২৭ জ্বিলহজ্জ
অবয়ব
২৭ জ্বিলহজ্জ হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জির দ্বাদশ মাস জ্বিলহজ্জের ২৭তম দিন এবং দিনটি চান্দ্র হিজরি সালের ৩৫২তম দিন, যদি রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ না করে অথবা ৩৫৩তম দিন, যদি রমজান ৩০ দিন পূর্ণ করে অথবা যদি সফর, রবিউস সানি, জমাদিউস সানি, শা‘বান ও রমজান—এই পাঁচ মাসই ৩০ দিনে পূর্ণ হয়, তাহলে এটি বছরের ৩৫৪তম দিন। এরপর বছরের শেষ হতে আর ২ দিন বা ৩ দিন বাকি থাকে।
ঘটনা
[সম্পাদনা]- ২০৬ হিজরি — আন্দালুসের উমাইয়া আমির আবু আল-মুতারিফ আবদুর রহমান ইবনুল হাকাম তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে আন্দালুসের আমির হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। এর মাধ্যমে তিনি আন্দালুসে উমাইয়া রাজবংশের চতুর্থ শাসক হন এবং এই ঘটনা মুসলিম স্পেনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করে।
- ৮০৪ হিজরি—আঙ্কারার যুদ্ধে তাতার-মোঙ্গল নেতা তিমুরলংক উসমানীয় সুলতান প্রথম বায়েজিদকে পরাজিত করে। এ যুদ্ধে বায়েজিদ বন্দী হয়ে পড়েন এবং এটি উসমানীয় সাম্রাজ্যের ইতিহাসে এক বিশাল বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হয়। তার এই পরাজয় উসমানীয় অগ্রযাত্রা ও বিজয়কে প্রায় অর্ধশতাব্দী পিছিয়ে দেয় এবং ইসলামের ইতিহাসে গভীর ছাপ ফেলে।
- ১২১২ হিজরি — ফরাসি সেনাপতি নেপোলিয়ন বোনাপার্ট হঠাৎ মাল্টার ওপর হামলা চালান এবং "নাইটস অব মাল্টা" নামে পরিচিত ধর্মীয় যোদ্ধা সম্প্রদায়ের শাসন অবসান করেন। এই অভিযানটি ছিল তার মিশর অভিযানের এক অংশ, যা ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।
- ১২৪৭ হিজরি —
- বাগদাদের উসমানীয় ওয়ালী আলী রেজার বিরুদ্ধে স্থানীয় ধর্মীয় নেতা মুফতি আবদুল গনি আল-জামিল বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।
- মিশরের সেনাপতি আহমদ আল-মোনুকলি ৬ মাস ধরে অবরোধের পর আকার শহর দখল করেন। এই অভিযান মুহাম্মদ আলী পাশার নির্দেশে পরিচালিত হয়। কারণ আকারের ওয়ালী আবদুল্লাহ মিশর থেকে পালিয়ে আসা ৬ হাজার লোককে আশ্রয় দেন এবং মিশরের নৌবাহিনী নির্মাণের জন্য কাঠ সরবরাহে অস্বীকৃতি জানান।
- ১২৬৪ হিজরী — মিশরের শাসক ইব্রাহিম পাশার মৃত্যুর পর তার ভাতিজা আব্বাস হেলমিকে জেদ্দা থেকে ডেকে এনে মিশরের শাসনভার ন্যস্ত করা হয়।
- ১৩৩৯ হিজরি— ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইবনে সৌদ ও তার উত্তরসূরিদের নজদের সুলতান উপাধিতে স্বীকৃতি প্রদান করে। এই স্বীকৃতি ১৩৫১ হিজরিতে সৌদি আরব প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত বজায় ছিল।
- ১৩৬৭ হিজরি — ফিলিস্তিনের ‘আইলিনুন’ নামক একটি গ্রামে ইহুদি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো ভয়ানক গণহত্যা চালায়। তারা গ্রামবাসীদের একত্র করে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। এই নির্মম ঘটনায় পুরো গ্রামবাসী শহীদ হন।
- ১৩৭১ হিজরি — আল আযহারের শায়খ পদে মুহাম্মদ আল-খদর হুসাইন নিয়োজিত হন, যিনি শেখ আব্দুল মজিদ সলিম বাসরীর পদত্যাগের পর এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৩৭৭ হিজরি — ইরাকে একটি রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে, যার মাধ্যমে রাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান হয় এবং রাজা দ্বিতীয় ফয়সাল ও তার পরিবার নিহত হন।
- ১৩৮২ হিজরি — ইন্দোনেশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট আহমদ সুকার্নো আজীবনের জন্য দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- ১৩৮৫ হিজরি: রাষ্ট্রপতি আব্দুস সালাম আরিফ এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন, যার ফলে তার ভাই আব্দুর রহমান আরিফকে ইরাকের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। আব্দুর রহমান আরিফ তার ভাইয়ের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৩৯৫ হিজরি: ১৫০ বছর ফরাসি উপনিবেশিক শাসনের পর ফ্রান্স আনুষ্ঠানিকভাবে কোমোরোস দ্বীপপুঞ্জের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়।
