২০২১-এ মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
২০২১-এ মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান
মূল যুদ্ধ: অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক সংকট
Aung San Suu Kyi & Min Aung Hlaing collage.jpg
মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি (বামে), এবং অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল মিন অং হ্লাইং (ডানে)
তারিখ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১
অবস্থান
ফলাফল

সামরিক অভ্যুত্থান সফল

বিবাদমান পক্ষ
মিয়ানমার সরকার
সমর্থন
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
 ভারত
 জাপান
তাতমাডও
সমর্থন
 চীন
সেনাধিপতি ও নেতৃত্ব প্রদানকারী
অং সান সু চি
(মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা)
উইন মিন্ট
(মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি)
জেনারেল মিন অং হ্লাইং (তাতমাডও-এর প্রধান)
জেনারেল মিন্ট সুয়ি
(মিয়ানমারের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি)
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি
নেই

অং সান সু চি ও তাঁর সরকারের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরেই উত্তেজনা চলছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর। ফলস্বরূপ ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারির তারিখে সকাল বেলায় মিয়ানমারে একটি সেনা অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়। এই দিনে মিয়ানমারের পার্লামেন্টে প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল আজ। [২]এই অভিযানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সুচি, রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট, এবং ক্ষমতাসীন দলের অন্যান্য নেতাদের মায়ানমার সেনাবাহিনী তাতমাডও কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর মিলিটারি টিভির এক খবরের নিশ্চিত করে যে, দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং ক্ষমতা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের কাছে হস্তান্তর হয়েছে।

২০২০ সালের ৮ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি ৮৩ শতাংশ আসনে জয়ী হয়। ২০১১ সালে সেনা শাসনের অবসানের পর এটি ছিল দ্বিতীয় দফা নির্বাচন। তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সংকটের শুরুটা মূলত এখান থেকেই। [৩][৪][৫]

প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

১৯৬২ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর মায়ানমারে সেনা শাসন শুরু হয়। আধুনিক মায়ানমারের জনক অং সানের কন্যা অং সাং সূচি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য কর্মী হিসেবে সমাদৃত হন। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে সেনাবাহিনীর অনুমতি ক্রমে মায়ানমারে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে সূচির দল ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে নির্বাচিত হয়। সেনাবাহিনী ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখান করে এবং অং সাং সূচি গৃহবন্দি করে রাখা হয়।

২০১১ থেকে ২০১৫ তে মায়ানমারের রাজনীতি পুনর্গঠিত হতে থাকে এবং ২০১৫ তে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে সূচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বিজয়ী হয়। যাইহোক, সেনাবাহিনী ক্ষমতার বিরাট অংশ ধরে রাখে এবং সাংবিধানিক ভাবে সংরক্ষিত সংসদের ২৫ শতাংশ আসন নিজেদের জন্য বরাদ্দ রাখে।[৬][৭]

২০১৭ সালে দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিতাড়ন নিয়ে সু চি নিষ্প্রভ ভূমিকা রেখেছেন। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা রয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অং সান সু চির যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে।

গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। ২০১৫ সালের তুলনায়ও সে বছর সু চির দল বেশি ভোটে জয়ী হয়। এরপর নোবেলজয়ী সু চি ক্ষমতায় আসেন।

২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ৮ নভেম্বরের মায়ানমারের সাধারণ নির্বাচনের প্রতিক্রিয়ায় ২১ খ্রিষ্টাব্দের এই অভ্যুত্থান সংঘটিত হল। উক্ত নির্বাচনে সূচির রাজনৈতিক দল সংসদের ৪৭৬টা আসনের মধ্যে ৩৯৬ টা আসনে জয়ী হয়। সেনাসমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি শুধু ৩৩ টি আসনে জয় লাভ করে।[৬]

সেনাবাহিনী এই নির্বাচনী ফলাফলকে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ এনে প্রত্যাখ্যান করে। সেসময় থেকে যেকোনো মুহূর্তে অভ্যুত্থান সংঘটিত হতে পারে এরকম গুজব চারপাশে ছড়াতে থাকে।[৬]

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

সূচিসহ গ্রেফতারকৃত বেসামরিক নেতাদের ছেড়ে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে বলে সতর্ক করে।[৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; bbc1 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  2. "Myanmar Military Takes Power for One Year, Suu Kyi in Detention"। ৩১ জানুয়ারি ২০২১ – www.bloomberg.com-এর মাধ্যমে। 
  3. "মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণ, প্রেসিডেন্ট এবং সু চি গ্রেফতার"BBC News বাংলা। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ 
  4. Foundation, Thomson Reuters। "Myanmar military seizes power, detains elected leader Aung San Suu Kyi"news.trust.org 
  5. "Myanmar gov't declares 1-year state of emergency: President's Office"www.xinhuanet.com 
  6. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; :0 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  7. "As Myanmar opens to the world, the mess inside becomes more apparent"Bloomberg.com (ইংরেজি ভাষায়)। ১৬ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ 
  8. https://www.banglanews24.com/international/news/bd/838722.details