বিষয়বস্তুতে চলুন

২৬ মুহররম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

২৬ মুহররম হল ইসলামি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মুহররমহিজরি বছরের ২৬তম দিন এবং এরপর থেকে হিজরি বছর শেষ হতে আরো ৩২৮ বা ৩২৯ দিন বাকি থাকে।

ঘটনাবলী

[সম্পাদনা]
  • ৬৮১ হিজরি: আহমদ তেকুদার ইলখানী সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসেন। তিনি তাঁর ভাই আবাকা খানের স্থলাভিষিক্ত হন এবং এইভাবে ইলখানী সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইলখানী লোকেরা ছিলেন চেঙ্গিস খানের বংশধর এবং ইরান ও আশপাশের অঞ্চলে তাঁদের রাজত্ব ছিল। আহমদ তেকুদার শাসনকালে ইসলাম গ্রহণ ও প্রশাসনিক অনেক সংস্কার লক্ষ করা যায়।
  • ৯১৫ হিজরি: স্পেনীয় বাহিনী উত্তর আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ওহরানে (বর্তমান আলজেরিয়ায় অবস্থিত) ব্যাপক হামলা চালায়। প্রায় ২৪,০০০ সৈন্যের এক শক্তিশালী বাহিনী দিয়ে এই আক্রমণ পরিচালিত হয়। তারা প্রায় ৪,০০০ মুসলমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এরপর থেকে ওহরান স্পেনীয়দের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক ঘাঁটিতে পরিণত হয়।
  • ১১১২ হিজরি: উসমানীয় সাম্রাজ্য ও রাশিয়ার মাঝে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চলা আলোচনার পর ইস্তাম্বুল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে মোট ১৪টি ধারা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল রুশ রাষ্ট্রদূত কেবল স্থলপথে ইস্তাম্বুলে যাতায়াত করতে পারবে, সমুদ্রপথে নয়। কারণ তখন কৃষ্ণসাগর উসমানীয় নৌবাহিনীর দখলে ছিল এবং তা একটি অভ্যন্তরীণ সাগর হিসেবে বিবেচিত হতো।
  • ১৩৬৭ হিজরি: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জেরুজালেম শহরকে আন্তর্জাতিকীকরণ বা আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে আনার প্রস্তাব পাশ হয়। এই সিদ্ধান্তটি পরবর্তীতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে অনেক বিতর্ক এবং আলোচনার জন্ম দেয়।
  • ১৩৮০ হিজরি: মিশরীয় টেলিভিশন প্রথমবারের মতো তার সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করে। প্রথম সরাসরি সম্প্রচার ছিল জাতীয় পরিষদ (বর্তমানে যার নাম জন-পরিষদ) থেকে।
  • ১৪০২ হিজরি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগন একটি গোপন আদেশে সিআইএকে নির্দেশ দেন, তারা যেন নিকারাগুয়ায় "কন্ট্রা বিদ্রোহী" গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ, অর্থ প অস্ত্র সহায়তা দেয়। এই গোপন পরিকল্পনা পরবর্তীতে ফাঁস হয়ে পড়ে এবং "ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি" নামে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়।
  • ১৪১১ হিজরি: প্রেসিডেন্ট জর্জ হারবার্ট ওয়াকার বুশ নির্দেশ দেয় যে, জাতিসংঘ কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইরাক ও কুয়েতের দিকে যাত্রা শুরু করুক। এই আদেশ অনুযায়ী, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে সেসব এলাকায় পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
  • ১৪১২ হিজরি: ইরানের শেষ প্রধানমন্ত্রী (ইসলামী বিপ্লবের আগে) শাপুর বখতিয়ারকে প্যারিসে তাঁর নিজ বাসভবনে হত্যা করা হয়। তিনি শাহের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন; তবে ইসলামি বিপ্লবের সময় তিনি শাহের বিরোধিতা করেছিলেন।
  • ১৪৩১ হিজরি: সুদানের রাষ্ট্রপতি ওমর আল-বশির ঘোষণা দেন যে, তিনি আর সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে থাকবেন না। কারণ, নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর আইন অনুসারে একইসঙ্গে সামরিক ও রাজনৈতিক পদে থাকা নিষিদ্ধ ছিল। তিনি আগাম নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন বলেই এই সিদ্ধান্ত নেন।
  • ১৪৩২ হিজরি: মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ার সিদি বশর এলাকায় একটি গির্জায় গাড়ি বোমা হামলা হয়। এই ঘটনায় অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং বহু লোক আহত হয়।
  • ১৪৩৭ হিজরি: মেহ নামের একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইয়েমেনের সোকোত্রা দ্বীপে আঘাত হানে এবং এরপর তা এডেন ও আবইনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এই ঘূর্ণিঝড় ইয়েমেনের উপকূলীয় এলাকায় প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি করে।
  • ১৪৩৮ হিজরি—ইয়াজিদি মানবাধিকারকর্মী নাদিয়া মুরাদ ও লামিয়া হাজি বশার ইউরোপীয় সংসদের সাখারভ স্বাধীনচিন্তা পুরস্কার লাভ করেন।
  • ১৩১৪ হিজরি — মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আনান, একজন মিশরীয় ইতিহাসবিদ ও সাহিত্যিক।
  • ১৩৪৪ হিজরি— হুদা সুলতান, মিশরীয় অভিনেত্রী।
  • ১৩৬১ হিজরি—এহুদ বারাক, ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ ও সেনানায়ক।
  • ১৩৭৬ হিজরি — আইমান জেইদান, একজম সিরীয় অভিনেতা।
  • ১৩৮৮ হিজরি—হাশিম সাচি, কসোভোর প্রধানমন্ত্রী।
  • ১৩৮৯ হিজরি — মি স্কাফ, একজন সিরীয় একজন অভিনেত্রী।
  • ১৩৯৩ হিজরি — আহমদ আল-সাকা, মিশরীয় অভিনেতা।
  • ১৩৯৪ হিজরি — নাদিন লাবাকি, লেবাননের চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেত্রী।
  • ১৪১২ হিজরি — হনান জাবের, কুয়েতি টেলিভিশন উপস্থাপিকা।

