২০২৬ পাকিস্তান সুপার লিগ
| তারিখ | ২৬ মার্চ – ৩ মে |
|---|---|
| তত্ত্বাবধায়ক | পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড |
| ক্রিকেটের ধরন | টি-টোয়েন্টি |
| প্রতিযোগিতার ধরন | ডাবল রাউন্ড রবিন ও প্লে-অফ |
| আয়োজক | পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড |
| বিজয়ী | পেশোয়ার জালমি (দ্বিতীয় শিরোপা) |
| রানার-আপ | হায়দ্রাবাদ কিংসমেন |
| অংশগ্রহণকারী দলসংখ্যা | ৮ |
| খেলার সংখ্যা | ৬০ |
| প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় | সুফিয়ান মুকীম |
| সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী | বাবর আজম (৫৮৮ রান) |
| সর্বাধিক উইকেটধারী | সুফিয়ান মুকীম (২২ উইকেট) |
| আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট | psl-t20.com |
২০২৬ পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল ১১/psl 11) হল পাকিস্তান সুপার লিগের একাদশ (১১) আসর, যা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দ্বারা আয়োজিত একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। ২০২৫ সালে পিসিবি নিশ্চিত করে যে, ২০২৫ সালের চলমান সংস্করণটি ছয়-দলের শেষ সংস্করণ হবে এবং পরবর্তী মৌসুমে (২৬) লিগ ছয়টি থেকে আটটি দলে সম্প্রসারিত হবে।[১] এই সম্প্রসারণ টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক মূল্য বৃদ্ধির একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, যেখানে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির প্রতিটির জন্য ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হবে বলে ধারণা করা হয়।[২] এই সংস্করণটি ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ৩ মে পর্যন্ত চলবে বলে ঘোষণা করা হয়। ফাইনালে পেশোয়ার জালমি হায়দ্রাবাদ কিংসমেনকে পরাজিত করে তাদের দ্বিতীয় শিরোপা অর্জন করে।
পিসিবি ও বিদ্যমান ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এই প্রতিযোগিতার সময়সীমা ২০২৬ সাল থেকে এপ্রিল-মে মাসে স্থানান্তর করতে সম্মত হয়, যার লক্ষ্য ছিল খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা সহজলভ্য করা এবং আইপিএলের মত অন্য আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি লিগসমূহের সাথে সংঘর্ষ কমানো। [৩] পূর্ববর্তী সংস্করণগুলিতে ব্যবহৃত হোম-এন্ড-অ্যাওয়ে সংস্করণ বহাল থাকলেও টুর্নামেন্টের সকল ম্যাচ কেবল করাচি ও লাহোরে অনুষ্ঠিত হবরা হয়।[৪]
নতুন দলের সংযোজন
[সম্পাদনা]লিগকে ছয় থেকে আট দলে সম্প্রসারণ করার পিসিবির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি দুটি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য একটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। বিবেচনার জন্য ছয়টি শহরকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল: ফয়সালাবাদ, গিলগিট, হায়দ্রাবাদ, মুজাফফারাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি এবং শিয়ালকোট।[৫] নিলামের পর, হায়দ্রাবাদ কিংসমেন এবং শিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজকে সপ্তম এবং অষ্টম দল হিসেবে নির্বাচিত করা হয়, এবং যথাক্রমে এফকেএস গ্রুপ এবং ওজেড ডেভেলপার্স তাদের মালিকানা অধিকার অর্জন করে।[৬]
