২০২০ পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
২০২০ পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী
India West Bengal COVID-19 affected districts.svg
নিশ্চিত করোনভাইরাস মামলার জেলাগুলির মানচিত্র (২২ মার্চ পর্যন্ত)
  নিশ্চিত আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া জেলাগুলি
রোগকোভিড-১৯
ভাইরাসের প্রজাতিকরোনাভাইরাস ২
স্থানপশ্চিমবঙ্গ, ভারত
প্রথম সংক্রমণের ঘটনাকলকাতা
আগমনের তারিখ১৫ মার্চ ২০২০
(১ সপ্তাহ ও ৫ দিন)
উৎপত্তিইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড
নিশ্চিত ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তি১০
মৃতের সংখ্যা
প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট
www.wbhealth.gov.in

২০১৯-২০২০ করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীটি ১৭ মার্চ ২০২০ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রথম নিশ্চিত হয়।[১] ২০২০ সালের ১৫ শে মার্চ ২০২০ সালে লন্ডন থেকে কলকাতাতে আসা এক যুবকের দেহে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।[১][২] ২১ মার্চ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ৭ জন লোকের দেহে করোনা ভাইরাস নিশ্চিত হয়েছে। এই মামলাগুলি ইংল্যান্ড থেকে আসা লোকজনের মাধ্যমে ছড়িয়েছে। এই রোগটি ছড়িয়ে পড়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অনেক সতর্কতা অবলম্বন করেতে শুরু করে। উচ্চমাধ্যমিকের বোর্ড পরীক্ষা সহ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং এই রোগটি নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সোমবার ২২ মার্চ বিকাল ৫ ঘটিকা থেকে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের সকল পৌরসভা, পৌরসংস্থা ও ৩টি জেলাকে লকডাউন বা অবরুদ্ধ করা হয়।[৩][৪][৫]২০২০ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত, পশ্চিমবঙ্গে ১৮ জন লোকের দেহে করোনা ভাইরাস নিশ্চিত হয়েছে, মৃতের সংখ্যা ১।[৬]

ঘটনার কালপঞ্জি[সম্পাদনা]

পশ্চিমবঙ্গে কোভিড-১৯ ঘটনা  ()
     মৃত্যু        সুস্থ হয়েছে        সক্রিয় ঘটনা
তারিখ
ঘটনার সংখ্যা
২০২০-০৩-১৭
NA
(=)
২০২০-০৩-২০
(+১) (+১০০%)
২০২০-০৩-২১
(+২) (+১০০%)
(=)
২০২০-০৩-২২
(+৩) (+৭৫%)
২০২০-০৩-২৩
(+০) (+০%)
উৎস: MoHFWWorldometers

মার্চ[সম্পাদনা]

  • ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার রাতে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। এক উচ্চপদস্থ স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, সদ্য ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডন থেকে ফেরা ১৮ বছরের এক যুবকের দেহে পাওয়া গিয়েছে করোনাভাইরাসের চিহ্ন। মঙ্গলবার সকালেই বেলেঘাটা আইডি ও বিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে, এবং তাঁর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় কলকাতার এনআইসিইডী-এ।

ওই আধিকারিকের কথায়, “পরীক্ষার রিপোর্ট আসে সন্ধ্যাবেলা, এবং ফলাফল পজিটিভ।” বর্তমানে আইডি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে সরানো হয়েছে রোগীকে। চিকিৎসকদের নজরদারিতে রয়েছেন তিনি। যুবকের বাবা-মা এবং ড্রাইভারকে রাজারহাটে সদ্য খোলা বিশেষ কোয়ারান্টিন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে, যেখানে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন তাঁরা।

