২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনাল
২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন.jpg
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ জয় উদযাপন করে
প্রতিযোগিতা২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ
নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া
নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া
১৮৩ ১৮৬/৩
৪৫ ওভার ৩৩.১ ওভার
তারিখ২৯ মার্চ ২০১৫
মাঠমেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড, মেলবোর্ন
আম্পায়াররিচার্ড কেটেলবরাকুমার ধর্মসেনা
দর্শক উপস্থিতি৯৩,০১৩
সম্প্রচারস্কাই স্পোর্ট

২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনাল ২৯ মার্চ, ২০১৫ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়। চূড়ান্ত খেলায় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সহঃস্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।[১] তন্মধ্যে, অস্ট্রেলিয়া শীর্ষস্থানীয় দল হিসেবে চূড়ান্ত খেলায় অবতীর্ণ হয়।[২][৩] চূড়ান্ত খেলায় দলটি ৭ উইকেটে বিজয়ী হয় ও উপর্যুপরি পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে। স্টেডিয়ামে ৯৩,০১৩জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন যা অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেট খেলায় একদিনে দর্শকের সমাগমের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়।

প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

নিউজিল্যান্ড প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে অংশগ্রহণ করে।[১] তাদের সেরা সাফল্য ছিল ১৯৭৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মোট ছয়বার সেমি-ফাইনালে অংশগ্রহণ। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া সপ্তমবার ফাইনালে খেলে। তন্মধ্যে ১৯৮৭, ১৯৯৯, ২০০৩২০০৭ সালের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়। এছাড়াও, ১৯৭৫১৯৯৬ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজিত হয়।

উপর্যুপরি দ্বিতীয়বারের মতো দু’টি সহঃস্বাগতিক দেশ চূড়ান্ত খেলায় অবতীর্ণ হয়। ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারত শ্রীলঙ্কাকে ফাইনালে পরাজিত করে। অপর সহঃস্বাগতিক দেশ বাংলাদেশ গ্রুপপর্বে বিদায় নেয়। ১৯৮৭ সালের পর প্রথমবারের মতো কোন এশীয় দেশ ফাইনালে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়।[৪]

ফাইনালের পথে[সম্পাদনা]

নিউজিল্যান্ড[সম্পাদনা]

১৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ১৪ মাঠে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। চৌদ্দটি দল দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলে ও প্রত্যেক গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় চার দল কোয়ার্টার-ফাইনালে মুখোমুখি হয়।[৫] এরপর মেলবোর্নে দিন-রাতের খেলায় ২৯ মার্চ দুই স্বাগতিক দল - নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।[৬]

২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের এ-গ্রুপে ছয় খেলার সবকটিতেই নিউজিল্যান্ড দল জয়লাভ করে শীর্ষস্থান অর্জন করে। দলটি শ্রীলঙ্কা, স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশকে পরাজিত করে।[৭] ওয়েলিংটন রিজিওন্যাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার-ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৪৩ রানে পরাজিত করে সেমি-ফাইনালে পদার্পণ করে। খেলায় মার্টিন গাপটিল নিজস্ব সর্বোচ্চ ২৩৭* রান করেন যা বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ও একদিনের আন্তর্জাতিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।[৮] এরপর দলটি ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত সেমি-ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৪ উইকেটে জয় পেয়ে নিউজিল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে। খেলায় গ্রান্ট এলিয়ট জয়সূচক রান করেন ছক্কা হাঁকিয়ে।[১][৯]

অস্ট্রেলিয়া[সম্পাদনা]

২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের বি-গ্রুপে ছয় খেলার চারটিতে অস্ট্রেলিয়া দল জয়লাভ করে দ্বিতীয় স্থান দখল করে। দলটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজিত হয় ও বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ দলের সাথে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে।[১০] অ্যাডিলেড ওভালে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার-ফাইনালে পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে পরাজিত করে সেমি-ফাইনালে যায়। খেলায় জোস হ্যাজলউড ৪ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের রানকে ২১৩ রাখতে সহায়তা করেন।[১১] সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত সেমি-ফাইনালে ভারত দলের বিপক্ষে ৯৫ রানে জয় পেয়ে অস্ট্রেলিয়া দল সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে। ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার বিজয়ী স্টিভ স্মিথ করেন ১০৫ রান।[১২]

অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক তার সর্বশেষ একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেন। খেলা শুরুর পূর্বেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন যা ফাইনাল খেলা শেষে কার্যকরী হয়।[১৩]

খেলার বিবরণ[সম্পাদনা]

২৯ মার্চ
১৪:৩০ (দিন/রাত)
স্কোরকার্ড
নিউজিল্যান্ড 
১৮৩ (৪৫ ওভার)
অস্ট্রেলিয়া 
১৮৬/৩ (৩৩.১ ওভার)
গ্রান্ট এলিয়ট ৮৩ (৮২)
মিচেল জনসন ৩/৩০ (৯ ওভার)
মাইকেল ক্লার্ক ৭৪ (৭২)
ম্যাট হেনরি ২/৪৬ (৯.১ ওভার)
অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে বিজয়ী
মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড, মেলবোর্ন
আম্পায়ার: কুমার ধর্মসেনা (শ্রীলঙ্কা) ও রিচার্ড কেটেলবরা (ইংল্যান্ড)
সেরা খেলোয়াড়: জেমস ফকনার (অস্ট্রেলিয়া)
  • নিউজিল্যান্ড টসে জয়ী হয়ে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
  • অস্ট্রেলিয়া ৫ম বারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে।[১৪]
  • মাইকেল ক্লার্ক তার সর্বশেষ একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেন।[১৩]
  • ৯৩,০১৩ দর্শকের সমাগম ঘটে যা অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্ববহৎ।[১৫]
১ম ইনিংস
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং[১৬]
খেলোয়াড় অবস্থা রান বল স্ট্রাইক রেট
মার্টিন গাপটিল ব ম্যাক্সওয়েল ১৫ ৩৪ ৪৪.১১
ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম ব স্টার্ক ০.০০
কেন উইলিয়ামসন ক ও ব জনসন ১২ ৩৩ ৩৬.৩৬
রস টেলর ক হাড্ডিন ব ফকনার ৪০ ৭২ ৫৫.৫৫
গ্রান্ট এলিয়ট ক হাড্ডিন ব ফকনার ৮৩ ৮২ ১০১.২১
কোরে অ্যান্ডারসন ব ফকনার ০.০০
লুক রঙ্কি ক ক্লার্ক ব স্টার্ক ০.০০
ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ব জনসন ২১ ৪২.৮৫
টিম সাউদি রান আউট (ম্যাক্সওয়েল) ১১ ১১ ১০০.০০
ম্যাট হেনরি ক স্টার্ক ব জনসন ০.০০
ট্রেন্ট বোল্ট অপরাজিত ০.০০
অতিরিক্ত (লেগ বাই ৭, ওয়াইড ৬) ১৩
মোট (অল আউট; ৪৫ ওভার) ১৮৩

উইকেটের পতন: ১–১ (ম্যাককুলাম, ০.৫ ওভার), ২–৩৩ (গাপটিল, ১১.২ ওভার), ৩–৩৯ (উইলিয়ামসন, ১২.২ ওভার), ৪–১৫০ (টেলর, ৩৫.১ ওভার), ৫–১৫০ (অ্যান্ডারসন, ৩৫.৩ ওভার), ৬–১৫১ (রঙ্কি, ৩৬.২ ওভার), ৭–১৬৭ (ভেট্টোরি, ৪০.৬ ওভার), ৮–১৭১ (এলিয়ট, ৪১.৫ ওভার), ৯–১৮২ (হেনরি, ৪৪.৫ ওভার), ১০–১৮৩ (সাউদি, ৪৪.৬ ওভার)

