১৯৮৭ ফতেহাবাদ বাস হত্যাকাণ্ড
| ১৯৮৭ ফতেহাবাদ বাস হত্যাকাণ্ড | |
|---|---|
| পাঞ্জাব বিদ্রোহের অংশ | |
| স্থান | ফতেহাবাদ-এর নিকটে, হরিয়ানা, ভারত |
| তারিখ | ৭ জুলাই ১৯৮৭ (ভা.প্র.স (IST)) |
| লক্ষ্য | হিন্দু ধর্মাবলম্বীগণ |
| নিহত | ৩৪ |
| আহত | ১৮ |
| অপরাধীগণ | খালিস্তানি সন্ত্রাসবাদীগণ (অভিযুক্ত) |
| কারণ | বিদ্রোহ দমন অভিযানের সময় শিখ নিধনের প্রতিশোধ, উপর নিপীড়ন |
১৯৮৭ সালের ৭ই জুলাই, ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের হিসার জেলায় (বর্তমানে যা ফতেহাবাদ জেলার অন্তর্গত) ফতেহাবাদ-এর নিকটে দুটি যাত্রীবাহী বাসে খালিস্তানি সন্ত্রাসবাদীরা ৩৪ জন হিন্দুকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।[১][২] ধারণা করা হয় যে, এই একই দুস্কৃতিকারীরা পূর্ববর্তী দিনে সংঘটিত লালরু বাস হত্যাকাণ্ডের সাথেও যুক্ত ছিল।[২][৩]
প্রথম বাস
[সম্পাদনা]১৯৮৭ সালের ৭ই জুলাই সায়ংকালে, আক্রমণকারীরা পার্শ্ববর্তী রাজ্য রাজস্থানের হনুমানগড় থেকে ভাড়ায় চালিত একটি জিপে চড়ে ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হয়। সন্ধ্যা ৭:১০ ঘটিকার কিছু পূর্বে, সিরসা থেকে যাত্রী নিয়ে ফিরোজপুর-দিল্লিগামী বাসটি যাত্রা শুরু করলে, উক্ত জিপটিকে বাসটির অনুসরণ করতে দেখা যায়। আক্রমণকারীদের দুইজন সাধারণ যাত্রীবেশে বাসে আরোহণ করে। ফতেহাবাদ থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পূর্বে, জিপটি বাসটিকে অতিক্রম করে এবং পথ রোধ করে দাঁড়ায়। জিপ থেকে তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি বাসে প্রবেশ করে এবং বাসে অবস্থানরত তাদের অপর দুই সহযোগীও নিজেদের অস্ত্র বের করে। এই পাঁচজন সন্ত্রাসবাদী বাসটি ছিনতাই করে এবং চালক জগদীশকে হত্যা করে। বাসের কন্ডাক্টর রাম ফল জানোলা দিয়ে পলায়ন করতে সক্ষম হন।[২]
ছিনতাইকারীরা বাসটিকে ধীরগতিতে ফতেহাবাদের দিকে চালনা করতে থাকে এবং যাত্রীদের নিকট থাকা নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সমর্পণ করার নির্দেশ দেয়। প্রায় ২ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর, তারা দরিয়াপুর গ্রামের নিকটে বাসটি থামায় এবং যাত্রীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।[২] এই পৈশাচিক হামলায় ৩০ জন নিরীহ যাত্রী নিহত হন।[১] মৃত ও মুমূর্ষু যাত্রীদের দেহের নিচে আত্মগোপন করে কয়েকজন যাত্রী প্রাণে রক্ষা পান। ট্রাক চালানোর পূর্ব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ১৯ বছর বয়সী যাত্রী জলে সিং বাসটি চালিয়ে ফতেহাবাদে নিয়ে আসেন।[২]
দ্বিতীয় বাস
[সম্পাদনা]প্রথম বাসটি ত্যাগ করার পর, সন্ত্রাসবাদীরা একটি অ্যাম্বাসেডর গাড়ি থামিয়ে এর চালককে গুলি করে হত্যা করে এবং গাড়িটি নিয়ে ফতেহাবাদের দিকে অগ্রসর হয়। প্রায় ১ কিলোমিটার যাওয়ার পর, তারা হরিয়ানা রোডওয়েজের সিরসাগামী অপর একটি বাসকে থামায়। এবার তারা ভিড়ে ঠাসা বাসটিতে প্রবেশ না করে বাইরে থেকেই যাত্রীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে; সম্ভবত তারা দ্রুত স্থান ত্যাগের উদ্দেশ্যে ব্যগ্র ছিল। এই গুলিবর্ষণে চারজন যাত্রী নিহত হন।[২] দুই বাসের এই হামলায় ৩৪ জন নিহত হওয়া ছাড়াও ১৮ জন গুরুতর আহত হন।[১]
