২০০৯ শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলের উপর আক্রমণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
২০০৯ পাকিস্তানে শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলের উপর আক্রমণ
চিত্র:Gadaffibuilding in Lahore.gif
স্থান লাহোর, পাকিস্তান
স্থানাংক ৩১°৩০′৪৮.৩৬″ উত্তর ৭৪°২০′০.২৮″ পূর্ব / ৩১.৫১৩৪৩৩৩° উত্তর ৭৪.৩৩৩৪১১১° পূর্ব / 31.5134333; 74.3334111স্থানাঙ্ক: ৩১°৩০′৪৮.৩৬″ উত্তর ৭৪°২০′০.২৮″ পূর্ব / ৩১.৫১৩৪৩৩৩° উত্তর ৭৪.৩৩৩৪১১১° পূর্ব / 31.5134333; 74.3334111
তারিখ ৩ মার্চ ২০০৯ (২০০৯-০৩-০৩)
০৮:৪০ এএম লাহোর সময়[১] (ইউটিসি+৫)
হামলার ধরন
অ্যাম্বুশ
অস্ত্র একে-৪৭, ৬-৭ আরপিজি ও ২২-৭০ হ্যান্ড গ্রেনেড
নিহত ৬ পাকিস্তানি পুলিশ কর্মকর্তা
২ সাধারণ নাগরিক
আহত ৬ শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার ও ২ কর্মকর্তা + ১ সংরক্ষিত আম্পায়ার
সন্দেহভাজন হামলাকারী
অনেক[২][৩][৪][৫][৬][৭]
অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা
১৪-১৫[৮][৯]
রক্ষাকারীগণ পাঞ্জাব পুলিশ/এলিট পুলিশ[১০]

২০০৯ শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলের উপর আক্রমণ ৩ মার্চ, ২০০৯ তারিখে সংঘটিত হয়। এতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের সদস্যদের নিয়ে বহনকারী একটি বাসকে ১২জন বন্দুকধারী পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের কাছাকাছি এলাকায় আক্রমণ করে।[১] ক্রিকেটারগণ তখন স্বাগতিক পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলের ছয়জন সদস্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। ছয় পাকিস্তানি পুলিশ ও দুইজন নিরীহ সাধারণ নাগরিক এতে প্রাণ হারান।[১১] ফিলিস্তিনের সশস্ত্র জঙ্গী কর্তৃক ১৯৭২ সালে মিউনিখে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী ইসরাইলি ক্রীড়াবিদদের নিহত হবার পর এটিই প্রথম কোন জাতীয় ক্রীড়া দলের উপর সন্ত্রাসী আক্রমণ।[১২][১৩] ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, এ আক্রমণটি লস্কর-ই-ঝাংভি জঙ্গী সংগঠন কর্তৃক পরিচালিত হয়েছিল।

প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই সফরকারী ক্রিকেট দলগুলো নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপ করে আসছে। মে, ২০০২ সালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল তাদের অবস্থানকারী হোটেলের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলার ফলে টেস্ট সিরিজ বাতিল করে পাকিস্তান থেকে নিজ দেশে ফেরত যায়। অবশ্য পরবর্তীকালে ২০০৩-০৪ মৌসুমে তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে পাকিস্তান সফরে এসেছিল নিউজিল্যান্ড দল।[১৪] সাম্প্রতিককালে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল মাঠের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় সফর করতে অস্বীকার করে।[১৫] মুম্বই আক্রমণের প্রেক্ষিতে ভারত ক্রিকেট দল পাকিস্তান সফর স্থগিত করে ও তাদের স্থলাভিষিক্ত হয় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল।[১৬]

সফরকারী শ্রীলঙ্কা দলকে পাকিস্তান সরকার রাষ্ট্রপতি-ধাঁচের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কথা ঘোষণা করে। [১৭] ২০০৪ সালে লস্কর-ই-তৈয়বা ক্রিকেট খেলার বিপক্ষে ফতোয়া জারি করে। সংগঠনটি ক্রিকেট খেলাকে ইসলামবিরুদ্ধ বলে জানায়।[১৮] অক্টোবর, ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সফরের পর শ্রীলঙ্কা দলের এ সফর পাকিস্তানে প্রথম টেস্ট সফররূপে পরিচিতি পায়।[১৯]

আক্রমণ[সম্পাদনা]

কর্মকর্তাদের মতে, লাহোরের কেন্দ্রস্থলে লিবার্ট স্কয়ারের কাছে ১২জন বন্দুকধারী আত্মগোপনে ছিল। তারা শ্রীলঙ্কা দলকে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বহনকারী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। বাসটি রাস্তা অতিক্রমকালে অতর্কিতে বাসকে লক্ষ্য করে গুলি করতে শুরু করে। পাকিস্তানি পুলিশ শ্রীলঙ্কা দলকে রক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গুলি চলাকালে ছয় পুলিশ ও দুইজন নিরীহ সাধারণ ব্যক্তি নিহত হয়। কিছু প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা রক্ষীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। প্রায় ২০ মিনিট পর রকেট লাঞ্চার ও গ্রেনেড ফেলে সশস্ত্র বন্দুকধারীরা পালিয়ে যান।[১১]

