১৯৮৮ বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়
| শ্রেণী ৩ (স্যাফির-সিম্পসন মাপনী) | |
নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়ের স্যাটেলাইট ইমেজ | |
| গঠন | ২১ নভেম্বর, ১৯৮৮ |
|---|---|
| বিলুপ্তি | ৩০ নভেম্বর, ১৯৮৮ |
| সর্বোচ্চ গতি | ১-মিনিট স্থিতি: ২০৫ কিমি/ঘণ্টা (১২৫ mph) |
| হতাহত | ৬,২৪০ |
| ক্ষয়ক্ষতি | ≥ $১৩ মিলিয়ন (১৯৮৮ $) |
| প্রভাবিত অঞ্চল | বাংলাদেশ, পূর্ব ভারত |
| ১৯৮৮ উত্তর ভারত মহাসাগর ঘূর্ণিঝড় ঋতুর অংশ | |
১৯৮৮ বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় (জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার কর্তৃক ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় 04B হিসাবে মনোনীত) বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়। ১৯৮৮ সালে সংঘটিত এই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে দেশে যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বনাশা বন্যা হিসেবে পরিচিত। ২১ নভেম্বর মালাক্কা প্রণালীতে এই ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়েছিল। শুরুতে এটি পশ্চিমগামী ছিল, এরপর গভীর নিম্নচাপ থেকে ক্রমান্বয়ে আন্দামান সাগরে এসে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। নভেম্বর ২৬ তারিখে, এটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় এবং উত্তরদিকে ঘুরে যায়। ধীরে ধীরে, এর গতি তীব্রতর হয় এবং ১২৫ মাইল/ঘণ্টা (২০০কিমি/ঘণ্টা) বাতাসের গতিতে ২৯শে নভেম্বর বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের স্থলভূমিতে আঘাত করে। এই গতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শক্তিশালী অবস্থা ধরে রাখে এবং এটি ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে মাঝারি ঘূর্ণিঝড় হিসাবে সক্রিয় ছিল।
ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের ফলে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সর্বমোট ৬,২৪০ জনের মৃত্যু ঘটে, এরমধ্যে বাংলাদেশের ৫,৭০৮ জন এবং পশ্চিমবঙ্গের ৫৩৮ জন। অধিকাংশ মৃত্যু ঘটে প্রচণ্ড ঝড়ের কারণে, বাড়ি ভেঙ্গে পড়ে এবং আক্রান্ত অঞ্চলের বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে তড়িতাহত হয়ে। উপকূলবর্তী এলাকায় প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ে প্রচুর অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বাংলাদেশের প্রায় ৭০% ফসল নষ্ট হয়ে যায়, যার পরিমাণ প্রায় ২২০,০০০ টন। সারা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে টেলিযোগাযোগ বিঘ্নিত হয়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ধ্বংসাবশেষের ফলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় এবং বিদ্যুতের অভাবে পানির সংকট সৃষ্টি হয়েছিল।
আবহবিদ্যাগত ইতিহাস
[সম্পাদনা]
ক্রান্তীয় ঝড় (৩৯–৭৩ মাইল প্রতি ঘণ্টা, ৬৩–১১৮ কিমি/ঘণ্টা)
শ্রেণী ১ (৭৪–৯৫ মাইল প্রতি ঘণ্টা, ১১৯–১৫৩ কিমি/ঘণ্টা)
শ্রেণী ২ (৯৬–১১০ মাইল প্রতি ঘণ্টা, ১৫৪–১৭৭ কিমি/ঘণ্টা)
শ্রেণী ৩ (১১১–১২৯ মাইল প্রতি ঘণ্টা, ১৭৮–২০৮ কিমি/ঘণ্টা)
শ্রেণী ৪ (১৩০–১৫৬ মাইল প্রতি ঘণ্টা, ২০৯–২৫১ কিমি/ঘণ্টা)
শ্রেণী ৫ (≥১৫৭ মাইল প্রতি ঘণ্টা, ≥২৫২ কিমি/ঘণ্টা)
অজানা