  • ২০ মার্চ, ১৩ মার্চ লন্ডন থেকে দিল্লি হয়ে কলকাতা শহরে ফেরেন ২২ বছররে এক যুবক। তার পর জ্বর এবং সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা থাকায় প্রথমে কোয়ারেন্টাইনে থাকেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দু’দিন আগে তাকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তার লালারসের নমুনা পাঠানো হয় নাইসেডে (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এন্টেরিক অ্যান্ড কলেরা ডিজ়িজ়)। শুক্রবার (২০ মার্চ) তার রিপোর্ট আসার পর জানা যায়, তিনি কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত। এ মুহূর্তে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে তাকে।[৭]
  • ২১ মার্চ, পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনায় নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে তিন জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় আক্রান্ত এ তরুণী সম্প্রতি ইউরোপ থেকে দেশে ফেরেন। তিনি শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় অসুস্থ বোধ করায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। সেখানে তার রক্ত পরীক্ষার পর শনিবার (২১ মার্চ) সকালে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন তিনি করোনায় আক্রান্ত। ওই তরুণীর পরিবারের সব সদস্যকে কোয়ারেন্টাইন রাখা হয়। [৮]
  • ২২ মার্চ, ৫৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির সংক্রমণ ধরা পড়ে।[৯]
  • ২৩ মার্চ, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম মৃত্যু ঘটনা ঘটে বিধাননগরের আমরি হাসপাতালে।[১০] সোমবার বিকালে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ২১ মার্চ ৫৭ বছরের প্রৌঢ়ের রক্তের নমুনা থেকে জানা যায় যে তাঁর করোনা পজিটিভ।[১১] দমদমের এই বাসিন্দাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। মৃত্যুর কারণ হিসাবে হৃদরোগের উল্লেখ করা হয়।[১২][১৩]

১৬ মার্চ শ্বাসপ্রশ্বাসের কষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন প্রৌঢ়। তাঁকে ভেন্টিলেটরেও রাখা হয়। তাঁর রক্তের নমুনা নাইসেড এবং এসএসকেএম- পাঠানো হয়েছিল। এরমধ্যে একটি রিপোর্ট ‘পজেটিভ’ আসে। পরে ২১ মার্চ ফের যে রিপোর্টটি আসে, সেখানেও করোনা পজিটিউভই দেখা যায়। বেসরকারি হাসপাতালটির সূত্রে খবর, আক্রান্তের পরিবার জানিয়েছিল যে তিনি এরমধ্যে বিদেশ ভ্রমণ করেননি।[১২]

হাসপাতালের তরফে আরও জানানো হয়েছে যে মৃতের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। বরং, জাতীয় স্বাস্থ্য বিধি মেনেই মরদেহের পরবর্তী ব্যবস্থা করা হবে।[১২]

  • ২৪ মার্চ,মিশর থেকে ফিরে আসা ৫৮ বছর বয়সী একজন পুরুষ এবং যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে আসা ৫৫ বছর বয়সী এক মহিলা ইতিবাচক পরীক্ষিত হন।[১৪]
  • ২৬ মার্চ, একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির আজ সংক্রমণ ধরা পড়েছে।[১৫]
  • ২৭ মার্চ, ১১ বছর বয়সের একটি ছেলে, ৯ মাসের শিশু কন্যা, ছ বছরের একটি মেয়ে এবং ৪৫ ও ২৭ বছর বয়সী দুই মহিলা , সকলে ভাইবোন ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে, তারা সবাই সংক্রমিত। ১৬ মার্চ যুক্তরাজ্য ফেরত সংক্রমণ হয়েছে এমন দিল্লির একজন ব্যক্তির সাথে তাদের যোগাযোগ হয়েছিল।[১৬]
  • ২৮ মার্চ,আগে করোনার ইতিবাচক এক ব্যক্তির প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে আসার জন্য, পৃথকীকরণ ব্যবস্থায় থাকা ৭৬ বছর, ৫৬ বছর বয়সী দুজন মহিলা আজ ইতিবাচক পরীক্ষিত হন।[১৭]কালিম্পং -এ ৪৫ বছর বয়সী এক মহিলার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।[১৮]