বন্দুকধারীরা প্রথমে বাসের চাকা লক্ষ্য করে আঘাত হানে। পরবর্তীতে তারা বাসকে লক্ষ্য করে আঘাত চালায়।[২০] আক্রমণকারীরা বাসে রকেট আক্রমণ চালালেও তা লক্ষ্যে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয় ও নিকটস্থ বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আঘাত হানে। বাসচালক মেহার মোহাম্মদ খলিল প্রায় ৫০০ মিটার বাসকে সম্মুখে স্টেডিয়ামের কাছে নিয়ে যেতে সমর্থ হন। খলিলকে তার সাহসিকতায় বীর বনে যান।[২১] এছাড়াও আক্রমণকারীরা বাসকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ে যা বাস চলে যাবার পর বিস্ফোরিত হয়।[২২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Pak police arrests four in Sri Lankan team attack"। samaylive। ৩ Mar ২০০৯। ৬ মার্চ ২০০৯-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২০০৯-০৩-০৩ 
  2. "Foreign hand behind attack on Sri Lankan team: Malik"। Daily times। ১০ মার্চ ২০০৯। সংগৃহীত ২০০৯-০৩-২৭ 
  3. Rehman, Asha'ar (৪ মার্চ ২০০৯)। "Suspects at Liberty"। Dawn(Pakistani newspaper)। সংগৃহীত ২০০৯-০৩-০৫ 
  4. "Lahore attacks"The News International। ৫ মার্চ ২০০৯। সংগৃহীত ২০০৯-০৩-০৫ 
  5. Abbasi, Ansar (৪ মার্চ ২০০৯)। "Govt was warned about attack but did nothing"। The News। ৫ মার্চ ২০০৯-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২০০৯-০৩-০৫ 
  6. "Lankan group behind SL cricket team attack"CNN IBN। ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯। সংগৃহীত ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯ 
  7. "LTTE behind attack on SL Cricket Team"Yahoo India। ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯। সংগৃহীত ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯ 
  8. "Case registered against offenders involved in Lanka team ambush"। Geo.tv। ৪ মার্চ ২০০৯। আসল থেকে ৯ মার্চ ২০০৯-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২০০৯-০৩-০৪ 
  9. "Two suspects accused of Liberty ambush held"। The News(Pakistani newspaper)। ৫ মার্চ ২০০৯। সংগৃহীত ২০০৯-০৩-০৫ 
  10. Faisal Ali, Muhammad; Husnain Ghayoor (৫ মার্চ ২০০৯)। "Mumbai terror visits Lahore"Dawn। সংগৃহীত ২০০৯-০৩-০৫ 
  11. "Gunmen shoot Sri Lanka cricketers"BBC News। ৩ মার্চ ২০০৯। ৪ মার্চ ২০০৯-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ৩ মার্চ ২০০৯ 
  12. Varadarajan, Tunku (৩ মার্চ ২০০৯)। "Pakistan Wrestles With Terror"Forbes। ৬ মার্চ ২০০৯-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২০০৯-০৩-০৫ 
  13. Adetunji, Jo (৪ মার্চ ২০০৯)। "Echoes of Munich"। London: The Guardian। ১৬ মার্চ ২০০৯-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২০০৯-০৩-০৫ 
  14. "New Zealand in Pakistan ODI Series, 2003/04"। Cricinfo। সংগৃহীত ২০১১-১২-১৭ 
  15. Knight, Ben (৯ আগস্ট ২০০২)। "Australian cricket team cancel Pakistan tour"ABC News। সংগৃহীত ৩ মার্চ ২০০৯ 
  16. "Sri Lanka have confirmed tour – Pakistan board"Cricinfo Pakistan। ১০ ডিসেম্বর ২০০৮। ১৪ মার্চ ২০০৯-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ৩ মার্চ ২০০৯ 
  17. Perlez, Jane (৩ মার্চ ২০০৯)। "For Pakistan, Attack Exposes Security Flaws"। New York Times। ৪ মার্চ ২০০৯-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২০০৯-০৩-০৪ 
  18. Islamists wage war against cricket, 'the other religion', The Australian, 2009-03-06
  19. "Cricinfo – South Africa in Pakistan Test Series, 2007/08"। Content-www.cricinfo.com। সংগৃহীত ২০১১-১২-১৭ 
  20. "Sri Lankans 'safe and out of danger' after Pakistan terror attack"The Telegraph (London)। ৩ মার্চ ২০০৯। ৭ মার্চ ২০০৯-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ৩ মার্চ ২০০৯ 
  21. "Pakistan honours bus driver Khalil for his brave act"The Hindu (Chennai, India)। ১৮ মার্চ ২০০৯। ২২ মার্চ ২০০৯-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২০০৯-০৩-২৯ 
  22. Briggs, Simon (৩ মার্চ ২০০৯)। "Sri Lanka cricket players lucky to survive terror attack in Pakistan"The Telegraph (London)। ৭ মার্চ ২০০৯-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ৩ মার্চ ২০০৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]