অ-ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় / ছোট নিম্নচাপ/ ক্রান্তীয় গোলযোগ / মৌসুমী নিম্নচাপনভেম্বর, ১৯৮৮ সালে, বঙ্গোপসাগরে শীতকালীন মৌসুমী বায়ুর প্রভাব ছিল, ফলে এই এলাকায় বায়ুমণ্ডলীয় চাপ কম হচ্ছিল এবং আর্দ্রতার সন্নিবেশ ঘটছিল। ১৯৮৮ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বে বাংলাদেশে, মালয় উপদ্বীপ এলাকায় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বন্যা হয়েছিল।[১][২] ২১ নভেম্বর, ১৮:০০ ইউটিসি সময়ে নিম্নচাপ মালাক্কা প্রণালীতে উল্লেখযোগ্যরূপ ধারণ করে, যার ফলে যৌথ টাইফুন সতর্কতা কেন্দ্র খারাপ আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করে এবং সংস্থাটি নতুন তৈরি ঘূর্ণিঝড় ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করে। পরবর্তী কয়েকদিনে, নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে আন্দামান সাগরের দিকে অগ্রসর হয়। অপরিণত ঝড়টি অল্প সময়েই দ্রুত সংঘটিত হয় এবং এর কেন্দ্রে তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। এই উন্নতি, স্যাটেলাইট তীব্রতা পরিমাপে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ইঙ্গিত দেয়; এর ফলে ২৩ নভেম্বর, ইউটিসি সময় ১৮:৩০ সময়ে যৌথ টাইফুন সতর্কতা কেন্দ্র দ্রুত ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় গঠনের সতর্কতা জারি করে। পরের দিন ০৬:০০ সময়ে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় আরও শক্তিশালী হয় এবং 04B -এ উন্নীত হয়;[১] যাইহোক, ঘূর্ণিঝড়ের সঠিক অবস্থান নির্ণয়কারী ধাপসমূহ, যা ঘূর্ণিঝড়ের বিস্তারিত সঠিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা সাপেক্ষে, নির্দেশ করে যে, ৬ ঘণ্টা পড়ে এটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা লাভ করে।
ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় হিসাবে উন্নীত হওয়ার পরে, এটির গতি কমে যায় এবং আরও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হয়। ধীরে ধীরে শক্তি বৃদ্ধি করে ২৬ নভেম্বরের ইউটিসি ০০:০০ সময়ে এটি টাইফুনের তীব্রতা লাভ করে। এই শক্তি লাভের অল্প সময় পরে, এই টাইফুন ইন্দোচীনকে কেন্দ্র করে পশ্চিম উপকূল দিয়ে উত্তরদিকে ঘুরে যায়। বিস্তৃত উপকূলের কারণে, ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়টি উত্তরপূর্বের পরিবর্তে উত্তর দিকে ধাবিত হচ্ছিল। ধারাবাহিক তীব্রতা অব্যাহত রেখে ঝড়টি বাংলাদেশ এবং পূর্ব ভারত উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।[১] ২৯ নভেম্বর, ইউটিসি ১২:০০ সময়ে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের হুগলী নদীর মুখে স্থলভাগে আঘাত হানে। এই সময়ে যৌথ টাইফুন সতর্কতা কেন্দ্রের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০০ কিমি (ঘণ্টায় ১২৫ মাইল); এটি ছিল ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ তীব্রতা। স্থলভূমিতে আঘাতের পরে, ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে ক্রমশ দুর্বল হয়ে যায় এবং ৩০ নভেম্বরে এর সর্বশেষ গতিবেগ ছিল ১১০ কিমি প্রতি ঘণ্টা (৭০ মাইল প্রতি ঘণ্টা)।[৩]
প্রভাব ও ফলাফল
[সম্পাদনা]১৯৮৮ সালের এই ঘূর্ণিঝড়, বছরের শুরুতে হওয়া ব্যাপক বন্যা থেকে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া থমকে দেয়। এটি, বন্যার ক্ষয়ক্ষতির সাথে অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করে।[৪] ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার দুই দিন আগে থেকেই, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বেতার এবং টেলিভিশনে ক্রমাগত সতর্কতা সংকেত প্রচার করা হয় ও উপকূলীয় এলাকার বিপন্ন জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহবান জানানো হয়।[৫]
ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের বাগেরহাট, বরগুনা, ভোলা, যশোর, খুলনা, পটুয়াখালী এবং সাতক্ষীরা জেলা, সেই সাথে সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। ২ মিটার (৬.৬ ফুট) উচ্চতাবিশিষ্ট জলোচ্ছ্বাস বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত করে এবং এ কারণে মংলা বন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়,[৬] যেখানে ৯ জন মারা যায়।[৭] ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে ৪.৫ মিটার (১৫ ফুট) ঢেউয়ের সৃষ্টি করে।[৮] ২২টি নৌযান, বার্জ এবং শতাধিক মাছ ধরা নৌকা উত্তাল সাগর এবং ঝড়ো বাতাসে ডুবে যায়।[৬] ₤ ২ মিলিয়ন (ইউএস$৩.৭ মিলিয়ন) মুল্যের পণ্যবাহী অন্য ৩৭টি জাহাজ ডাঙ্গায় উঠে যায়।[৯][nb ১] তীর থেকে প্রায় ২০০ কিমি. (১২০ মাইল) দূরে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহি জাহাজ "পুমরি" সাগরে ডুবে যায়, এতে ১৯ জন মারা যায়।[১০] প্রথমে খুব অল্প সংখ্যক খবর প্রকাশিত হলেও[৬] ঝড়ের ফলে ৫,৭০৮ জনের মৃত্যু হয়।[১১] অধিক সংখ্যক মৃত্যুর পরেও, বাংলাদেশ সরকার দাবি করে, আগাম সতর্কতার কারণে মৃত্যু কমানো হয়েছিল।[৪] অধিকাংশ মৃত্যুর জন্য খারাপ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দায়ী করা হয়, যার ফলে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে সতর্ক বার্তা পৌঁছানো যায়নি।[৫] অন্যান্য মৃত্যুর কারণের মধ্যে আছে, বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে পড়ে, বিদ্যুয়াতিত হয়ে এবং ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়ে, এবং অধিকাংশ মৃত্যু ঘটে খুলনা জেলায়। [৬] খুলনাতে বৈদ্যুতিক খুঁটি বাড়ির উপর ভেঙ্গে পড়ে নয় জন মারা যায়।[৭] শুধুমাত্র দুবলার চরে কয়েকশ লাশ পাওয়া গিয়েছিল। [৬] সাতক্ষীরায় প্রচণ্ড ঝড়ে উড়ন্ত ধ্বংসাবশেষের আঘাতে প্রায় ১০০ লোক মারা যায়।[১০] নিহতের পাশাপাশি, পায় ৩০ লাখ লোক ঘরহীন হয়ে পড়ে।[১]
ঝড়ের ফলে প্রায় ৩৩,০০০ গবাদিপশু মারা যায় এবং নভেম্বর-ডিসেম্বর ধান কাটার সময় হওয়ায়, ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বাগেরহাট, ভোলা, খুলনা এবং সাতক্ষীরা জেলা এবং কক্সবাজারের প্রায় ১,৭৪,০০০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়। প্রায় ২,২০,০০০ মেট্রিকটন পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়,[৬] হিসাবমতে, প্রায় ৭০% শস্য ঘরে তোলার জন্য প্রস্তুত ছিল।[১] গোটা দেশে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঝড়ের ফলে মাটির ও খড়ের ঘর এবং স্কুল কলেজ ধ্বংস হয়ে যায়।[৭] কমপক্ষে ১৬টি জেলা এবং চারটি উপকূলীয় জেলার টেলিযোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়। রাজধানী ঢাকায় ১২০ কিমি. বেগের ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয় এবং ধ্বংসবশাসের কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।[৬][৭] বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার কারণে শহরের পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।[৭] শ্যামনগর উপজেলার মাটি এবং খড়ের সকল ঘর ধ্বংস হয়ে যায়।[১২] সবমিলিয়ে, সরকারি হিসাবে সারাদেশে প্রায় ৫০,০০০ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়।[১৩] তবে, নিরপেক্ষ তদন্ত আরও বেশি অনুমান করেছিল, তাদের হিসাবে ১০ লাখ ঘরবাড়ি, উপকূলীয় এলাকার ৬০~৭০% ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়, যার ফলে প্রায় ৭০ লাখ লোক গৃহহীন হয়ে পড়ে।[১৪]
