২০১৭ রংপুর দাঙ্গা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রংপুর দাঙ্গা
তারিখ২০১৭
অবস্থান
২৫°৪৫′৩০″ উত্তর ৮৯°১৪′০০″ পূর্ব / ২৫.৭৫৮৩° উত্তর ৮৯.২৩৩৩° পূর্ব / 25.7583; 89.2333স্থানাঙ্ক: ২৫°৪৫′৩০″ উত্তর ৮৯°১৪′০০″ পূর্ব / ২৫.৭৫৮৩° উত্তর ৮৯.২৩৩৩° পূর্ব / 25.7583; 89.2333
কারণফেজবুক পোস্ট
প্রক্রিয়াসমূহপ্রতিবাদ, দাঙ্গা, পাথর নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ
ক্ষয়ক্ষতি
নিহত[২]
আহত১৫[১]
গ্রেপ্তার১০০ [৩][৪]
২০১৭ রংপুর দাঙ্গা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
২০১৭ রংপুর দাঙ্গা

২০১৭ রংপুর দাঙ্গা হল বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের রংপুর সদর উপজেলায় ২০১৭ সালে ঘটে যাওয়া একটি দাঙ্গা বা হামলার ঘটনা। এই হামলার লক্ষ্য ছিল হিন্দু ধর্মের মানুষ। সদর উপজেলার পাগলাপীর এলাকায় এ সংঘর্ষের একপর্যায়ে কমপক্ষে পাঁচটি হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ১০টি বাড়ি ভাংচুর করা হয়। ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করার সময় রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।[৫]

পেক্ষাপট[সম্পাদনা]

ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ থেকে এই দাঙ্গা শুরু হয়। স্থানীয়রা জানায়, পাগলাপীর সলেয়াসা এলাকার বাসিন্দা টিটু রায় নামের এক তরুণ ফেসবুকে ধর্ম অবমাননা করে পোস্ট দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই তরুণের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর সলেয়াসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ডাকা হয়।

দাঙ্গা[সম্পাদনা]

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননা করে পোস্ট করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১০ নভেম্বর শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টায় বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হলে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ওই এলাকায় ৩টার মধ্যেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুপুর ২টার দিকে খলেয়া ইউনিয়নের শলেয়াশাহ ও বালাবাড়ি গ্রাম এবং পাশের মমিনপুর গ্রামসহ বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে জুমার নামাজের পর দলে দলে লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ৮ থেকে ১০ হাজার লোকের সমাগম হয়। রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা টিুট রায়ের বাড়ির দিকে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। কয়েকশ' মানুষ সেখানে সমবেত হয়ে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় ওই সড়কের দু'পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানায়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৫০ রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশসহ আহত হয় অন্তত ১৫ জন। তাদের মধ্যে হাবিব মিয়া, মাহবুব মিয়া, আলীম মিয়া, নাজির হোসেন, আলিম ও জামিলকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে তিনজনের হলেন এসআই সেলিম মিয়া, কনস্টেবল নাসির হোসেন ও রফিকুল ইসলাম।[৬]

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সলেয়াসা বাজার ব্রাহ্মপাড়া এলাকায় হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয় ও ১০টি বাড়িতে ভাংচুর চালায়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1.   |শিরোনাম= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  2. "রংপুরে ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে হামলা-সংঘর্ষ, নিহত ১"পরিবর্তন 
  3. "রংপুর হামলা: তিন গ্রাম পুরুষশূন্য, গ্রেপ্তার ১০০"ঢাকাটাইম 
  4. "রংপুরে হামলা-আগুন: দুই মামলায় গ্রেপ্তার ৫৩"bdnews24.com/। ১১ নভেম্বর ২০১৭। 
  5. "রংপুরে হিন্দু বাড়িতে হামলা-আগুন, সংঘর্ষে নিহত ১"। সময়কাল। ১০ নভেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  6. "রংপুরে হিন্দু বাড়িতে হামলা-অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষে নিহত ১"। bdnews24.com। ১০ নভেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১৭