বিষয়বস্তুতে চলুন

al-Hafiz

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

al-Hafiz li-Din Allah
الحافظ لدين الله
Photo of the two sides of a gold coin with circular Arabic inscriptions
Gold dinar of al-Hafiz, minted at Alexandria in 1149
ImamCaliph of the Fatimid Caliphate
রাজত্ব23 January 1132 – 10 October 1149
পূর্বসূরিal-Amir bi-Ahkam Allah
উত্তরসূরিal-Zafir bi-Amr Allah
জন্ম1074/5 or 1075/6
Ascalon
মৃত্যু10 October 1149 (aged 72–75)
Cairo
বংশধর
DynastyFatimid
পিতাAbu'l-Qasim Muhammad ibn al-Mustansir Billah
ধর্মIsma'ilism

আলহাফিজ

মিশরের ফাতেমি শাসকদের মাঝে আবুল-মায়মুন 'আব্দ আল-মাজিদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল-মুস্তানসির ছিলেন একাদশতম খলিফা , যিনি তার শাসনামল নাম আল-হাফিয লি-দীন আল্লাহ ( আরবি: الحافظ لدين الله )বা ফাতেমীয় খলিফা হিসেবে পরিচিতি দান করেন। যিনি ১১৩২ সাল থেকে ১১৪৯ সাল পর্যন্ত মিশরে শাসন করেছেন এবং হাফেজি ইসমাইলিজমের ২১তম ইমাম ছিলেন ।

আলহাফিজের শাসনকাল সুখকর ছিল না। ১১৩০ সালের অক্টোবরে তার চাচাতো ভাই আল-আমির বি-আহকামুল্লাহর মৃত্যুর পর আল-হাফিজ প্রথম শাসক হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। মৃত্যুর সময় আল-আমির তার একমাত্র শিশু পুত্র, আল-তাইয়িবকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে রেখে গিয়েছিলেন। কিন্তু আল-হাফিজ -তার রাজবংশের সবচেয়ে বয়স্ক ও জীবিত সদস্য হওয়ায় নিজেকে - শাসক হিসেবে ঘোষণা করেন। আল-তাইয়িবকে স্পষ্টতই নতুন শাসনব্যবস্থা দ্বারা বহিষ্কার করা হয় এবং সম্ভবত হত্যা করা হয়, যা কয়েক দিনের মধ্যেই কুতায়ফাতের অধীনে সেনাবাহিনী দ্বারা উৎখাত করা হয়। পরবর্তীতে আল-হাফিজকে বন্দী করা হয় এবং ফাতেমীয়দের ক্ষমতাচ্যুত করে ইসমাইলিজমকে ব্যক্তিগত শাসনব্যবস্থা প্রতিস্থাপন করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়,যা সম্ভবত দ্বাদশ শিয়া মতবাদের উপর ভিত্তি করে স্থাপন করা হয়, যেখানে তিনি নিজেকে লুকানো ইমামের সর্বশক্তিমান উত্তরাধিকারী হিসেবে নিযুক্ত করেন। ১১৩১ সালের ডিসেম্বরে ফাতেমীয় অনুগতদের দ্বারা তাকে হত্যা করার পর কুতায়ফাতের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটে এবং আল-হাফিজকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং তাকে শাসক হিসেবে পুনর্বহাল করা হয়।

