হেনতাই
| অ্যানিমে ও মাঙ্গা |
|---|
| ধারাবাহিকের অংশ |
|
|

জাপানের বাইরে, হেনতাই (変態 or へんたい; ইংরেজি: /ˈhɛntaɪ/; সাহিত্য. "বিকৃত যৌনতা") হলো অ্যানিমে এবং মাঙ্গা পর্নোগ্রাফি। জাপানি ভাষায় হেনতাই কোন চলচ্চিত্র বা ভিডিওর শ্রেণী নয় বরং যে কোন প্রকারের অদ্ভুত বা বিচিত্র যৌনতা কিংবা স্বেচ্ছায় সাধারণ যৌনতার থেকে ভিন্নত্বর যৌনতার ইচ্ছা পোষণ করাকে বোঝায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জাপানের বাইরে নারী সমকামিতার অঙ্কিত কাজগুলোকে "ইয়ুরি হেনতাই" বলা হয় কিন্তু জাপানে এটাকে শুধু "ইয়ুরি" হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
হেনতাই শব্দটি হেনতাই সেইয়কু (変態性欲) এর সংক্ষিপ্ত রূপ যা মূলত বিকৃত যৌন আকাঙ্ক্ষাকে বোঝায়। জাপানি ভাষায় হেনতাই শব্দটির মুল অর্থ হলো রূপান্তর বা চারিত্রিক পরিবর্তনকে বোঝায়।
পরিভাষা
[সম্পাদনা]হেনতাই একটি কাঞ্জি শব্দ যার 変 (হেন; অর্থ "পরিবর্তন", "অদ্ভুত" অথবা "অদৃষ্টপূর্ব") এবং 態 (টাই; অর্থ "দৃশ্যমান" অথবা "শর্তাধীন"). এটি আরও বোঝায় "বিকৃতি" অথবা "অস্বাভাবিকতা", বিশেষ করে যখন এটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।[১]:৯৯ এটি হেনতাই সেইয়কুর (変態性欲) সংক্ষিপ্তরূপ যার অর্থ "যৌন বিকৃতি".[২] হেন শব্দটি সবধরনের অস্বাভাবিকতাকে ধারণ করে—তবে সুনির্দিষ্টভাবে যৌনতাকে ধারণ করে না।[১]:৯৯ যখন জাপানে হেনতাই প্রকাশনা প্রসারিত হয় তখন মূলধারায় বিসমকামিতা থাকলেও [১]:১০৭ সমকামী চরিত্রগুলো যা বিদেশি শব্দ হিসেবে জাপানে আসে হেনতাই হিসেবেই প্রকাশ পেতে থাকে। [১]:১০০[২] জাপানে পর্ণগ্রাফিগুলো সাধারণত ১৮-কিণ (18禁, "১৮-এর কমবয়সী"), অর্থাৎ "যাদের বয়স ১৮-এর কম", এবং সেইজিন মাঙ্গা (成人漫画, "প্রাপ্তবয়স্ক মাঙ্গা") এই দুই অংশে নির্দিষ্ট। [২] ইরো অ্যানিমে (エロアニメ), ইরো মাঙ্গা (エロ漫画), এবং ইংরেজি বর্ণ AV ("adult video") বলেও একে ডাকা হয়। জাপানে হেনতাই শ্রেণি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।
হেনতাই শব্দটিকে ইংরেজি ভাষায় আলাদাভাবে বর্ণনা করা হয়। দ্যা অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারির বর্ণনা মতে এটি হলো "a subgenre of the Japanese genres of manga and anime, characterized by overtly sexualized characters and sexually explicit images and plots."[৩]
বিভাগ বা শাখা
[সম্পাদনা]| বাংলা উচ্চারণ | সাধারণ জাপানি ভাষায় | ধরন | বর্ণনা |
|---|---|---|---|
| ইয়াওই/shōnen-ai/ছেলের প্রতি ভালোবাসা | やおい | লিঙ্গভিত্তিক | পুরুষ সমকামিতা |
| ইয়ুরি/shōjo-ai/মেয়ের প্রতি ভালোবাসা | 百合 | লিঙ্গভিত্তিক | নারী সমকামিতা |
| লোলিকোন | ロリコン | লিঙ্গ এবং বয়ঃভিত্তিক | মুল ভূমিকায় শিশু, কিশোরী অথবা সদ্য যৌবনা তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সাথে সমকামিতা কিংবা বিসমকামিতা |
| শোতাকোন | ショタコン | লিঙ্গ এবং বয়ঃভিত্তিক | মুল ভূমিকায় শিশু, কিশোর অথবা সদ্য যৌবন তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের সাথে সমকামিতা কিংবা বিসমকামিতা |