অস্ট্রেলিয়ার বোলিং[১৬]
বোলার ওভার মেডেন রান উইকেট ইকোনমি
মিচেল স্টার্ক ২০ ২.৫০
জোশ হজলউড ৩০ ৫.৭৫
মিচেল জনসন ৩০ ৩.৩৩
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৩৭ ৫.২৮
জেমস ফকনার ৩৬ ৪.০০
শেন ওয়াটসন ২৩ ৫.৭৫
২য় ইনিংস
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং[১৬]
খেলোয়াড় অবস্থা রান বল স্ট্রাইক রেট
ডেভিড ওয়ার্নার ক এলিয়ট ব হেনরি ৪৫ ৪৬ ৯৭.৮২
অ্যারন ফিঞ্চ ক ও ব হেনরি ০.০০
স্টিভ স্মিথ অপরাজিত ৫৬ ৭১ ৭৮.৮৭
মাইকেল ক্লার্ক ব হেনরি ৭৪ ৭২ ১০ ১০২.৭৭
শেন ওয়াটসন অপরাজিত ৪০.০০
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল
জেমস ফকনার
ব্রাড হাড্ডিন
মিচেল জনসন
মিচেল স্টার্ক
জোশ হজলউড
অতিরিক্ত (লাগ বাই ৩, ওয়াইড ৬)
মোট (৩ উইকেট; ৩৩.১ ওভার) ১৮৬

উইকেটের পতন: ১–২ (ফিঞ্চ, ১.৪ ওভার), ২–৬৩ (ওয়ার্নার, ১২.২ ওভার), ৩–১৭৫ (ক্লার্ক, ৩১.১ ওভার)

নিউজিল্যান্ডের বোলিং[১৬]
বোলার ওভার মেডেন রান উইকেট ইকোনমি
টিম সাউদি ৬৫ ৮.১২
ট্রেন্ট বোল্ট ১০ ৪০ ৪.০০
ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ২৫ ৫.০০
ম্যাট হেনরি ৯.১ ৪৬ ৫.০১
কোরে অ্যান্ডারসন ৭.০০

গ্যালারী চিত্র[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "New Zealand beat South Africa by four wickets to reach first ever World Cup final"। stuff.co.nz। ২৪ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৫ 
  2. "Cricket World Cup final: Preview of Australia v New Zealand"। BBC Sport। ২৮ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৫ 
  3. "Sir Ian Botham: New Zealand can upset Australia in World Cup final"। Sky Sports। ২৮ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৫ 
  4. "No Asian team in World Cup final for first time since 1987"। Times of India। ২৬ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০১৫ 
  5. "History"International Cricket Council। ১৫ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৫ 
  6. Kaushik, R (২৮ মার্চ ২০১৫)। "Australia v New Zealand Preview, Final, Melbourne"International Cricket Council। ৩০ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৫ 
  7. Emons, Michael (১৩ মার্চ ২০১৫)। "Cricket World Cup: Unbeaten New Zealand defeat Bangladesh"BBC Sport। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৫ 
  8. Coverdale, Brydon (২১ মার্চ ২০১৫)। "Guptill's 237 drives New Zealand into semi-final"। ESPN Cricinfo। 
  9. "New Zealand beat South Africa in thriller to reach World Cup final"BBC Sport। ২৪ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০১৫ 
  10. "Cricket World Cup 2015: Australia v Bangladesh washed out by rain"BBC Sport। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০১৫ 
  11. Sheringham, Sam (২০ মার্চ ২০১৫)। "Cricket World Cup 2015: Australia beat Pakistan to reach semi-finals"BBC Sport। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মার্চ ২০১৫ 
  12. "Cricket World Cup: Australia beat India to reach final"BBC Sport। ২৬ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মার্চ ২০১৫ 
  13. "Smith, Hazlewood book semi-final berth"ESPNcricinfo। ESPN Sports Media। ২৮ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০১৫ 
  14. "Cricket World Cup 2015: Australia crush New Zealand in final"। BBC Sport। ২৯ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৫ 
  15. "Record crowd for World Cup final"Cricket.com.au। ২৯ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৫ 
  16. "Final: India v Sri Lanka at Mumbai – ICC World Cup Final 2011"। ২ এপ্রিল ২০১১। ১৬ এপ্রিল ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১১