৮ জ্বিলহজ্জ
অবয়ব
৮ জ্বিলহজ হল ইসলামি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির দ্বাদশ মাস জ্বিলহজ্জের ষষ্ঠ দিন। দিনটি চান্দ্র হিজরি সালের ৩৩৩তম দিন, যদি রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ না করে অথবা ৩৩৪তম দিন, যদি রমজান ৩০ দিন পূর্ণ করে অথবা যদি সফর, রবিউস সানি, জমাদিউস সানি, শা‘বান ও রমজান—এই পাঁচ মাসই ৩০ দিনে পূর্ণ হয়, তাহলে এটি বছরের ৩৩৫তম দিন। হিজরি সালের হিসাব অনুযায়ী, এই দিনের পরে হিজরি বছর শেষ হতে আরো ২১ বা ২২ দিন অবশিষ্ট থাকে। এ দিনেই তারবিয়া দিবস পালিত হয়।
ঘটনাবলী
[সম্পাদনা]- ৯ হিজরি: এ দিন ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ বা 'তারবিয়া দিবা' নামে ইসলামী শরিয়তে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান চালু হয়। হজ্জ পালনকারীরা এই দিনে মক্কা থেকে মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। যারা 'তামাত্তু হজ' পালন করেন, তারা এই দিন পুনরায় ইহরাম বাঁধেন। আর যারা ‘ইফরাদ’ বা ‘কিরান’ হজ করেন, তারা আগেই ইহরামে থাকেন। মিনায় রাত কাটানো এবং সেখানে যোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং আরাফার দিনের ফজরের নামাজ আদায় করা হল নবী মুহাম্মদের সুন্নাহ, যা মুসলিমরা অনুসরণ করে।
- ৬০ হিজরি: মুসলিম ইবনে আকিল শহিদ হন, যিনি ইমাম হুসাইনের চাচাতো ভাই ছিলেন। তাঁকে কুফার গভর্নর প্রাসাদের ছাদ থেকে নিচে ফেলে হত্যা করা হয়।
- ৬০ হিজরি: ইমাম হুসাইন মক্কা থেকে কুফার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন, যেখানে পরবর্তীতে ১০ মুহররম ঐতিহাসিক কারবালার যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ১৬৯ হিজরি: ফাখ নামক স্থানে আব্বাসীয় সেনা ও আলিবংশীয় বিদ্রোহীদের মধ্যে এক ভয়ংকর যুদ্ধ হয়।
- ৩১৭ হিজরি: কুখ্যাত কারামাতিয়া দলের নেতা আবু তাহের আল-কারামাতি মক্কায় প্রবেশ করে ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড চালায়। সে সাধারণ মুসলিমদের হত্যা করে তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করে এবং কাবা শরিফ থেকে ‘হাজরে আসওয়াদ’ বা কালো পাথর তুলে নিয়ে হিজাজ অঞ্চলের হজর শহরে নিয়ে যায়। এমনকি সে কাবা শরিফের ছাদে উঠে দাঁড়িয়ে বলে, "আমি আল্লাহর মাধ্যমে এবং আল্লাহ আমার মাধ্যমে... আমি সৃষ্টিকে সৃষ্টি করি, আবার ধ্বংসও করি।"
- ৯৮৩ হিজরি: উসমানীয়রা মরোক্কোর ফাস শহরে প্রবেশ করে এবং সেখানকার সিদীয় সুলতান প্রথম আব্দুল মালিককে উসমানীয়দের পক্ষ থেকে শাসক ঘোষণা করে। তিনি উসমানীয় সাম্রাজ্যের সহায়তায় সেনাবাহিনী সংস্কার করেন ও আধুনিক অস্ত্র সংগ্রহ করেন।
- ১২৮৪ হিজরি: উসমানীয় সাম্রাজ্য একটি ‘দেওয়ান আশ-শূরা’ বা ‘রাষ্ট্রীয় পরামর্শ পরিষদ’ গঠন করে, যা ছিল প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ।
- ১৩৩২ হিজরি: উসমানীয় সাম্রাজ্য 'ইত্তিহাদ ও তরাক্কি' সরকারের অধীনে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বন্দরগুলিতে হামলা চালায়। এই হামলার কারণে প্রুশিয়া, ফ্রান্স ও ব্রিটেন উসমানীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- ১৩৩৬ হিজরি: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় উসমানীয় সেনাবাহিনীর নবম কোর নুরি পাশার নেতৃত্বে আজারবাইজানের বাকু শহর দখল করে এবং ক্যাস্পিয়ান সাগরের উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হয়।
- ১৩৭৩ হিজরি: মুসলিম বিশ্বে ঐক্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে 'ইসলামি কনফারেন্স অর্গানাইজেশন' (বর্তমান নাম: ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৩৮২ হিজরি: জাতিসংঘ ইন্দোনেশিয়ার ‘ইরিয়ান জায়া’ নামক অঞ্চল (পূর্বে গিনি নিউগিনি নামে পরিচিত) থেকে অভিভাবকত্ব তুলে নেয়। এই অঞ্চলে জাতিগত বিভাজনের কারণে স্বাধীনতা চাওয়ার প্রবণতা ছিল।
