হোসাইন ইবনে আলী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(হোসেইন ইবন আলী থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
হোসাইন ইবনে আলী
Twelver শিয়া ইসলামের ইমাম
Kerbela Hussein Moschee.jpg
ইমাম হোসাইনের সৌধ, কারবালা, ইরাক
একটি শিয়া শিল্পী দ্বারা আধুনিক চিত্রাঙ্কন
স্থান৩য় দ্বাদশ/জায়দী/মুস্তালি ইমাম
২য় নিজারি ইমাম
নামহোসাইন ইবনে আলী
কুনইয়া
  • আবু আব্দুল্লাহ[১][২]
    মৃত্যু পরবর্তী নাম:
  • আবুল আহরার[৩]
    (আরবীতে স্বাধীনতার পিতার জন্য ব্যবহৃত)
জন্ম[১] বা ৫[৪] শাবান ৪ হিজরী[১][৪]
/ ১১ বা ১৩ জানুয়ারী ৬২৬ খ্রিষ্টাব্দ
মৃত্যু১০ মুহাররম ৬১ হিজরি[১]
/১৩ অেক্টোবর ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ
জন্মস্থানমদিনা,সৌদি আরব[১]
কবরইমাম হোসেইন-এর সৌধ, কারবালা,ইরাক
জীবন কালইমামতির পূর্বে: ৪৬ বছর
(০৪-৫০ হি.)
– ৭ বছর তাঁর নানা মুহাম্মদ-এর সাথে Muhammad
– ৭ বছর তাঁর মাতা ফাতিমা-এর সাথে
– ৩৬ বছর তাঁর পিতা আলী-এর সাথে
– ৪৬ বছর তাঁর ভ্রাতা হাসান ইবন আলী-এর সাথে

Imāmate: ১১ বছর
(৫০-৬১ হি.)
উপাধি
  • আশ-শহীদ[৩]
    (শহীদ)
  • আস-সিবত[৩]
    (দৌহিত্র)
  • সাইয়্যিদু আসহাবী আহলিল জান্নাহ[৩][৫]
    ( বেহেশতে যুবকদের নেতা )
  • আর-রশীদ[৩]
    (সঠিক পথপ্রদর্শক)
  • আত-তাবে লি মারদাতিল্লাহ[৩]
    (আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসারী)
  • আল-মুবারক[৩]
    (বরকতপূর্ণ)
  • আত-তয়্যিব[৩]
    (ভালো বা উত্তম)
  • সাইয়্যিদুশ শুহাদা[১]
    (শহীদদের সরদার)
  • আল-ওয়াফী[৩]
    (বিশ্বস্ত)
  • উচুনযু আলী
    (Turkish তৃতীয় আলী)
পত্নী
পিতাআলী
মাতাফাতিমা
সন্তান
আলী · হাসান · হুসাইন

আল সাজ্জাদ · আল বাকার · আল সাদিক
আল কাধিম · আল রিদা · আল তাকি
আল হাদি · আল আসকারি · আল মাহদি

আল-হোসেইন ইবন আলী ইবন আবি তালিব (হুসেইন বানান-ও প্রচলিত) (আরবি: الحُسين بن علي بن أبي طالب‎‎) (১১ অথবা ১৩ জানুয়ারি ৬২৬ খ্রি. - ১৩ অক্টোবর ৬৮০ খ্রি. ) (৩ / ৫ শাবান ৪ হি. - ১০ মুহাররম ৬১ হি.) ছিলেন ইসলামের খোলাফায়ে রাশিদীন-এর সর্বশেষ খলিফা ও প্রথম শিয়া ইমাম আলী ইবন আবি তালিব এবং প্রবর্তক নবী মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমা জাহরা-এর পুত্র ও হাসান ইবন আলী-এর কনিষ্ঠ ভ্রাতা। হোসেইন ইমাম হিসেবে ও আহল আল-বায়াত বা নবী মুহাম্মদের পরিবারের সদস্য এবং আহল আল-কিসা -এর সদস্য হিসেবে ইসলামের একজন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

মুবাহালা সম্পাদনার ঘটনা[সম্পাদনা]

" মুহাবালা " ইসলামিক ইতিহাসের অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সমুহের একটি। হুসাইন ইবনে আলী ( আ. ) আহ্লুল বাইতের অন্তর্ভুক্ত বলে তিনিও আলী,[১] মুহাম্মদ( সা. ), ফাতিমা এবং হাসানের সাথে মুহাবালার ঘটনায় জড়িত। আরবি " মুহাবালা " শব্দটি এসেছে মূলত " বাহলা " মূলধাতু থেকে যার অর্থ অভিশাপ। এখানে মুহাবালা শব্দটি নাজরানের খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং রাসুলুল্লাহ ( সা. ) এবং তাঁর আহলুল বাইতের অনুগত শিয়া সম্প্রদায় একে অপরের প্রতি ব্যবহার করেছিলেন। " মুহাবালার চুক্তি " এই অভিশাপের শান্তিপূর্ণ সূচনা ঘটায় এবং মুসলিম-খ্রিস্টানদের ভাত্রিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় সম্প্রসারিত করে।

