২৮ সফর
অবয়ব
২৮ সফর হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জির দ্বিতীয় মাস সফরের অষ্টাবিংশ দিন। এটি হিজরি চান্দ্র পঞ্জিকা অনুসারে বছরের ৫৮তম দিন। এই দিনের পর হিজরি বছর শেষ হতে আরো ২৯৬ বা ২৯৭ দিন অবশিষ্ট থাকে।[১] [২][৩]
ঘটনাবলি
[সম্পাদনা]- ১০৪৫ হিজরি – সুলতান চতুর্থ মুরাদ নেতৃত্বে উসমানীয় সাম্রাজ্য তাবরিজ শহরটি দখল করে। এটি উসমানীয় সাম্রাজ্য ও সাফাভীয় সাম্রাজ্যের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের সময় দখল করা হয়।
- ১২৪৩ হিজরি –ইউরোপের প্রধান শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত নৌবাহিনী নাভারিনের সমুদ্রযুদ্ধে উসমানীয় ও মিশরের নৌবাহিনীকে পরাজিত করে। এই যুদ্ধে ৫৭টি উসমানীয় জাহাজ ডুবে যায় এবং মাত্র তিন ঘণ্টা ত্রিশ মিনিটে প্রায় ৮,০০০ সৈন্য নিহত হয়।
- ১৩৬৫ হিজরি–যুগোস্লাভিয়ার সংবিধান ঘোষণা করা হয়, যা সোভিয়েত সংবিধানের আদলে তৈরি করা হয় এবং এতে ছয়টি প্রজাতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল: সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, মন্টিনিগ্রো, মেসিডোনিয়া ও স্লোভেনিয়া।
- ১৩৬৭ হিজরি – লিবিয়ার রাজা মুহাম্মদ ইদ্রিস সানুসি “বার্কা জাতীয় কংগ্রেস” প্রতিষ্ঠা করেন, যার সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ রিজা সানুসি।
- ১৩৬৯ হিজরি – সিরিয়ায় একটি অভ্যুত্থান ঘটে, যা আদীব শিশকলির নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এটি সামি হানাবির বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়, যিনি সিরিয়াকে ইরাকের সঙ্গে একত্রীকরণের চেষ্টা করেছিলেন।
- ১৩৭১ হিজরি – ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনের “আল-বুনিশাত” গ্রাম ধ্বংস করে।
- ১৩৭৬ হিজরি –সুয়েজ সংকট চলাকালে মিশরের উপর ত্রি-দেশীয় যৌথ হামলার ব্যাপারে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৪ সমর্থন ও ৫ বিরোধী ভোটের মাধ্যমে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইসরায়েল পরিচালিত ত্রি-দেশীয় হামলার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
- ১৩৮৭ হিজরি– ছয় দিনের যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনে ইসরায়েলি সেনারা জেরুজালেমে প্রবেশ করে। তখন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ঘোষণা করে যে, তারা জেরুসালেমের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে এবং বেবিলের (বাবিলন) পথে যাচ্ছে।
- ১৪২৫ হিজরও–গাজা ভূখণ্ডের দক্ষিণে অবস্থিত রাফা শিবিরে ইসরায়েলি সেনাদের এক বড় আক্রমণে অন্তত ৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয় এবং ২৭০ জন আহত হয়। এই অভিযান চলাকালে প্রায় ১৫০টি বাড়ি ধ্বংস হয় এবং ১৮০০ সদস্যের ৩৩০টিরও বেশি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়।
- ১৪২৬ হিজরি–ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইব্রাহিম জাফারি শপথ গ্রহণ করেন।
- ১৪২৭ হিজরি –
- সপ্তদশ ইস্রায়েলি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- জেরুজালেমে ইসরায়েলি পুলিশ আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দেয় এবং মুসলিমদের সেখানে নামাজ পড়তে বাধা দেয়। যুক্তি হিসেবে বলা হয় যে, আজ মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে।
