১৮ হিজরি
অবয়ব
১৮ হিজরি ছিল ইসলামি বর্ষপঞ্জির অষ্টাদশ বছর। বছরটি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ৬৩৯ সালের প্রথম দিকে শুরু হয় এবং ৬৪০ সালের শুরুর দিকে সমাপ্ত হয়। ঐতিহাসিক গণনা অনুযায়ী, ১৬ হিজরি ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১১ জানুয়ারি শুরু হয় এবং ৬৪০ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি সমাপ্ত হয়। [১] [২] [৩]
ঘটনাবলি
[সম্পাদনা]- ছাইয়ের বছর — এই বছর মদিনা ও এর আশেপাশের অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ, খরা ও ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দেয়। এটি হজ্জের মৌসুম শেষে শুরু হয় এবং প্রায় নয় মাস স্থায়ী ছিল। তখন মদিনার জমিনের রং ছাইয়ের মতো কালচে হয়ে গিয়েছিল বলে বছরটির নাম ছাইয়ের বছর রাখা হয়।[৪] [৫] [৫] বর্ণিত হয়েছ যে, তখন মদিনা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অবস্থা এমন হয় যে, বন্য পশুরা পর্যন্ত খাবারের খোঁজে জনবসতির কাছে চলে আসত এবং চারদিক জনশূন্য ও বিরান হয়ে পড়েছিল। খলিফা উমর রাতে মদিনার অবস্থা দেখতে বের হলে কাউকেই হাসতে দেখতেন না। এমনকি রাস্তায় কোনো ভিক্ষুকও দেখা যেত না।[৬] এছাড়াও শহরের বাইরের অনেক মানুষ সাহায্যের আশায় মদিনায় এসে জড়ো হয়। বর্ণিত হয়েছে যে, শহরের প্রান্তে প্রায় ষাট হাজার বেদুঈন আরব তাঁবু ফেলে অবস্থান করে, যাদের খাবার বলতে ছিল শুধু বায়তুল মাল বা মদিনার অধিবাসীদের দেওয়া সাহায্য। খলিফার নির্দেশে প্রতি রাতে খাবারের আয়োজন করা হতো; কখনো কখনো এক ভোজে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ উপস্থিত থাকত।[৭] খলিফা উমর বায়তুল মালের খাদ্য ও সম্পদ মানুষদের জন্য ব্যয় করতে করতে ভাণ্ডার প্রায় শূন্য করে ফেলেন।[৮][৯] ইবনে কাসির উল্লেখ করেন, এই বছর মুসলিমরা দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত হলে খলিফা উমর মিশরের তৎকালীন গভর্নর আমর ইবনুল আসকে চিটি লিখে সাহায্য চান। জবাবে আমর ইবনুল আস মদিনাবাসীর জন্য এক বিরাট খাদ্যবহর পাঠান। এছাড়াও আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ ও আবু মুসা আশআরিও সাহায্য পাঠান। আমর ইবনুল আস এক হাজার উট বোঝাই আটা পাঠান; সমুদ্রপথে বিশটি জাহাজে তেল পাঠান এবং পাঁচ হাজার চাদর পাঠান। সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস তিন হাজার উট বোঝাই আটা ও তিন হাজার আবায়া পাঠান। শামের গভর্নর দুই হাজার উট বোঝাই খাদ্য পাঠান। দীর্ঘ নয় মাস পর এই দুর্ভিক্ষ কেটে যায়। এরপর মানুষেরা মদিনা থেকে বেরিয়ে নিজ নিজ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।[৫]
- আমওয়াসের প্লেগ—আমওয়াসের প্লেগ ছিল ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাসে এক ভয়াবহ মহামারি। এর সূচনা হয় ফিলিস্তিনের আমওয়াস নামের একটি গ্রামে, যা বায়তুল মাকদিসের নিকটে অবস্থিত ছিল। সেখান থেকে রোগটি দ্রুত সমগ্র শামে ছড়িয়ে পড়ে। তখন খলিফা উমর শাম অভিমুখে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ তাকে একটি হাদিস স্মরণ করিয়ে সেখানে যেতে নিষেধ করেন।[১০] তাই উমর শামে প্রবেশ না করে সঙ্গীদের নিয়ে মদিনায় ফিরে যান। ধারণা করা হয়, শামে সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর পর বিপুল সংখ্যক লাশ (বিশেষত বাইজেন্টাইন সৈন্য) দাফন ছাড়া পড়ে থাকায় রোগটির বিস্তার ত্বরান্বিত হয়। মহামারিটি প্রায় এক মাস স্থায়ী হয় এবং এতে প্রায় ২৫–৩০ হাজার মুসলিম মৃত্যুবরণ করে। নিহতদের মধ্যে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ, মুয়াজ ইবনে জাবাল ও তার পুত্র আব্দুর রহমান, ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ান, শুরাহবিল ইবনে হাসানাহ, ফাদল ইবনে আব্বাস ও আবু জান্দাল ইবনে সুহাইল অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। প্লেগের প্রভাব বসরাতেও পৌঁছায় এবং সেখানেও অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটে। [১১][১২][১৩]
