৮ মুহররম
অবয়ব
৮ মহররম হলো ইসলামি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মুহররম ও হিজরি বছরের ৮ম দিন। এর পর হিজরি বছর শেষ হতে আরো ৩৪৬ বা ৩৪৭ দিন বাকি থাকে।
ঘটনাবলী
[সম্পাদনা]- ৯২৩ হিজরি: উসমানীয়রা মিশরের রাজধানী শহর কায়রোতে প্রবেশ করে। এর মাধ্যমে মামলুকদের শাসন সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যায়। মামলুকরা তখন মিশর ও শামে খিলাফতের প্রতিনিধিত্ব করত এবং তাদের ছত্রছায়ায়ই আব্বাসীয় খলিফারা অবস্থান করতেন। কিন্তু যখন উসমানীয়দের হাতে মামলুক সাম্রাজ্যের পতন হয়, তখন খলিফার সেই নামমাত্র অবস্থানও শেষ হয়ে যায়। ফলস্বরূপ খিলাফতের নেতৃত্ব পুরাপুরি উসমানীয়দের হাতে চলে আসে এবং উসমানীয় খিলাফতের দৌরাত্ম্য শুরু হয়। [১]
- ১০২৮ হিজরি: উসমানীয় সালতানাত ইরানের সঙ্গে "আরদবীল চুক্তি" স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির ফলে ইরান থেকে প্রতি বছর উসমানীয়দের যে পরিমাণ রেশম কর স্বরূপ পাঠানো হত, তা আগের ইস্তাম্বুল চুক্তির তুলনায় অর্ধেকে কমিয়ে আনা হয়।
- ১০৭৫ হিজরি: ৬০ হাজার সৈন্যের বিশাল জার্মান বাহিনী মাত্র ১০ হাজার সৈন্যের উসমানীয় বাহিনীর একটি অগ্রগামী ইউনিটের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৭ ঘণ্টার যুদ্ধে অসম এই লড়াইয়ে ১০ হাজার জার্মান সৈন্য প্রাণ হারালেও তারা উসমানীয় বাহিনীকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে ফেলে।
- ১২০৬ হিজরি: উসমানীয় সুলতান তৃতীয় সেলিম মুসলিম নাবিকদের শত্রু জাহাজ হামলার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ তাঁর নিজের জন্য নির্ধারণ করেন। সেই ধনসম্পদের সমসাময়িক মূল্য প্রায় ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান ছিল।
- ১৩১৩ হিজরি: বিশিষ্ট আলেম ও ধর্মীয় নেতা শেখ হাসুনা নাওয়াবী আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শায়খ নিযুক্ত হন। তিনি আজহারের ২৩তম প্রধান ছিলেন।
- ১৩৩৫ হিজরি: কাতার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে কাতার একটি স্বতন্ত্র আমিরাত হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়।
- ১৩৩৭ হিজরি: প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের এক পর্যায়ে এসে উসমানীয় সাম্রাজ্য নিজেদের পরাজয় মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণ করে। এই যুদ্ধে উসমানীয়দের পতনের পাশাপাশি আরও তিনটি বিশাল সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- ১৩৬০ হিজরি: ব্রিটিশ বাহিনী লিবিয়ার শহর মাউস দখল করে নেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এই ঘটনা ওই অঞ্চলের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
- ১৩৯২ হিজরি: কাতারে একটি শান্তিপূর্ণ অভ্যুত্থান ঘটে। শেখ খলিফা বিন হামাদ আলে সানি তার চাচাতো ভাই শেখ আহমদ বিন আলী আল সানিকে সরিয়ে দিয়ে দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
- ১৪০৯ হিজরি: ইরান-ইরাক যুদ্ধের অবসান ঘটে। আট বছর ধরে চলা এ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে উভয় দেশের বিরাট ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
- ১৪২৩ হিজরি: মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মুহাম্মদ সালমা বেনানির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর সালমা ‘রাজকুমারী সালমা’ নামে পরিচিতি পান।
- ১৪২৭ হিজরি:
- মিশেল আউন ও হাসান নাসরুল্লাহ মিলে মার মিখাইল গির্জায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমঝোতা দলিলে স্বাক্ষর করেন, যা লেবাননী ‘জাতীয় মুক্তি প্রবাহ’ (আল-তিয়ারুল ওয়াতনি আল-হুর) ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সম্পাদিত হয়েছিল।
- জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান-বিষয়ক সংস্থা সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা প্রেরণ বন্ধ করবে। এর পেছনে কারণ ছিল, হামাস শাসনাধীন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গাজায় প্রেরিত শত শত টন খাদ্যসামগ্রী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। তবে হামাস দাবি করে যে, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে ঘটেছিল।
- পাকিস্তানের একটি আদালত দেশটির পারমাণবিক বোমা প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী ড. আবদুল কাদির খানের উপর আরোপিত গৃহবন্দিত্বের আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়।
- ১৪৩৯ হিজরি: লেবাননের সামরিক আদালত শাইখ আহমাদ আল-আসীর আল-হুসাইনিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। কারণ তিনি বিগত কয়েক বছর ধরে হিজবুল্লাহ বিরোধী কার্যকলাপে সক্রিয় ছিলেন। তাকে লেবানন সেনাবাহিনীর সঙ্গে সৃষ্ট সামরিক সংঘাতের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। একই মামলায় প্রাক্তন সঙ্গীতশিল্পী ফাদল শাকিরকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
- ১৪৪৪ হিজরি: ইসরায়েলের সেনাবাহিনী সারায়া আল-কুদ্সের উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলের কমান্ডার তায়সির আল-জাবারিকে টার্গেট করে হত্যা করে। এই হামলায় এক শিশুসহ ১০ জন নিহত হয় এবং আরও ৫৫ জন আহত হয়।
জন্ম
[সম্পাদনা]- ১৩২৮ হিজরি- আল্লাল আল-ফাসি, একজন মরক্কীয় নেতা ও মরক্কীয় স্বাধীনতাকামী দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং বৃহত্তর মাগরেব ধারণার অন্যতম তাত্ত্বিক।
- ১৩৪২ হিজরি - কামাল ফাওজি আশ-শারাবি, একজন সিরীয় কবি ও সাহিত্য-অনুবাদক।
- ১৩৪৬ হিজরি - খলিল আর-রিফাই, একজন ইরাকি অভিনেতা।
- ১৩৫২ হিজরি - সাবাহ ফাখরি, একজন সিরীয় গায়ক।
- ১৩৮২ হিজরি - আহমাদ খালিদ তাওফীক, একজন মিশরীয় ঔপন্যাসিক।
- ১৩৮৬ হিজরি - আলী রিজা পাহলভি, ইরানের শাহ মুহাম্মদ রিজা পাহলভির পুত্র।
মৃত্যু
[সম্পাদনা]- ১২১ হিজরি - মুসাইলামা বিন আবদু্ল মালিক, একজন উমাইয়া সামরিক নেতা।
- ৩৭৬ হিজরি- আব্দুর রহমান ইবনে উমর আস-সুফি, পারস্যিক মুসলিম প্রকৌশলী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী।
- ৬৮৬ হিজরি - বদরুদ্দীন ইবনে মালিক: ভাষাবিদ ও ব্যাকরণবিদ; "আলফিয়াহ" গ্রন্থের লেখকের পুত্র।
- ১৩২৬ হিজরি - মুস্তফা কামাল, একজন মিশরীয় নেতা।
- ১৩৫৮ হিজরি - আব্দুল হামিদ ইবনে বাদিস, আলজেরীয় সংস্কার আন্দোলনের অগ্রদূত ও আলজেরীয় মুসলিম ওলামা সমিতির প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৩৯৭ হিজরি - আব্দুল হামিদ হাসান, কায়রোর আরবি ভাষা একাডেমির মহাসচিব।
- ১৩৯৯ হিজরি - গোল্ডা মেয়ার, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।
- ১৪১৩ হিজরি - আতেফ বাসিসু, ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থার একজন নেতা।
- ১৪১৮ হিজরি - সাদুল্লাহ ওয়ান্নুস, একজন সিরীয় নাট্যকার।
- ১৪২৬ হিজরি - সামি সারহান, একজন মিশরীয় অভিনেতা।
- ১৪২৭ হিজরি - দারুশ-শাহওয়ার, ইসলামের শেষ খলিফা সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল মজিদের কন্যা।
- ১৪৩০ হিজরি - কামাল ফাওজি আশ-শারাবি, একজন সিরীয় কবি ও সাহিত্য-অনুবাদক।
- ১৪৪৪ হিজরি -