- আফগানিস্তানের খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণকারী আবদুর রহমানকে আদালতে হাজির না করানোর জন্য মানসিকভাবে অস্থিতিশীল বলে ঘোষণা করা হয় এবং পরে তাকে ইতালিতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেওয়া হয়।
- ১৪৩২ হিজরি – জানুয়ারি বিপ্লবের সময় তাহরির চত্বরে “জামাল যুদ্ধ” নামে পরিচিত একটি বিশেষ ঘটনা ঘটে, যখন গণজাগরণ, বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মাধ্যমে আন্দোলনটি প্রসারিত হয়।
- ১৪৪০ হিজরি – মরোক্কোর বিশিষ্ট আলিম আহমদ আল-রাইসুনি বিশ্ব মুসলিম উলামা সংহতির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা শেখ ইউসুফ আল-কারযাভির স্থলাভিষিক্ত হন।
- ১৪৪১ হিজরি – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, উত্তর পশ্চিম সিরিয়ার ইদলিবে মার্কিন বিশেষ বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে আইএসআইএসের নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি নিহত হয়েছেন।
- ১৪৪৭ হিজরি – জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করে। "সমন্বিত খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড" (আইপিসি) অনুসারে, এই পরিস্থিতি প্রধানত ইসরায়েলি অবরোধের কারণে সৃষ্টি হয়।
জন্ম
[সম্পাদনা]- ১৫৭ হিজরি –আব্দুর রহমান আওজাঈ, প্রসিদ্ধ ইসলামি পণ্ডিত, ফকিহ, হাদিসবিশারদ ও আওযাঈ মাযহাবের প্রবর্তক।
- ১৩৩৯ হিজরি – আব্দুর রহমান আল-শারকাবি, মিশরীয় সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক।
- ১৩৬৪ হিজরি– বারহান গলিয়োন, সিরীয় তত্ত্ববিদ ও চিন্তাবিদ।
- ১৩৬৭ হিজরি– সালমা আল-মিশরি, সিরীয় অভিনেত্রী।
- ১৩৭৩ হিজরি –
- ১৩৮৩ হিজরি – মা’ই শেদিয়াক, লেবাননী সাংবাদিক ও উপস্থাপক।
- ১৩৮৫ হিজরি – তারিক লুতফি, মিশরীয় অভিনেতা।
- ১৩৮৯ হিজরি – আসালা নাসরি, সিরীয় গায়িকা।
- ১৩৯৪ হিজরি – বাসেম ইউসুফ, মিশরীয়-মার্কিন কৌতুকাভিনেতা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও শল্যচিকিৎসক।
- ১৪০০ হিজরি – সিদি কেতা, মালিয়ান জাতীয় ফুটবল খেলোয়াড়।
- ১৪০৫ হিজরি– ইব্রাহিম হেযাজি, সৌদি আরবীয় ফুটবল খেলোয়াড়।
মৃত্যু
[সম্পাদনা]- ১৫৭ হিজরি– আব্দুর রহমান আওজাঈ, প্রসিদ্ধ ইসলামি পণ্ডিত, ফকিহ, হাদিসবিশারদ ও আওযাঈ মাযহাবের প্রবর্তক।
- ৭৪৫ হিজরি–আবু হাইয়ান গারানাতি আল-আন্দালুসি, আরবি ব্যাকরণবিদ, সাহিত্যিক, মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও আন্দালুসীয় ইতিহাসবিদ।
- ১৩২২ হিজরি–রেজা আল-হামদানি নাজফি, ইরানি শিয়া ধর্মীয় নেতা ও মারজা।
- ১৩৪৩ হিজরি– তায়িব আহমদ হাশিম, সুদানীয় প্রধান মুফতি।
- ১৪১৪ হিজরি– আব্দুল্লাহ খলিফি, মসজিদে হারামের সাবেক ইমাম।
- ১৪২৩ হিজরি–খসরু শাহানি, ইরানি সাংবাদিক ও গল্পকার।
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- ইবনে কাসির, মুহাম্মদ (২০১৩)। আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (বাংলা ভাষায়)। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আইএসবিএন ৯৮৪-০৬-০৫৬৫-৮।
- আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৫)। তারিখুল ইসলাম (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ। আইএসবিএন ২৭-৪৫১৪৩-৫৩-০।
- আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৪)। সিয়ারু আলামিন নুবালা (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: আল-রিসালা প্রকাশনী। আইএসবিএন ৯৭৮-৯-৯৩৩-৪৪৬৬৫-৯।
- খতিব বাগদাদী (২০১১)। তারিখে বাগদাদ (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়্যা। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১০-৪৬৬-৩।
- তাবারি, মুহাম্মদ ইবনে জারির (২০১১)। তারিখে তাবারি: তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-৩২৬৩-৫।
- হামাবি, ইয়াকুত (২০১১)। মু'জামুল বুলদান (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-১৪৩২-৭।
- সুয়ুতী, জালালুদ্দীন (২০১০)। তারিখ আল-খুলাফা (আরবি ভাষায়)। সৌদি আরব: দারুল মিনহাজ। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৫৩৪-৯৮১৯-৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ইলমাজ উজতুনা (২০১০)। তারিখ আল-দাওলাহ আল-উসমানিয়া (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব আরাবি। আইএসবিএন ৯৭৮-৬১৪৪১-৫০৩১-৩।
- ইয়াগি, ইসমাইল আহমদ (২০১৪)। আল-দাওলাহ আল-উসমানিয়া, ফিত তারিখিল ইসলামি আল-হাদিস (আরবি ভাষায়)। মাকতাবাতুল আবিকান। আইএসবিএন ৯৭৮-৬০৩৫০-৩৬৯৫-৫।
- বারদি, ইবনে তাগরি (২০১৬)। আল-নুজুম আল-যাহিরাহ ফি মুলুক মিসর ওয়াল কাহিরাহ (আরবি ভাষায়)। কায়রো: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৭৮১-২০১৮-৯।
- ইবনে ইয়াস (২০১৮)। বাদায়ি' আল-জুহুর ফি ওয়াকায়ি' আল-দুহুর (আরবি ভাষায়)। নিল ওয়াফুরাত।
- আল-মাকদিসি, আবু শামা (২০১৮)। আল-রওজাতাইন ফি আখবার আল-দাওলাতাইন আল-নুরিয়া ওয়াস সালাহিয়া (আরবি ভাষায়)। কায়রো: মুয়াসসাসাতুর রিসালা। আইএসবিএন ৯৭৮-১৯১২৬৪-৩৩৫-৬।
- আল মাকরিজি, আলি ইবনে আহমদ (২০০৮)। আস-সুলুক লিমারিফা দুয়াল আল-মুলুক (আরবি ভাষায়)। দার আল-জামান।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ড. আব্দুর রহিম, আল-হাজ্জি (২০০৫)। তারিখুল আন্দালুস আল-ইসলামি। দাম্মাম (সৌদি আরব): দার ইবনুল জাওযি।
- রহমান, ড. আতাউর (২০২৩)। ইতিহাসে ইসলাম: নবী থেকে খেলাফত। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
- ডেভিড, ফ্রমকিন (১৯৮৯)। অ্য পিচ টু ইন্ড অল পিচ: দ্য ফ্যাল অফ দ্য অটোমান অ্যাম্পায়ার (A Peace to End All Peace: The Fall of the Ottoman Empire)। আইএসবিএন ০-৮০৫০-০৮৫৭-৮।
- Harvey, Leonard Patrick (১৯৯২)। Islamic Spain, 1250 to 1500। Chicago: University of Chicago Press। আইএসবিএন ০-২২৬-৩১৯৬২-৮।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ User, Super। "Convert a date"। calendarhome.com। ২৫ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|শেষাংশ=প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য) - ↑ "تحويل التاريخ الهجري، الهجري إلى الميلادي, مُحوِّل التاريخ الإسلامي | الباحث الإسلامي"। IslamicFinder (আরবি ভাষায়)। ২০ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "موقع تقويم أم القرى"। www.ummulqura.org.sa। ২০ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬।