১৯ হিজরি
অবয়ব
১৯ হিজরি ছিল ইসলামি বর্ষপঞ্জির উনবিংশ বছর। বছরটি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ৬৪০ সালের প্রথম দিকে শুরু হয় এবং ৬৪০ সালেরই শেষের দিকে শেষ হয়। ঐতিহাসিক গণনা অনুযায়ী, ১৯ হিজরি ৬৪০ খ্রিস্টাব্দের ১জানুয়ারি শুরু হয় এবং ৬৪০ খ্রিস্টাব্দের ২০ ডিসেম্বর সমাপ্ত হয়।
ঘটনাবলি
[সম্পাদনা]- কায়সারিয়া বিজয়–মুসলিম বিজয়াভিযানের সময় শাম অঞ্চলে অগ্রসরাভিযানের অংশ হিসেবে মুসলিম বাহিনী ধীরে ধীরে সমগ্র ফিলিস্তিনি অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ৬৩৫ খ্রিস্টাব্দে ফিলিস্তিনের প্রথম নগরী হিসেবে গাজা বিজিত হয় এবং ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাবের শাসনামলে ও সেনাপতি আমর ইবনুল আসের নেতৃত্বে জেরুসালেম বিজিত হয়। এরপর খলিফা মুসলিম বাহিনীকে উপকূলীয় নগরীগুলোর দিকে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেন। সে হিসেবে মুসলিম বাহিনী বাইজেনটাইনদের শক্ত উপকূলীয় ঘাঁটি কায়সারিয়ার দিকে অগ্রসর হয়। এ শহরটি সামরিক ও নৌ-কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী হওয়ায় এটি স্থলবেষ্টিত অন্য বাইজান্টাইন শহরগুলোর মতো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি; বরং এতে রোমানরা সমুদ্রপথে নিয়মিত রসদ, সৈন্য ও সামরিক সহায়তা পাঠাতে পারত। ৬৪০ খ্রিস্টাব্দের দিকে মুসলিম বাহিনী কায়সারিয়া নগরীর দিকে অভিযান পরিচালনা করে। তবে রোমানদের সাথে নৌ-সংযোগের কারণে শহরটির অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং এর পতন বিলম্বিত হয়। অবশেষে খ্রিস্টাব্দ ৬৪০ সালের শেষের দিকে শহরটি মুসলিমদের দখলে আসে। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের অন্যান্য শহরের তুলনায় কায়সারিয়া দখল করতে মুসলিমদের প্রায় ছয় বছর বিলম্ব করতে হয়। এটিকে ফিলিস্তিনের এমন একটি নগরী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যেখানে মুসলিম বাহিনীকে সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে এবং কঠোর প্রতিরোধ ভেঙে প্রবেশ করতে হয়। এর বিপরীতে জেরুজালেম, গাজা, খলিল (হেব্রন) ও ফিলিস্তিনের অন্যান্য বহু নগর শান্তিচুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে ইসলামি শাসনে আসে। সে সকল শহরে স্থানীয় জনগণ ও বাইজেন্টাইন প্রশাসনের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষ সমঝোতা হয়েছিল। ঐতিহাসিক ইয়াকুবি উল্লেখ করেন যে, আরব-ইসলামী বিজয়ের সময় ফিলিস্তিনি অঞ্চলে সর্বশেষ যে শহর বিজিত হয়েছিল, তা ছিল কায়সারিয়া, যা শহরটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও রাজনৈতিক গুরুত্বকে নির্দেশ করে। পরবর্তীতে ইসলামি ইতিহাসের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার এক পর্যায়ে, বিশেষ করে আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়েরের বিদ্রোহ ও গৃহযুদ্ধের (ফিতনা) সময় শহরে কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে বাইজান্টাইন রোমানরা আবারও উপকূলীয় কিছু অঞ্চল পুনর্দখল করতে সক্ষম হয় এবং তখন তাদের হাতে সাময়িকভাবে আসকালান ও কায়সারিয়া চলে যায়। কিন্তু উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান রাজনৈতিক স্থিতি ফিরিয়ে আনেন এবং সামরিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে হারানো অঞ্চলগুলো উদ্ধার করেন। তিনি আসকালান ও কায়সারিয়াকে পুনরায় ইসলামি শাসনের অধীনে নিয়ে আসেন। তিনি এই দুই শহরে অসংখ্য মসজিদ নির্মাণ করেন। ফিলিস্তিনি ইতিহাসবিদ ডক্টর আদনান আবু আমেরের মতে, প্রথম দিকে মুসলিমরা কিছুদিন নিয়ন্ত্রণে রাখলেও কায়সারিয়ায় তারা নিজেদের উপস্থিতির ছাপ রেখেছিল। তারা শহরের কিছু অংশ পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করে, যদিও এই নগরী মুসলিম আমলে জেরুজালেম বা অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় কম গুরুত্ব পেয়েছিল। পরে মামলুক যুগে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে সুলতান আয-যাহির বাইবার্সের শাসনামলে খলিফা আবদুল মালিক কর্তৃক নির্মিত মসজিদটি সংস্কার ও পুনরুদ্ধার করা হয়। [১][২]
জন্ম
[সম্পাদনা]মৃত্যু
[সম্পাদনা]- খাব্বাব, বদরি সাহাবি। [৩][৪]
- সাফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল, সাহাবি।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ ثمانية و اربعون, عرب। "مدينة قيسارية.. التاريخ والتهجير"। موقع عرب 48 (ইংরেজি ভাষায়)। ১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ noonpost.com (১৪ জুলাই ২০১৯)। "قيسارية: عبق التاريخ الفلسطيني يفوح من معالم المدينة المحتلة"। www.noonpost.com (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "أسد الغابة ط العلمية • الموقع الرسمي للمكتبة الشاملة"। shamela.ws (আরবি ভাষায়)। ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "الإصابة في تمييز الصحابة • الموقع الرسمي للمكتبة الشاملة"। shamela.ws (আরবি ভাষায়)। ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।