২১ মুহররম
অবয়ব
২১ মুহররম হল ইসলামি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মুহররম ও হিজরি বছরের ২১তম দিন এবং এরপর থেকে হিজরি বছর শেষ হতে আরো ৩৩৩ বা ৩৩৪ দিন বাকি থাকে।
ঘটনাবলী
[সম্পাদনা]- ৮৫৭ হিজরি – সুলতান জাহির জাকমাক নিজেই সুলতানির পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং তার ক্ষমতা খলিফা ও বিচারকদের হাতে অর্পণ করেন।
- ৮৯৭ হিজরি – ইসলামি স্পেনের শেষ বনি নাসরীয় শাসক আবু আবদুল্লাহ দ্বাদশ মুহাম্মাদ গ্রানাডার শাসনভার সমর্পণের জন্য ক্যাথলিক রাজা পঞ্চম ফের্দিনান্দ ও রাণী ইসাবেলার সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পাদন করেন। এর আগে শহরটি কয়েক মাস অবরোধ সত্ত্বেও প্রতিরোধ করে যাচ্ছিল। [১]
- ১০৬০ হিজরি–ওমান থেকে পর্তুগিজ সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার ঘটে।
- ১০৯৭ হিজরি – উসমানীয় সুলতান চতুর্থ মুহাম্মাদ তার প্রধান উজির কারা ইব্রাহিম পাশাকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করেন। কারণ তিনি রাষ্ট্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাকে রোডস দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয় এবং সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়। এর আগে তিনি দুই বছর উজির ছিলেন।
- ১২০৬ হিজরি–উসমানী সুলতান তৃতীয় আহমদের শাসনামলে প্রথমবার সফল সাবমেরিন (জলযান) ব্যবহার পরীক্ষামূলকভাবে সম্পন্ন হয়। এটি নির্মাণ করেন সাম্রাজ্যের নৌ-কারখানার প্রধান প্রকৌশলী ইব্রাহিম আফেন্দি।
- ১২২২ হিজরি–ইংরেজ সেনানায়ক আলেকজান্ডার ম্যাকেনজি-ফ্রেজার মিশরের রশিদ শহরে পৌঁছান।
- ১২৩৩ হিজরি– উসমানীয় সাম্রাজ্য আলজের ইয়ালেতের ইনকিশারিয়া বাহিনী বাতিল করে দেয়, যাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪,০০০ জন।
- ১২৯৪ হিজরি –উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ আহমদ মিদহাত পাশাকে প্রধান উজিরের পদ থেকে অপসারণ করেন।
- ১৩০০ হিজরি – শামসুদ্দীন আল-ইম্বাবিকে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শাইখ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
- ১৩৩৪ হিজরি – শাইখ জাবির আল-মুবারক আল-সাবাহ তার পিতা মুবারক আল-সাবাহের উত্তরসূরি হিসেবে কুয়েতের শাসক হন।
- ১৩৫৬ হিজরিতে – সাহিত্যিক ড. জাকি মুবারক মিশরীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “ইসলামি তাসাউফ” বিষয়ক গবেষণাপত্রে তৃতীয় ও শেষ ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
- ১৩৭৯ হিজরি: আলজেরিয়ার বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা ও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত ঈসাত ইদির নির্মম নির্যাতনের কারণে শহীদ হন। একটানা প্রায় এক মাস ধরে ঔপনিবেশিক ফরাসি বাহিনীর হাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিপীড়িত হওয়ার পর তাঁর মৃত্যু ঘটে।
- ১৩৯০ হিজরি: ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীকে লিবিয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে বহিষ্কার করা হয়। তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে লিবিয়ায় অবস্থান করছিল। এই সাফল্যের মাধ্যমে লিবিয়ার জনগণ নিজেদের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের পথে এক বড় ধাপ এগিয়ে যায়।
- ১৩৯৮ হিজরি: কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আস-সালেম আস-সাবাহের মৃত্যুর পর শেখ জাবের আল-আহমাদ আস-সাবাহ কুয়েতের শাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৪০১ হিজরি: ইরাক ও ইরানের মধ্যে চলমান প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাকি নৌবাহিনী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি একক অভিযানে ইরাকি নৌ-শক্তির ৭০% ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এটি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং ইরাকের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধাক্কা আনে।