| বাংলা উচ্চারণ | সাধারণ জাপানি ভাষায় | ধরন | বর্ণনা |
|---|---|---|---|
| বাকুনয়ু (Bakunyū) | 爆乳 | অস্বাভাবিক | পর্ণগ্রাফিক একটি শ্রেণি যেখানে অঙ্কিত নারীর বৃহদাকার স্তন্যকে মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়।[৪] শব্দটিকে সাহিত্যের পরিভাষায় "exploding breasts" হিসেবে বর্ণনা করা যায়।[৫] বাকুনয়ু(Bakunyū) হলো হেনতাইয়ের একটি উপশাখা।[৬] |
| ফুতানারি | ふたなり | অস্বাভাবিক | উভলিঙ্গ সাথে যৌনতা |
| ইন্সেস্ট | 近親相姦 | অস্বাভাবিক | পরিবারের সদস্যদের সাথে যৌনতা |
| নেতোরারে(Netorare) | 寝取られ | অস্বাভাবিক | নির্দিষ্ট কাউকে ধোঁকা দেওয়া, |
| ওমরাশি | おもらし/お漏らし | অস্বাভাবিক | উরলাগ্নিয়া থেকে। |
| টেনটাক্লে | 触手責め | Paraphilia | শুঁড়যুক্ত অঙ্কিত প্রাণী এবং কিছু ক্ষেত্রে রাক্ষসের (রূপকথা বা অন্যকিছুর) সাথে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়েদের যৌনতা অথবা ধর্ষণ; ছেলেদের সাথে খুব কম দেখা যায়। |
| জসউসেমে (Josouseme)/Daughter-attack | 女装攻め | অস্বাভাবিক | কাথএয়, পুরুষ অথবা টমগার্ল মুখ্য ভূমিকায় (যেমন. দ্যা "সিম") বা প্রধান ভূমিকায় একজন সঙ্গী। |
ইতিহাস
[সম্পাদনা]
হেনতাই শব্দটি যখন যেকোনো প্রকারের যৌন উত্তেজক চিত্র বা উপস্থাপনাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, তখন এর ইতিহাসকে সংশ্লিষ্ট মাধ্যম অনুসারে ভাগ করা হয়ে থাকে। জাপানি চিত্রকলা ও কমিকস এই ধরনের উপস্থাপনার প্রাথমিক উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা ১৯৭৯ সালে আজুমা হিদেও-এর শিবেরু প্রকাশের পর থেকে এই ধারার প্রতীকী রূপে পরিগণিত হতে থাকে।[৭]
১৯৩২ সালের সুজুমে বুনে চলচ্চিত্রে হেনতাই উপস্থাপনার প্রাথমিক নিদর্শন পাওয়া যায়। যেটি নির্মাণ করছিলেন হাকুসান কিমুরা। কিন্তু চলচ্চিত্রটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পুলিশের হাতে জব্দ হয়। সুজুমে বুনের অবশিষ্টাংশ ২১শ শতকের শুরুতে জাতীয় চলচ্চিত্র সংরক্ষণাগারে হস্তান্তর করা হয়।[৮] চলচ্চিত্রটি আজও জনসাধারণের জন্য প্রদর্শিত হয়নি।[৯]
তবে ১৯৮৪ সালে ওয়ান্ডারকিড নির্মিত ললিতা আনিমে-কে প্রথম যৌনবিষয়ক আনিমে হিসেবে সাধারণভাবে মুক্তি দেওয়া হয়,[১০] যদিও এর আগে ১৯৬৯ সালের আরব্য রজনীর এক হাজার এক রাত এবং ১৯৭০ সালের ক্লিওপেট্রা চলচ্চিত্রে যৌন ও নগ্ন উপস্থাপনায় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছিল।
আরেকটি বিতর্কিত মাধ্যম হচ্ছে যৌনবিষয়ক ভিডিও গেম। ১৯৮৫ সালের যৌনবিষয়ক ভিডিও গেম তেন্সিতাচি নো গোগো হেনতাই শিল্পধারার প্রথমগুলোর মধ্যে গণ্য হয়। প্রতিটি মাধ্যমে হেনতাই শব্দের ব্যাপক অর্থ ও ব্যবহার তার ইতিহাস বিশ্লেষণকে জটিল করে তোলে।[৭]
কামোত্তেজক মাঙ্গার উৎস
[সম্পাদনা]
