১৮৫৭ ভারুচ দাঙ্গা
| ১৮৫৭ ভারুচ দাঙ্গা | |||
|---|---|---|---|
| ভারতে ধর্মীয় সহিংসতার অংশ | |||
| তারিখ | মে ১৮৫৭ | ||
| অবস্থান | |||
| পক্ষ | |||
| ক্ষয়ক্ষতি | |||
| নিহত | ২ | ||
| গ্রেপ্তার | ৬১ | ||
| অভিযুক্ত | ৩৯ | ||
১৮৫৭ সালের মে মাসে ভারতের ব্রোচে (বর্তমানে ভারুচ, গুজরাত) পারসি এবং ভারুচি সুন্নি ভোরা মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সংঘটিত হয়েছিল।[১]
পটভূমি
[সম্পাদনা]ভারুচ ভারতের পশ্চিম উপকূলের একটি প্রধান বাণিজ্য বন্দর। এটি পারসিদের একটি পুরনো বসতি হওয়ায় শহরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পারসি বসবাস করত। জেনহোশত মোবদের ছোট ভাই বাহরাম মোবদ ছিলেন ভারুচে বসতি স্থাপনকারী শুরুর দিকের পুরোহিতদের একজন। ১৩০৯ সালে ভারুচে একটি টাওয়ার অফ সাইলেন্স বা দখমা স্থাপিত হয়। এই ঘটনার ছয় মাস আগে বোম্বেতে একটি দাঙ্গা হয়েছিল।[২]
দাঙ্গা
[সম্পাদনা]১৮৫৭ সালের ১০ মে, সিপাহি বিদ্রোহ শুরুর মাত্র পাঁচ দিন পর, বেজনজি শেরিয়াইজি ভারুচ নামে এক পারসি ব্যক্তির বিরুদ্ধে কিছু মুসলিম একটি মসজিদকে অসম্মান করার অভিযোগ আনলে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচ দিন পর শহরের উত্তরে বাওয়া রাহান মাজারের কাছে ২০০ জন মুসলিম সমবেত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজিত জনতাকে থামাতে পারেনি। দাঙ্গাকারীরা 'দস্তুর কামদিন দার-এ মিহ্র' নামক একটি অগ্নি মন্দিরে আক্রমণ করে এবং এর প্রধান পুরোহিত এরভাদ আরদেশির হরমজদজি কামদিনকে হত্যা করে। তারা বেজনজি শেরিয়াইজি ভারুচকে পিটিয়ে হত্যা করে এবং তার মৃতদেহ বেশ কয়েকটি গলি দিয়ে টেনে নিয়ে যায়। তারা ১৭৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত শাপুরজি নারিয়েলওয়ালা অগ্নি মন্দিরেও আক্রমণ করে এবং এর প্রধান পুরোহিত এরভাদ মেহেরওয়ানজি মানচেরজি কামদিনকে আহত করে। ভারুচের ম্যাজিস্ট্রেট এবং কালেক্টর মি. ডেভিস দাঙ্গা থামাতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ভ্যাগরা, আমোদ, অঙ্কলেশ্বর এবং হানসোটের মতো পার্শ্ববর্তী শহরগুলো থেকে সৈন্য আনা হয়। শান্তি ফিরিয়ে আনতে ব্রিটিশ সেনাদলের নেতৃত্ব দেন লেফট্যানেন্ট রিচার্ডসন।[৩][৪]
পরবর্তী ঘটনা
[সম্পাদনা]১৮৫৭ সালের ১৯ মে ভারুচের পারসিরা বোম্বে প্রেসিডেন্সির পুলিশ প্রধান বেটিংটনের কাছে হেড কনস্টেবলের ভূমিকা খতিয়ে দেখার জন্য আবেদন জানায়। তারা তদন্ত কমিশন গঠনের জন্য গভর্নরের কাউন্সিলের কাছেও পিটিশন দাখিল করে। এছাড়া পারসি পঞ্চায়েতকে তাদের প্রভাব কাজে লাগানোর জন্য অনুরোধ করা হয়।
সেশন জজ আলেকজান্ডার কিনলচ ফোর্বস গ্রেপ্তারকৃত ৬১ জনের মধ্যে ৩৯ জনকে কারাদণ্ড দেন। ভারুচ এবং প্রধান পুরোহিতকে হত্যার দায়ে দুইজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।[৫]
ঐতিহাসিকরা এই দাঙ্গাকে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের সাথে যুক্ত করে বিশ্লেষণ করেছেন। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিদ্রোহীরা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে অস্থিরতা তৈরির জন্য মুসলিম জনসংখ্যাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছিল বলে জানা যায়।
১৮৮৫ সালের ২৬ নভেম্বর পারসি এবং মুসলিমদের মধ্যে পুনরায় দাঙ্গা হয় যখন কর্তৃপক্ষ একটি দরগাহ তৈরির জন্য জমি বরাদ্দ দিতে অস্বীকার করে। যেহেতু মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলে পারসি সদস্যরা ছিলেন, তাই তাদের ওপর জমি বরাদ্দ না দেওয়ার দায় চাপানো হয়েছিল।[২]
১৮৫৮ সালের আগস্টে এরভাদ কাইখুশরু পেস্টনজি ভাকিল কর্তৃক গুজরাতি ভাষায় সংকলিত 'খাসুমতে গুজরাত' বইটিতে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ S. B. Rajyagor; Shankarsan Tripathy (১৯৭৯)। Bharuch District: Supplement। Director, Government Print., Stationery and Publications। পৃ. ১৭।
- 1 2 Alan Williams; Sarah Stewart (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬)। The Zoroastrian Flame: Exploring Religion, History and Tradition। I.B.Tauris। পৃ. ৩৮৪–৩৮৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৫৭৭২-৮৮৬-৯।
- ↑ Gazetteer of the Bombay Presidency: Gujarat: Surat and Broach। Government Central Press। ১৮৭৭। পৃ. ৪৭৬–৪৭৭।
- ↑ Mani Kamerkar; Soonu Dhunjisha (২০০২)। From the Iranian Plateau to the shores of Gujarat: the story of Parsi settlements and absorption in India। Allied Publishers। পৃ. ১০৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৭৬৪-৩০১-৫।
- ↑ Nagindas Sanghvi (১৯৯৬)। Gujarat: A Political Analysis। Centre for Social Studies। পৃ. ১০৮।
- ১৯শ শতাব্দীতে গুজরাত
- ১৮৫৭-এ ভারত
- ১৮৫৭-এর দাঙ্গা
- ভারতে ধর্মীয় দাঙ্গা
- ভারতের ধর্মীয় ভবন ও স্থাপনায় হামলা
- মুসলিমদের দ্বারা নিপীড়ন
- গুজরাতের দাঙ্গা ও বেসামরিক বিশৃঙ্খলা
- ১৮৫৭ সালে ভারতের বিদ্রোহ
- ভারতে জরথুস্ট্রবাদ
- জরথুস্ট্রবাদ বিরোধীতা
- ভারুচ
- ভারতে গণপিটুনিতে মৃত্যু
- গুজরাতে ইসলাম
- ভারতে ইসলামের ইতিহাস
- ১৯শ শতাব্দীতে ইসলাম