পার্শ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে, নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি এবং পত্রিকার হিসাবে ব্যাপক পার্থক্য ধরা পড়ে, যেখানে সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা কম দেখানো হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ পায়।[১৫] কলকাতা পুলিশ যেখানে নিহতের সংখ্যা ২১০ বলেছিল, সেসময় বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা মৃতের সংখ্যা প্রায় ৫০০ প্রচার করে।[১২] পরে, সরকারিভাবে পশ্চিমবঙ্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৩৮-এ।[১৬] হতাহতের বাইরে, প্রায় ৫৭,৬০৪ টি গবাদিপশু মারা যায়[১৭] পশ্চিমবঙ্গে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।[১৮]
ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমের পর বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে এবং উপকূল এলাকায় খাবার ও অন্যান্য সহায়তা সরবরাহ শুরু করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বেসরকারি সংস্থাসমূহ বিমানযোগে ও পানিবাহিত ত্রাণ তৎপরতা শুরু করে, যদিও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শুরুতে হেলিকপ্টার চালানো বন্ধ থাকে।[৬] বাংলাদেশ নৌ বাহিনী ও ভারতীয় নৌবাহিনী উভয়ই মিলে বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূলে সহস্রাধিক মাছ ধরার নৌকা এবং নিখোঁজ উপকূলবাসীর অনুসন্ধান শুরু করে।[৯] ব্যাপক দুর্যোগের কারণে, বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তা কামনা করে, বিশেষত জাপান ও কানাডা থেকে, যারা বাংলাদেশের আগের দুর্যোগে ব্যাপক সহায়তা দিয়েছিল।[১৯] নেদারল্যান্ডস সরকার ইউএস$ ৩,৭০,০০০ সাহায্য করে, যা ঝড় পরবর্তী ত্রাণ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।[৬] লর্ড সিমন আর্থার, তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশের আক্রান্ত উপকূল এলাকায় তিনদিনের একটি সফরে আসেন এবং পরে স্বেচ্ছাসেবী ত্রাণ সংস্থা ₤৩,০০,০০০ পাউন্ড প্রদান করেন বাংলাদেশে ত্রান তৎপরতা চালানোর জন্য।[২০] তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ খুলনা এবং বাগেরহাটের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তার পরিদর্শনের পর, এরশাদ প্রশাসন, ত্রাণ বিশেষজ্ঞসহ জাতীয় দুর্যোগ কমিটি গঠন করে, ত্রাণ এবং পুনর্বাসন কাজ তদারক করার জন্য।[৬]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]টীকা
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 Pickle, John D.; McMorrow, Daniel J.; Plante, Robert J.। "1988 Annual Tropical Cyclone Report" (পিডিএফ)। Hagatna, Guam: Joint Typhoon Warning Center। পৃ. ১৫৫–৫৬। ৯ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মূল থেকে (PDF) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০১৫।
- ↑ Darwin Regional Specialised Meteorological Centre (নভেম্বর ১৯৮৮)। "Darwin Tropical Diagnostic Statement, November 1988" (পিডিএফ)। Darwin Tropical Diagnostic Statement। ৭ (11)। Darwin, Australia: Australian Bureau of Meteorology। আইএসএসএন 1321-4233। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে (PDF) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০১৫।
- ↑ Knapp, K. R., M. C. Kruk, D. H. Levinson, H. J. Diamond, and C. J. Neumann (২০১০)। "The International Best Track Archive for Climate Stewardship (IBTrACS)"। World Meteorological Organization। National Oceanic and Atmospheric Administration। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১০।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - 1 2 "Cyclone leaves trail through Bangladesh"। The Salina Journal। খণ্ড ১১৫ নং 336। Salina, Kansas। New York Times। ১ ডিসেম্বর ১৯৮৮। পৃ. ৫। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৫ – Newspapers.com এর মাধ্যমে।

