১০ হিজরি
অবয়ব
১০ হিজরি ছিল ইসলামি বর্ষপঞ্জির দশম বছর। এই বছরটি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ৬৩১ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় এবং ৬৩২ সালের মাঝামাঝি সময় শেষ হয়। ঐতিহাসিক গণনা অনুযায়ী ১০ হিজরি ৬৩১ খ্রিস্টাব্দের ৮ এপ্রিল শুরু হয় এবং ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৮ মার্চ সমাপ্ত হয়। [১][২][৩]

ঘটনাবলি
[সম্পাদনা]- বিদায় হজ্জ: নবি মুহাম্মদ জীবনের একমাত্র ও শেষ হজ আদায় করেন, যা ‘বিদায় হজ্জ’ নামে পরিচিত। তিনি এর আগে কখনো হজ্জ পালন করেননি। ২৫ জ্বিলক্বদ তিনি হজ্জের উদ্দেশ্যে মদিনা থেকে মক্কা রওনা হন এবং তাঁর সকল স্ত্রী এতে সঙ্গী ছিলেন।[৪] দীর্ঘ আট দিনের যাত্রা শেষে তিনি মক্কায় পৌঁছান।[৫][৬][৭][৮] মক্কার উপকণ্ঠে জু-তুয়া নামক স্থানে রাত্রিযাপন শেষে পরদিন সাহাবিদের সাথে তিনি মসজিদুল হারামে প্রবেশ করেন। আজকের আস-সালাম গেট নামে পরিচিত দরজা দিয়ে তারা প্রবেশ করে কাবার কাছে আসেন। এরপর তিনি কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন এবং হজরে আসওয়াদ স্পর্শ ও চুম্বন করেন। তারপর নামাজ আদায় করে যমযম কূপ থেকে পানি পান করেন এবং সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাঈ করেন।[৯][১০] ৮ জ্বিলহজ সূর্যাস্তের পর তিনি মিনা অভিমুখে রওনা হন এবং সেখানেই তিনি যোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং পরের দিনের ফজর নামাজ আদায় করে সকালেই আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তখন তাঁর চারপাশে হাজারো হাজি তালবিয়া ও তাকবির পাঠ করছিলেন। তিনি নামিরা নামক স্থানে নিজের জন্য তাঁবু স্থাপনের নির্দেশ দেন। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে উটে আরোহণ করে তিনি উরানা উপত্যকায় পৌঁছান। সেখানে প্রায় লক্ষাধিক সাহাবির সামনে তিনি নিজের জীবনের শেষ জুমার খুতবা প্রদান করেন, যা বিদায় খুতবা নামে পরিচিত। এরপর তিনি যোহর ও আসর নামাজ একত্রে আদায় করেন এবং আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে বিকাল পর্যন্ত ইবাদত ও দোয়ায় ব্যস্ত থাকেন।[১১][১০] ৯ জ্বিলহজ্জ সূর্যাস্তের পর তিনি মুযদালিফায় পৌঁছান এবং সেখানে মাগরিব ও এশা নামাজ আদায় করেন। পরদিন সকালে মিনায় ফিরে এসে তিনি রামি আল জামারাতের অংশ হিসেবে প্রতিটি জামরায় পাথর নিক্ষেপ করেন।[১২] এরপর তিনি নিজের সঙ্গে বহন করে আনা কোরবানির পশু জবাইয়ের নির্দেশ দেন। এরপর তিনি মক্কায় ফিরে যান এবং সেখানে তাওয়াফ করে যোহর নামাজ আদায় করেন।[১২] এরপর পরবর্তী তিন দিন ১১, ১২ ও ১৩ জ্বিলহজ্জ তিনি মিনায় কাটান এবং শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ অব্যাহত রাখেন।[১০]
- মুসাইলিমা কাজ্জাবের নবুয়ত দাবি: মুসাইলিমা নামের এক ব্যক্তি মিথ্যাভাবে নিজেকে নবী বলে দাবি করে, যে পরবর্তীতে রিদ্দার যুদ্ধে নিহত হয়। মুসাইলিমা আরবের ইয়ামামা অঞ্চলের বনু হানিফা গোত্রের নেতা ছিল। নবি মুহাম্মাদের জীবদ্দশায় সে নিজেকে নবি বলে দাবি করে। বর্ণিত আছে যে, সে নবির কাছে একটি বার্তাও পাঠায়, যেখানে সে নবুয়তের অংশীদারিত্বের দাবি করে। নবি মুহাম্মদের মৃত্যুর পর খলিফা আবু বকরের শাসনামলে মুসাইলিমার আন্দোলন আরো শক্তিশালী হয়। এরপর রিদ্দার যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইয়ামামার যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে তার অনুগত বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ হয়। যুদ্ধে মুসাইলিমার বাহিনী পরাজিত হয় এবং সে নিজেও নিহত হয়।[১৩]