- ১৪৩০ হিজরি:
- ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট গাজা উপত্যকায় একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যা গাজায় ২০০৮-২০০৯ সালের ইস্রায়েলি হামলার ইতি টানে। তবে হামাস এই ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে জানায় যে, যতক্ষণ না ইস্রায়েলি সেনারা গাজা ত্যাগ করছে, ততক্ষণ তারা প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।
- ওমানের জাতীয় ফুটবল দল তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মত গালফ কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়। তারা ফাইনালে সৌদি আরবকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিজয় অর্জন করে। এই টুর্নামেন্টটি ওমানেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- ১৪৩৫ হিজরি:
- ইরান ও বিশ্বের পরাশক্তি দেশগুলো একটি অস্থায়ী চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লিখিত হয়েছিল।
- মিশর ও তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে, যার ফলে মিশর কায়রো থেকে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কও আঙ্কারা থেকে মিশরের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে।
- ১৪৩৭ হিজরি: ইয়েমেনের হাজরামাউত, শাবওয়া ও সোকোত্রা প্রদেশে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘চাপালা’ আঘাত হানে। এটি হাজার হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দেয় এবং অন্তত ৮ জনের মৃত্যু ঘটায়। এটি ভারতীয় মহাসাগরের ইতিহাসে একটি অন্যতম শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড় ছিল।
- ১৪৪০ হিজরি: ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের মহাকাশ বিভাগ সিরিয়ার পূর্ব ফোরাত অঞ্চলে কথিত আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই হামলা তাদের প্রতিরোধ নীতির অংশ হিসেবে গণ্য হয় এবং এটি দাঈশের বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ ছিল।
জন্ম
[সম্পাদনা]- ১৩৩০ হিজরি-
- মুহসিন আল-হুসাইনি আল-জালালি, একজন শিয়া ইরাকি ধর্মীয় ব্যক্তি।
- মাহমুদ হাফিয, একজন মিশরীয় কীটতত্ত্ববিদ।
- ১৩৩৫ হিজরি - মারি কুয়িনি, মিশরীয় অভিনেত্রী ও প্রযোজক।
- ১৩৭৪ হিজরি - কাহতান আল-কাহতানি, বাহরাইনি অভিনেতা।
- ১৩৮৭ হিজরি - হাকিম দাকার, আলজেরীয় অভিনেতা।
- ১৩৯৪ হিজরি - আহমাদ আল-মুতাইরি, কুয়েতি ফুটবল খেলোয়াড়।
- ১৪০৪ হিজরি -
- কিভানচ তাতলিতুগ, তুর্কি মডেল ও অভিনেতা।
- ইয়াকুব আল-তাহির, কুয়েতি ফুটবল খেলোয়াড়।
মৃত্যু
[সম্পাদনা]- ৪৩০ হিজরি - আবু নাঈম ইস্পাহানি: বিখ্যাত ইমাম, হাদিসবিশারদ ও ইতিহাসবিদ। [২]
- ৫৯৫ হিজরি - আজিজ উসমান ইবনে সালাহুদ্দিন ইউসুফ, মিশরের দ্বিতীয় আইয়ুবীয় সুলতান।[৩]
- ১২১৫ হিজরি - জ্যাঁ বাতিস্ত ক্লেবার, ফরাসি বিপ্লবী যুদ্ধকালীন ফ্রান্সের একজন জেনারেল ও মিশরে নেপোলিয়নের অভিযানে অংশগ্রহণকারী।
- ১৩৩৪ হিজরি - মুবারক আল-সাবাহ, কুয়েতের সপ্তম শাসক।
- ১৩৩৭ হিজরি - আহমাদ আল হার্য, বাহরাইনি শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।
- ১৩৬৩ হিজরি - হাবীব আল্লাহ ইবনে কারিন, ইরাকি-সৌদি জাফরী ফকিহ।
- ১৩৬৫ হিজরি - হাদি আল-শিরাজি আল-হায়েরি, একজন ইরানি শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।
- ১৩৭৯ হিজরি - আইসাত ইদির, আলজেরীয় সাধারণ শ্রমিক ইউনিয়নের মহাসচিব।
- ১৩৯৮ হিজরি - সাবাহ আস-সালিম আস-সাবাহ, কুয়েতের দ্বাদশ আমির।
- ১৪১২ হিজরি - ইউসুফ ইদরিস, একজন মিশরীয় লেখক।
- ১৪২৪ হিজরি -
- সুলায়মান আল-মাদানি, একজন বাহরাইনি শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।
- হুসেইন কামাল, একজন মিশরীয় চলচ্চিত্র পরিচালক।
- ১৪৩১ হিজরি - ইবতিসাম আল-হোয়ারি, একজন মিশরীয় সাংবাদিক।
- ১৪৩৩ হিজরি - ইমাদ ইআফত, মিশরীয় ফতোয়া দপ্তরের ফতোয়া কমিটির সেক্রেটারি।
