার আর্থিক সেবা বিক্রি শুরু করে।
ফটো সেবা
[সম্পাদনা]এপিপি-এর নিজস্ব ফটোগ্রাফিক বিভাগ রয়েছে যেখানে করাচি, লাহোর, ইসলামাবাদ ও কোয়েটায় যথাক্রমে ছবি গ্রহণ ও প্রেরণের যন্ত্র রয়েছে। ইসলামাবাদ প্রধান কার্যালয় হিসেবে পাকিস্তানের ভেতরে ও বিদেশ থেকে ছবি গ্রহণ করে এবং সেগুলো সংস্থার ব্যুরো ও স্টেশনে প্রেরণ করে, যেখান থেকে স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর কাছে বিতরণ করা হয়।
উর্দু সেবা
[সম্পাদনা]১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানে উর্দু ভাষার দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা বাড়ার চাহিদা মেটাতে সংস্থাটির উর্দু ভাষার সেবা শুরু হয়। এই সেবা চালুর পিছনে ধারণা ছিল ভুল এড়ানো এবং নির্ভুলতা নিশ্চিত করা। সাধারণত এপিপি উর্দু বক্তৃতাকে ইংরেজিতে অনুবাদ করত, তারপর সংবাদপত্রের সম্পাদক সেটি আবার উর্দুতে অনুবাদ করতেন—যার ফলে অনুবাদ, জোর দেওয়া বা প্রসঙ্গগত ভুলের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যেত। উর্দু সেবাটি এখনও ছোট আকারের হলেও উভয় ভাষায় পাঠ্য তৈরি করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
ফিচার ও রচনা সেবা
[সম্পাদনা]এপিপি-এর সম্পাদকীয় কর্মীরা নিয়মিত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসাসহ সামাজিক-অর্থনৈতিক বিষয়ে ইংরেজি ও উর্দুতে ফিচার ও রচনা প্রকাশ করে, যা জাতীয় দৈনিকগুলোতে ভালোভাবে প্রকাশিত হয়।[১২]
ভিডিও সংবাদ সেবা
[সম্পাদনা]ভিজ্যুয়াল নিউজ সার্ভিস (ভিএনএস) ২০০৭ সালে চালু হয়, যার বিশেষ লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ ভবনের ইলেকট্রনিক সংবাদ কভারেজ বেসরকারি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চ্যানেলগুলোতে সরবরাহ করা। এপিপি-এর নিজস্ব সংবাদ চ্যানেল চালুর ধারণা নিয়ে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল, তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ধারণাটি বাধাগ্রস্ত হয় এবং শুধুমাত্র ভিএনএস সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ভিএনএস-এর পরিচালক হলেন সিনিয়র গ্রেড ওয়ান কর্মকর্তা চৌধুরী রুবনাওয়াজ বাজওয়া।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Info from APP official website Retrieved 3 August 2019
- 1 2 3 Nokhaiz Sahi (২১ জুলাই ২০১৫)। "Summary sent to Prime Minister to appoint Associated Press of Pakistan Managing Director"। The Nation (Pakistan) (newspaper)। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০১৯।
- ↑ Parvez Jabri (১৬ এপ্রিল ২০১৯)। "Pakistan open for investment, tourism"। Business Recorder (newspaper)। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৯।
- ↑ UNESCO 1953, পৃ. 10, 82।
- ↑ UNESCO 1953, পৃ. 21।
- ↑ UNESCO 1953, পৃ. 82।
- 1 2 UNESCO 1953, পৃ. 97।
- ↑ Pakistan Affairs, Vol. 2, No. 16, পৃষ্ঠা ৩, তথ্য বিভাগ, পাকিস্তান দূতাবাস, ১৪ জানুয়ারি ১৯৪৯।
- ↑ "Mirza Hassan Akhtar, the nawab of the newsroom"। Dawn। ২৪ জুন ২০১৬।
- ↑ "Pakistan"। Media Landscapes (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২৩।
- ↑ From the past pages of Dawn: 1965: Fifty years ago: 122 die in air disaster ডন (সংবাদপত্র), প্রকাশিত ২১ মে ২০১৫, সংগৃহীত ২ আগস্ট ২০১৯
- 1 2 দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন (সংবাদপত্র)-এ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান প্রদত্ত ফিচার নিবন্ধ আহরিত ৩ আগস্ট ২০১৯
- ↑ গুগলবুকসে পাকিস্তানের দুটি প্রধান সংবাদ সংস্থা আহরিত ৩ আগস্ট ২০১৯
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- News Agencies: Their Structure and Operation (পিডিএফ), UNESCO, ১৯৫৩