যৌনতা এবং যৌনতার নানা অস্বাভাবিক রূপের চিত্রায়ন বহু যুগ ধরেই শিল্পকর্মে দেখা যায়, যা "হেনতাই" শব্দটির প্রচলনেরও অনেক আগে থেকে বিদ্যমান। জাপানি কামোত্তেজক শিল্পকে "শুঙ্গা" (Shunga) বলা হয়, এবং ধারণা করা হয় যে হেইয়ান যুগে (৭৯৪-১১৮৫ খ্রিষ্টাব্দ) এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। তবে ষোড়শ থেকে উনবিংশ শতক পর্যন্ত শোগুন শাসকেরা (জাপানের তৎকালীন সামরিক শাসক) এই শিল্পকে দমন করে রেখেছিল।[১১] এর একটি বিখ্যাত উদাহরণ হলো হোকুসাইয়ের আঁকা দ্য ড্রিম অব ফিসারম্যান'স ওয়াফ, যেখানে দেখা যায় দুটি অক্টোপাস একজন নারীকে যৌন উদ্দীপনা দিচ্ছে। উনবিংশ শতকের শেষের দিকে যখন পর্নোগ্রাফিক ছবি সহজলভ্য হতে শুরু করে, তখন শুঙ্গা শিল্প ধীরে ধীরে আবেদন হারায়।
কামোত্তেজক মাঙ্গা কী, তা বুঝতে হলে আগে "মাঙ্গা" কী, তা জানা প্রয়োজন। যদিও "হোকুসাই মাঙ্গা" বইটির নামে "মাঙ্গা" শব্দটি আছে, কিন্তু এতে আধুনিক মাঙ্গার মতো কোনো গল্প বলা নেই; ছবিগুলো একটির সাথে অন্যটি সম্পর্কহীন। উনবিংশ এবং বিংশ শতকে পর্নোগ্রাফিক ছবির প্রভাবে মাঙ্গার চরিত্রগুলোকে বাস্তবসম্মতভাবে আঁকা হতো। পরবর্তীতে ওসামু তেজুকা মাঙ্গার আধুনিক রূপ এবং ধরন তৈরি করেন, যার জন্য তাকে "মাঙ্গার ঈশ্বর" বলা হয়।[১২][১৩] ১৯৪৭ সালে তাঁর প্রথম কাজ "নতুন ট্রেজার আইল্যান্ড" মাঙ্গা বই হিসেবে প্রকাশিত হয়েই চার লক্ষেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল,[১২] যদিও তেজুকার "অ্যাস্ট্রো বয়", "মেট্রোপলিস" এবং "জাঙ্গল এম্পারার" এর মতো মাঙ্গাগুলোই এই মাধ্যমকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলে। গল্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই মাঙ্গাগুলো "সাজায়ে-সানের" মতো সাধারণ কমিক স্ট্রিপ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল এবং খুব দ্রুত শোজো (shōjo) এবং শোনেন ম্যাগাজিনে এই গল্পভিত্তিক মাঙ্গা জনপ্রিয়তার শীর্ষে চলে আসে।[১২]
১৯৪০-এর দশক থেকেই মাঙ্গাতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিভিন্ন বিষয়বস্তু ছিল। তবে তেজুকার আঁকা সুন্দর ও মায়াবী চেহারার চরিত্রগুলোর চেয়ে সেগুলোর অঙ্কনশৈলী অনেক বেশি বাস্তবসম্মত ছিল।[১৪] ১৯৭৩ সালে জাপানে "মাঙ্গা বেস্টসেলার" (যা পরে "মাঙ্গা ইরোটোপিয়া" নামে পরিচিত হয়) নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়, যেটিকে প্রথম হেনতাই মাঙ্গা ম্যাগাজিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি এরো-গেকিগা (ero-gekiga) নামে একটি নতুন ধারার জন্ম দেয়, যেখানে গেকিগা (gekiga) ধরনের মাঙ্গার সাথে আরও বেশি যৌনতা এবং সহিংস দৃশ্য যোগ করা হয়।[১৫] "ইরোজেনিকা" (১৯৭৫), এবং "অ্যালিস" (১৯৭৭) ছিল এই ধারার আরও দুটি জনপ্রিয় ম্যাগাজিন।[১৬] ১৯৭৮ সালের দিকে এরো-গেকিগা ম্যাগাজিনগুলোর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ওঠে এবং ধারণা করা হয় যে সেই সময়ে বছরে প্রায় আশি থেকে একশটি ভিন্ন ভিন্ন এরো-গেকিগা ম্যাগাজিন প্রকাশিত হতো।
ইরোটিক অ্যানিমের উৎস
[সম্পাদনা]