- ১৪৩৪ হিজরি -
- আলী খাশশান, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত একজন সিরীয় সুন্নি ধর্মীয় ব্যক্তি।
- তালহাত হামদি, একজন সিরীয় অভিনেতা ও পরিচালক।
- ১৪৩৭ হিজরি - আহমদ জালাবি, একজন ইরাকি রাজনীতিবিদ।
- ১৪৪০ হিজরি -
- সাঈদ বিন আলি বিন ওহাফ আল-কাহতানি, একজন মুসলিম আলেম ও সৌদি লেখক ও “হিসনুল মুসলিম” বইটির রচয়িতা।
- শার্ল আজনাভুর, একজন ফরাসি-আর্মেনীয় গায়ক, গীতিকার ও অভিনেতা।
গ্রন্থপঞ্জী
[সম্পাদনা]- ইবনে কাসির, মুহাম্মদ (২০১৩)। আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (বাংলা ভাষায়)। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আইএসবিএন ৯৮৪-০৬-০৫৬৫-৮।
- আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৫)। তারিখুল ইসলাম (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ। আইএসবিএন ২৭-৪৫১৪৩-৫৩-০।
- আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৪)। সিয়ারু আলামিন নুবালা (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: আল-রিসালা প্রকাশনী। আইএসবিএন ৯৭৮-৯-৯৩৩-৪৪৬৬৫-৯।
- খতিব বাগদাদী (২০১১)। তারিখে বাগদাদ (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়্যা। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১০-৪৬৬-৩।
- তাবারি, মুহাম্মদ ইবনে জারির (২০১১)। তারিখে তাবারি: তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-৩২৬৩-৫।
- হামাবি, ইয়াকুত (২০১১)। মু'জামুল বুলদান (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-১৪৩২-৭।
- সুয়ুতী, জালালুদ্দীন (২০১০)। তারিখ আল-খুলাফা (আরবি ভাষায়)। সৌদি আরব: দারুল মিনহাজ। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৫৩৪-৯৮১৯-৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ইলমাজ উজতুনা (২০১০)। তারিখ আল-দাওলাহ আল-উসমানিয়া (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব আরাবি। আইএসবিএন ৯৭৮-৬১৪৪১-৫০৩১-৩।
- ইয়াগি, ইসমাইল আহমদ (২০১৪)। আল-দাওলাহ আল-উসমানিয়া, ফিত তারিখিল ইসলামি আল-হাদিস (আরবি ভাষায়)। মাকতাবাতুল আবিকান। আইএসবিএন ৯৭৮-৬০৩৫০-৩৬৯৫-৫।
- বারদি, ইবনে তাগরি (২০১৬)। আল-নুজুম আল-যাহিরাহ ফি মুলুক মিসর ওয়াল কাহিরাহ (আরবি ভাষায়)। কায়রো: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৭৮১-২০১৮-৯।
- ইবনে ইয়াস (২০১৮)। বাদায়ি' আল-জুহুর ফি ওয়াকায়ি' আল-দুহুর (আরবি ভাষায়)। নিল ওয়াফুরাত।
- আল-মাকদিসি, আবু শামা (২০১৮)। আল-রওজাতাইন ফি আখবার আল-দাওলাতাইন আল-নুরিয়া ওয়াস সালাহিয়া (আরবি ভাষায়)। কায়রো: মুয়াসসাসাতুর রিসালা। আইএসবিএন ৯৭৮-১৯১২৬৪-৩৩৫-৬।
- আল মাকরিজি, আলি ইবনে আহমদ (২০০৮)। আস-সুলুক লিমারিফা দুয়াল আল-মুলুক (আরবি ভাষায়)। দার আল-জামান।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ড. আব্দুর রহিম, আল-হাজ্জি (২০০৫)। তারিখুল আন্দালুস আল-ইসলামি। দাম্মাম (সৌদি আরব): দার ইবনুল জাওযি।
- রহমান, ড. আতাউর (২০২৩)। ইতিহাসে ইসলাম: নবী থেকে খেলাফত। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
- ডেভিড, ফ্রমকিন (১৯৮৯)। অ্য পিচ টু ইন্ড অল পিচ: দ্য ফ্যাল অফ দ্য অটোমান অ্যাম্পায়ার (A Peace to End All Peace: The Fall of the Ottoman Empire)। আইএসবিএন ০-৮০৫০-০৮৫৭-৮।
- Harvey, Leonard Patrick (১৯৯২)। Islamic Spain, 1250 to 1500। Chicago: University of Chicago Press। আইএসবিএন ০-২২৬-৩১৯৬২-৮।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Harvey, Leonard Patrick (১৯৯২)। Islamic Spain, 1250 to 1500। Chicago: University of Chicago Press। পৃষ্ঠা 327-30। আইএসবিএন ০-২২৬-৩১৯৬২-৮।
- ↑ شذرات الذہب فی اخبار من ذهب ،مؤلف: ابن العماد العَكری الحنبلی ،ناشر: دار ابن كثير، دمشق - بيروت।
- ↑ Humphreys, R. Stephen. From Saladin to the Mongols: the Ayyubids of Damascus, 1193-1260. Albany: State University of New York, 1977।