- আলি ইবনে আবি তালিবের ইয়েমেনে অভিযান: ১০ রমজান নবি মুহাম্মদ আলিকে হামাদানে একটি বিশেষ অভিযানে প্রেরণ করেন। মুবারকপুরি বর্ণনা করেছেন যে, খালিদ বিন ওয়ালিদকে হামদানের লোকদের ইসলামের প্রতি আহ্বান করার জন্য পাঠানো হয়। খালিদ সেখানে তাদের সাথে প্রায় ৬ মাস অবস্থান করে দাওয়াতের কাজ করলেন; তবুও তারা ইসলাম গ্রহণ করলেন না। তারপর নবি মুহাম্মদ আলি ইবনে আবি তালিবকে সেখানে পাঠান এবং খালিদকে মদিনায় ফেরত আনেন। আলি তাদেরকে নবির একটি বিশেষ বার্তা জানিয়ে ইসলাম গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান। তখন তারা আলির আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করে।[১৪][১৫]
- নাজরানের অধিবাসীদের ইসলাম গ্রহণ।
জন্ম
[সম্পাদনা]- মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর–খলিফা আবু বকরের পুত্র।
মৃত্যু
[সম্পাদনা]- ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ– নবি মুহাম্মদের পুত্র ইবরাহিম ২৯ শাওয়াল ইন্তেকাল করেন।
- দুবা‘য়া বিনতে আমির
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- ইবনে কাসির, মুহাম্মদ (২০১৩)। আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (বাংলা ভাষায়)। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আইএসবিএন ৯৮৪-০৬-০৫৬৫-৮।
- আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৫)। তারিখুল ইসলাম (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ। আইএসবিএন ২৭-৪৫১৪৩-৫৩-০।
- আল-যাহাবী, শামসুদ্দীন (২০১৪)। সিয়ারু আলামিন নুবালা (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: আল-রিসালা প্রকাশনী। আইএসবিএন ৯৭৮-৯-৯৩৩-৪৪৬৬৫-৯।
- খতিব বাগদাদী (২০১১)। তারিখে বাগদাদ (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়্যা। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১০-৪৬৬-৩।
- তাবারি, মুহাম্মদ ইবনে জারির (২০১১)। তারিখে তাবারি: তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-৩২৬৩-৫।
- হামাবি, ইয়াকুত (২০১১)। মু'জামুল বুলদান (আরবি ভাষায়)। বৈরুত: দারুল কুতুব ইলমিয়া। আইএসবিএন ৯৭৮-২৭৪৫১-১৪৩২-৭।
- সুয়ুতী, জালালুদ্দীন (২০১০)। তারিখ আল-খুলাফা (আরবি ভাষায়)। সৌদি আরব: দারুল মিনহাজ। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৫৩৪-৯৮১৯-৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - আল-মাকদিসি, আবু শামা (২০১৮)। আল-রওজাতাইন ফি আখবার আল-দাওলাতাইন আল-নুরিয়া ওয়াস সালাহিয়া (আরবি ভাষায়)। কায়রো: মুয়াসসাসাতুর রিসালা। আইএসবিএন ৯৭৮-১৯১২৬৪-৩৩৫-৬।