যেহেতু অ্যানিমেশন প্রযোজনার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, তাই ইংরেজি ভাষায় "হেনতাই" শব্দটি প্রচলিত হওয়ার পর অধিকাংশ ইরোটিক অ্যানিমে-কে পশ্চাদপদভাবে এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।টেমপ্লেট:বিশ্লেষণ প্রয়োজনটেমপ্লেট:উৎস নেই "হেনতাই" সাধারণত অতিরিক্ত নগ্নতা ও বিস্তারিত যৌন সহবাস চিত্রণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তা বিকৃত হোক কিংবা না হোক। অপরদিকে, "এচি" শব্দটি মূলত ফ্যানসার্ভিস বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেখানে সরাসরি যৌন মিলনের দৃশ্য অনুপস্থিত থাকে।
সবচেয়ে প্রাচীন পর্নোগ্রাফিক অ্যানিমেশন ছিলো সুজুমে-বুনেজা, যা ১৯৩২ সালে হাকুসা কিমুএয়া কর্তৃক নির্মিত হয়। এটি ছিলো একটি দুই-রীলবিশিষ্ট চলচ্চিত্রের প্রথম অংশ, যা নির্মাণাধীন অবস্থায় পুলিশ কর্তৃক জব্দ করা হয়। চলচ্চিত্রটির যে অংশটি নির্মিত হয়েছিল তা ২১শ শতকের শুরুতে টোকিও পুলিশের সংগ্রহ থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র সংরক্ষণাগারে দান করা হয়, কারণ চলচ্চিত্রটি রূপার নাইট্রেট উপাদানে নির্মিত হওয়ায় অত্যন্ত দাহ্য ছিল।[৮] চলচ্চিত্রটি জনসমক্ষে আর কখনো প্রদর্শিত হয়নি।[৯]
দুটি প্রাথমিক অ্যানিমে-কর্মকে যদিও সরাসরি হেনতাই হিসেবে চিহ্নিত করা হয় না, তবু সেগুলোর মধ্যে যৌন উপাদান স্পষ্টভাবে বিদ্যমান ছিল। ধারণা করা হয়, এই কাজগুলো হেনতাই হিসেবে পরিচিতি পায়নি মূলত এদের অপরিচিতি এবং অস্পষ্টতার কারণে। এই চলচ্চিত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রে আসে এবং জনগণের দৃষ্টি থেকে হারিয়ে যায় অনেক আগেই—যে সময়ে আমেরিকায় ‘হেনতাই’ শব্দটির প্রচলন শুরু হয়নি।
প্রথম উদাহরণটি হচ্ছে ১৯৬৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ওয়ান থাউজ্যান্ড অ্যান্ড ওয়ান অ্যারাবিয়ান নাইটস (ইংরেজি: One Thousand and One Arabian Nights) — যা মূল আরব্য রজনীর কাহিনির যৌন উপাদানগুলোকে বিশ্বস্তভাবে উপস্থাপন করে।[১৭]:২৭
দ্বিতীয় উদাহরণ, ১৯৭০ সালের অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ক্লিওপেট্রা: কুইন অব সেক্স (ইংরেজি: Cleopatra: Queen of Sex)। এটি ছিল প্রথম অ্যানিমে যা এক্স রেটিং পায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রে এটি ভুলভাবে কেবল ‘ইরোটিকা’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল।[১৭]:১০৪
যৌন উত্তেজক গেমের উৎস
[সম্পাদনা]
এরোগে (যা মানে যৌনবিষয়ক গেম) শব্দটি সাধারণত যে কোনও যৌনউত্তেজক গেমকে নির্দেশ করে, তবে বিশেষভাবে এটির অর্থ এমন ভিডিও গেম যা আনিমে ও মাঙ্গার শিল্পী শৈলীর মাধ্যমে যৌন বিষয় উপস্থাপন করে। ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে এরোগের উৎপত্তি হয়। যখন জাপানের কম্পিউটার শিল্প একটি মান নির্ধারণের চেষ্টা করছিল এবং এনইসি, শার্প ও ফুজিৎসু এর মতো নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল।[১৮] প্রসেসিং পাওয়ারের অভাব, সীমিত গ্রাফিক্স এবং সিডি ড্রাইভ না থাকা সত্ত্বেও পিসি৯৮ সিরিজ, বাজারে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে, যেখানে এরোগে গেমগুলোর জনপ্রিয়তা এই সফলতায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।[১৮][১৯]
