বিষয়বস্তুতে চলুন

হিরণ্ময় (হেনা) গঙ্গোপাধ্যায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হিরণ্ময় (হেনা) গঙ্গোপাধ্যায়
জন্ম
টিকেন্দ্রজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

(১৯১৯-০৮-২৬)২৬ আগস্ট ১৯১৯
মৃত্যু৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯(1969-09-05) (বয়স ৫০)
পিতা-মাতাসত্যচরণ গঙ্গোপাধ্যায় (পিতা)

হিরণ্ময় (হেনা) গঙ্গোপাধ্যায়( ২৬ আগস্ট ১৯১৯ – ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ ) ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি বিপ্লবী যিনি পরবর্তীতে আরসিপিআই-এর সদস্য হন এবং অসমের রেহাবাড়ির পুরানো বাঙালি পরিবারের সন্তান হেনা গাঙ্গুলী নামে পরিচিত তিনি বিপ্লবী সরকার গঠনে সচেষ্ট ছিলেন। [] আসামের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী কালে, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুয়াহাটির কিছু বাঙালি যুবক এবং বেশ কয়েকজন অসমীয়া যুবকদের নিয়ে সাম্যবাদী আন্দোলনের প্রসারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। []

জন্ম ও শিক্ষা জীবন

[সম্পাদনা]

হিরণ্ময় (হেনা) গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬ আগস্ট ব্রিটিশ ভারতের অধুনা অসম রাজ্যের পান বাজারে। পিতা সত্যচরণ (সত্যব্রত) গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি তার আদি নিবাস পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান হতে কাজের সন্ধানে গুয়াহাটি যান। হিরণ্ময়ের অপর নাম ছিল টিকেন্দ্রজিৎ। পরবর্তীতে তিনি হিরণ্ময় সংক্ষেপে 'হেনা ' নামে পরিচিত হন। মেধাবী ছাত্র টিকেন্দ্রজিৎ অত্যন্ত কষ্টের মাঝে পড়াশোনা করে ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে আই.এ পাশ করেন। অর্থের অভাবে ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছা পূর্ণ না হলেও যথেষ্ট পড়াশোনা করেন।[] অসমের রেহাবাড়ি ক্রিকেট খেলোয়াড় হিরণ্ময় গুয়াহাটির একজন ফাস্ট বোলার ছিলেন।[]

পরবর্তী জীবন

[সম্পাদনা]

অর্থ উপার্জনের জন্য কলেজের পাঠ ছেড়ে চায়ের ব্যবসা ঠিকাদারি কাজ ইত্যাদি করেন। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের 'ভারত ছাড়ো আন্দোলনে ' যোগ দিয়ে অসমে বিপ্লবী সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখেন। তিনি কলাগুরু বিষ্ণুপ্রসাদ রাভার মতো আসামের বিশিষ্ট নেতাদের খুব কাছের সহযোগী ছিলেন।[] পরে কলাগুরু রাভার পথেই তিনি ভারতের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন। ১৯৪৫ -৪৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রধান কাজ ছিল দলের জন্য অর্থ ও অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করা এবং গোপন বাহিনী গড়ে তোলা। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে আরসিপিআই দ্বিধাবিভক্ত হলে তিনি পান্নালাল দাশগুপ্ত'র গোষ্ঠীতে যোগ দেন। আগ্নেয়াস্ত্র ভরা সুটকেশসহ তাঁর নেতা পান্নালাল পুলিশের হাতে ধরা পড়লে এবং পুলিশ তাকে আসাম নিয়ে যেতে নদীপথে পান্ডুতে পৌঁছানো মাত্রই হিরণ্ময় পান্নালালকে চিলের মতো ছো মেরে এক গাড়িতে তুলে বেপাত্তা হয়ে যান।[] পরে নেতার নির্দেশে হিরণ্ময় পশ্চিমবঙ্গে এসে "বিপ্লবের" ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে সচেষ্ট হন। ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের দমদম-বসিরহাট বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি। ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ১২ আগস্ট এক চটকল ডাকাতির মামলায় তিনি গ্রেফতার হন এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি থাকেন, কিন্তু ওই বছরেই ৪ ডিসেম্বর সেখান থেকে পালিয়ে যান। দশ মাস পর আবার ধরা পড়েন এবং ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগস্ট দমদম-বসিরহাট বিদ্রোহের অন্যান্য বিপ্লবীদের সাথে ছাড়া পান। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে প্রথমে আবার চায়ের ব্যবসা ও পরে ঠিকাদারি কাজ করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করলেও হিরণ্ময় খুব সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। এমনকি সেই অর্থ পরিবারের জন্যও ব্যয় করতেন না। ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি সমস্ত কাজ ছেড়ে কলকাতায় আসেন এবং সেই সময় তিনি এক বিস্তারিত রাজনৈতিক গবেষণাপত্র লেখেন। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দের ১ জুলাই কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে এক ডাকাতি হয় এবং তারপর এক এক করে সদর স্ট্রিট, নিউ আলিপুরে সশস্ত্র ডাকাতি, হাওড়া ও মেদিনীপুরে মেলভ্যানে সংঘঠিত ডাকাতিতে পুলিশ তাঁকে খোঁজ করতে থাকে। হাওড়ায় তার এক আস্তানায় তাকে ধরতে গিয়ে পুলিশই ঘরবন্দি হয়ে যায় এবং হেনা পালিয়ে যান। সে সময় কলকাতায় পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাংক ও পোস্ট অফিসগুলিতে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করতে হয়।

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

শেষে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দের ৫ সেপ্টেম্বর কলকাতায় গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি গুলি বিনিময়ে এবং জনতার আক্রমণে ঘটনাস্থলে মৃত্যু বরণ করেন।

এই ঘটনায় হিরণ্ময়ের কার্যকলাপ নিয়ে যথেষ্ট গুঞ্জন ওঠে। হিরণ্ময় মামুলি ডাকাত, না বিপ্লবী ! [] অন্যদিকে আসামে তার নৃশংস হত্যাকাণ্ড গুয়াহাটিবাসীকে গভীরভাবে শোকাহত করে। []

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৪৪, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. 1 2 3 4 "Bengalee youths spread message of freedom"। সংগ্রহের তারিখ ১ মে ২০২৬
  3. অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, জানুয়ারি ২০১৯ পৃষ্ঠা ২১৫, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-২৯২-৬