বিষয়বস্তুতে চলুন

১৩ মুহররম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

১৩ মহররম হল ইসলামি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মুহররমহিজরি বছরের ১৩তম দিন এবং এরপর থেকে হিজরি বছর শেষ হতে আরো ৩৪১ বা ৩৪২ দিন বাকি থাকে।

ঘটনাবলী

[সম্পাদনা]
  • ৬১ হিজরি: কারবালার যুদ্ধের পর ইমাম হুসাইন ইবনে আলি, তাঁর পরিবারবর্গ ও বিশ্বস্ত অনুচরদের দাফন সম্পন্ন হয়। তাঁরা আশুরার দিনে ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে শাহাদত বরণ করেছিলেন।
  • ৩৬৮ হিজরি: ফাতেমীয় খলিফা আইজ বিল্লাহ সিরিয়ার (শাম) কারামাতিয়া ও আফতকীন নামক বিদ্রোহীদের দমন করেন। এই সফলতা ফাতেমীয় সাম্রাজ্যের শামের উপর কর্তৃত্ব সুসংহত করে তোলে এবং ঐ অঞ্চলকে একটি ফাতেমীয় রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, যার রাজধানী হয় দামেস্ক
  • ৮১৫ হিজরি: মিশরের সুলতান নাসির ফারাজ বিন বারকুক বিদ্রোহী আমির নওরুয আল-হাফিজি ও শাইখ আল-মাহমূদির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে লাজ্জুন অঞ্চলে পৌঁছান।
  • ১০৭৪ হিজরি: উসমানীয় খিলাফতের সুলতান চতুর্থ মুহাম্মাদের শাসনামলে অস্ট্রীয়দের "নুহজেল" দুর্গ ঘিরে ফেলা হয়। এই দুর্গ পতনের পর আরও প্রায় ৩০টি অস্ট্রীয় দুর্গ আত্মসমর্পণ করে।
  • ১২০৪ হিজরি:' উসমানীয় সেনাপতি গাজী হাসান পাশা ইসমাইল যুদ্ধে' রুশ বাহিনীকে পরাজিত করেন। এই যুদ্ধ ছিল উসমানীয় সালতানাত বনাম রাশিয়া ও জার্মানির মধ্যকার ১৭৮৭ থেকে ১৭৯২ সাল পর্যন্ত চলা সংঘাতের অংশ।
  • ১৩৪১ হিজরি: মিশরের জাতীয়তাবাদী নেতা সা'দ জাগলুলকে জিব্রাল্টারে নির্বাসনে পাঠানো হয়। সেই সময় ১৯১৯ সালের বিপ্লব জোরালোভাবে চলছিল এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্য মিশরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিল।
  • ১৩৫৯ হিজরি: দলাই লামা মাত্র ৫ বছর বয়সে তিব্বতের বৌদ্ধদের নেতা হিসেবে নিযুক্ত হন। তবে তাঁর ১০ বছর বয়স হওয়ার আগেই চীন তিব্বতে আক্রমণ চালিয়ে অঞ্চলটি দখল করে নেয়। ১৯৫৯ সালে চীনা আধিপত্যের বিরুদ্ধে ব্যর্থ বিদ্রোহের পর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন এবং পরে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।
  • ১৩৮৫ হিজরি: মিশরের রাষ্ট্রপতি জামাল আবদুন নাসের পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। কারণ পশ্চিম জার্মানি ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। এই পদক্ষেপ ছিল ১৯৬৪ সালের আরব সম্মেলনের সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ছিল।
  • ১৪০০ হিজরি: লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে প্রায় দুই হাজার বিক্ষুব্ধ লিবীয় নাগরিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ছিল।
  • ১৪১১ হিজরি: ইরাক ঘোষণা করে, তারা "কুয়েত প্রজাতন্ত্র" প্রতিষ্ঠা করছে এবং সেই জন্য একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন আলা হুসেইন আলী। এই ঘোষণা আসে কুয়েতে ইরাকি আগ্রাসনের ঠিক দুই দিন পর।
  • ১৪২১ হিজরি: কুয়েতের "কুয়েত ফাউন্ডেশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্স" কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত "বিজ্ঞান কেন্দ্র" আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এটি কুয়েতের বৈজ্ঞানিক গবেষণা, জনসচেতনতা ও শিক্ষার উন্নতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
  • ১৪২৪ হিজরি: মার্কিন মানবাধিকার কর্মী র‍্যাচেল কোরি শহীদ হন। তিনি ফিলিস্তিনের গাজার রাফাহ শহরে এক ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ি ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে একটি ইসরায়েলি বুলডোজারের নিচে চাপা পড়েন। তার এ আত্মত্যাগ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে এবং ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়।
  • ১৪২৫ হিজরি:
    • ফিলিস্তিনে "আহলাম উম্মাহ" বা "জাতির স্বপ্ন” শিরোনামে প্রথম চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজিত হয়। এতে প্রায় ৩৬টি সিনেমা অংশ নেয়, যার কাহিনি মূলত ফিলিস্তিনিদের কষ্ট, সংগ্রাম ও প্রতিরোধ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল।
    • ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায় যে, ইসরায়েলের একটি উগ্র বসতি স্থাপনকারী সংস্থা "আল-আ’আদ" বায়তুল মুকাদ্দাসে অবস্থিত ঐতিহাসিক বাবুল-মাগারিবার বাইরের চত্বরে একটি বাণিজ্যিক ও পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।
  • ১৪২৬ হিজরি: ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৬.৪। এর ফলে আনুমানিক ৬১২ জনের মৃত্যু ঘটে এবং ১৪০০-এরও বেশি মানুষ আহত হন। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল কের্মন প্রদেশের "জারান্দ" শহরে। অনেক গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এবং দুর্গত এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
  • ১৪৩০ হিজরি: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গাজা সংকট নিয়ে ১৮৬০ নম্বর প্রস্তাব পাশ করে, যাতে অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয় এবং ইসরায়েলি সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
  • ১৪৩৩ হিজরি: মিশরে নবগঠিত সামরিক পরিষদ দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসে। তাদের প্রধান ছিলেন মন্ত্রী মোহাম্মদ হোসেইন তানতাবি। তিনি একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেন, যার কাজ ছিল, সামরিক শাসনকালীন সরকারকে পরামর্শ প্রদান করা এবং বেসামরিক ও নির্বাচিত শাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া।
  • ১৪৩৬ হিজরি:
    • সৌদি আরবের আল-আহসা অঞ্চলের "আল-দালওয়াহ" গ্রামে এক মর্মান্তিক হামলায় নিহত আটজন শহীদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।
    • লেবাননের জাতীয় সংসদ তার সাংবিধানিক মেয়াদ দ্বিগুণ সময়ের জন্য বাড়িয়ে দেয়, যা দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
  • ১৪৩৭ হিজরি: আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে এক প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হয়, যার প্রভাব পাকিস্তান ও ভারত পর্যন্ত অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিল ৭.৫ রিখটার স্কেলে। ভূমিকম্পটি দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।
  • ১৪৩৮ হিজরি: ইউনেস্কোর এক কমিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গ্রহণ করে, যেখানে আল-আকসা মসজিদকে একটি পবিত্র ইসলামি পবিত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং ইসরায়েলের তৎপরতার নিন্দা করা হয়। ইসরায়েল এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে এবং জাতিসংঘে তীব্র আপত্তি তোলে।
  • ১৪৪২ হিজরি:
    • বৈরুত বন্দরের বিস্ফোরণের পর প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াবের সরকার পদত্যাগ করে। এরপর সংসদের সদস্যরা মুস্তাফা আদিব নামক এক কূটনীতিককে নতুন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করেন।
    • ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ইসরায়েলি বিমান সৌদি আকাশসীমা পেরিয়ে সরাসরি আবু ধাবি যায়।
  • ১৪৪৩ হিজরি: মালয়েশীয় রাজা ইয়াং দি পার্তুয়ান আগং আব্দুল্লাহ আহমদ শাহ "ইসমাইল সাবরি ইয়াকুবকে" নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।
  • ১২৩৯ হিজরি - মূসা আল-মুহসনি: জাফরি ফকীহ, ধর্মীয় লেখক ও ইরানি কবি।
  • ১৩২৬ হিজরি - ফাতিমা রশদি, মিসরীয় অভিনেত্রী।
  • ১৩৪০ হিজরি - মুস্তফা মাশহূর, মিশরীয় ইখওয়ানুল মুসলিমিনের পঞ্চম মুরশিদ।
  • ১৩৫৪ হিজরি - কাজেম হাবিব: একজন ইরাকি অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ও লেখক।
  • ১৩৫৮ হিজরি - তাসফি মাজেল, কায়রোতে নিযু্ক্ত ইসরায়েলের ষষ্ঠ রাষ্ট্রদূত।
  • ১৩৭৬ হিজরি - মিশআল বিন মুহাম্মদ বিন সৌদ আল সৌদ, আমির মুহাম্মদ বিন সৌদ বিন আবদুল আজিজের চতুর্থ পুত্র।
  • ১৩৮৮ হিজরি - রুয়াদ আলিয়ু, সিরীয় অভিনেত্রী।
  • ১৩৯০ হিজরি - জালাল শামূত, সিরীয় অভিনেতা।
  • ১৪০২ হিজরি - মুহাম্মদ জারাগ, কুয়েতি ফুটবল খেলোয়াড়।

