বিষয়বস্তুতে চলুন

১৫ মুহররম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

১৫ মহররম হল ইসলামি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মুহররম ও হিজরি বছরের ১৫তম দিন এবং এরপর থেকে হিজরি বছর শেষ হতে আরো ৩৩৯ বা ৩৪০ দিন বাকি থাকে।

ঘটনাবলী

[সম্পাদনা]
  • ৫৬৭ হিজরি: ফাতিমীয় খিলাফতের শেষ খলিফা 'আল-আসিদ লিদিনিল্লাহর' মৃত্যু হলে দীর্ঘ সময় পর মিশর পুনরায় আব্বাসীয় খিলাফতের অধীনে ফিরে আসে। এই ঘটনার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে মিশরে চলা শিয়া ফাতিমীয় শাসনের অবসান ঘটে এবং সুন্নি আব্বাসীয়দের প্রভাব আবারও সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • ৯৮১ হিজরি: উসমানীয় সুলতান ফ্রান্সের রাজা নবম চার্লসের ভাই হেনরিকে পোল্যান্ডের রাজা হিসেবে নিযুক্ত করেন এবং এর মাধ্যমে পোল্যান্ড উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীনে চলে আসে। এরপর ১৫৭৩ থেকে ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দুই দশক ধরে এই অবস্থা বজায় থাকে। উল্লেখযোগ্যভাবে ঐ সময়ে পোল্যান্ড ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ছিল।
  • ১২৪৬ হিজরি: আলজেরিয়ার শাসক 'দাই হুসাইন' ফরাসিদের কাছে আলজের নগরী হস্তান্তর করেন। এই ঘটনাকে আলজেরিয়ার ফরাসি উপনিবেশ যুগের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যার মাধ্যমে ফরাসিরা ধীরে ধীরে বাকি উপকূলীয় শহরগুলিও দখল করতে শুরু করে।
  • ১২৬১ হিজরি: আলজেরিয়ার প্রখ্যাত বীর ও মুক্তিযোদ্ধা আমীর আব্দুল কাদির ফরাসি উপনিবেশবাদীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। দীর্ঘ প্রতিরোধ ও সংগ্রামের পর তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
  • ১২৮৭ হিজরি: মিশরের কায়রোতে "রাওজাতুল মাদারিস" নামে একটি সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিক ও সংস্কৃতিমূলক পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকা পরবর্তী সময়ে সংস্কার আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে এবং শিক্ষাজগতের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখে।
  • ১৩৪৯ হিজরি: ইরান ও তুরস্কের যৌথ সামরিক বাহিনী কুর্দি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তুরস্কের আগরি শহরে অভিযান চালায়।
  • ১৩৬৭ হিজরি: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, ফিলিস্তিনি অঞ্চলকে বিভক্ত করে একটি ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের অনুমোদন দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফিলিস্তিনের প্রায় ৫৬% ভূমি ইহুদিদের রাষ্ট্র হিসেবে নির্ধারিত হয়, যেখানে জেরুজালেম বা আল-আকসা অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
  • ১৩৭৮ হিজরি: লেবাননের সেনাপ্রধান জেনারেল ফুয়াদ শেহাবকে গণভোটের মাধ্যমে লেবাননের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়। এই নির্বাচন লেবাননের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল।
  • ১৩৯১ হিজরি: তুরস্কে একটি সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ 'মামদুহ তাজমাক'।
  • ১৩৯৮ হিজরি: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মেনাহেম বেগিন মিসর সফরে যান এবং রাজধানী কায়রোতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
  • ১৪০৩ হিজরি: মিশর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ লাভ করে। ইতিহাসে এটি তার চতুর্থবারের মত এই পদে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ছিল।