- ১৩৯৮ হিজরি: কুর্দি জাতির স্বাতন্ত্র্য ও অধিকারের দাবিতে গঠিত হয় 'কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি'। এই দলটি তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি অধিকারের পক্ষে আন্দোলন শুরু করে, যা পরবর্তীতে অনেক সংঘাত ও রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দেয়।
- ১৪২৯ হিজরি: একটি ইসরায়েলি আদালত ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতা আহমদ সাদাতকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। মামলায় তাকে ইসরায়েলের পর্যটনমন্ত্রী রেহাবাম জিভির হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আহমদ সাদাত পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন সংগঠনের মহাসচিব ছিলেন।
- ১৪৩০ হিজরি: উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর নেতারা কুয়েতে মিলিত হয়ে তাদের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের একটি বৃহৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
- ১৪৩২ হিজরি: ইয়েমেনী রাষ্ট্রপতি আলী আব্দুল্লাহ সালেহ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের উদ্যোগে প্রস্তাবিত রাজনৈতিক সমঝোতা অনুযায়ী তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
- ১৪৩৩ হিজরি: সিরিয়ার বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বিরোধী পক্ষসমূহ কাতারের রাজধানী দোহায় একত্রিত হয়ে 'জাতীয় সিরীয় জোট' গঠন করে। এই জোটের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন আহমদ মুয়াজ আল-খতীব।
- ১৪৩৪ হিজরি: পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তান অঞ্চলে সিআইএ পরিচালিত এক ড্রোন হামলায় তালেবান পাকিস্তানের নেতা হাকিমুল্লাহ মেহসুদ নিহত হন।
- ১৪৩৬ হিজরি: তুরস্কের রাজধানী আংকারায় একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হয়। দুটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে প্রায় ৯৭ জন নিহত হন এবং ৪০০-রও বেশি মানুষ আহত হন।
- ১৪৩৮ হিজরি: ইরাকের কিরকুক শহরে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়। কুর্দিস্তানের স্বাধীনতার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তের পর কির্কুককেও ঐ গণভোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি করে। ফলে এই এলাকায় সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
- ১৪৩৯ হিজরি: ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার সরকাররা তেহরানে এক ত্রিদেশীয় সম্মেলনে মিলিত হন। এই সম্মেলনে তারা সিরিয়া সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
জন্ম
[সম্পাদনা]- ১২৮৬ হিজরি - আব্দুর রহমান ফাহমি, মিশরীয় রাজনীতিবিদ ও সংগ্রামী।
- ১২৯২ হিজরি - মুহাম্মাদ তাহির আস-সামাওয়ী, ইরাকি ফকীহ, সাহিত্যিক ইতিহাসবিদ ও কবি।
- ১৩২০ হিজরি - মুহাম্মাদ আল-আদনানী, ফিলিস্তিনি কবি ও ভাষাবিদ।
- ১৩৪৪ হিজরি - হাজ্জি রাদী, ইরাকি অভিনেতা।
- ১৩৪৫ হিজরি - নাসরী শামসুদ্দীন, লেবাননী গায়ক।
- ১৩৬৫ হিজরি - কাসিম আল-মাল্লাক, ইরাকি অভিনেতা।
- ১৩৬৬ হিজরি - বশীর আল-জামায়েল, লেবাননী সামরিক নেতা ও রাজনীতিবিদ।
- ১৩৭৪ হিজরি - আলী আল-আরীদ, তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
- ১৪০১ হিজরি - জুহূর হুসেইন, বাহরাইনি অভিনেত্রী।
- ১৪০৮ হিজরি - আব্বাস ইব্রাহিম, সৌদী গায়ক।
মৃত্যু
[সম্পাদনা]- ২১০ হিজরি - আলী আরিদী, একজন মুসলিম ইমাম ও আলেম।