মৃত্যু

[সম্পাদনা]
  • ৫২৬ হিজরি - ওমর খৈয়াম, ফারসি দার্শনিক, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ। []
  • ১৩৪২ হিজরি - জাফর আবু আল-মাকারিম, সৌদি ফকীহ ও কবি।
  • ১৩৮২ হিজরি - মুহাম্মদ কামিল তুনিসি, তিউনিসীয় ইসলামী চিন্তাবিদ ও সংগ্রামী।
  • ১৩৯৯ হিজরি - আব্দুহু সারুজি, মিসরীয় অভিনেতা ও গায়ক।
  • ১৪২০ হিজরি - ইউসুফ আওফ, মিসরীয় লেখক।
  • ১৪২৩ হিজরি - আবদুল বাসেত ঔদাহ, ইজ্জুদ্দিন আল-কাস্সাম ব্রিগেডের একজন যোদ্ধা।
  • ১৪২৪ হিজরি - র‍্যাচেল কোরি, মার্কিন মানবাধিকার কর্মী।
  • ১৪৩২ হিজরি -
    • নূহ আলি সালমান আল-কুদাহ, জর্ডানের প্রাক্তন প্রধান মুফতি।
    • আহমাদ মুখতার, মিসরীয় সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ।
  • ১৪৩৪ হিজরি - মিলাদ হানা, একজন মিশরীয় প্রকৌশলী ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ।
  • ১৪৩৮ হিজরি - ফারুক শুশা, একজন মিশরীয় কবি, সাহিত্যিক ও বেতার সম্প্রচারক।
  • ১৪৩৯ হিজরি - জলাল তালাবানি, ইরাকের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি। []

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Omar Khayyam | Persian Poet, Astronomer & Mathematician | Britannica"www.britannica.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০২৫
  2. McDonald, Mark (৩ অক্টোবর ২০১৭)। "Jalal Talabani, Kurdish Leader and Iraq's First Postwar President, Is Dead at 83"The New York Times (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০২৫

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]