বিষয়বস্তুতে চলুন

১৯৬৭ রাঁচি-হাতিয়া দাঙ্গা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
১৯৬৭ রাঁচি-হাতিয়া দাঙ্গা
ভারতে ধর্মীয় সহিংসতার অংশ
তারিখআগস্ট ১৯৬৭
অবস্থান
কারণউর্দু বিরোধী আন্দোলন[১]
লক্ষ্যসাম্প্রদায়িক সহিংসতা
ক্ষয়ক্ষতি
নিহতসরকারি: ১৮৪ জন[২]
আহতসরকারি: ১৫৬ জন
  • ১০৩ মুসলিম
  • ৫৩ হিন্দু

১৯৬৭ সালের রাঁচি-হাতিয়া দাঙ্গা ছিল একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, যা ১৯৬৭ সালে বর্তমান ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাঁচি ও তার আশপাশের এলাকায় সংঘটিত হয়। এই দাঙ্গা ২২ আগস্ট থেকে ২৯ আগস্ট ১৯৬৭ পর্যন্ত চলেছিল। এতে ১৮৪ জন নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ১৯৫টি দোকান লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়।[৩]

পটভূমি

[সম্পাদনা]

বিহারের হাতিয়া এবং রাঁচি শহরে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়।‌ পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দু-বিরোধী সহিংসতার পর ১৯৬৪ সালে এই জেলায় দাঙ্গা হয়েছিল। রঘুবর দয়াল তদন্ত কমিশন নিশ্চিত করেছে যে, হিন্দুদের রাম নবমী উৎসব পালনের আয়োজনকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ১৯৬৪ সালের এপ্রিল থেকেই বাড়ছিল। ১৯৬৭ সালের মার্চে সাধারণ নির্বাচনের সময় উর্দু ভাষাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের কারণে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে। উর্দু ভাষাকে বিহারের দ্বিতীয় দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাবটি ক্ষমতাসীন জোটকে দুর্বল করে দেয় এবং এর ফলে ভারতীয় জনসংঘ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ এবং বিহার হিন্দি সাহিত্য সম্মেলন নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্যজুড়ে উর্দু-বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।

প্রাথমিক সংঘর্ষ

[সম্পাদনা]

২২শে আগস্ট ১৯৬৭ সালে, রাঁচিতে একটি উর্দু-বিরোধী ছাত্র মিছিল মুসলিম আজাদ হাই স্কুলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোলযোগ শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় স্কুলটিতে হামলা চালানো হয় এবং একজন হিন্দু নিহত হন। রঘুবর দয়াল তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাঁচিতে মোট ১৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যার মধ্যে ১৬৪ জন মুসলিম ও ১৯ জন হিন্দু ছিলেন। সহিংসতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শহরসহ এর আশেপাশের শিল্প এলাকা, বিশেষ করে হাতিয়ায় ব্যাপক দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। হাতিয়াতে ২৬ জন মারা যান, যার মধ্যে ২৫ জন মুসলিম এবং ১ জন হিন্দু ছিলেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ "বিহারে 'ভাষা' প্রায়ই একটি রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের সৃষ্টি করেছে"। www.indiatoday.in। ৩১ আগস্ট ১৯৭৭। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০২৩।
  2. ↑ Ministry of Home Affairs, Government of India (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮)। "Justice Raghubar Dayal Commission Report (August 1967)." (পিডিএফ)। www.mha.gov.in।
  3. ↑ ঘোষ, এস.; ল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, কলকাতা (১৯৯৭)। পথভ্রষ্ট ভারতের গণতন্ত্র: রাজনীতি ও রাজনীতিকদের ভূমিকা। APH পাবলিশিং কর্পোরেশন। পৃ. ৮১। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭০২৪৮৬৬৮। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০১৪।