পরীক্ষা এবং পাল্টা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

পরীক্ষামূলক[সম্পাদনা]

পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের সব সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগ চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করে। পশ্চিমবঙ্গের বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ২০ টি শয্যা যুক্ত প্রথম আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়। পরে বেলেঘাটা আইডিতে তৈরি হয় ১০০ টি শয্যা যুক্ত নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড। আর কলকাতার উপশহর রাজারহাটে তৈরি বিশেষ কোয়ারিন্টন কেন্দ্রে ৫০০ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে ১২০ টি শয্যা, আরজিকর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ টি শয্যা, এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ টি শয্যা, সিএমসিতে ২৬ টি শয্যা, ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ টি শয্যা, সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ টি শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়।

চিকিৎসা[সম্পাদনা]

মার্চ মাসে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল টেকনোলজি, কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অ্যান্ড সিপলা কর্পোরেশন একটি অ্যান্টি-কোভিড -১৯ ড্রাগের বিকাশের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ চালু করে।[১৯] পুনে ভিত্তিক সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া ভারতের ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেলের কাছ থেকে নির্দিষ্ট স্ট্রেনের ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য আবেদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোম্পানির সভাপতি আদার পূুনাওয়ালার মতে, সিওভিড-১৯ এর একটি ভ্যাকসিন এক বছরের মধ্যে সরবরাহ করা হবে, তবে এটি ২০ থেকে ৩০% লোকের জন্য কার্যকর নাও হতে পারে।[২০]

২৩ শে মার্চ, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ কর্তৃক গঠিত সিওভিআইডি-১৯ এর জন্য জাতীয় টাস্ক ফোর্স উচ্চ-ঝুঁকির ক্ষেত্রে সিওভিআইডি-১৯ এর চিকিৎসার জন্য হাইড্রোক্সাইক্লোরোকুইন ব্যবহারের সুপারিশ করে।[২১]

২২ মার্চ ৩০০ জন করোনা-পজিটিভ রোগীর চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ার জন্য নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। যার প্রেক্ষিতে তিন জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারের নেতৃত্বে দল গড়ে সেই নির্দেশ রূপায়ণের কাজ শুরু হয়।[২২]

ব্যক্তিকে পৃথক্করণ বা কোয়ারান্টিন[সম্পাদনা]

পশ্চিমবঙ্গে বিদেশ থেকে প্রত্যাবর্তনকারীদের জন্য ১৪ দিনের হোম কোয়ারান্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়, ভারতের জাতীয় নির্দেশিকাতেও ১৪ দিনের কোয়ারান্টিন বাধ্যতামূলক। যে সকল লোককে বাড়ির কোয়ারান্টিনের পরামর্শ দেওয়া হয় তাদের ১৪ দিনের সময়কালে তাদের বাড়িতে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয় এবং করোন ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়।

করোনাভাইরাস সম্পর্কিত ভুল তথ্য এবং মিথ্যা তত্ত্ব[সম্পাদনা]

পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রমণের রিপোর্টের পরে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ, সংক্রমণ এবং নিরাময়ের জাল সংবাদগুলি ইন্টারনেটে, বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে প্রচার শুরু হয়।

  1. ইউনিসেফের পরামর্শদাতা বলে দাবি করা একটি ভুয়া বার্তা মানুষকে বরফের ক্রিম এড়ানোর জন্য অনুরোধ করে এবং নিশ্চিত করে যে করোনোভাইরাস ২৭ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় ছড়িয়ে পড়তে পারে না।[২৩]
  2. জনতা কার্ফু চলাকালীন একসাথে তালি দেওয়ার ফলে যে কম্পন তৈরি হবে তা ভাইরাসটিকে মেরে ফেলবে বলে মিডিয়া জানিয়েছে।[২৪] একটি ভাইরাল বার্তায় বলা হয়েছে যে করোনভাইরাসটির জীবন মাত্র ১২ ঘন্টা এবং জনতা কারফিউ চলাকালীন ১৪ ঘন্টার জন্য বাড়িতে থাকার কারণে সংক্রমণ বন্ধ হয়ে যাবে। অন্য বার্তায় দাবি করা হয়েছে যে জনতা কারফিউ পর্যবেক্ষণের ফলে করোনাভাইরাসের ঘটনা ৪০% হ্রাস পাবে।[২৫]