- ২৩৪ হিজরি - আলী ইবনুল মাদীনী, হাদীস বিশারদ আলেম।
- ৩১৬ হিজরি - ইবনুস-সিরাজ, সাহিত্যিক ও মুসলিম পণ্ডিত।
- ৩৩৪ হিজরি - আবু বকর আশ-শিবলী, সুফি ধর্মীয় পণ্ডিত।
- ৫৬৮ হিজরি - নাজমুদ্দীন আইয়ুব, সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর পিতা।
- ১৩৪৫ হিজরি - আব্দুল ওহহাব আন-নায়িব, ইরাকি শরিয়া বিচারক ও ফকীহ।
- ১৩৭৭ হিজরি - দ্বিতীয় ফয়সাল, ইরাকের রাজা।
- ১৩৭৯ হিজরি - আহমদ আর-রামলি, ইরাকি জাফরী কবি ও ধর্মীয় বক্তা।
- ১৩৮৪ হিজরি - আব্দুর রহমান হাজ্জী, মরোক্কান সাহিত্যিক ও কবি।
- ১৪২৫ হিজরি - আবদুল লতীফ আল-ঈসা, সৌদী ব্যবসায়ী।
- ১৪৩০ হিজরি - রিফআত জিবরীল, মিসরের গোয়েন্দা সংস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান।
- ১৪৩৪ হিজরি - হাকিমুল্লাহ মেহসুদ, পাকিস্তান তালেবান আন্দোলনের নেতা।
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]সূত্র
[সম্পাদনা]- ইবনে কাসির, মুহাম্মদ (২০১৩)। আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (বাংলা ভাষায়)। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আইএসবিএন ৯৮৪-০৬-০৫৬৫-৮।
- আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৫)। তারিখুল ইসলাম (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ। আইএসবিএন ২৭-৪৫১৪৩-৫৩-০।
- আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৪)। সিয়ারু আলামিন নুবালা (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: আল-রিসালা প্রকাশনী। আইএসবিএন ৯৭৮-৯-৯৩৩-৪৪৬৬৫-৯।
- খতিব বাগদাদী (২০১১)। তারিখে বাগদাদ (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়্যা। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১০-৪৬৬-৩।
- তাবারি, মুহাম্মদ ইবনে জারির (২০১১)। তারিখে তাবারি: তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-৩২৬৩-৫।
- হামাবি, ইয়াকুত (২০১১)। মু'জামুল বুলদান (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-১৪৩২-৭।
- সুয়ুতী, জালালুদ্দীন (২০১০)। তারিখ আল-খুলাফা (আরবি ভাষায়)। সৌদি আরব: দারুল মিনহাজ। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৫৩৪-৯৮১৯-৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ইলমাজ উজতুনা (২০১০)। তারিখ আল-দাওলাহ আল-উসমানিয়া (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব আরাবি। আইএসবিএন ৯৭৮-৬১৪৪১-৫০৩১-৩।
- ইয়াগি, ইসমাইল আহমদ (২০১৪)। আল-দাওলাহ আল-উসমানিয়া, ফিত তারিখিল ইসলামি আল-হাদিস (আরবি ভাষায়)। মাকতাবাতুল আবিকান। আইএসবিএন ৯৭৮-৬০৩৫০-৩৬৯৫-৫।
- বারদি, ইবনে তাগরি (২০১৬)। আল-নুজুম আল-যাহিরাহ ফি মুলুক মিসর ওয়াল কাহিরাহ (আরবি ভাষায়)। কায়রো: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৭৮১-২০১৮-৯।
- ইবনে ইয়াস (২০১৮)। বাদায়ি' আল-জুহুর ফি ওয়াকায়ি' আল-দুহুর (আরবি ভাষায়)। নিল ওয়াফুরাত।
- আল-মাকদিসি, আবু শামা (২০১৮)। আল-রওজাতাইন ফি আখবার আল-দাওলাতাইন আল-নুরিয়া ওয়াস সালাহিয়া (আরবি ভাষায়)। কায়রো: মুয়াসসাসাতুর রিসালা। আইএসবিএন ৯৭৮-১৯১২৬৪-৩৩৫-৬।
- আল মাকরিজি, আলি ইবনে আহমদ (২০০৮)। আস-সুলুক লিমারিফা দুয়াল আল-মুলুক (আরবি ভাষায়)। দার আল-জামান।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ড. আব্দুর রহিম, আল-হাজ্জি (২০০৫)। তারিখুল আন্দালুস আল-ইসলামি। দাম্মাম (সৌদি আরব): দার ইবনুল জাওযি।
- রহমান, ড. আতাউর (২০২৩)। ইতিহাসে ইসলাম: নবী থেকে খেলাফত। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
- ডেভিড, ফ্রমকিন (১৯৮৯)। অ্য পিচ টু ইন্ড অল পিচ: দ্য ফ্যাল অফ দ্য অটোমান অ্যাম্পায়ার (A Peace to End All Peace: The Fall of the Ottoman Empire)। আইএসবিএন ০-৮০৫০-০৮৫৭-৮।