বিষয়বস্তুতে চলুন

১৬ মুহররম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

১৬ মহররম হল ইসলামি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মুহররমহিজরি বছরের ১৬তম দিন এবং এরপর থেকে হিজরি বছর শেষ হতে আরো ৩৩৮ বা ৩৩৯ দিন বাকি থাকে।

ঘটনাবলী

[সম্পাদনা]
  • ৪৯২ হিজরি: দামেস্কের শাসক দাক্কাক ক্রুসেডার বাহিনী কর্তৃক অবরুদ্ধ আন্তাকিয়ার সহায়তায় রওনা দেন। ক্রুসেডাররা তখন আনতাকিয়া ঘিরে রেখেছিল এবং স্থানীয় মুসলিমদের জন্য তা এক সংকটজনক মুহূর্ত ছিল। দাক্কাকের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় মুসলিমদের সাহায্য করা এবং শহরটিকে উদ্ধার করা। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হতে পারেননি।
  • ৬৯৩ হিজরি: সুলতান নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউন মিশর ও শামের মামলুক সালতানাতের সিংহাসনে বসেন। তার শাসনামলকে মামলুক যুগের সর্বোচ্চ গৌরবের সময় ধরা হয়। তিনি প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজ্যকে সুসংগঠিত করেন।
  • ৮৫৫ হিজরি: সুলতান মুহাম্মদ ফতিহ উসমানীয় সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসেন। তিনিই পরবর্তীতে কনস্টান্টিনোপল বিজয় করে ইসলামের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন।
  • ১১০১ হিজরি: ভেনিসীয় নৌসেনাপতি মোরোসিনি উসমানীয় নিয়ন্ত্রিত আগরিবোজ (বর্তমান ইউবোয়া দ্বীপ) ১০৬ দিন ধরে অবরোধের পর অবশেষে পিছিয়ে যান। তার এই দীর্ঘ অবরোধে ২৩ হাজার ভেনিসীয় সৈন্য নিহত হয় এবং প্রায় ১ লক্ষ ৮২ হাজার কামানের গোলা ছোঁড়া হয়।
  • ১৩৩৬ হিজরি: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন এই দিনে ফিলিস্তিনের বিয়ার সবা শহর মিত্রবাহিনীর হাতে চলে যায়। এটি উসমানীয় সাম্রাজ্যের জন্য এক বড় ধাক্কা ছিল।
  • ১৩৬০ হিজরি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জার্মান বাহিনী উত্তর আফ্রিকায় প্রবেশ করে। এটি যুদ্ধের এক নতুন পর্বের সূচনা করে, যেখানে আফ্রিকার মরুভূমি হয়ে ওঠে যুদ্ধের অন্যতম প্রধান ময়দান।
  • ১৩৬৩ হিজরি: মরক্কোর রাজনৈতিক দলসমূহ একটি ঐক্যমত গঠন করে ‘হিজবুল ইসতিকলাল’ বা স্বাধীনতা পার্টিকে মরক্কোর স্বাধীনতার দাবি রাজা ও ফরাসি দূতের কাছে উপস্থাপনের দায়িত্ব দেয়।
  • ১৩৬৭ হিজরি: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৮১ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, যা ফিলিস্তিনকে আরব ও ইহুদি অংশে বিভক্ত করার পরিকল্পনা উপস্থাপন করে।
  • ১৩৬৯ হিজরি: মিশরের রাজা ফারুক সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানান।
  • ১৩৭১ হিজরি: পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডটি পাকিস্তানের রাজনীতিতে এক গভীর সংকট সৃষ্টি করে।
  • ১৩৯০ হিজরি: জেদ্দায় প্রথমবারের মতো ইসলামী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এটি পরে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে পরিণত হয়।
  • ১৪০৪ হিজরি: লেবাননের গৃহযুদ্ধ চলাকালে সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামি জিহাদ দুটি ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা চালায়। একটি ছিল মার্কিন মেরিন ঘাঁটিতে এবং অন্যটি ফরাসি প্যারাট্রুপারদের ব্যারাকে। এই হামলায় ২৩৯ জন মার্কিন ও ৫৮ জন ফরাসি সৈন্য নিহত হন। এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান লেবানন থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।
  • ১৪২৩ হিজরি: ফিলিস্তিনি তরুণী আয়াত আখরাস পশ্চিম জেরুজালেমের একটি দোকানে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে নিজের প্রাণ বিসর্জন দেন। তার এই আত্মত্যাগ ফিলিস্তিনি সংগ্রামের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে স্থান পায়।
  • ১৪২৪ হিজরি: ফিলিস্তিনের স্বশাসিত সরকারের প্রধান হিসেবে মাহমুদ আব্বাসকে মনোনীত করা হয়।
  • ১৪২৭ হিজরি: গভীর রাতে চারজন উগ্রপন্থী ইহুদি আল-আকসা মসজিদে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। তারা বাবুর রাহমা কবরস্থানে খননকার্য চালিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেখানকার প্রহরীরা তাদের অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে সক্ষম হন।
  • ১৪৩০ হিজরি: জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ একটি অনুসন্ধান মিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, যার লক্ষ্য ছিল গাজায় সংঘটিত যুদ্ধের আগে ও পরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো তদন্ত করা।
  • ১৪৩৪ হিজরি: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ফিলিস্তিনকে একটি অসদস্য পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৩৮টি দেশের সমর্থন, ৯টি দেশের বিরোধিতা ও ৪১টি দেশের অনুপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
  • ১৪৩৫ হিজরি: লেবাননের বৈরুতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়, যাতে ২৩ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়।
  • ১৪৩৭ হিজরি: সৌদি লেখক ও নারী অধিকারকর্মী রাইফ বাদায়ী স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য ইউরোপীয় সংসদ প্রদত্ত 'সাখারভ' লাভ করেন।
  • ১৪৩৮ হিজরি: ইরাকের মসুল শহরকে দখলমুক্ত করার উদ্দেশ্যে একটি সামরিক অভিযান শুরু হয়। এই শহরটি দীর্ঘদিন ধরে আইএসআইএসের দখলে ছিল। এটি জিহাদবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল।
  • ১৪৪১ হিজরি: তিউনিসিয়ায় সপ্তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনটি বিপ্লবের পর দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছিল, যাতে ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
  • ১৪৪৩ হিজরি: তিউনিসীয় রাষ্ট্রপতি কায়েস সাঈদ তার ঘোষিত ‘ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল রাখার ঘোষণা দেন। একই তারিখে আলজেরিয়া সরকার মরক্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ছিল।
  • ৫৭৫ হিজরি: ইবনে বাতিশ, একজন ইরাকি আলেম, ফকিহ, লেখক ও শিক্ষক।
  • ৮৮৮ হিজরি: জহিরুদ্দিন বাবর, মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সম্রাট। []
  • ১০৫২ হিজরি: সুলতান দ্বিতীয় সুলেমান, উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিংশতম (২০তম) সুলতান ছিলেন।
  • ১৩১৮ হিজরি: আমের সাইয়িদ উসমান, একজন মিশরীয় ক্বারিক্বিরাতশাস্ত্র বিশারদ ছিলেন।
  • ১৩৪৬ হিজরি: সারওয়াৎ আবাযা, একজন মিশরীয় ঔপন্যাসিক।
  • ১৩৫২ হিজরি: আহমদ শফিক, একজন মিশরীয় চিকিৎসক ও সার্জন।
  • ১৩৫৭ হিজরি: মুফাক বাহজাত, একজন সিরীয় গায়ক।
  • ১৩৬২ হিজরি: ইব্রাহীম আদ-দিসুকি শাতা, একজন মিশরীয় অধ্যাপক ও অনুবাদক।
  • ১৩৬৬ হিজরি: সোনিয়া গান্ধী, একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর স্ত্রী।
  • ১৩৬৮ হিজরি: আহমদ মুসাআদ, একজন কুয়েতি অভিনেতা।
  • ১৩৮৪ হিজরি: সালাহুদ্দিন দারওয়াযা, ফিলিস্তিনি হামাস আন্দোলনের একজন সামরিক নেতা ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
  • ১৪০৩ হিজরি: নাসের আল-বালুশি, একজন কুয়েতী অভিনেতা।

মৃত্যু

[সম্পাদনা]
  • ৪৩১ হিজরি: ইদ্রিস মুতা’ইয়িদ বিল্লাহ, মালাকা তাইফার দ্বিতীয় শাসক।
  • ১৩৬৬ হিজরি: শাকিব আরসালান, লেবাননি লেখক, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ।
  • ১৩৭১ হিজরি: লিয়াকত আলী খান, পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
  • ১৩৭৮ হিজরি: মুহাম্মদ জমীল আশ-শাত্তি, সিরীয় মুসলিম আলেম, বিচারক, সূফি ও কবি।
  • ১৩৯৮ হিজরি: হোয়ারি বুমাদিয়ান, আলজেরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি।
  • ১৪০১ হিজরি: মাহমুদ খলিল আল-হুসারি, একজন মিশরীয় ক্বারী।
  • ১৪০২ হিজরি:
    • মুহাম্মদ আল-মারজুকি, একজন তিউনিসীয় সাহিত্যিক।
    • মুহাম্মদ আলী দাব্বুয, আলজেরীয় ইবাদি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।
  • ১৪১৫ হিজরি: জিলালী আল-ফারসী, একজন আলজেরীয় ফকীহ ও সংস্কারক।
  • ১৪১৮ হিজরি: আব্দুল্লাহ খুরাইবিৎ, একজন কুয়েতি অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক।
  • ১৪২০ হিজরি: উসমান আহমদ উসমান। একজন মিশরীয় প্রকৌশলী, রাজনীতিবিদ ও মুকাওয়িলুন আল-আরব” কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
  • ১৪২৩ হিজরি: আয়াত আল-আখরাস। একজন ফিলিস্তিনি শহিদ নারী।
  • ১৪৩৩ হিজরি:
    • ওমর বিন আহমদ বাদাহদাহ। একজন সৌদি আরবীয় দাঈ ও সমাজকল্যাণকর্মী।
    • আহমদ শাফীক বাহজাত, একজন মিশরীয় লেখক।
  • ১৪৩৯ হিজরি: মাহমুদ ইব্রাহিম সালামা, একজন মিশরীয় চারুলিপিকার
  • ১৪৪৩ হিজরি: হুসেইন হাবরী। চাদের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি (১৯৮২ - ১৯৯০)।

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

সূত্র

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "MANAS | UCLA Social Sciences Computing"MANAS (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২৫

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]