হিল্টন ফিলিপসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হিল্টন ফিলিপসন
Hylton Philipson Vanity Fair 29 June 1889.jpg
জুন, ১৮৮৯ সালে ভ্যানিটি ফেয়ারে স্পাই (লেসলি ওয়ার্ড) অঙ্কিত হিল্টন ফিলিপসনের প্রতিকৃতি
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামহিল্টন ফিলিপসন
জন্ম৮ জুন, ১৮৬৬
টাইনমাউথ, নর্দাম্বারল্যান্ড
মৃত্যু৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৫
ডাকনামপাঞ্চ
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক
সম্পর্কম্যাক্স উসনাম (ভ্রাতৃষ্পুত্র)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৮১)
২৪ মার্চ ১৮৯২ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট৬ মার্চ ১৮৯৫ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৮৫
রানের সংখ্যা ৬৩ ১,৯৫১
ব্যাটিং গড় ৯.০০ ১৭.৪১
১০০/৫০ ০/০ ২/৭
সর্বোচ্চ রান ৩০ ১৫০
বল করেছে
উইকেট
বোলিং গড় - -
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং - -
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৮/৩ ১০৩/৪৭
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৯ এপ্রিল ২০২০

হিল্টন পাঞ্চ ফিলিপসন (ইংরেজি: Hylton Philipson; জন্ম: ৮ জুন, ১৮৬৬ - মৃত্যু: ৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৫) নর্দাম্বারল্যান্ডের টাইনমাউথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৮৯২ থেকে ১৮৯৫ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সঅক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন পাঞ্চ ফিলিপসন নামে পরিচিত হিল্টন ফিলিপসন

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

এটনে চলে যান ও ১৮৮৩ সালে ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম একাদশে ঠাঁই করে নেন নিজেকে। তৃতীয় বছরে উইনচেস্টারের বিপক্ষে ১৪১ রান তুলেন। হ্যারোর বিপক্ষে ৫৩ ও ২৭ করেন। ১৮৮৬ সালে অসুস্থতার কারণে খেলতে পারেননি। কিন্তু পরের বছর অক্সফোর্ড থেকে ব্লুধারী হয়েছিলেন। ১৮৮৯ সালে ডব্লিউ. ডব্লিউ. র‍্যাশলেইয়ের পরিবর্তে একাদশের নেতৃত্ব দেন।

অক্সফোর্ডে থাকাকালে উইকেট-রক্ষক হিসেবে সকলের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উপনীত হয়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৮৮৭ সালে মিডলসেক্সের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেন ১৫০ রান। সপ্তম উইকেটে কে. জে. কীয়ের সাথে ৩৪০ রান তুলেন। কে. জে. কী করেন ২৮১ রান। ১৮৮৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয় দলের সদস্যরূপে মিডলসেক্সের বিপক্ষে এ সংগ্রহটি করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, ১৮৮৭ সালে লর্ডস ও ওভালে জেন্টলম্যানের সদস্যরূপে প্লেয়ার্সের বিপক্ষে উভয় খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেন। ঐ দুই খেলায় জেন্টলম্যানের সদস্যেরা অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল ও প্লেয়ার্সের একাদশ দলটিও একইমানের ছিল। বিলি বেটস বাদে সকলেই সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষ খেলেছিলেন।

এটনে পড়াশুনো সম্পন্ন করেছিলেন হিল্ট ফিলিপসন। বিদ্যালয়ের ছাত্র অবস্থাতেই চমৎকার ক্রিকেট প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটান। এরপর, অক্সফোর্ডমূখী হন। সেখানে তিনি ব্লুধারী হন ও ১৮৮৯ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এছাড়াও, অক্সফোর্ডে থাকাকালে টেনিস, র‍্যাকেট ও ফুটবল সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্যান্য ক্রীড়ায়ও দক্ষ ছিলেন হিল্টন ফিলিপসন। এটনে থাকাকালে র‍্যাকেট চ্যাম্পিয়ন হন ও র‍্যাকেট এবং টেনিস একক ও দ্বৈতে কেমব্রিজের বিপক্ষে খেলেন। ১৮৯১ সালে র‍্যাকেটস অ্যামেচার চ্যাম্পিয়নশীপে পার্স অ্যাশওয়ার্থকে পরাভূত করে। ১৮৮৯ সালে ফুটবলে ফুল ব্যাক অবস্থানে থাকার প্রেক্ষিতে সি. রেফোর্ড-ব্রাউন তাকে ব্লু দেন। ফলে, সবমিলিয়ে চারটি খেলায় অক্সফোর্ডের সদস্যরূপে কেমব্রিজের বিপক্ষে খেলেছেন তিনি।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৮৮৭ সাল থেকে ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত হিল্টন ফিলিপসনের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৮৮৭ থেকে ১৮৮৯ সময়কালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেন। এরপর, ১৮৯৫ থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত মিডলসেক্সের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