- ১৩৮৪ হিজরি: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়, যা পরে তাদের দ্বিতীয় যুদ্ধের দিকে গড়ায়।
- ১৩৯১ হিজরি: সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা আমিরাতে সাবেক শাসক শেখ সাকির বিন সুলতান কাসিমি এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার চাচাতো ভাই শেখ খালিদ বিন মুহাম্মদ কাসিমির কাছ থেকে ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেন। এ বিদ্রোহের ফলে শেখ খালিদের মৃত্যু ঘটে।
- ১৩৯৪ হিজরি: ফ্রান্সের উপনিবেশ জজিরাতুল কুমর (কোমোরোস দ্বীপপুঞ্জ) স্বাধীনতার জন্য গণভোটের আয়োজন করে এবং তাতে প্রায় ৫৯ শতাংশ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দেয়।
- ১৩৯১ হিজরি: শারজা আমিরাতে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে, যা পরিচালনা করেন প্রাক্তন শাসক শেখ সাকর বিন সুলতান কাসিমি। তিনি তার চাচাত ভাই শেখ খালিদ বিন মুহাম্মদ আল কাসিমির কাছ থেকে শাসন ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিলেন। এই অভ্যুত্থানে শেখ খালিদ নিহত হন এবং শেখ সাকর পুনরায় শাসন গ্রহণ করেন।
- ১৩৯৭ হিজরি: মিশরের রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাত ইসরায়েল সফর করেন এবং জেরুজালেমে কনেসেটে একটি ভাষণ প্রদান করেন।
- ১৪১২ হিজরি: ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাবিদ ফারাজ ফাউদাকে হত্যা করা হয়।
- ১৪২২ হিজরি: মিশরের দক্ষিণাঞ্চলের রক্কা অঞ্চলে একটি ট্রেনে আগুন লেগে ৩৭০ জন যাত্রী নিহত ও ৬৫ জন আহত হন।
- ১৪৩৩ হিজরি: সুদান অভিযোগ করে যে, ইসরায়েল খারতুমে একটি অস্ত্র কারখানায় চারটি যুদ্ধবিমান দিয়ে বোমা হামলা চালায়, যাতে দুইজন নিহত ও একজন গুরুতর আহত হন।
- ১৪৪১ হিজরি: মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে ওয়ান এমডিবি তহবিল কেলেঙ্কারির প্রথম মামলায় সাতটি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
- ১৪৪২ হিজরি: মিশরীয় ক্লাব আল-আহলি আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগে দশমবারের মতো বিজয়ী হয়, যারা ফাইনালে কাইজার চিফসকে ৩-০ গোলে হারায়।
জন্ম
[সম্পাদনা]- ১৩৩৫ হিজরি: আদনান মারদাম বেক, সিরীয় আইনজীবী, নাট্যকার ও কবি।
- ১৩৫২ হিজরি: আদেল হেকাল, মিশরীয় ফুটবল খেলোয়াড় ও অভিনেতা।
- ১৩৬৩ হিজরি: নাসিব লাহৌদ, লেবাননী রাজনীতিবিদ।
- ১৩৬৫ হিজরি: সামি আল-আদল, মিশরীয় অভিনেতা ও পরিচালক।
- ১৩৭৭ হিজরি: সিরিক আহমেদভ, কাজাখস্তানের প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী।
- ১৩৯৪ হিজরি: হাসান আল-বালাম, কুয়েতি অভিনেতা।
- ১৩৯৮ হিজরি: আলি কারিমি, ইরানি ফুটবল খেলোয়াড়।
- ১৩৯৯ হিজরি: ফি আল-শারকাওয়ি, বাহরাইনি অভিনেত্রী, উপস্থাপিকা ও কবি।
- ১৪০২ হিজরি: হুসেইন আল-মাহদি, কুয়েতি অভিনেতা।
মৃত্যু
[সম্পাদনা]- ৬০ হিজরি: মুসলিম ইবনে আকীল –হুসাইন ইবনে আলীর চাচাতো ভাই এবং তাঁর পক্ষ থেকে কুফায় প্রেরিত দূত।[১]
- ১৬৯ হিজরি: হুসাইন ইবনে আলি ফাখি – হাসান আল-মুজতাবার বংশধর ও ফাখ বিদ্রোহের নেতা।
- ৪৮৯ হিজরি: আব্দুল মালিক ইবনে সিরাজ – আন্দালুসের একজন প্রখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত ও ভাষাবিদ।
- ৫৩৮ হিজরি: মাহমুদ ইবনে উমর যামাখশারি – একজন প্রসিদ্ধ মু‘তাযিলা চিন্তাবিদ। [২]
- ১২৭৯ হিজরি: আব্দুল গনি জামিল – একজন ইরাকি ইসলামি আইনবিদ, পণ্ডিত, ক্যালিগ্রাফার, কবি ও রাজনীতিবিদ।
- ১৩৯১ হিজরি: খালিদ ইবনু মুহাম্মদ আল-কাসিমি – সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ আমিরাতের শাসক।
- ১৪০২ হিজরি: আহমদ হুসেইন – একজন মিশরীয় রাজনীতিবিদ।
- ১৪০৪ হিজরি: আবদুল লতীফ আল-মালুহি – সিরীয় কবি।
- ১৪১২ হিজরি: ফারাজ ফুদা – একজন মিশরীয় লেখক ও চিন্তাবিদ।
