১ম শতাব্দীতে খ্রিস্টধর্ম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জেসাস ওয়াশিং পিটারস ফিট, ফোর্ড ম্যাডক্স ব্রাউন (1852-1856), টেট ব্রিটেন, লন্ডনের আঁকা ছবি

১ম শতাব্দীতে খ্রিস্টধর্ম বলতে খ্রিস্টধর্মের গঠনমূলক ইতিহাসকে বোঝানো হয়, যা শুরু হয় যীশুর পরিচর্যা থেকে (আনু. ২৭-২৯ খ্রিস্টাব্দ) এবং বারোজন প্রেরিতের মৃত্যু পর্যন্ত (আনু. ১০০) এর সময়সীমা ধরা হয়। এ সময়কালকে অ্যাপোস্টোলিক যুগ বা প্রেরিতীয় যুগ হিসেবেও ধরা হয়। প্রারম্ভিক খ্রিস্টধর্ম যীশুর এস্ক্যাটোলজিকাল পরিচর্যা থেকে বিকশিত হয়। যীশুর উর্ধ্বগমণের পর, তার প্রথম দিকের অনুসারীরা ১ম শতাব্দীর দ্বিতীয় মন্দির কালের শেষের দিকে একটি এপোক্যালিপ্টিক মেসিয়ানিক ইহুদি সম্প্রদায় গঠন করে। প্রথম দিকে যীশুর পুনরুত্থানই পরকালের সূচনা এই বিশ্বাস করলেও, শীঘ্রই এটি "যীশুর প্রত্যাশিত দ্বিতীয় আগমন এবং ঈশ্বরের রাজ্যের সূচনা একই সময়কালে হবে" এতে পরিবর্তিত হয়।[১]

পল দ্য অ্যাপোস্টেল, একজন ফরীশী ইহুদি যিনি প্রথম দিককার ইহুদি খ্রিস্টানদের শাস্তি প্রদান করেছিলেন, তিনি আনু. ৩৩-৩৬ খ্রিস্টাব্দে ধর্মান্তরিত হন[২][৩][৪] এবং বিধর্মীদের মধ্যে ধর্মান্তরগ্রাহ শুরু করেন। পলের মতে, বিজাতীয় ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের ইহুদী হুকুম আহকাম থেকে অব্যাহতি দেওয়া যেতে পারে। তার যুক্তিতে সকলেই যীশুর উপর বিশ্বাসের কারণে সঠিক পথে আছে।[৫][৬] এটিই ছিল প্রাথমিক খ্রিস্টধর্ম এবং ইহুদি ধর্মের ক্রমান্বয়ে বিভক্তির একটি অংশ। কারণ এর মাধ্যমে খ্রিস্টধর্ম একটি স্বতন্ত্র ধর্ম হয়ে ওঠে যার মধ্যে প্রধানত বিধর্মীদের আনুগত্য ছিল।[৫]

জেরুজালেমে একটি প্রাথমিক খ্রিস্টান সম্প্রদায় ছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন জেমস দ্য জাস্ট, পিটার এবং জন[৭] অ্যাক্টস ১১:২৬ অনুসারে, অ্যান্টিওকে যীশুর অনুসারীদের প্রথম খ্রিস্টান নামে অভিহিত করা হয়। প্রেরিত পিটার রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী রোমে শহীদ হন। প্রেরিতরা সুসমাচারের বার্তাকে ধ্রুপদী বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে গিয়েছিলেন এবং খ্রিস্টধর্মের প্রাথমিক কেন্দ্রগুলির পাশাপাশি প্রেরিতীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। সর্বশেষ মারা যাওয়া প্রেরিতের নাম ছিল জন (যোহন), আনু. ১০০ খ্রিস্টাব্দে তার মৃত্যু।[৮]

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

প্রাচীন ইহুদীয় খ্রিস্টানরা নিজেদেরকে "পথ" হিসাবে পরিচয় দিতেন, সম্ভবত এটি ইশাইয়া ৪০:৩ নং অনুচ্ছেদ "প্রভুর পথ প্রস্তুত করুন" থেকে নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ইহুদিরা তাদের ডাকতেন "নাসারা" বলে,অথচ কিছু ইহুদি-খ্রিস্টান সম্প্রদায় নিজেদেরকে "এবিওনাইটস" বলে পরিচয় দিতেন, যার অর্থ "দরিদ্র"। অ্যাক্টস ১১:২৬ এ রয়েছে, সর্বপ্রথম অ্যান্টিওক শহরে অ্যান্টিওকের অ-ইহুদি রোমান বাসিন্দারা যিশুর শিষ্যদের বোঝাতে "খ্রিস্টান" শব্দটি ব্যবহার করে, যার অর্থ "খ্রিস্টের অনুসারী"।[৯] আর "খ্রিস্টধর্ম" শব্দটির প্রাচীনতম নথিভুক্ত ব্যবহার হয়েছিল প্রায় ১০০ খ্রি সালে, অ্যান্টিওকের ইগনাশিয়াসের দ্বারা।