- আলি হায়দার, একজন সিরীয় সামরিক নেতা।
- জিহাদ আওদাহ, একজন মিশরীয় রাজনৈতিক লেখক।
- তাইসির আল-জা’বারি, একজন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ নেতা।
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- ইবনে কাসির, মুহাম্মদ (২০১৩)। আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (বাংলা ভাষায়)। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আইএসবিএন ৯৮৪-০৬-০৫৬৫-৮।
- আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৫)। তারিখুল ইসলাম (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ। আইএসবিএন ২৭-৪৫১৪৩-৫৩-০।
- আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৪)। সিয়ারু আলামিন নুবালা (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: আল-রিসালা প্রকাশনী। আইএসবিএন ৯৭৮-৯-৯৩৩-৪৪৬৬৫-৯।
- খতিব বাগদাদী (২০১১)। তারিখে বাগদাদ (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়্যা। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১০-৪৬৬-৩।
- তাবারি, মুহাম্মদ ইবনে জারির (২০১১)। তারিখে তাবারি: তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-৩২৬৩-৫।
- হামাবি, ইয়াকুত (২০১১)। মু'জামুল বুলদান (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-১৪৩২-৭।
- সুয়ুতী, জালালুদ্দীন (২০১০)। তারিখ আল-খুলাফা (আরবি ভাষায়)। সৌদি আরব: দারুল মিনহাজ। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৫৩৪-৯৮১৯-৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ইলমাজ উজতুনা (২০১০)। তারিখ আল-দাওলাহ আল-উসমানিয়া (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব আরাবি। আইএসবিএন ৯৭৮-৬১৪৪১-৫০৩১-৩।
- ইয়াগি, ইসমাইল আহমদ (২০১৪)। আল-দাওলাহ আল-উসমানিয়া, ফিত তারিখিল ইসলামি আল-হাদিস (আরবি ভাষায়)। মাকতাবাতুল আবিকান। আইএসবিএন ৯৭৮-৬০৩৫০-৩৬৯৫-৫।
- বারদি, ইবনে তাগরি (২০১৬)। আল-নুজুম আল-যাহিরাহ ফি মুলুক মিসর ওয়াল কাহিরাহ (আরবি ভাষায়)। কায়রো: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৭৮১-২০১৮-৯।
- ইবনে ইয়াস (২০১৮)। বাদায়ি' আল-জুহুর ফি ওয়াকায়ি' আল-দুহুর (আরবি ভাষায়)। নিল ওয়াফুরাত।
- আল-মাকদিসি, আবু শামা (২০১৮)। আল-রওজাতাইন ফি আখবার আল-দাওলাতাইন আল-নুরিয়া ওয়াস সালাহিয়া (আরবি ভাষায়)। কায়রো: মুয়াসসাসাতুর রিসালা। আইএসবিএন ৯৭৮-১৯১২৬৪-৩৩৫-৬।
- আল মাকরিজি, আলি ইবনে আহমদ (২০০৮)। আস-সুলুক লিমারিফা দুয়াল আল-মুলুক (আরবি ভাষায়)। দার আল-জামান।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ড. আব্দুর রহিম, আল-হাজ্জি (২০০৫)। তারিখুল আন্দালুস আল-ইসলামি। দাম্মাম (সৌদি আরব): দার ইবনুল জাওযি।
- রহমান, ড. আতাউর (২০২৩)। ইতিহাসে ইসলাম: নবী থেকে খেলাফত। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
- ডেভিড, ফ্রমকিন (১৯৮৯)। অ্য পিচ টু ইন্ড অল পিচ: দ্য ফ্যাল অফ দ্য অটোমান অ্যাম্পায়ার (A Peace to End All Peace: The Fall of the Ottoman Empire)। আইএসবিএন ০-৮০৫০-০৮৫৭-৮।
- Harvey, Leonard Patrick (১৯৯২)। Islamic Spain, 1250 to 1500। Chicago: University of Chicago Press। আইএসবিএন ০-২২৬-৩১৯৬২-৮।
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Ayalon, David (১৯৬০)। "Al-Baḥriyya"। Gibb, H. A. R.; Kramers, J. H.; Lévi-Provençal, E.; Schacht, J.; Lewis, B. & Pellat, Ch.। The Encyclopaedia of Islam, New Edition, Volume I: A–B। Leiden: E. J. Brill। পৃষ্ঠা 944–945।