- আল মাকরিজি, আলি ইবনে আহমদ (২০০৮)। আস-সুলুক লিমারিফা দুয়াল আল-মুলুক (আরবি ভাষায়)। দার আল-জামান।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - রহমান, ড. আতাউর (২০২৩)। ইতিহাসে ইসলাম: নবী থেকে খেলাফত। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ User, Super। "Convert a date"। calendarhome.com। ২৫ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|শেষাংশ=প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য) - ↑ "تحويل التاريخ الهجري، الهجري إلى الميلادي, مُحوِّل التاريخ الإسلامي | الباحث الإسلامي"। IslamicFinder (আরবি ভাষায়)। ২০ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "موقع تقويم أم القرى"। www.ummulqura.org.sa। ২০ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ Buhl, F.; Welch, A. T. (১৯৯৩)। "Muḥammad"। Encyclopaedia of Islam। খণ্ড ৭ (2nd সংস্করণ)। Brill Academic Publishers। পৃ. ৩৬০–৩৭৬। আইএসবিএন ৯০-০৪-০৯৪১৯-৯।
- ↑ Abu Muneer Ismail Davids (২০০৬)। Getting the Best Out of Hajj। Darussalam। পৃ. ৩১৫–। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৬০-৯৮০৩-০-০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১৫।
- ↑ Patrick Hughes; Thomas Patrick Hughes (১৯৯৫)। Dictionary of Islam। Asian Educational Services। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৬-০৬৭২-২। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১৫।
- ↑ Muḥammad Ḥusayn Haykal (১ মে ১৯৯৪)। The Life of Muhammad। The Other Press। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৩-৯১৫৪-১৭-৭।
- ↑ Mubārakfūrī, Ṣafī al-Raḥmān. (২০১১)। The sealed nectar : Ar-raheequl makhtum, biography of the Noble Prophet ṣallá Allāh ʻalayhi wa-sallam। Riyadh: Darussalam। আইএসবিএন ৯৭৮-৬০৩-৫০০-১১০-৬। ওসিএলসি 806790487।
- ↑ Muḥammad Ḥusayn Haykal (১ মে ১৯৯৪)। The Life of Muhammad। The Other Press। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৩-৯১৫৪-১৭-৭।
- 1 2 3 Mubārakfūrī, Ṣafī al-Raḥmān. (২০১১)। The sealed nectar : Ar-raheequl makhtum, biography of the Noble Prophet ṣallá Allāh ʻalayhi wa-sallam। Riyadh: Darussalam। আইএসবিএন ৯৭৮-৬০৩-৫০০-১১০-৬। ওসিএলসি 806790487।
- ↑ Abu Muneer Ismail Davids (২০০৬)। Getting the Best Out of Hajj। Darussalam। পৃ. ৩১৫–। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৬০-৯৮০৩-০-০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১৫।
- 1 2 IslamKotob। en_TheBiographyoftheProphet। IslamKotob। পৃ. ১৫৪–। GGKEY:DS5PE7D2Z35। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১৫।
- ↑ Kathīr, Ismāʻīl ibn ʻUmar (২০০০), Ṣafī al-Raḥmān Mubārakfūrī (সম্পাদক), al-Miṣbāḥ al-munīr fī tahdhīb tafsīr Ibn Kathīr, খণ্ড ১, Riyadh, Saʻudi Arabia: Darussalam, পৃ. ৬৮।
- ↑ Rahman al-Mubarakpuri, Saifur (২০০৫), The Sealed Nectar, Darussalam Publications, পৃ. ২৯০
- ↑ Playfair, Sir Robert Lambert (১৮৫৯)। A history of Arabia Felix or Yemen, from the commencement of the Christian era to the present time: including an account of the British settlement of Aden। Education Society's Press। পৃ. ৭৯। Original from: Oxford University (according to Google books)