উৎপত্তি[সম্পাদনা]

ইহুদি-হেলেনীয় পটভূমি[সম্পাদনা]

যীশুর প্রথম অনুসারীরা ইহুদি দ্বিতীয় উপাসনালয় রাজ্যের মধ্যে পরকালিক ইহুদি খ্রিস্টান সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত ছিল।[১০][১১][১২][১৩][১৪] প্রাথমিক খ্রিস্টান দলগুলি কট্টর ইহুদি ছিল, যেমন ইবিওনাইটস,[১০] এবং জেরুজালেমের প্রাথমিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়, যার নেতৃত্বে ছিলেন জেমস দ্য জাস্ট, যিশুর ভাই[১৩] খ্রিস্টধর্ম "রোমান ফিলিস্তিনে ইহুদি ধর্মের একটি সম্প্রদায় হিসাবে আবির্ভূত হয়"।[১৫] খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর সমন্বিত হেলেনিস্টিক বিশ্বে, যেখানে রোমান আইন এবং গ্রীক সংস্কৃতির আধিপত্য ছিল।[১৬] হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি সর্বত্র ইহুদিদের রীতিনীতি ও অনুশীলনের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ইহুদি ধর্মে প্রবেশের ফলে ইহুদি প্রবাসীদের মধ্যে হেলেনিস্টিক ইহুদি ধর্মের জন্ম হয় যা হেলেনিজমের সংস্কৃতি এবং ভাষার মধ্যে একটি হিব্র্যাইক-ইহুদি ধর্মীয় ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দী থেকে হেলেনিস্টিক ইহুদি ধর্ম টলেমাইক মিশরে ছড়িয়ে পড়ে এবং রোমানদের গ্রীস, আনাতোলিয়া, সিরিয়া, যিহূদিয়া এবং মিশরের বিজয়ের পর এটি একটি উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় লিসিটা হয়ে ওঠে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

  1. Fredriksen 2018
  2. International Standard Bible Encyclopedia: A-D (Fully Revised সংস্করণ)। Wm. B. Eerdmans Publishing Co.। ১৯৭৯। পৃষ্ঠা 689। আইএসবিএন 0-8028-3781-6 
  3. Barnett 2002
  4. L. Niswonger, Richard (১৯৯৩)। New Testament History। Zondervan Publishing Company। পৃষ্ঠা 200। আইএসবিএন 0-310-31201-9 
  5. Klutz, Todd (২০০২)। "Part II: Christian Origins and Development – Paul and the Development of Gentile Christianity"The Early Christian World। Routledge Worlds (1st সংস্করণ)। Routledge। পৃষ্ঠা 178–190। আইএসবিএন 9781032199344 
  6. Seifrid, Mark A. (১৯৯২)। "'Justification by Faith' and The Disposition of Paul's Argument"Justification by Faith: The Origin and Development of a Central Pauline ThemeNovum Testamentum, SupplementsBrill Publishers। পৃষ্ঠা 210–211, 246–247। আইএসএসএন 0167-9732আইএসবিএন 90-04-09521-7 
  7. McGrath 2006
  8. Zahn, Theodor. "John the Apostle", The New Schaff-Herzog Encyclopedia of Religious Knowledge, Vol. VI, (Philip Schaff, ed.) CCEL
  9. E. Peterson (1959), "Christianus." In: Frühkirche, Judentum und Gnosis, publisher: Herder, Freiburg, pp. 353–72
  10. Ehrman 2005
  11. Hurtado 2005
  12. Freeman, Charles (২০১০)। "Breaking Away: The First Christianities"A New History of Early ChristianityYale University Press। পৃষ্ঠা 31–46। আইএসবিএন 978-0-300-12581-8এলসিসিএন 2009012009জেস্টোর j.ctt1nq44w। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২১ 
  13. Wilken 2013a
  14. Lietaert Peerbolte, Bert Jan (২০১৩)। "How Antichrist Defeated Death: The Development of Christian Apocalyptic Eschatology in the Early Church"Paul, John, and Apocalyptic Eschatology: Studies in Honour of Martinus C. de BoerNovum Testamentum: SupplementsBrill Publishers। পৃষ্ঠা 238–255। আইএসএসএন 0167-9732আইএসবিএন 978-90-04-25026-0ডিওআই:10.1163/9789004250369_016। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২১ 
  15. Burkett 2002
  16. Mack 1995