মৃত্যু

[সম্পাদনা]
  • ২৮৭ হিজরি—ইবনে ওয়াদাহ, একজন আন্দালুসীয় হাদিস বিশারদ।
  • ১১৭৬ হিজরি — শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী, ভারতীয় ইসলামী সংস্কারক ও দাঈ। []
  • ১৩৬১ হিজরি — ইব্রাহিম স্টার্ন, সিহিওনীয় স্টার্ন গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা।
  • ১৩৬৯ হিজরি — আলী মাহমুদ তাহা, মিশরীয় কবি।
  • ১৩৯৩ হিজরি — মাহমুদ তৈমুর, মিশরীয় সাহিত্যিক।
  • ১৩৯৮ হিজরি — মুর্তজা আল ইয়াসিন, ইরাকি জাফারী ফকীহ।
  • ১৪১২ হিজরি — শাপুর বাখতিয়ার, ইরানের প্রধানমন্ত্রী।
  • ১৪৩০ হিজরি — মুহাম্মদ খাইর আবু হারব, সিরীয় ভাষাতত্ত্ববিদ ও শিক্ষাবিদ।
  • ১৪৩১ হিজরি — মুহাম্মদ আবু সামরা, ফিলিস্তিনি সংগ্রামী।
  • ১৪৩৭ হিজরি —আব্দুর রাজ্জাক আব্দুল ওয়াহিদ, ইরাকি কবি।
  • ১৪৩৮ হিজরি — শুয়াইব আল আরনাউত, সিরীয় আলেম, মুহাদ্দিস ও গবেষক। []