মুলতান সুলতান্স ফ্র্যাঞ্চাইজির পূর্ববর্তী মালিক আলী তারিন ঘোষণা করেন যে তিনি পিসিবির সাথে তার চুক্তি নবায়ন করবেন না এবং এর কারণ হিসেবে আর্থিক ক্ষতি এবং লিগের ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিরোধের কথা উল্লেখ করেন।[৭] তাই, পিসিবি ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ একটি নিলামের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি পুনরায় বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়,[৮] যেখানে ওয়ালি টেকনোলজিস এটি অধিগ্রহণ করে এবং স্থানান্তরের পর পরিচয়টি রাওয়ালপিন্ডিজ হিসাবে পুনরায় ব্র্যান্ডিং করে। পরে, শিয়ালকোটের মালিকরা ফ্র্যাঞ্চাইজিটি সিডি ভেঞ্চার্সের কাছে বিক্রি করে দেয়, যারা মুলতান সুলতান্সকে পুনরায় ব্র্যান্ডিং করে ফিরিয়ে আনে।[৯][১০]
লিগ পর্ব
[সম্পাদনা]আটটি দলে সম্প্রসারণের কারণে, এই সংস্করণটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলিতে ব্যবহৃত দ্বৈত রাউন্ড-রবিন বিন্যাসের পরিবর্তে মোট ৪৪টি ম্যাচ সহ একটি সংশোধিত বিন্যাসে খেলা হয়েছিল। দলগুলিকে চারটি করে দুটি অলিখিত গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছিল; প্রতিটি দল তার গ্রুপের অন্য দলগুলির বিরুদ্ধে দুবার এবং বিপরীত গ্রুপের প্রতিটি দলের বিরুদ্ধে একবার করে খেলেছিল, যার ফলে প্রতিটি দলের জন্য মোট দশটি লিগ পর্বের ম্যাচ ছিল। সামগ্রিক স্ট্যান্ডিংয়ের শীর্ষ চারটি দল প্লে-অফের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছিল, যা চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের জন্য পেজ প্লে-অফ সিস্টেমের অধীনে খেলা হয়েছিল।[১১][১২]
| অব | দল | খেলা | জ | হা | ফহ | পয়েন্ট | নে.রা.রে. | যোগ্যতা অর্জন |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | পেশোয়ার জালমি | ১০ | ৮ | ১ | ১ | ১৭ | +২.৩২৪ | বাছাই |
| ২ | ইসলামাবাদ ইউনাইটেড | ১০ | ৬ | ৩ | ১ | ১৩ | +১.৬৬৭ | |
| ৩ | মুলতান সুলতান্স | ১০ | ৬ | ৪ | ০ | ১২ | +০.৩২৬ | এলিমিনেটর ১ |
| ৪ | হায়দ্রাবাদ কিংসমেন | ১০ | ৫ | ৫ | ০ | ১০ | −০.৩৬১ | |
| ৫ | লাহোর কালান্দার্স | ১০ | ৫ | ৫ | ০ | ১০ | −০.৪৮২ | |
| ৬ | করাচী কিংস | ১০ | ৫ | ৫ | ০ | ১০ | −০.৮৬৯ | |
| ৭ | কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স | ১০ | ৩ | ৭ | ০ | ৬ | −০.৪১০ | |
| ৮ | রাওয়ালপিন্ডিজ | ১০ | ১ | ৯ | ০ | ২ | −১.৭৬০ |
| অতিথি দল → | ইসলামাবাদ | করাচী | কোয়েটা | পেশোয়ার | মুলতান | পিন্ডি | লাহোর | হায়দ্রাবাদ |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| স্থানীয় দল ↓ | ||||||||
| ইসলামাবাদ ইউনাইটেড | খেলা পরিত্যক্ত | ইসলামাবাদ ৪ উইকেট | পিন্ডি ৬ উইকেট | ইসলামাবাদ ৮ উইকেট | ||||
| করাচী কিংস | ইসলামাবাদ ৮ উইকেট | করাচী ১৪ রান | পেশোয়ার ১৫৯ রান | মুলতান ১১ রান | করাচী ৫ উইকেট | হায়দ্রাবাদ ৪ উইকেট | ||
| কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স | ইসলামাবাদ ৮ উইকেট | করাচী ৯ উইকেট | পেশোয়ার ১১৮ রান | মুলতান ৬ উইকেট | লাহোর ৯ রান | কোয়েটা ৪০ রান | ||
| পেশোয়ার জালমি | পেশোয়ার ৭ উইকেট | পেশোয়ার ৮ উইকেট | পেশোয়ার ২৪ রান | পেশোয়ার ৫ উইকেট | পেশোয়ার ৭৬ রান | |||
| মুলতান সুলতান্স | মুলতান ৫ উইকেট | মুলতান ৭ উইকেট | লাহোর ২০ রান | মুলতান ৬ উইকেট | ||||
| রাওয়ালপিন্ডিজ | ইসলামাবাদ ৭ উইকেট | করাচী ৫ উইকেট | কোয়েটা ৬১ রান | মুলতান ৬ উইকেট | লাহোর ৩২ রান | হায়দ্রাবাদ ১০৮ রান | ||
| লাহোর কালান্দার্স | ইসলামাবাদ ৯ উইকেট | করাচী ৪ উইকেট | কোয়েটা ৬ উইকেট | লাহোর ৬ উইকেট | লাহোর ৬৯ রান | |||
| হায়দ্রাবাদ কিংসমেন | হায়দ্রাবাদ ৬ উইকেট | পেশোয়ার ৪ উইকেট | হায়দ্রাবাদ ৪ উইকেট | হায়দ্রাবাদ ৫ উইকেট |
| স্থানীয় দল জয়ী | অতিথি দল জয়ী |
- দ্রষ্টব্য: ম্যাচের ফলাফল স্থানীয় দল (অনুভূমিকভাবে) এবং অতিথি দল (উলম্বভাবে) অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।