অতঃপর আক্রমণকারীরা একটি ট্রাক ছিনতাই করে এবং ফতেহাবাদ ও রাতিয়া হয়ে পাঞ্জাব সীমান্তের দিকে পলায়ন করে। পরবর্তীতে বাটালার নিকটবর্তী মারিয়ানওয়ালা গ্রামে ট্রাকটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়; ইঞ্জিন ও চাকা সহ ট্রাকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খোয়া গিয়েছিল।[২]
লালরু হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্ভাব্য যোগসূত্র
[সম্পাদনা]পার্শ্ববর্তী রাজ্য পাঞ্জাবে সংঘটিত লালরু বাস হত্যাকাণ্ডের ঠিক একদিন পরেই ফতেহাবাদের এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।[১][২] লালরু হত্যাকাণ্ডের ন্যায় এখানেও আক্রমণকারীরা ছিল ২০-এর কোঠার পাঁচজন যুবক এবং তাদের অধিকাংশই ছিল দাড়িহীন। উভয় ঘটনাতেই, বাস থামানোর জন্য অপর একটি যান ব্যবহার করে পথ রোধ করার কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল; পাঞ্জাব-হরিয়ানা অঞ্চলে পূর্ববর্তী হত্যাকাণ্ডগুলিতে এই কৌশল দেখা যায়নি। উভয় ক্ষেত্রে খুনিরা যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করে এবং ট্রাকে করে পলায়ন করে। আরক্ষী বাহিনীর (পুলিশ) মতে, উভয় ঘটনাতেই সন্ত্রাসবাদীরা চীনা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ব্যবহার করেছিল। এই সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও, হরিয়ানা এবং পাঞ্জাব পুলিশ উভয়ই একই দল এই দুই আক্রমণের পিছনে থাকার সম্ভাবনাটিকে লঘু করে দেখায়। সাংবাদিক তভলিন সিং এবং শ্রীকান্ত খান্ডেকরের মতে, পুলিশ নিজেদের অযোগ্যতা স্বীকার করতে অনিচ্ছুক ছিল বলেই সম্ভবত তারা এমনটা করেছিল।[২]
প্রতিক্রিয়া
[সম্পাদনা]এই ঘটনার ফলশ্রুতিতে হরিয়ানায় শিখ মালিকানাধীন দোকানপাটে হামলার এবং ১২টি বাস ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়। প্রতিবাদী ধর্মঘটের ফলে চণ্ডীগড়, শিমলা, হিসার এবং পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও পার্শ্ববর্তী হিমাচল প্রদেশের বহু শহর অচল হয়ে পড়ে।[১]
ভারতের তৎকালীন শিখ রাষ্ট্রপতি জাইল সিং এই হত্যাকাণ্ডকে "অমানবিক ও বীভৎস" বলে নিন্দা জানান। প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী এই ঘটনাকে "অমানবিক নরহত্যা" হিসেবে অভিহিত করেন এবং ঘোষণা করেন যে, এটি চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।[১]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 6 Dilip Ganguly (৭ জুলাই ১৯৮৭)। "Sikhs Kill 34 Hindus on Two Buses, Bringing Two-Day Toll To 72"। AP। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০২৩।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 Tavleen Singh; Sreekant Khandekar (৩১ জুলাই ১৯৮৭)। "Terrorists kill bus passengers in Punjab and Haryana mercilessly"। India Today। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০২৩।
- ↑ Hazarika, Sanjoy (৮ জুলাই ১৯৮৭)। "34 Hindus Killed in New Bus Raids; Sikhs Suspected"। The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০২৩।