২০২৬-এর হরমুজ প্রণালী সংকট
| ২০২৬-এর ইরান যুদ্ধের অংশ | |
কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা প্রণালীর আলোকচিত্র | |
| তারিখ | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – present (৩ মাস, ২ সপ্তাহ ও ৪ দিন) |
|---|---|
| অবস্থান | হরমুজ প্রণালী, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর |
| কারণ | 2026 Iran war |
| অংশগ্রহণকারী | ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, জাহাজ পরিবহন কোম্পানিসমূহ |
| ফলাফল |
|
| হতাহত | |
| ১টি টানা-জাহাজ (টাগ) সাগরগর্ভে সমাহিত কমপক্ষে ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, যাদের মধ্যে ৭টি পরিত্যক্ত[১] ১২ জন নাবিক নিহত বা নিখোঁজ বাহরাইনে ১ জন বন্দরকর্মী নিহত ও ২ জন বন্দরকর্মী আহত | |
বিশ্ব শক্তি বাণিজ্যের একটি প্রধান সামুদ্রিক কৌশলগত সংকীর্ণপথ হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে থেকে ইরান মূলত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালায় এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেয়ীকে হত্যা করে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিসমূহ এবং মার্কিন-মিত্র উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহের উপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) প্রণালীটি দিয়ে যাতায়াত নিষিদ্ধ করে সতর্কতা জারি করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ২১টি নিশ্চিতকৃত হামলা চালিয়েছে এবং প্রণালীটিতে নৌ-মাইন পেতে রেখেছে বলে জানা গেছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত ছিল এবং বিশ্বের সমুদ্রপথে তেল বাণিজ্যের প্রায় ২৫% ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০% এটির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করত।
সতর্কবার্তা এবং পরবর্তীকালে জাহাজগুলির উপর হামলার কারণে প্রধান জাহাজযোগে মাল পরিবহনকারী সংস্থাগুলি প্রণালীটিতে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়।[২][৩] এর ফলে সামুদ্রিক পরিবহন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়, প্রথমে তৈলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় ৭০% কমে যায় এবং ১৫০টিরও বেশি জাহাজ ঝুঁকি এড়াতে প্রণালীর বাইরে নোঙর করেছে।[৪][৫] এর কিছু পরেই জাহাজ চলাচল প্রায় শূন্যে নেমে আসে। ২৭শে মার্চ ইরানি ইসলামি রক্ষীবাহিনী ঘোষণা করে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের বন্দরে যাতায়াতকারী যেকোনও জাহাজের জন্য প্রণালীটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।[৬] ইরানের এই বন্ধের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত একটি প্রণালীতে যাতায়াতে বাধা দিয়ে সমুদ্র আইন সম্পর্কিত জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করে।
দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কায়, সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্য যেকোনও সংঘাতের সময়ের তুলনায় খনিজ তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে;[৭] মার্চের 8 তারিখে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যারেল প্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায় ও সর্বোচ্চ প্রতি ব্যারেলে ১২৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়।[৮][৯][১০][১১] প্রণালীটির বন্ধ হয়ে যাওয়াকে ১৯৭০-এর দশকের শক্তি সংকটের পর থেকে বিশ্বের শক্তি সরবরাহে সবচেয়ে বড়[১২] এবং বৈশ্বিক তেল বাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।[১৩] এই সংকটের কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত এবং মূল্যবৃদ্ধির শিকার হওয়া অন্যান্য প্রাথমিক দ্রব্যের বাজারগুলির মধ্যে রয়েছে অ্যালুমিনিয়াম,[১৪] সার,[১৫] এবং হিলিয়াম।[১৬][১৭]
মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ৯ই মার্চ, ২০২৬ তারিখে এই মিথ্যা দাবি করেন যে ইরানের সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করা হয়েছে এবং প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।[১৮] ১৫ই মার্চ তিনি দাবি করেন যে, ন্যাটো এবং চীন যেন প্রণালীটি পুনরায় খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করে।[১৯] ১৯শে মার্চ, মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রণালীটি পুনরায় খোলার জন্য একটি সামরিক অভিযান শুরু করে। মার্চের শেষের দিকে ট্রাম্প বারবার হুমকি দেন যে ইরান যদি প্রণালীটি পুনরায় না খোলে তবে তিনি দেশটির অবকাঠামো ধ্বংস করে দেবেন, কিন্তু তিনি তার হুমকি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হন।[২০] ৮ই এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, যার আওতায় প্রণালীটি পুনরায় খোলার কথা ছিল। তবে এর পরের দিনও হরমুজ প্রণালী "কার্যত বন্ধ" ছিল, যেখানে ইরান প্রণালী পারাপারকারী জাহাজের সংখ্যা সীমিত করে এবং প্রতিটি জাহাজের জন্য ১০ লক্ষ ডলারের বেশি পথশুল্ক (টোল) আদায় করে।[২১]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Crew member killed after projectile hits tanker off Oman, manager says"। CNA। ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "How US-Israel attacks on Iran threaten the Strait of Hormuz, oil markets"। Al Jazeera। ১ মার্চ ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "Oil and gas majors and traders suspend shipments via Hormuz, sources say"। Reuters। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬।