- দ্রষ্টব্য: ম্যাচের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল জানতে সংক্ষিপ্ত ফলাফলে ক্লিক করুন।
| জয় | হার | ফলাফল হয়নি |
- টীকা: প্রতিটি গ্রুপ ম্যাচের খেলা শেষে পয়েন্ট হালনাগাদ করা হয়েছে।
- টীকা: খেলার সারাংশ দেখতে (গ্রুপ খেলার) পয়েন্টের উপর অথবা (প্লে-অফের) জ/হা এর উপর ক্লিক করুন।
প্লে-অফ
[সম্পাদনা]| বাছাই | এলিমিনেটর ২ | ফাইনাল | |||||||||||
| ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ৩ মে ২০২৬ | ||||||||||||
| ১ | পেশোয়ার জালমি | ২২১/৭ (২০) | QW | পেশোয়ার জালমি | ১৩০/৫ (১৫.২) | ||||||||
| ২ | ইসলামাবাদ ইউনাইটেড | ১৫১ (১৮.৪) | ১ মে ২০২৬ | E2W | হায়দ্রাবাদ কিংসমেন | ১২৯ (১৮) | |||||||
| QL | ইসলামাবাদ ইউনাইটেড | ১৮৪/৭ (২০) | |||||||||||
| এলিমিনেটর ১ | E1W | হায়দ্রাবাদ কিংসমেন | ১৮৬/৫ (২০) | ||||||||||
| ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | |||||||||||||
| ৩ | মুলতান সুলতান্স | ১৫৯/৯ (২০) | |||||||||||
| ৪ | হায়দ্রাবাদ কিংসমেন | ১৬২/২ (১৫.২) | |||||||||||
ফাইনাল
[সম্পাদনা]হায়দ্রাবাদ কিংসমেন ১২৯ (১৮ ওভার) |
ব |
পেশোয়ার জালমি ১৩০/৫ (১৫.২ ওভার) |
- পেশোয়ার জালমি টসে জিতে ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নেয়
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "PSL to become eight-team tournament from 2026, confirms PCB"। ESPNcricinfo। ১৭ মে ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ "HBL PSL planned for expansion with hefty price tags for new teams in 2026"। The Express Tribune। ১৬ মার্চ ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ "Franchises, PCB all but agree over eight-team PSL, April-May window"। Dawn। ১৮ মে ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ "PCB considers new schedule and venues for PSL expansion"। Geo News। ৫ জুলাই ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ "Ali Tareen opts not to extend Multan Sultans' PSL contract"। Geo News। ২৫ নভেম্বর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০২৬।
- ↑ Zulfiqar Baig (৮ জানুয়ারি ২০২৬)। "Sialkot, Hyderabad enter HBL PSL after Rs3.6b auction"। The Express Tribune। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "Ali Tareen bows out as Multan Sultans owner after franchise denied renewal"। Dawn। ২৫ নভেম্বর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ Mohammad Yaqoob (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। "Multan Sultans sold for record price but owners opt for Rawalpindi rebrand"। Dawn। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০২৬।
- ↑ Mohammad Yaqoob (৪ মার্চ ২০২৬)। "Multan Sultans return to PSL at Sialkot's expense"। Dawn। ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০২৬।
- ↑ فیضان لاکھانی (১৭ মার্চ ২০২৬)। "ٹیم 'پنڈیز' نے سوشل میڈیا اکاؤنٹس پر نام 'راولپنڈیز' کردیا"। Daily Jang। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২৬।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ Bushra Saleem (১৬ ডিসেম্বর ২০২৫)। "PSL 2026 schedule: How many matches will be played in 11th edition?"। Daily Jang। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০২৬।
- ↑ Alam, Sher (১১ মার্চ ২০২৬)। "All You Need to Know About PSL 11 Format"। ProPakistani। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০২৬।