- 1 2 Mahmud, Arshad (১ ডিসেম্বর ১৯৮৮)। "Cyclone toll may reach thousands"। London, United Kingdom: The Guardian। The Guardian – LexisNexis এর মাধ্যমে।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 UN Disaster Relief Coordinator (১২ ডিসেম্বর ১৯৮৮)। "Bangladesh – Cyclone Nov 1988 UNDRO Information Reports 1-6" (Situation Report)। Bangladesh: Cyclone – Nov 1988। Geneva, Switzerland: ReliefWeb। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৫।
- 1 2 3 4 5 "Cyclone kills 54 in Bangladesh, India"। The Kokomo Tribune। খণ্ড ১৩৯ নং 88। Kokomo, Indiana। Associated Press। ৩০ নভেম্বর ১৯৮৮। পৃ. ৮। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০১৫ – Newspapers.com এর মাধ্যমে।

- ↑ "Cyclone roars into Bangladesh; 870 feared dead"। Santa Cruz Sentinel। খণ্ড ১৩২ নং 288। Santa Cruz, California। ১ ডিসেম্বর ১৯৮৮। পৃ. A-১১। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০১৫ – Newspapers.com এর মাধ্যমে।

- 1 2 "Cyclone deaths hit 400"। Dhaka, Bangladesh: Nationwide News Pty Limited। Reuters। ১ ডিসেম্বর ১৯৮৮ – LexisNexis এর মাধ্যমে।
- ↑ International Center for Disaster-Mitigation Engineering (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫)। "Disasters In Bangladesh" (পিডিএফ)। Universidad Nacional Autónoma de Honduras Biblioteca Médica Nacional। ১৪ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে (PDF) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৫।
- 1 2 Saeed, Hasan (৩ ডিসেম্বর ১৯৮৮)। "Bangladesh starts fixing cyclone ruin"। The San Bernardino County Sun। San Bernardino, California। Associated Press। পৃ. A৯। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৫ – Newspapers.com এর মাধ্যমে।

- ↑ "Volunteers Help In Search For Cyclone Victims; Bangladesh"। Sydney, Australia: Sydney Morning Herald। Reuters। ২ ডিসেম্বর ১৯৮৮।
- ↑ Gorman, Edward (৬ ডিসেম্বর ১৯৮৮)। "Disease and hunger may raise cyclone death toll; Bangladesh"। Dhaka, Bangladesh: The Times।
- ↑ "Cyclone report: At Least 500 Dead"। Ukiah Daily Journal। খণ্ড ১২৮ নং 194। Ukiah, California। Associated Press। ২ ডিসেম্বর ১৯৮৮। পৃ. ৯। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৫ – Newspapers.com এর মাধ্যমে।

- ↑ "Thousands believed dead in wake of Bangladesh cyclone"। The Daily Tar Heel। খণ্ড ৯৬ নং 94। Chapel Hill, North Carolina। Associated Press। ৫ ডিসেম্বর ১৯৮৮। পৃ. ২। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৫ – Newspapers.com এর মাধ্যমে।

- ↑ "India's major natural disasters since 1980" (PDF)। New Delhi, India: Indian Agricultural Statistics Research Institute। পৃ. ১। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৫।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "Natural Disasters in India (Raw Data, 1901-2000)" (PDF)। Asian Disaster Reduction Center। ২৭ অক্টোবর ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১৫।
- ↑ "Ershad Seeks Aid As Storm Toll Rises; Bangladesh"। Sydney Morning Herald। Sydney, Australia। Reuters। ৫ ডিসেম্বর ১৯৮৮। পৃ. ১৩।
- ↑ Gorman, Edward (৭ ডিসেম্বর ১৯৮৮)। "Bangladesh cyclone; Britain to send aid"। London, United Kingdom: The Times।