গ্রন্থপঞ্জী

[সম্পাদনা]
  • ইবনে কাসির, মুহাম্মদ (২০১৩)। আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (বাংলা ভাষায়)। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশনআইএসবিএন ৯৮৪-০৬-০৫৬৫-৮
  • আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৫)। তারিখুল ইসলাম (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ। আইএসবিএন ২৭-৪৫১৪৩-৫৩-০
  • আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৪)। সিয়ারু আলামিন নুবালা (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: আল-রিসালা প্রকাশনী। আইএসবিএন ৯৭৮-৯-৯৩৩-৪৪৬৬৫-৯
  • খতিব বাগদাদী (২০১১)। তারিখে বাগদাদ (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়্যা। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১০-৪৬৬-৩
  • তাবারি, মুহাম্মদ ইবনে জারির (২০১১)। তারিখে তাবারি: তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-৩২৬৩-৫
  • হামাবি, ইয়াকুত (২০১১)। মু'জামুল বুলদান (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-১৪৩২-৭
  • সুয়ুতী, জালালুদ্দীন (২০১০)। তারিখ আল-খুলাফা (আরবি ভাষায়)। সৌদি আরব: দারুল মিনহাজ। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৫৩৪-৯৮১৯-৫ {{বই উদ্ধৃতি}}: |প্রথমাংশ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
  • ইলমাজ উজতুনা (২০১০)। তারিখ আল-দাওলাহ আল-উসমানিয়া (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব আরাবি। আইএসবিএন ৯৭৮-৬১৪৪১-৫০৩১-৩
  • ইয়াগি, ইসমাইল আহমদ (২০১৪)। আল-দাওলাহ আল-উসমানিয়া, ফিত তারিখিল ইসলামি আল-হাদিস (আরবি ভাষায়)। মাকতাবাতুল আবিকান। আইএসবিএন ৯৭৮-৬০৩৫০-৩৬৯৫-৫
  • বারদি, ইবনে তাগরি (২০১৬)। আল-নুজুম আল-যাহিরাহ ফি মুলুক মিসর ওয়াল কাহিরাহ (আরবি ভাষায়)কায়রো: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৭৮১-২০১৮-৯
  • ইবনে ইয়া‌স (২০১৮)। বাদায়ি' আল-জুহুর ফি ওয়াকায়ি' আল-দুহুর (আরবি ভাষায়)। নিল ওয়াফুরাত।
  • আল-মাকদিসি, আবু শামা (২০১৮)। আল-রওজাতাইন ফি আখবার আল-দাওলাতাইন আল-নুরিয়া ওয়াস সালাহিয়া (আরবি ভাষায়)কায়রো: মুয়াসসাসাতুর রিসালা। আইএসবিএন ৯৭৮-১৯১২৬৪-৩৩৫-৬
  • আল মাকরিজি, আলি ইবনে আহমদ (২০০৮)। আস-সুলুক লিমারিফা দুয়াল আল-মুলুক (আরবি ভাষায়)। দার আল-জামান। {{বই উদ্ধৃতি}}: |প্রথমাংশ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
  • ড. আব্দুর রহিম, আল-হাজ্জি (২০০৫)। তারিখুল আন্দালুস আল-ইসলামি। দাম্মাম (সৌদি আরব): দার ইবনুল জাওযি।
  • রহমান, ড. আতাউর (২০২৩)। ইতিহাসে ইসলাম: নবী থেকে খেলাফত। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • ডেভিড, ফ্রমকিন (১৯৮৯)। অ্য পিচ টু ইন্ড অল পিচ: দ্য ফ্যাল অফ দ্য অটোমান অ্যাম্পায়ার (A Peace to End All Peace: The Fall of the Ottoman Empire)আইএসবিএন ০-৮০৫০-০৮৫৭-৮

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Deoband school | Founder, Beliefs, & History | Britannica"www.britannica.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২৫
  2. "المحدث شعيب الأرناؤوط في ذمة الله"web.archive.org। ৩০ অক্টোবর ২০১৬। ৩০ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২৫{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বট: মূল ইউআরএলের অবস্থা অজানা (লিঙ্ক)

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]