মুসলিম মনিষী আলী বিন ইবরাহীম আল-কুম্মীর তাফসির কিতাবে ইমাম আল-সাদিক ( আ. ) একটি হাদিস বিবৃত করেন:

" নাজরানের খ্রিস্টানেরা ( খ্রিস্টানদের প্রতিনিধি হিসেবে ) রাসুলুল্লাহ ( সা. ) এর নিকট আসেন, ( মসজিদে নববির ) দরজার ঘণ্টা বাজায়; ( তাঁর ভেতরে ঢুকলে ) সাহাবারা প্রতিবাদ সরূপ বলে উঠেন, ' হে রাসুলুল্লাহ্ ( সা. )! আপনার মসজিদে এসব ( কী হতে চলেছে )? ' তিনি বলেছিলেন, ' তাঁদেরকে নিজের মতো করে ছেড়ে দাও। ( তাঁরা নিজের মতো করেই ইবাদত করুক ) '

তাঁরা নিজেদের ইবাদত শেষ করে রাসুলুল্লাহ্ ( সা. ) এর কাছে গমন করেন এবং জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘ আপনি কী সাক্ষ দেন? ' উত্তরে তিনি ( সা. ) বলেন, ‘ আমি সাক্ষ দেই যে আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল এবং ঈসা ( আ. )কে সৃষ্টি করা হয়েছে ( আল্লাহর ) সেবক হিসেবে এবং তিনি ( সাধারণ মানুষের ন্যায় ) পানাহার করতেন এবং নিজেই নিজের সাহায্য করতেন। '

তাঁরা এরপর বলে উঠল, ‘ তাহলে তাঁর পিতা কে ছিলেন? ', তখন রাসুলুল্লাহ ( সা. ) এর কাছে নাযিল হয়, ‘ তাঁদেরকে ঘোষণা দাও- তোমরা আদম ( আ. ) সম্পর্কে কি মতামত পোষণ করো? তাঁকে কি আল্লাহর বান্দা হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে, সে কি পানাহার, আয়েস এবং সহবাস করতো? ' রাসুলুল্লাহ ( সা. ) উক্ত প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বলেন, ‘ হ্যা ( আমরা একই মতামত পোষণ করি ) ' তিনি এরপর তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ তাহলে তাঁর পিতা কে ছিলেন? ' তাঁরা উত্তর দিতে পারলেন না, তাই আল্লাহ্ নাযিল করেন,

' সত্যিই, ঈসার উদাহরণ আদমের উদাহরণের অনুরূপ; আল্লাহ যাঁকে মাটি হতে সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাঁকে ‘ হও ' বলার পর তিনি পরিণত হন। ' ( কোরান ৩:৫৯ )

রাসুলুল্লাহ ( সা. ) ( তাঁদের মনের অবস্থা পরিলক্ষিত করে ) বলেন, ‘ তাহকে আহবান করো: যদি আমি সত্যি কথা বলে থাকি, তোমাদের ওপর অভিশাপ পড়বে এবং যদি ভুল বলে থাকি, আমার ওপর ( উল্টো ) অভিশাপ পড়বে। '

তাঁরা এক নির্দিষ্ট তারিখে এই পারস্পরিক অভিশাপ আরম্ভে সম্মতি জানায়।

তাঁরা যখন সেখানে তাঁদের ( সাময়িক ) থাকার স্থানে ফিরে আসে, তাঁদের নেতা আল-সাঈদ, আল-আকীব, আল-আহতাম ব্যক্ত করেন, ‘ সে যদি তাঁর অনুসারীদেরকে নিয়ে আমাদের এই আহবান করে, আমরা তা গ্রহণ করবো কারণ তিনি কোন নবি নন; কিন্তু সে যদি তাঁর পরিবারের সহিত তা করতে সাহস করে যা আমরা করিনি, কারণ সে কখনো ( এই ব্যপারে ) তাঁর পরিবারকে সামনে আনবে না, যদি না সে সত্যবাদী হয়। '

সকালে, তাঁরা ( পুনরায় ) রাসুলুল্লাহ ( সা. ) এর নিকট গমণ করে এবং তাঁরা তাঁর ( সা. ) সঙ্গে আমীরুল মুমিনিন ( আলী আ. ), ফাতিমাহ্, হাসান এবং হুসাইনকেও দেখতে পান, তাই তাঁরা হকচকিয়ে বলে উঠেন, ‘ এরা কারা? ', লোকেরা জবাবে দিল, ‘ ইনি তাঁর চাচাতো ভাই, উত্তরসূরী এবং জামাই, ইনি হলেন তাঁর কণ্যা ফাতিমাহ্ এবং এনারা হলেন তাঁর নাতি - আল-হাসান এবং আল-হুসাইন। '