- ↑ Triebert, Christiaan; Cardia, Alexander (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। "After Iran Attacks, Ship Traffic Plummets in Strait of Hormuz"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "Oil prices rise as Iran war threatens shipping through strait of Hormuz"। The Guardian। ২ মার্চ ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "Iran says Hormuz closed for shipping to and from 'enemy' ports"। Agence France Press via South China Morning Post। ২৭ মার্চ ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০২৬।
- ↑ Lipsky, Josh; Piasecki, Bart (১৮ মার্চ ২০২৬)। "The Iran oil shock may be diffrent from other price spikes"। Atlantic Council। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "Oil prices rise as Iran war threatens shipping through strait of Hormuz"। The Guardian। ২ মার্চ ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬।"Oil prices rise as Iran war threatens shipping through strait of Hormuz".
- ↑ "Oil jumps 10% on Iran conflict and could spike to $100 a barrel, analysts say"। Reuters। ১ মার্চ ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "Oil surges and stock futures sink after war in Iran disrupts crude supply"। CNN। ১ মার্চ ২০২৬। ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০২৬।
- ↑ Kimball, Spencer (৮ মার্চ ২০২৬)। "Oil surges above $100 a barrel; Trump says 'small price to pay' for defeating Iran"। CNBC। ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২৬।
- ↑ Burke, Jason (১১ মার্চ ২০২৬)। "Iran escalates attacks on infrastructure and transport networks across the Gulf"। The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০২৬।
- ↑ Karma, Rogé (১৩ মার্চ ২০২৬)। "'We Would Be Entering a Completely Different World'"। The Atlantic। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২৬।
- ↑ Burton, Mark (১৫ মার্চ ২০২৬)। "Bahrain starts output cuts at world's top aluminum smelter"। Fortune। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২৬।
- ↑ Gomez Horta, Eduardo; Mohseni-Cheraghlou, Amin (২৭ মার্চ ২০২৬)। "The Iran war's economic fallout won't stop at oil—agriculture and aluminum are next"। Atlantic Council। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০২৬।
- ↑ Lotz, Avery (৭ এপ্রিল ২০২৬)। "Iran war deflates critical helium production supplies"। Axios। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০২৬।
- ↑ Buchanan, Naomi (২১ মার্চ ২০২৬)। "It's not just oil: 3 critical supply chains being upended by the war in Iran"। Business Insider। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "Trump says "the war is very complete," and he's considering taking over Strait of Hormuz"। CBS News। ৯ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "Trump draws backlash for comment on Iran war: 'Maybe we shouldn't even be there'"। The Guardian। ১৬ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "Oil, strait of Hormuz and empty threats: a timeline of Trump's flip-flopping on the Iran war"। The Guardian। ৪ এপ্রিল ২০২৬।
- ↑ Seligman, Lara; Ward, Alexander (৯ এপ্রিল ২০২৬)। "Trump Allies, U.S. Officials Fear Iran Victory Lap Is Premature"। The Wall Street Journal (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]টেমপ্লেট:2026 Iran conflictটেমপ্লেট:Second presidency of Donald Trump
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতিত্ব
- ইরান–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক
- ২০২৬-এ ইরান
- ২০২০-এর দশকের কূটনৈতিক সংকট
- আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক অঘটন
- ২০২৬-এ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
- ২০২৬-এ ওমান
- হরমুজ প্রণালীর ইতিহাস
- ২০২৬-এর ইরান যুদ্ধের অযাচিত পরিণাম
- ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ এশিয়া
- মার্চ ২০২৬-এ এশিয়া
- তেল সংকট
- খনিজ তেল রাজনীতি
- দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন বিতর্ক
- ইরানের অর্থনৈতিক ইতিহাস
- ইসরায়েলের অর্থনৈতিক ইতিহাস
- অর্থনৈতিক যুদ্ধ