যৌনবিষয়ক গেম কীভাবে সংজ্ঞায়িত হবে তা অস্পষ্ট হওয়ায় প্রথম এরোগে হিসেবে একাধিক গেমকে বিবেচনা করা হয়। যদি প্রাপ্ত বয়স্ক থিম ভিত্তিক সংজ্ঞা বিবেচনা করা হয়, তাহলে প্রথম গেমটি ছিল সফটপর্ন অ্যাডভেঞ্চার, যেটি ১৯৮১ সালে আমেরিকায় আপেল দুই কম্পিউটারের জন্য প্রকাশিত হয়েছিল। এটি ছিল অন-লাইন সিস্টেমস দ্বারা নির্মিত একটি পাঠ-ভিত্তিক হাস্যরসাত্মক গেম।
অন্যদিকে, যদি এরোগে বলতে জাপানি প্রেক্ষাপটে যৌনবিষয়ক চিত্রসহ প্রথম ভিডিও গেম বোঝানো হয়, তবে প্রথম গেম হিসেবে কোই-এর নাইট লাইফকে ধরা হয়। যেটি ১৯৮২ সালে বাজারে মুক্তি পায় ।[১৯][২০] যৌন মিলনের চিত্রায়ন এখানে সহজ রেখাচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, নাইট লাইফ গেমটি মূলত প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদনের জন্য নয়, বরং "দাম্পত্য জীবনকে সহায়তা করার" জন্য একটি নির্দেশনামূলক গাইড হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৮৩ সাল নাগাদ স্ট্রিপ মাহজং ধরণের বেশ কিছু পোশাক খোলাভিত্তিক গেম বাজারে আসে। প্রথম অ্যানিমের মতো প্রাপ্তবয়স্ক গেম ছিল তেনশিতাচি নো গোগো, যা ১৯৮৫ সালে জেএএসটি কর্তৃক প্রকাশিত হয়। ১৯৮৮ সালে আসকি (ASCII) কোম্পানি প্রথম প্রাপ্তবয়স্ক রোল-প্লেয়িং গেম কেওস অ্যাঞ্জেল প্রকাশ করে।[১৮]১৯৮৯ সালে, অ্যালিসসফট টার্ন-ভিত্তিক রোল-প্লেয়িং গেম র্যান্স প্রকাশ করে এবং এলএলএফ কোম্পানি ড্রাগন নাইট গেমটি বাজারে আনে।[১৮] ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে,এরোগে-এর বাজারে মন্দা দেখা দেয়। গেমগুলোর উচ্চমূল্য, তৎসঙ্গে অর্থহীন যৌনতা ও বিরক্তিকর কাহিনির আধিক্য ক্রেতাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে।[১৮]এই প্রেক্ষাপটে, ১৯৯২ সালে ইএলএফ (ELF) কোম্পানি দোকিউসেই গেমটি প্রকাশ করে, যা এক নতুন ধারার – ডেটিং সিম – সূচনা করে।[১৮]দোকিউসেই-এর বিশেষত্ব ছিল এর অনির্ধারিত কাহিনি। এই গেমে গল্প এগিয়ে নিতে হলে খেলোয়াড়কে বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হতো।[১৮]প্রতিটি মেয়ের নিজস্ব কাহিনি ছিল, এবং সম্পর্ক পরিণতিতে পৌঁছানোর পূর্বে খেলোয়াড়কে তাদের ভালোবাসা অর্জন করতে হতো; এখানে দ্রুত যৌনতা বা 'সহজ সাফল্য'র সুযোগ ছিল না।[১৮] "ভিজ্যুয়াল নভেল" শব্দটির সংজ্ঞা কিছুটা অস্পষ্ট। জাপানি ও ইংরেজি উভয় প্রেক্ষাপটেই এটি এমন এক ধরনের ইন্টারঅ্যাকটিভ কাহিনিভিত্তিক গেম হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে বর্ণনাভিত্তিক উপস্থাপনাই মূল এবং খেলোয়াড়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ সীমিত। যদিও এই পরিভাষাটি অনেক পুরোনো গেমের ক্ষেত্রেও পরবর্তীকালে প্রয়োগ করা হয়েছে, মূলত লিফ কোম্পানি তাদের "লিফ ভিজ্যুয়াল নভেল সিরিজ" (LVNS) এবং ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত শিজুকু ও কিজুয়াতো গেমগুলোর মাধ্যমে এই শব্দটির প্রবর্তন করে।