৪ রবিউস সানি
অবয়ব
৪ রবিউল সানি বা ৩ রবিউল আখর হলো ইসলামি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির চতুর্থ মাস রবিউস সানির চতুর্থ দিন, যা হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বছরের ৯৩তম দিন হয়। তবে যদি সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ করে, তাহলে এটি হিজরি সনের ৯৪তম দিন হিসেবে গণ্য হয়। এই দিনের পর হিজরি বছর শেষ হতে আরো ২৬১ অথবা ২৬২ দিন অবশিষ্ট থাকে।
ঘটনাবলি
[সম্পাদনা]- ১২ হিজরি — খলিফা আবু বকর শাম বিজয়াভিযানে মুসলিম সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব থেকে খালিদ বিন সাঈদকে অপসারণ করেন এবং গোটা সেনাবাহিনীকে চারটি পৃথক বাহিনীতে বিভক্ত করে সেসবের দায়িত্ব যথাক্রমে ইয়াযিদ ইবনে আবি সুফিয়ান, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, মুয়াজ ইবনে জাবাল ও শুরাহবিল ইবনে হাসানার হাতে অর্পণ করেন।[১]
- ২৩৪ হিজরি— মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-আওসাত তাঁর পিতার উত্তরসূরি হিসেবে আন্দালুসের শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি আন্দালুসে শাসনকারী পঞ্চম উমাইয়া আমির ছিলেন।[২]
- ১২৩৫ হিজরি —একটি সুরক্ষা চুক্তির অধীনে দুবাই আমিরাত যুক্তরাজ্যের সাথে যুক্ত হয়।
- ১২৯৩ হিজরি — ব্রিটিশ রানি ভিক্টোরিয়াকে ভারতের সম্রাজ্ঞী ঘোষণা করা হয়, যার মাধ্যমে সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ আধিপত্য সুসংহত হয়।
- ১৩৬৯ হিজরি—
- ইসরায়েলি সংসদ কনেসেট দ্বিতীয়বারের মতো জেরুসালেমকে ইস্রায়েলের রাজধানী ঘোষণা করে এবং সরকারি দপ্তরগুলিকে সেখানে স্থানান্তর অব্যাহত রাখে। তবে অধিকাংশ দেশ তাদের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুসালেমে সরাতে অস্বীকৃতি জানায়।
- জর্ডান পূর্ব জেরুসালেম ও পশ্চিম তীরে নিজেদের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বিস্তারের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
- ১৩৭১ হিজরি — জর্ডানের সংবিধান ঘোষণা করা হয়।
- ১৩৭৬ হিজরি—জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যাতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইসরায়েলকে সুয়েজ আক্রমণের পর অবিলম্বে মিশর থেকে সরে যেতে বলা হয়।
- ১৩৯৮ হিজরি — ইসরায়েলি বাহিনী “লিতানি অভিযান” নামে পরিচিত সামরিক অভিযানে লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে, যার উদ্দেশ্য ছিল উত্তর সীমান্ত থেকে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের কার্যক্রম রোধ করা। এই প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪২৫ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হয়, যাতে ইসরায়েলকে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
- ১৪০৪ হিজরি —
- ১৪০৮ হিজরি — সিরীয় খালিদ আকার ও তিউনিসীয় মিলুদ বিন আল-নাজাহ, যারা ফিলিস্তিন মুক্তি জনপ্রিয় ফ্রন্ট – সাধারণ কমান্ডের সদস্য, “গ্লাইডার অভিযান” পরিচালনা করে গ্লাইডারযোগে একটি ইসরায়েলি সামরিক শিবিরে অবতরণ করে এবং ৬ জন সৈন্যকে হত্যা করে।
- ১৪৩৭ হিজরি —
- লেবাননের সামরিক আপিল আদালত মিশেল সামাহাকে ১৫০ মিলিয়ন লেবানীয় লিরা জামানতে মুক্তির নির্দেশ দেয় এবং এতে শর্ত থাকে যে, তিনি বিচারকার্যের সব অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন।
- ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় ধারাবাহিক হামলায় ৮ জন নিহত হয়; আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করে।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা মহামারির অবসান ঘোষণা করে। এই মহামারিতে ১১,০০০ এরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।
- ১৪৪২ হিজরি— যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কিত ব্রেরেটন রিপোর্টের সংশোধিত সংস্করণে প্রকাশ পায় যে, আফগানিস্তান যুদ্ধে অস্ট্রেলীয় সৈন্যরা ৩৯ জন বেসামরিক ব্যক্তি ও বন্দিকে হত্যা করেছিল।[৩]
- ১৪৪৪ হিজরি — সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে দ্বৈত বোমা হামলায় ১১০ জন নিহত ও ৩১৮ জন আহত হয়।
জন্ম
[সম্পাদনা]- ১৩২৩ হিজরি — জর্জ শেহাতা কানাওয়াতি, মিশরীয় চিন্তাবিদ ও ডোমিনিকান পাদ্রী সম্প্রদায়ের সদস্য।
- ১৩৩৯ হিজরি — জামাল আল-বান্না, মিশরীয় ইসলামী চিন্তাবিদ।
- ১৩৪২ হিজরি — মোনা, মিশরীয় অভিনেত্রী।
- ১৩৪৩ হিজরি — সুলায়মান দেমিরেল, তুরস্কের নবম রাষ্ট্রপতি।
- ১৩৪৭ হিজরি — আবদুস সালাম ইয়াসিন, মরোক্কান ইসলামি দাঈ ও চিন্তাবিদ।
- ১৩৭১ হিজরি— হামাদ বিন খলিফা আল সানি, কাতারের আমির।[৪]