প্রভাব[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

কোরনা ভাইরাসের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থেকে ২১ মার্চ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দ্বারা ২৩ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয়- কলেজ এবং মাদ্রাসাসহ সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়।[২৬] পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আপৎকালীন ছুটির মেয়াদ ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করে রাজ্য সরকার।[২৭] পশ্চিমবঙ্গের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ ২১ মার্চ জানান, আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করার কথা। উচ্চমাধ্যমিকের সঙ্গে চলা একাদশ শ্রেণির পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।[২৮] করোনা সংক্রমণের জেরে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)-এর ২১ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত সব লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সেইসঙ্গে দমকল ও জরুরি দপ্তরে নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের শারীরিক সক্ষমতার যে পরীক্ষা ২৩ মার্চ শুরুর কথা ছিল, তা-ও পিছিয়ে দেওয়া হয়। পিএসসি'র সচিব এক প্রেস বিবৃতিতে ২০ মার্চ এই কথা জানান।[২৯]

বিনোদন[সম্পাদনা]

পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের সকল প্রেক্ষাগৃহগুলি বন্ধ করে। চলচ্চিত্র সংস্থাগুলি ৩১ শে মার্চ পর্যন্ত চলচ্চিত্র, টিভি শো এবং ওয়েব সিরিজগুলির প্রযোজনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।[৩০][৩১]

ট্রেন চলাচল[সম্পাদনা]

২৩ মার্চ ৩১ মার্চ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গসহ দেশ জুড়ে সমস্ত যাত্রিবাহী ট্রেন পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়। রেল মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত মেল, এক্সপ্রেস, প্যাসেঞ্জার, লোকাল-সহ সমস্ত রকম ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকবে। ২২ মার্চ মধ্যরাত অর্থাৎ ২৩ মার্চ থেকে বন্ধ করা হয় কলকাতার মেট্রো পরিষেবা।[৩২]

২২ মার্চ রেলের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ায় সমস্ত মেল, এক্সপ্রেস ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন বাতিল করা হল। তবে কলকাতা ও শহরতলিতে এখনও লোকাল ট্রেন চলছে। পাশাপাশি কলকাতা মেট্রো ও ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোও চলছে। আজ মধ্যরাত পর্যন্ত চলার পর সেগুলিও বন্ধ করে দেওয়া হবে। পরিষেবা বন্ধ থাকবে আগামী ৩১ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত।’’[৩২]