[১৮] এই দুইটি এরোগে গেমের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালে এলএভএনএস-এর তৃতীয় ও শেষ পর্ব, রোমান্টিক এরোগে গেম টু হার্ট প্রকাশিত হয়।[১৮]১৯৯৮ সালে এরোগে ধরনের ভিজ্যুয়াল নভেল ট্যাকটিক্স কোম্পানির প্রকাশিত ওয়ান: কাগায়াকু কিসেতসু এ গেমটির মাধ্যমে আবেগনির্ভর এক নতুন ধারা অর্জন করে।[১৮]পরবর্তীতে কি কোম্পানির ১৯৯৯ সালের কানন গেমটি ব্যাপক সাফল্য লাভ করে, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন গেম কনসোলে রূপান্তর, দুটি মাঙ্গা সিরিজ এবং দুটি অ্যানিমে সিরিজে রূপায়িত হয়।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- ইচি
- দজিনশি
- হেনতাই এনিমের তালিকা
- হেনতাই লেখকদের তালিকা (ভিন্ন দল, স্টুডিও, প্রযোজনা সংস্থা)
- হেনতাই মাঙ্গার তালিকা
- পাঞ্ছিরা
- ইউনিফর্ম ফেটিশম
- アダルトアニメ
- ললিকন
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 Livia, Anna; Kira, Hall (১৯৯৭)। "Queerly Phrased: Language, Gender, and Sexuality"। Oxford University Press।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - 1 2 3 McLelland, Mark (জানুয়ারি ২০০৬)। "A Short History of Hentai"। Intersections: Gender, History and Culture in the Asian Context (12)। এইচডিএল:1885/8673। ২২ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১৪।
- ↑ "hentai"। Oxford Dictionary Online। Oxford University Press। ৬ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ এপ্রিল ২০১৩।
- ↑ Moore, Lucy (২৯ আগস্ট ২০০৮)। "Internet of hentai"। Student Life। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১০।
- ↑ "Word Display"। WWWJDIC। ৩০ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০১০।
- ↑ Thompson, Jason (২০০৭)। Manga: The Complete Guide। Ballantine Books/Del Rey। আইএসবিএন ০-৩৪৫-৪৮৫৯০-৪।
- 1 2 Galbraith, Patrick W.; Kam, Thiam Huat; Kamm, Björn-Ole (২১ মে ২০১৫)। Debating Otaku in Contemporary Japan: Historical Perspectives and New Horizons (ইংরেজি ভাষায়)। Bloomsbury Publishing। আইএসবিএন ৯৭৮১৪৭২৫৯৪৯৮৩।
- 1 2 Clements, Jonathan; McCarthy, Helen (২০১৫)। "Erotica and pornography"। The Anime Encyclopedia: A Century of Japanese Animation (3rd Revised সংস্করণ)। Stone Bridge Press। আইএসবিএন ৯৭৮১৬১১৭২৯০৯২।
- 1 2 Clements, Jonathan (২০১০)। Schoolgirl Milky Crisis: Adventures in the Anime and Manga Trade। A-Net Digital LLC। পৃ. ৭৫। আইএসবিএন ৯৭৮০৯৮৪৫৯৩৭৪৩।
- ↑ Lunning, Frenchy (১ নভেম্বর ২০১৪)। Mechademia 3: Limits of the Human (ইংরেজি ভাষায়)। U of Minnesota Press। পৃ. ৪৯। আইএসবিএন ৯৭৮১৪৫২৯১৪১৭৬।