(naṣṣ

শাসক হিসেবে, আল-হাফিজ তার প্রতাপশালী ও শক্তিশালী উজিরদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন -নানা উপায় এবং বিভিন্ন কৌশলে ।কিন্তু সফলতার পথ সহজ ছিল না, বিভিন্ন সামরিক গোষ্ঠীর দাবির কাছে বারবার তাকে নতি স্বীকার করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি উজিরের বিবর্তনকে মেনে নিয়ে খেলাফতের পরিবর্তে একটি স্বাধীন- কার্যত সুলতানিতে পরিণত করতে বাধ্য হয়। এভাবে আল-হাফিজের নিজের পুত্র হাসান ১১৩৪ সালে তাকে উজির হিসেবে নিয়োগ করতে বাধ্য করেন, যার ফলে খলিফার আরেক পুত্রকে পদ থেকে উৎখাত করা হয়। হাসানের শাসনামল অত্যাচারে পরিপূর্ণ।যে কারণে ১১৩৫ সালের মার্চ মাসে সেনাবাহিনী তাকে উৎখাত করে। এরপর বাহরামের খ্রিস্টীয় নীতির কারণে, খ্রিস্টান বাহরাম আল-আরমানিকে উজিরে নিযুক্ত করা হয় এবং মুসলিম জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর ফলে আরেকটি বিদ্রোহ শুরু হয় এবং ১১৩৭ সালে সুন্নি রিদওয়ান ইবনে ওয়ালাখশিকে উজিরে নিযুক্ত করা হয়। রিদওয়ান কেবল খ্রিস্টান-বিরোধী এবং ইহুদি-বিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, বরং আল-হাফিজকে উৎখাত করে ফাতেমীয় রাজবংশকে তার নেতৃত্বে সুন্নি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেন।আল-হাফিজ কায়রোর জনগণের সমর্থনে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যর্থ করে দেন এবং ১১৩৯ সালে রিদওয়ানকে উৎখাত করেন। পরবর্তী দশ বছর ধরে, খলিফা উজির ছাড়াই শাসন করেন, পরিবর্তে ইবনে মাসালকে নেতৃত্বদানকারী সচিবদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রশাসনের দায়িত্ব অর্পণ করেন। এই সময়কাল বিদ্রোহ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে জর্জরিত ছিল, কিন্তু আল-হাফিজ ১১৪৯ সালের অক্টোবরে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অধ্যবসায়ী ছিলেন এবং প্রচেষ্টো অব্যহত রাখেন। ১১৭১ সালে ফাতেমীয় খিলাফতের শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার উত্তরসূরিরা শক্তিশালী উজিরদের হাতে পুতুলে পরিণত হন।

ফাতেমি বংশের ভবিষ্যৎ শাসক, আল-হাফিজ ৪৬৭ হিজরি (১০৭৪/৫ খ্রিস্টাব্দ) অথবা ৪৬৮ (১০৭৫/৬) সালে আসকালনে জন্মগ্রহণ করেন, তখন তার নাম রাখা হয় আবদুল মাজিদ । [] তার পিতার নাম আবুল-কাসিম মুহাম্মদ, যিনি তৎকালীন ফাতেমীয় খলিফা আল-মুস্তানসির ( শা. 1036–1094 এর পুত্র ছিলেন।শা. 1036–1094 )। [] [] যাকে পরবর্তী জীবনে আবুল-মায়মুনের উপাধি ( kunya ) দ্বারাও ডাকা হত। [] রাজনীতিতে আসার আগে তার প্রাথমিক জীবন প্রায় অজানা। [] [] প্রাপ্তবয়সে তিনি তার দৃঢ় মন এবং নম্র স্বভাবের অধিকারী ছিলেন বলে জানা যায়। তিনি জিনিসপত্র মজুদ করে রাখতে পছন্দ করতেন । পডালেখার বিষয় তিনি রসায়নজ্যোতির্বিদ্যায় প্রবল আগ্রহী ছিলেন; তিনি বেশ কয়েকজন জ্যোতির্বিদকে তার কাজে নিযুক্ত করেছিলেন বলে জানা যায়। [] []

  1. Daftary 2007, পৃ. 250–251, 508।
  2. 1 2 3 Walker 2017
  3. Daftary 2007, পৃ. 246।
  4. 1 2 Magued 1971, পৃ. 54।
  5. Güner 1997, পৃ. 108।
  6. Güner 1997, পৃ. 109।