তবে পণ্য পরিষেবা অর্থাৎ মালগাড়ির চলাচল চালু রাখা হয়। অন্য দিকে ২২ মার্চ ভোর চারটের আগে যে সব এক্সপ্রেস বা মেল ট্রেন যাত্রা শুরু করে, সেগুলি গন্তব্য পর্যন্ত যাত্রা করে।[৩২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "পশ্চিমবঙ্গে প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত"। www.mzamin.com। ১৮ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  2. "Big Breaking:কলকাতায় প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত, ভর্তি আইডিতে"। bengali.news18.com। ১৭ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  3. "করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট: করোনা-মোকাবিলায় রাজ্যে জারি লকডাউন"। এই সময়। ২৩ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  4. অমিতাভ ভট্টশালী (২২ মার্চ ২০২০)। "করোনাভাইরাস: সোমবার থেকে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের অনেক শহরে লকডাউন শুরু হচ্ছে"। বিবিসি বাংলা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  5. "কাল বিকেল ৫টা থেকে কলকাতা-সহ রাজ্যের প্রায় সব শহর লকডাউন"। আনন্দবাজার পত্রিকা। ২২ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  6. "Three more COVID-19 cases detected in West Bengal, total goes up to 18"। ডেক্কান হেরাল্ড। ২৮ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০২০ 
  7. "কলকাতায় দ্বিতীয় করোনা রোগী শনাক্ত"। www.somoynews.tv। ২০ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  8. "পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় করোনা রোগী শনাক্ত"। www.somoynews.tv। ২১ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  9. "nCoV bulletin as on 22.03.2020" (PDF)WB Health Portal 
  10. "বাড়ছে আতঙ্ক! করোনায় রাজ্যে প্রথম মৃত্যু, মারা গেলেন দমদমের প্রৌঢ়"। এই সময়। ২৩ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  11. "Government of West Bengal Health & family Welfare Department www.wbhealth.gov.in Bulletin" (PDF)২৩ মার্চ ২০২০ 
  12. "বাংলার প্রথম করোনায় মৃতের দেহ পাবে না পরিবার"। bengali.indianexpress.com। ২৩ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  13. "রাজ্যে প্রথম করোনা আক্রান্তের মৃত্যু, দমদমের প্রৌঢ় প্রয়াত সল্টলেকের হাসপাতালে"। দ্য ওয়াল। ২৩ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  14. "nCoV bulletin as on 24.03.2020" (PDF)WB Health Portal 
  15. "nCoV bulletin as on 26.03.2020" (PDF)WB Health Portal 
  16. "2019 nCoV bulletin as on 27th March 2020" (PDF)WB Health Portal 
  17. "nCoV bulletin as on 28.03.2020" (PDF)WB Health Portal 
  18. "এ বার উত্তরবঙ্গে করোনার হানা, আক্রান্ত কালিম্পঙের মহিলা"Ei Samay News Portal 
  19. "Health: CSIR-IICT ties up with Cipla to develop anti-COVID-19 drug"The Economic Times। ১৮ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২০ 
  20. "Coronavirus vaccine within a year but it won't be 100% effective"The Economic Times। ২১ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২০ 
  21. Bureau, ABP News (২০২০-০৩-২২)। "Coronavirus Live Updates: Total Count Of Positive Covid-19 Cases Jump To 562; Ten Deaths Reported So Far"news.abplive.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৩ 
  22. "এনআরএসে গড়া হচ্ছে ৩০০ জনের চিকিৎসার পরিকাঠামো"। আনন্দবাজার পত্রিকা। ২৩ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  23. "Misinformation, fake news spark India coronavirus fears"aljazeera.com। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  24. "Misinformation on Janta Curfew"। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  25. "Misinformation on Janta Curfew"। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  26. "রাজ্যে ঢুকে পড়লো করোনার কোপ, সোমবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্কুল কলেজ বন্ধের নির্দেশ! জারি নির্দেশিকা…"। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  27. "করোনাভাইরাস: মহামারি আইন চালু হল বাংলাতেও"। আনন্দবাজার পত্রিকা। ১৭ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  28. "১৫ এপ্রিল পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা স্থগিত"। আনন্দবাজার পত্রিকা। ২১ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  29. "করোনার জেরে লিখিত পরীক্ষা স্থগিত পিএসসির"। এই সময়। ২১ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  30. "করোনা সতর্কতা: ৩০ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ টলিউডের সমস্ত শ্যুটিং"। দ্য ওয়াল। ১৭ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  31. "বলিউডের পথেই টলিউড, ৩০ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ সিরিয়াল-সিনেমার শ্যুটিং"। এই সময়। ১৭ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  32. "৩১ মার্চ পর্যন্ত বাতিল সব রকম যাত্রিবাহী ট্রেন, বন্ধ মেট্রোও"। আনন্দবাজার পত্রিকা। ২২ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]