- ↑ Bowman, John (২০০০)। "Columbia Chronologies of Asian History and Culture"। Columbia University Press। ১৬ জুলাই ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৩।
- 1 2 3 "A History of Manga"। ১৫ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৩।
- ↑ "History of Manga and Hentai"। ১০ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১৬।
- ↑ Galbraith, Patrick (২০১১)। "Lolicon: The Reality of 'Virtual Child Pornography' in Japan"। Image & Narrative। ১২ (1)। The University of Tokyo। ৬ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৩।
- ↑ Kimi, Rito (২০২১)। The History of Hentai Manga: An Expressionist Examination of Eromanga। FAKKU। পৃ. ২৪, ২৫। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬৩৪৪২-২৫৩-৬।
- ↑ Gravett, Paul (২০০৪)। Manga: Sixty Years of Japanese Comics। New York: Laurence King Publishing and Harper Design International। পৃ. ১৩৫। আইএসবিএন ৯৭৮১৮৫৬৬৯৩৯১২। ওসিএলসি 935609782।
- 1 2 Clements, Jonathan; McCarthy, Helen (২০০৬)। The Anime Encyclopedia: A Guide to Japanese Animation Since 1917 (Revised and Expanded সংস্করণ)। Stone Bridge Press।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 Todome, Satoshi। "A History of Eroge"। ৫ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ এপ্রিল ২০১৩।
- 1 2 "Hardcore gaming 101: Japanese computers"। Hardcoregaming101। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ এপ্রিল ২০১৩।
- ↑ Jones, Matthew T. (ডিসেম্বর ২০০৫)। "The Impact of Telepresence on Cultural Transmission through Bishoujo Games" (পিডিএফ)। PsychNology Journal। ৩ (3): ২৯২–৩১১। আইএসএসএন 1720-7525। ২০ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুলাই ২০১৩।
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]- Aquila, Meredith (২০০৭)। "Ranma 1/2 Fan Fiction Writers: New Narrative Themes or the Same Old Story?"। Mechademia। ২। ১৫ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
- Buckley, Sandra (1991). "'Penguin in Bondage': A Graphic Tale of Japanese Comic Books", pp. 163–196, In Technoculture. C. Penley and A. Ross, eds. Minneapolis: University of Minnesota. আইএসবিএন ০-৮১৬৬-১৯৩২-৮.
- McCarthy, Helen, and Jonathan Clements (1998). The Erotic Anime Movie Guide. London: Titan. আইএসবিএন ১-৮৫২৮৬-৯৪৬-১.
- Napier, Susan J. (২০০০)। Anime: From Akira to Princess Mononoke। New York: Palgrave। আইএসবিএন ০-৩১২-২৩৮৬৩-০।
- Perper, Timothy; Cornog, Martha (মার্চ ২০০২)। "Eroticism for the masses: Japanese manga comics and their assimilation into the U.S."। Sexuality & Culture। ৬ (1): ৩–১২৬। ডিওআই:10.1007/s12119-002-1000-4।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]