তাঁর এই দেখে চিন্তিত এবং ভীত হয়ে পড়েন। তাঁরা রাসুলুল্লাহ ( সা. )কে বলেন, ‘ আমরা আপনাকে যতেচ্ছা অর্থ দেব, তাই মুহাবালা থেকে আমাদের মুক্তি দিন। ' রাসুলুল্লাহ ( সা. ) জিযীয়া পরিষোধের বিনিময়ে তাঁদের সাথে এক চুক্তিতে আবদ্ধ হন এবং তাঁরা সহসা বিদায় নেন। " [২]

হোসেইন এবং খিলাফত[সম্পাদনা]

হোসেইন এবং খোলাফায়ে রাশিদীন[সম্পাদনা]

ইমাম হোসাইন ইয়াজিদের বাইয়্যাত গ্রহণের প্রস্তাব অস্বীকার করে আপনজনদের কাছে ফিরে আসলেন এবং সবাইকে একত্রিত করে বললেন, আমার প্রিয়জনেরা! যদি আমি পবিত্র মদীনা শহরে অবস্থান করি, এরা আমাকে ইয়াযীদের বাইয়াত করার জন্য বাধ্য করবে, কিন্তু আমি কখনও বাইয়াত গ্রহণ করতে পারবো না। তারা বাধ্য করলে নিশ্চয়ই যুদ্ধ হবে, ফাসাদ হবে; কিন্তু আমি চাইনা আমার কারণে মদীনা শরীফে লড়াই বা ফাসাদ হোক। আমার মতে, এটাই সমীচীন হবে যে, এখান থেকে হিজরত করে মক্কা শরীফে চলে যাওয়া। নিজের আপনজনেরা বললেন, ‘আপনি আমাদের অভিভাবক; আমাদেরকে যা হুকুম করবেন তাই মেনে নেব।’ অতঃপর তিনি মদীনা শরীফ থেকে হিজরত করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তথন তিনি নবী মুহাম্মাদের রওযায় উপস্থিত হয়ে বিদায়ী সালাম পেশ করলেন এবং আত্মীয়-পরিজন সহকারে মদীনা থেকে হিজরত করে মক্কায় চলে গেলেন। হেরেম শরীফের সীমানায় অবস্থান করে স্রষ্টার ইবাদত বন্দেগীতে বাকী জীবন কাটিয়ে দিবেন - এই ছিলো তার মনোবাসনা।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

মুয়াবিয়ার সময়[সম্পাদনা]

ইয়াজীদ-এর শাসন[সম্পাদনা]

গণআন্দোলন[সম্পাদনা]

কারবালার যুদ্ধ[সম্পাদনা]

সুন্নি মতবাদ[সম্পাদনা]

শিয়া মতবাদ[সম্পাদনা]

হোসেইন-এর মস্তকের প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে ফাতেমীয়দের বিশ্বাস[সম্পাদনা]

পরিবার[সম্পাদনা]

হুসাইন রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এর সন্তানাদি

  1. জয়নাল আবেদীন ইবনে হুসাইন
  2. উমর ইবনে হুসাইন
  3. আলি আল আসগার ইবনে হুসাইন
  4. আবু বকর ইবনে হুসাইন
  5. সাকিনাহ বিনতে হুসাইন
  6. সুকায়না বিনতে হুসাইন
  7. ফাতিমা আল সুঘরা
  8. ফাতিমা বিনতে হুসাইন
  9. উমমে কুলসুম বিনতে হুসাইন
  10. যাইনাব বিনতে হুসাইন

স্মারক[সম্পাদনা]

hihi

হোসেইন সম্পর্কে শিয়া মতবাদ[সম্পাদনা]

সময়পঞ্জি[সম্পাদনা]

হোসাইন ইবনে আলী
আহলে বায়াত এর
Banu Quraish এর বংশ
জন্মঃ 3rd Sha‘bān 4 AH 11 January 626 CE মৃত্যুঃ 10th Muharram 61 AH 13 October 680 CE
শিয়া ইসলামী পদবীসমূহ
পূর্বসূরী
Hasan ibn Ali
Disputed by Nizari
3rd Imam of Shia Islam
669–680
উত্তরসূরী
‘Alī ibn Ḥusayn
উত্তরসূরী
Muhammad ibn al-Hanafiyyah
Kaysanites successor

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

উইকিউক্তিতে Imam Husayn সম্পর্কিত উক্তি পড়ুন

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. A Brief History of The Fourteen Infallibles। Qum: Ansariyan Publications। ২০০৪। পৃষ্ঠা 95। 
  2. Kitab al-Irshad। পৃষ্ঠা 198। 
  3. al-Qarashi, Baqir Shareef (২০০৭)। The life of Imam Husain। Qum: Ansariyan Publications। পৃষ্ঠা 58। 
  4. al-Qarashi, Baqir Shareef (২০০৭)। The life of Imam Husain। Qum: Ansariyan Publications। পৃষ্ঠা 51। 
  5. Tirmidhi, Vol. II, p. 221 ; تاريخ الخلفاء، ص189

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বই
এনসাইক্লোপিডিয়া
Blog

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Martyrs of Karbala