- ১৩৭২ হিজরি— হানি শাকের, মিশরীয় গায়ক ও অভিনেতা।
- ১৩৮০ হিজরি — সাঈদ নাসিরি, মরোক্কীয় অভিনেতা।
- ১৩৮২ হিজরি — ফায়েজা কামাল, মিশরীয় অভিনেত্রী।
- ১৩৯১ হিজরি — ইমান আইয়াদ, ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম কর্মী।
- ১৩৯৯ হিজরি — আদেল মাহমুদ, বাহরাইনি গায়ক।
- ১৪০৬ হিজরি — রীমা আল-ফাদালা, কুয়েতি অভিনেত্রী।
মৃত্যু
[সম্পাদনা]- ১৩৫১ হিজরি— কামাল উদ্দিন হুসাইন, সুলতান হুসাইন কামেলের পুত্র।[৫]
- ১৪২৫ হিজরি—মুহাম্মদ দাইফুল্লাহ আল-কাহহাস, কুয়েত জাতীয় পরিষদের সদস্য।
- ১৪৩০ হিজরি — নাজি জাবর, সিরীয় অভিনেতা।
- ১৪৩৬ হিজরি—জুমা আমিন, ইখওয়ানুল মুসলিমিনের মহাসচিবের সহকারী (উপ-মুর্শিদ)।
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- ইবনে কাসির, মুহাম্মদ (২০১৩)। আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (বাংলা ভাষায়)। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আইএসবিএন ৯৮৪-০৬-০৫৬৫-৮।
- আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৫)। তারিখুল ইসলাম (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ। আইএসবিএন ২৭-৪৫১৪৩-৫৩-০।
- আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৪)। সিয়ারু আলামিন নুবালা (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: আল-রিসালা প্রকাশনী। আইএসবিএন ৯৭৮-৯-৯৩৩-৪৪৬৬৫-৯।
- খতিব বাগদাদী (২০১১)। তারিখে বাগদাদ (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়্যা। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১০-৪৬৬-৩।
- তাবারি, মুহাম্মদ ইবনে জারির (২০১১)। তারিখে তাবারি: তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-৩২৬৩-৫।
- হামাবি, ইয়াকুত (২০১১)। মু'জামুল বুলদান (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-১৪৩২-৭।
- সুয়ুতী, জালালুদ্দীন (২০১০)। তারিখ আল-খুলাফা (আরবি ভাষায়)। সৌদি আরব: দারুল মিনহাজ। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৫৩৪-৯৮১৯-৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ইলমাজ উজতুনা (২০১০)। তারিখ আল-দাওলাহ আল-উসমানিয়া (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব আরাবি। আইএসবিএন ৯৭৮-৬১৪৪১-৫০৩১-৩।
- ইয়াগি, ইসমাইল আহমদ (২০১৪)। আল-দাওলাহ আল-উসমানিয়া, ফিত তারিখিল ইসলামি আল-হাদিস (আরবি ভাষায়)। মাকতাবাতুল আবিকান। আইএসবিএন ৯৭৮-৬০৩৫০-৩৬৯৫-৫।
- বারদি, ইবনে তাগরি (২০১৬)। আল-নুজুম আল-যাহিরাহ ফি মুলুক মিসর ওয়াল কাহিরাহ (আরবি ভাষায়)। কায়রো: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৭৮১-২০১৮-৯।
- ইবনে ইয়াস (২০১৮)। বাদায়ি' আল-জুহুর ফি ওয়াকায়ি' আল-দুহুর (আরবি ভাষায়)। নিল ওয়াফুরাত।
- আল-মাকদিসি, আবু শামা (২০১৮)। আল-রওজাতাইন ফি আখবার আল-দাওলাতাইন আল-নুরিয়া ওয়াস সালাহিয়া (আরবি ভাষায়)। কায়রো: মুয়াসসাসাতুর রিসালা। আইএসবিএন ৯৭৮-১৯১২৬৪-৩৩৫-৬।
- আল মাকরিজি, আলি ইবনে আহমদ (২০০৮)। আস-সুলুক লিমারিফা দুয়াল আল-মুলুক (আরবি ভাষায়)। দার আল-জামান।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ড. আব্দুর রহিম, আল-হাজ্জি (২০০৫)। তারিখুল আন্দালুস আল-ইসলামি। দাম্মাম (সৌদি আরব): দার ইবনুল জাওযি।
- রহমান, ড. আতাউর (২০২৩)। ইতিহাসে ইসলাম: নবী থেকে খেলাফত। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
- ডেভিড, ফ্রমকিন (১৯৮৯)। অ্য পিচ টু ইন্ড অল পিচ: দ্য ফ্যাল অফ দ্য অটোমান অ্যাম্পায়ার (A Peace to End All Peace: The Fall of the Ottoman Empire)। আইএসবিএন ০-৮০৫০-০৮৫৭-৮।
- Harvey, Leonard Patrick (১৯৯২)। Islamic Spain, 1250 to 1500। Chicago: University of Chicago Press। আইএসবিএন ০-২২৬-৩১৯৬২-৮।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ بدر الدين أبو محمد محمود بن أحمد العيني. عمدة القاري شرح صحيح البخاري. بيروت: دار الفكر. ص। পৃ. ১৩/১৯৮।
- ↑ Altamira, Rafael (১৯৯৯)। "Il califfato occidentale"। Storia del mondo medievale। পৃ. ২/ ৪৭৭–৫১৫।
- ↑ Shams, Housnia (২৬ নভেম্বর ২০২০)। "'Much more' than 39 alleged unlawful SAS killings in Afghanistan, victims' families say"। ABC News (অস্ট্রেলীয় ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "Qatar's Succession Drama"। The Daily Beast (ইংরেজি ভাষায়)। ৩০ জানুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "الهيئه العامة للاستعلامات المصرية - مكانة مصر"। www.sis.gov.eg। ৪ মে ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।