- কুফা জামে মসজিদ নির্মাণ
জন্ম
[সম্পাদনা]মৃত্যু
[সম্পাদনা]- সুহাইল ইবনে আমর, সাহাবি ও কুরাইশ নেতা।
- আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ
- আব্বাস ইবনে মিরদাস, সাহাবি ও পার্সিক কবি।[১৫]
- ফাদল ইবনে আব্বাস
- মুয়াজ ইবনে জাবাল
- ইয়াযিদ ইবনে আবি সুফিয়ান
- শুরাহবিল ইবনে হাসানা
- আবু জানদাল ইবনে সুহাইল
- আবু মালিক আল-আশআরী, সাহাবি।[১৬]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "صفحة تحويل السنوات بين العديد من التقويمات على موقع calendarhome.com"। 25 أبريل 2019 তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|আর্কাইভের-তারিখ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ "تحويل التاريخ الهجري، الهجري إلى الميلادي، مُحوِّل التاريخ الإسلامي / الباحث الإسلامي"। الباحث الإسلامي (আরবি ভাষায়)। 20 مايو 2019 তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ 2022-03-17।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|আর্কাইভের-তারিখ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ "صفحة تحويل السنوات بين التقويمات حسب تقويم أم القرى على موقع ummulqura.org.sa"। مدينة الملك عبد العزيز للعلوم والتقنية - لجنة تقويم أم القرى। 29 مايو 2019 তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ أغسطس 2020।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|সংগ্রহের-তারিখ=এবং|আর্কাইভের-তারিখ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ الصلابي, علي محمد। "إدارة الأزمات في عهد سيدنا عمر بن الخطاب "عام الرمادة""। الجزيرة نت (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- 1 2 3 ইবনে সা'দ। আল-তাবাকাত আল-কুবরা। পৃ. ৩য় খণ্ড/ উমরের খিলাফতের বর্ণনা।
- ↑ البهجي، إيناس حسني (2017). الوجيز في التاريخ الإسلامي. مركز الكتاب الأكاديمي। পৃ. ৫৫।
- ↑ "عام الرّمادة.. ما أشبه البارحةَ باليوم!"। iums.me (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "إسلام ويب - الأخلاق والسياسة (قراءة في خلافة عمر بن الخطاب رضي الله عنه ) - الفصل الثالث رعاية مصالح الأمة - رابعا عمر رضي الله عنه في مواجهة عام الرمادة- الجزء رقم1"। www.islamweb.net (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "قصة عمر بن الخطاب في عام الرمادة | الدكتور طارق السويدان"। suwaidan.com (আরবি ভাষায়)। ৩১ জানুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ সহীহ বুখারী/5728 "তোমরা যদি কোনো দেশে মহামারীর কথা শোন, তবে সেখানে প্রবেশ করো না; আর যদি তোমরা সেখানে অবস্থান করো, তবে সেখান থেকে পালিয়ে বের হয়ো না"।
- ↑ البلاذري، أحمد بن يحيى بن جابر. فتوح البلدان، الجزء الأول - صفحة: 165، تحقيق صلاح الدين المنجد - القاهرة (1956-1957).
- ↑ ابن الأثير، علي بن أحمد بن أبي الكرم. الكامل في التاريخ، الجزء الثاني، صفحة: 558. دار بيروت ودار صادر - بيروت (1967)
- ↑ ابن الأثير، علي بن أحمد بن أبي الكرم. الكامل في التاريخ، الجزء السابع، صفحة: 79. دار بيروت ودار صادر - بيروت (1967)
- ↑ ابن حجر العسقلاني (1994). إِتْحَافُ الْمَهَرَة بِالْفَوَائِدِ الْمُبْتَكَرَة مِنْ أَطْرَافِ الْعَشَرَة (ط. 1). المدينة المنورة: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف। পৃ. ১১/১৩।
- ↑ ابن عساكر. تاريخ مدينة دمشق الجزء السادس والعشرون. محب الدين العمروي। পৃ. ৪০৭।
- ↑ সাফাদি, সালাহুদ্দিন। আল-ওয়াফি ফিল ওয়াফিয়াত। পৃ. ১৮ হিজরি (অধ্যায়)।