- ১৪৩১ হিজরি: ইউসুফ দারবিশ – একজন কুয়েতি অভিনেতা।
বিশেষ দিবস
[সম্পাদনা]- তারবিয়া দিবস ( আরবি: يوم التروية) – হজের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। [৩]
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- ইবনে কাসির, মুহাম্মদ (২০১৩)। আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (বাংলা ভাষায়)। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আইএসবিএন ৯৮৪-০৬-০৫৬৫-৮।
- আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৫)। তারিখুল ইসলাম (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ। আইএসবিএন ২৭-৪৫১৪৩-৫৩-০।
- আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৪)। সিয়ারু আলামিন নুবালা (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: আল-রিসালা প্রকাশনী। আইএসবিএন ৯৭৮-৯-৯৩৩-৪৪৬৬৫-৯।
- খতিব বাগদাদী (২০১১)। তারিখে বাগদাদ (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়্যা। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১০-৪৬৬-৩।
- তাবারি, মুহাম্মদ ইবনে জারির (২০১১)। তারিখে তাবারি: তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-৩২৬৩-৫।
- হামাবি, ইয়াকুত (২০১১)। মু'জামুল বুলদান (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-১৪৩২-৭।
- সুয়ুতী, জালালুদ্দীন (২০১০)। তারিখ আল-খুলাফা (আরবি ভাষায়)। সৌদি আরব: দারুল মিনহাজ। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৫৩৪-৯৮১৯-৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ইলমাজ উজতুনা (২০১০)। তারিখ আল-দাওলাহ আল-উসমানিয়া (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব আরাবি। আইএসবিএন ৯৭৮-৬১৪৪১-৫০৩১-৩।
- ইয়াগি, ইসমাইল আহমদ (২০১৪)। আল-দাওলাহ আল-উসমানিয়া, ফিত তারিখিল ইসলামি আল-হাদিস (আরবি ভাষায়)। মাকতাবাতুল আবিকান। আইএসবিএন ৯৭৮-৬০৩৫০-৩৬৯৫-৫।
- বারদি, ইবনে তাগরি (২০১৬)। আল-নুজুম আল-যাহিরাহ ফি মুলুক মিসর ওয়াল কাহিরাহ (আরবি ভাষায়)। কায়রো: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৭৮১-২০১৮-৯।
- ইবনে ইয়াস (২০১৮)। বাদায়ি' আল-জুহুর ফি ওয়াকায়ি' আল-দুহুর (আরবি ভাষায়)। নিল ওয়াফুরাত।
- আল-মাকদিসি, আবু শামা (২০১৮)। আল-রওজাতাইন ফি আখবার আল-দাওলাতাইন আল-নুরিয়া ওয়াস সালাহিয়া (আরবি ভাষায়)। কায়রো: মুয়াসসাসাতুর রিসালা। আইএসবিএন ৯৭৮-১৯১২৬৪-৩৩৫-৬।
- আল মাকরিজি, আলি ইবনে আহমদ (২০০৮)। আস-সুলুক লিমারিফা দুয়াল আল-মুলুক (আরবি ভাষায়)। দার আল-জামান।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ড. আব্দুর রহিম, আল-হাজ্জি (২০০৫)। তারিখুল আন্দালুস আল-ইসলামি। দাম্মাম (সৌদি আরব): দার ইবনুল জাওযি।
- রহমান, ড. আতাউর (২০২৩)। ইতিহাসে ইসলাম: নবী থেকে খেলাফত। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
- ডেভিড, ফ্রমকিন (১৯৮৯)। অ্য পিচ টু ইন্ড অল পিচ: দ্য ফ্যাল অফ দ্য অটোমান অ্যাম্পায়ার (A Peace to End All Peace: The Fall of the Ottoman Empire)। আইএসবিএন ০-৮০৫০-০৮৫৭-৮।
- Harvey, Leonard Patrick (১৯৯২)। Islamic Spain, 1250 to 1500। Chicago: University of Chicago Press। আইএসবিএন ০-২২৬-৩১৯৬২-৮।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Hundreds of thousands' Friday assemblage in Masjid-e-Uzma Kufa : JAFARIYA NEWS April 27, 2003"। www.jafariyanews.com। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ Jane Dammen MacAuliffe, Quranic Christians: An Analysis of Classical and Modern Exegesis,Cambridge University Press, 1991, pg 51।
- ↑ د أحمد مختار عبد الحميد عمر (٢٠٠٨). "كتاب معجم اللغة العربية". shamela.ws. عالم الكتب. مؤرشف من الأصل في 2024-08-15. اطلع عليه بتاريخ 2024-08-15.।