বিষয়বস্তুতে চলুন

৫ শাওয়াল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

৫ শাওয়াল হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জির দশম মাস শাওয়ালের পঞ্চম দিন। এই দিনটি বছরে ২৭১তম দিন হিসেবে গণনা করা হয়। তবে যদি শাবান মাস ৩০ দিনে সম্পূর্ণ হয়, তাহলে এটি ২৭২তম দিন হয়। যদি সফর, রবিউস সানি, জমাদিউস সানি ও শাবান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হয়, তাহলে এটি বছরের ২৭৩তম দিন হবে। এই দিনের পর বছর শেষ হতে ৮৩ বা ৮৪ দিন বাকি থাকে।

ঘটনাবলি

[সম্পাদনা]
  • ৩ হিজরি — কুরাইশরা মদিনা নগরীর কাছাকাছি উহুদ পাহাড়ের এলাকায় এসে পৌঁছায়। তারা মুসলমানদের সঙ্গে আসন্ন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে সেখানে অবস্থান নেয়। এই ঘটনাই পরবর্তীতে উহুদের বিখ্যাত যুদ্ধের ভূমিকা তৈরি করে।
  • ৫ হিজরি — কুরাইশরা বনু কুরাইজার ইহুদিদের কাছে তাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে খন্দকের যুদ্ধে অংশ গ্রহণের জন্য বার্তা পাঠায়। কুরাইশরা তাদের পরদিন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলে। ইহুদিরা জবাবে বলে, “আগামীকাল শনিবার এবং সে দিন আমরা কোনো কাজ করি না। তাছাড়া তোমরা কিছু লোককে আমাদের কাছে বন্ধক হিসেবে না দিলে আমরা মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করব না।
  • ৩৬ হিজরি — খলিফা আলি ইবনে আবি তালিব ও তার সমর্থক মুসলিমরা সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া ইবন আবি সুফিয়ান ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে সিফফিনের দিকে যাত্রা করেন।
  • ৬০ হিজরি — মুসলিম ইবনে আকিল কুফা নগরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে মুখতার আস-সাকাফির বাড়িতে অবস্থান নেন (কিছু বর্ণনায় বলা হয়, তিনি সালিম ইবন মুসাইয়িবের বাড়িতে ছিলেন)। মানুষ তার কাছে আসতে শুরু করে। যখনই একটি দল তার কাছে সমবেত হতো, তিনি তাদের সামনে হুসাইনের চিঠি পড়ে শোনাতেন। লোকেরা তা শুনে কান্না করত এবং তারা হুসাইনের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করত। এভাবে প্রায় আঠারো হাজার মানুষ তার হাতে বাইয়াত দেয়। এরপর তিনি হুসাইনকে চিঠি লিখে দ্রুত কুফায় আসার আহ্বান জানান।
  • ১৩১৯ হিজরি— সমগ্র সৌদি আরবকে একীভূত করার অভিযানের অংশ হিসেবে রিয়াদ দখলের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
  • ১৩১৯ হিজরি — রাজা আবদুল আজিজ ইবন আবদুর রহমান ইবন ফয়সাল আলে সৌদের উদ্যোগে রিয়াদ আমিরাত প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • ১৩৯৪ হিজরি — ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ সোফানিয়ার লেবানন সফরের সময় ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে বৈঠক করেন। এটি কোনো পশ্চিম ইউরোপীয় কর্মকর্তার সঙ্গে আরাফাতের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল।
  • ১৩৯৮ হিজরি —
    • ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিন ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের মধ্যে প্রথম ক্যাম্প ডেভিড বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
    • ইরানে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারি বাহিনী গুলি চালায়। এই ঘটনাটি “কালো শুক্রবার” নামে পরিচিত এবং এতে প্রায় ৮৮ জন নিহত হয়। এটি ইসলাম ইরানি বিপ্লবের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে বিবেচিত।
  • ১৪১২ হিজরি — ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত লিবিয়ার মরুভূমিতে এক প্রবল বালুঝড়ের মধ্যে বিমান দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। তবে ওই দুর্ঘটনায় দুইজন পাইলট ও একজন বিমান প্রকৌশলী নিহত হন।
  • ১৪২২ হিজরি — জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, যেখানে ইরাককে তার কারাগারে আটক সকল কুয়েতি বন্দি ও অন্যান্য বিদেশি বন্দিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
  • ১৪২৬ হিজরি — দীর্ঘ ২৫ বছরের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার পর প্রথমবারের মতো একটি ইরাকি যাত্রীবাহী বিমান ইরানে অবতরণ করে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন এবং এর উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে নিয়মিত বিমান চলাচলের প্রচারণা করা।
  • ১৪৩৮ হিজরি — রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থার বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেন যে, ১৪৩৮ হিজরির ৮ রজব খান শাইখুন শহরে সংঘটিত হামলায় সারিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
  • ১৪৪৫ হিজরি —
    • দামেস্কে ইরানি দূতাবাসে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলের ওপর ১৫০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে।
    • উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ দেশে ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। এতে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় এবং তিনজন নিখোঁজ হন।
  • ১৩১৯ হিজরি — সৌদ ইবন আবদুল আজিজ আলে সৌদ, সৌদি আরবের দ্বিতীয় বাদশাহ।[][][]
  • ১৩৫১ হিজরি — দুরাইদ লাহাম, সিরীয় অভিনেতা
  • ১৩৫৪ হিজরি — ওমর বংগো, গ্যাবনের রাষ্ট্রপতি।
  • ১৩৫৫ হিজরি — কারিমান, মিশরীয় অভিনেত্রী
  • ১৩৬৬ হিজরি — আহমদ মুখতার, মিশরীয় সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ।
  • ১৩৭২ হিজরি — ফুয়াদ বাখশ, সৌদি অভিনেতা।
  • ১৩৯১ হিজরি — খালিদ মুসা‘দ, সৌদি ফুটবল খেলোয়াড়।
  • ১৩৯২ হিজরি — সিহাম জালাল, মিশরীয় অভিনেত্রী।
  • ১৩৯৬ হিজরি —
  • ১৪০৭ হিজরি — আহমদ আবদুল গফুর, কুয়েতি ফুটবল খেলোয়াড়।