বেশ ভালোমানের উইকেট-রক্ষক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। অধিকাংশ বোলারের বলই স্ট্যাম্পের খুব কাছে থেকে গ্লাভসবন্দী করতেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে শুরুরদিকের প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর পূরণ করতে পারেননি। তবে, ছন্দে থাকাকালীন বেশ প্রতিরক্ষাব্যূহ গড়ে তুলতেন ও উইকেটের সামনে এসে স্বাধীনভাবে বলকে আঘাত করতেন। ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত মাঝে-মধ্যে মিডলসেক্সের পক্ষে খেলতেন। এরপর নিজ কাউন্টি নর্দাম্বারল্যান্ডের পক্ষে খেলতে থাকেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন হিল্টন ফিলিপসন। ২৪ মার্চ, ১৮৯২ তারিখে অ্যাডিলেডে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১ মার্চ, ১৮৯৫ তারিখে মেলবোর্নে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবার জন্যে গ্রিগর ম্যাকগ্রিগরের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হতো হিল্টন ফিলিপসনকে। সেজন্যেই তাকে মাত্র পাঁচটি টেস্টে অংশ নিতে দেখা যায়। ১৮৯১-৯২ ও ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে ইংল্যান্ড দলের সাথে দুইবার অস্ট্রেলিয়া করেন। ঐ সফরগুলোতেই অংশগ্রহণকৃত পাঁচ টেস্ট খেলেন। এছাড়াও, ১৮৮৯ সালে জর্জ ভার্ননের সহযোগী হিসেবে ভারত গমন করেন। তবে, ঐ সময়ে ভারতের টেস্ট মর্যাদা ছিল না।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

লন টেনিসে অলিম্পক ও উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন ম্যাক্সওয়েল উসনাম সম্পর্কে তার কাকা। বহুপ্রতিভাধর ক্রীড়াব্যক্তিত্ব উসনাম ইংল্যান্ড ফুটবল দলকে একবার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।[১] ভিক্টোরীয় যুগের শেষদিকের শৌখিন ভদ্রলোকদের অন্যতম হিসেবে দূর্ভাগ্যের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন।[২] নর্দাম্বারিয়ান কয়লা খনি তার নিয়ন্ত্রণে ছিল।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। ১৮৯৬ সালে সম্মানীয়া নিনা শার্লত মারে নাম্নী ১০ম লর্ড এলিব্যাংক মন্টোলিও অলিফ্যান্ট-মারে ও ব্ল্যাঙ্ক অ্যালাইস স্কট দম্পতির কন্যাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে নিনা ক্লেয়ার ফিলিপসন, হিল্টন রল্ফ ফিলিপসন ও অলিফ্যান্ট জেমস ফিলিপসন নামীয় সন্তান ছিল।[৩]

নর্দাম্বারল্যান্ডের মিডলটন হল এলাকায় হিল্টন ফিলিপসন বসবাস করতেন। তবে, ১৯০৫ সালে স্কটল্যান্ডের সীমান্তবর্তী পিবলস এলাকার কাছাকাছি স্টবো ক্যাসলের সম্পত্তি ক্রয় করেন।

উদ্যানপালক হিসেবেও হিল্টন ফিলিপসনের সুনাম ছিল। ১৮৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ শেষে দেশে ফেরার পথে জাপানে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি জ্ঞান আহরণ করে স্টবো ক্যাসলে প্রয়োগ করেন।[৪] ১৯০৯ থেকে ১৯১৩ সালের মধ্যে জাপানী ধাঁচের জলাধার আকৃতির বাগানটি পরিচালিত করেছিলেন। জীবনের শেষদিকে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অতঃপর ৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে ৬৯ বছর বয়সে লন্ডনের হাইডপার্ক এলাকায় হিল্টন ফিলিপসনের দেহাবসান ঘটে। তবে, তার মৃত্যুর পর এ ভূসম্পত্তিটি স্বল্পকালের মধ্যে বিক্রি হয়ে যায়। ১৯৭১ সালে এ ভূসম্পত্তিটি পরবর্তীতে লিও সেম্যুরের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। মাঝেমধ্যে জলাধার বাগানটি সর্বসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Collins, Mick (২০০৬)। All-Round Genius: The Unknown Story of Britain's Greatest Sportsman। London: Aurum Press Limited। আইএসবিএন 1-84513-137-1 
  2. Tim Longville, Country Life, 10 January 2008
  3. Debrett´s Peerage, 1923
  4. Country Life, 10 January 2008

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]