ইরানের হিজাব বিরোধী বিক্ষোভ, ২০২২

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইরানের হিজাব বিরোধী বিক্ষোভ, ২০২২
২০২১–২০২২ ইরানি আন্দোলন, ইরানি গণতন্ত্র আন্দোলন, ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাবের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং মাহশা আমিনীর মৃত্যু-এর অংশ
তারিখ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ – বর্তমান
অবস্থান
কারণ
লক্ষ্যসমূহ
  • ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের পতন
  • গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
  • নাগরিক আইনের বাধ্যতামূলক প্রয়োজনীয়তা প্রত্যাহার
  • নৈতিকতা পুলিশ নিষিদ্ধকরণ
  • ইরানের নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা দমন
  • মাহশা আমিনীর মৃত্যুর সঙ্গে অভিযুক্তদের বিচার
প্রক্রিয়াসমূহবিক্ষোভ, সমাবেশ, দাঙ্গা, পথ অবরোধ, ব্যারিকেড এবং প্রকাশ্যে হিজাব আইন অবাধ্যকরণ
অবস্থাচলমান
নাগরিক সংঘাতের দলসমূহ
ইরানি বিক্ষোভকারী

ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্র

  • ফারাজা
  • আরতেশ
  • আইআরজিসি
  • বাসিজ
  • গোপন ছদ্মবেশী
  • বিক্ষোভ দমন পুলিশ
নেতৃত্ব দানকারীগণ
অকেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব
ক্ষয়ক্ষতি
নিহত৫০+[২][৩][৪]
আহত৭৩৩+[১]

ইরানের হিজাব বিরোধী বিক্ষোভ, ২০২২ হলো চলমান বিক্ষোভ ও নাগরিক অবাধ্যতার একটি অংশ যা মাহশা আমিনী (ফার্সি: مهسا امینی) বা যিনা আমিনী (ফার্সি: ژینا امینی‎‎, কুর্দি: ژینا ئەمینی, Zhina Amini),[৫] এর মৃত্যুর পর ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২-এ শুরু হয়েছিল, যিনি পুলিশ হেফাজতে মারা যান। ইরানের ইসলামি "নৈতিকতা পুলিশ" নামে পরিচিত গাইডেন্স প্যাট্রোল তাঁকে মারধর করে এবং একটি "অপূর্ণাঙ্গ পর্দা (হিজাব)" সম্পর্কিত একটি পোশাক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে।[৬] কুর্দিস্তান প্রদেশের সাক্কেজ, সানন্দাজ, দিভান্দার্‌রেহ, বানেহ ও বিজার শহরে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং পরে ইরানের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিক্ষোভ আন্দোলনগুলো একদিন পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং তেহরান, হামাদান, কেরমানশাহ, মাশহাদ, সবজেভার, আমোল, বাবোল, এসফাহন, কেরমান, শিরাজ, তাবরিজ, রাশৎ, সারি, কারাজ, চালুস, নওশহর, টোনেকাবন, আরাক, ইলাম, কিশ দ্বীপ প্রভৃতি শহর অন্যান্য অনেক শহরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।[৭][৮]

২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ (2022-09-22)-এর হিসাব অনুযায়ী, কমপক্ষে পঞ্চাশ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে, ১,৫০০ জনেরও বেশি প্রাণহানি সংঘটিত ২০১৯-২০২০ বিক্ষোভের পর থেকে এটি ইরানের সবচেয়ে মারাত্মক বিক্ষোভ।[২]

বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় ইরান সরকার শুধু বিক্ষোভ দমনই করেনি বরং বিক্ষোভকারীদের সংঘবদ্ধ করার ক্ষমতা হ্রাস করতে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো অ্যাপগুলিতে অ্যাক্সেস এবং সীমিত ইন্টারনেট অ্যাক্সেসিবিলিটি অবরুদ্ধ করে দিয়েছে। এটি ২০১৯ সালের পর ইরানে সবচেয়ে গুরুতর ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা, যখন ইন্টারনেট অ্যাক্সেস সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।[৯]

প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ২০১৭ সালে শুরু হয়েছিল। মাহশা আমিনী ছিলেন ২২ বছর বয়সী কুর্দি-ইরানি তরুণী, যাঁকে "অপূর্ণাঙ্গ হিজাব" পরিধানের জন্যে ১৪ ই সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে গাইডেন্স প্যাট্রোল গ্রেপ্তার করেছিল। অভিযোগ করা হয়, প্যাট্রোল কর্তৃক মারধর করায় মাথার খুলিতে আঘাতের কারণে তিনি ব্রেন ডেড হয়ে পড়েছিলেন। দুই দিন পরে ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। তাঁর জানাজার পর ইরানের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর কুর্দিস্তান প্রদেশ থেকে তেহরানে দেশব্যাপী একটি ধর্মঘট ডাকা হয়। ইরানি কুর্দিস্তান দল এবং কুর্দিস্তানের নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মীরা সোমবার একটি সাধারণ ধর্মঘট দিবস ঘোষণা করেছে।[১০][১১][১২]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Hengaw Report No. 6 on the Kurdistan protests, 15 dead and 733 injured"Hengaw। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ 
  2. "Eʿterāżāt dar Irān; Afzāyeš-e Āmār-e Koštešodegān beh biš az 30 Hamzamān bā Eḫtelāl dar Internet" اعتراضات در ایران؛ افزایش آمار کشته‌شدگان به بیش از ۳۰ نفر همزمان با اختلال در اینترنت [Protests in Iran; The Number of Those Killed has Increased to over 30 People Simultaneously With Internet Blackout]। Iran Human Rights (ফার্সি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৯-২২ 
  3. "31 Killed In Iran Crackdown On Anti-Hijab Protesters After Custody Death"NDTV। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২। 
  4. "At least 36 killed as Iran protests over Mahsa Amini's death rage: NGO"Al Arabiya News। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২। 
  5. "Zhina Amini goes into coma 2 hours after arrest" (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ 
  6. Strzyżyńska, Weronika (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২)। "Iranian woman dies 'after being beaten by morality police' over hijab law"the Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ 
  7. Mahsa Amini: EU concern over woman who died after being stopped by morality police , euronews, 2022
  8. Reuters (২০২২-০৯-২০)। "Protests flare across Iran in violent unrest over woman's death"Reuters (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৯-২৩ 
  9. "Iran restricts access to WhatsApp and Instagram in response to Mahsa Amini protests"। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২। 
  10. Protests Spread From Hijab Victim's Hometown To Other cities, Iran International, 2022
  11. Hengaw report No. 2 regarding Saqqez and Sanandaj protests, Hengaw News Agency, 2022
  12. Internet disrupted in Iran amid protests over death of Mahsa, Iran Wire, 2022