  • ১৪১১ হিজরি: ইরাক যখন কুয়েত আক্রমণ করে, তখন জাতিসংঘ ইরাকের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে। এই অবরোধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় প্রতিক্রিয়া ছিল, যার ফলে ইরাক দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক সংকটে ভুগে।
  • ১৪২৬ হিজরি: ইস্রায়েল পুলিশ বিভাগ ৬১ মিলিয়ন শেকেল অর্থাৎ প্রায় ১৩.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের নিরাপত্তা বরাদ্দের দাবি করে। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা; যদিও এই অর্থ বরাদ্দের প্রকৃত প্রয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল।
  • ১৪৩২ হিজরি: দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনের পর অবশেষে ইরাকের নতুন সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের পক্ষে ইরাকি সংসদ (মজলিসুন-নুয়াব আল-ইরাকি) আস্থা ভোট দেয়। এই সরকার গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী নূরী আল-মালিকী।
  • ১৪৪১ হিজরি: বিখ্যাত সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারখানায় (একটি বকীক ও অন্যটি খুরাইস এলাকায়) ড্রোন হামলা চালানো হয় এবং এই হামলায় কোম্পানির মোট উৎপাদনের প্রায় ৫০% ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইয়েমেনের হুথিরা এই হামলার দায় স্বীকার করে।
  • ১৪৪৫ হিজরি: তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদ প্রধানমন্ত্রী নাজলা বোদিনকে অপসারণ করে তার স্থলে আহমদ আল-হাশানিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।
  • ২৯১ হিজরি: আব্দুর রহমান ইবনে উমর আস-সুফী, প্রখ্যাত মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী।
  • ৬৮৪ হিজরি: সুলতান ‘আন-নাসির মুহাম্মদ ইবন কালাউন, মিশরীয় মামলুক সালতানাতের নবম সুলতান।
  • ১০৫২ হিজরি: সুলতান সুলাইমান দ্বিতীয়, একজন উসমানীয় সুলতান। [১]
  • ১২৭৫ হিজরি: আহমাদ হাশমত পাশা, মিশরীয় ও আরবীয় বুদ্ধিজীবী।
  • ১৩৫২ হিজরি: জামাল মীরসাদেকি, একজন ইরানি ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকার।
  • ১৩৬১ হিজরি: মুনা ওয়াসিফ, সিরীয় অভিনেত্রী।
  • ১৩৬৬ হিজরি: মাহমুদ কাবিল, মিশরীয় অভিনেতা।
  • ১৩৭৩ হিজরি: জান কাহওজি,লেবাননী সামরিক বাহিনীর কমান্ডার।
  • ১৩৯৩ হিজরিতে: জাওয়াদ আল-জাসিম, সৌদি আরবীয় শিয়া।
  • ১৪০৩ হিজরি:
    • ইয়াকুবু আইঘবিনি, নাইজেরীয় ফুটবল খেলোয়াড়।
    • আবদুল্লাহ আল-তুলাইহি: কুয়েতি বক্সার, উপস্থাপক ও অভিনেতা।
    • আমর সালামা, মিশরীয় চলচ্চিত্র পরিচালক।
  • ১৪০৪ হিজরি: ফাওজ আল-শাত্তি, কুয়েতি গায়িকা ও অভিনেত্রী।
  • ১৪১০ হিজরি: ফারাহ জায়নাব আবদুল্লাহ, তুর্কি অভিনেত্রী।

মৃত্যু

[সম্পাদনা]
  • ৫৩৯ হিজরি— আবু মনসুর ইবনুল জাওয়ালিকী আল-বাগদাদী, প্রখ্যাত আরবি ভাষাবিদ।
  • ১৩৬৬ হিজরি—শাকিব আরসালান, একজন লেবাননী লেখক, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ।
  • ১৩৭৭ হিজরি — আলি সাইয়্যেদ সুলায়মান রিফাঈ, একজন কুয়েতী রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদ।
  • ১৪০৩ হিজরি—আবদুল ফাত্তাহ আল-ক্বাদি। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেম ও কেরাত শাস্ত্রে পারদর্শী।
  • ১৪৩৩ হিজরি —
    • আহমদ শফিক বাহজাত, একজন মিশরীয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
    • সালেহ ইবনে রাশিদ আল-উলাইকি, একজন সৌদি গণিত বিশেষজ্ঞ।
  • ১৪৪০ হিজরি—ইসমাইল ফাহদ ইসমাইল, একজন কুয়েতি ঔপন্যাসিক।

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

সূত্র

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ Ali Kemal Meram, Padişah Anaları: Resimli Belgesel Tarih Romanı, Öz Yayınları, 1977।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]