মৃত্যু

[সম্পাদনা]
  • ৭০৩ হিজরি — মাহমুদ গাজান, পারস্যের মঙ্গোল ইলখান শাসক।
  • ১৩১৪ হিজরি — জামালুদ্দিন আফগানি, প্রখ্যাত মুসলিম দার্শনিক, চিন্তাবিদ ও ইসলামি সংস্কার আন্দোলনকারী।
  • ১৩৯৩ হিজরি — মালিক বেন নাবি, আলজেরীয় লেখক ও চিন্তাবিদ।
  • ১৩৯৪ হিজরি — হুসাইন আল-হিল্লি, শিয়া আলেম।
  • ১৪০১ হিজরি — মুহাম্মদ আল-আদনানি, ফিলিস্তিনি কবি ও ভাষাবিদ
  • ১৪০৩ হিজরি — মুহাম্মদ আবু শাহবা, মিশরীয় ধর্মীয় পণ্ডিত।
  • ১৪১৪ হিজরি — জাবের আলী আল-সালিম আল-সাবাহ, কুয়েতের সাবেক মন্ত্রী।
  • ১৪৩২ হিজরি — আয়েশা বিনতে পঞ্চম মুহাম্মদ, মরক্কোর রাজপরিবারের আলাবি রাজকুমারী।
  • ১৪৩৫ হিজরি — সাঈদ সালেহ, মিশরীয় অভিনেতা।

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Chronological events of the history of King Saud"King Saud। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০১২
  2. Ralls, Charles (২৫ জানুয়ারি ১৯৬২)। "King Saud arrives here for convelescence stay"Palm Beach Daily News। ১৮ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
  3. "Riyadh. The capital of monotheism" (পিডিএফ)Business and Finance Group। ১৪ অক্টোবর ২০০৯ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০১৩

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]