হিমোসিডারিন


হেমোসিডারিন বা হেমোসিডারিন হল একটি আয়রন-সঞ্চয়জনিত রোগ যৌগিক যা আংশিকভাবে পরিপাকিত ফেরিটিন এবং লাইসোজোম নিয়ে গঠিত। হিমের ভাঙ্গন বিলিভার্ডিন এবং আয়রন উৎপন্ন করে।[১][২] শরীর তারপর মুক্ত আয়রনকে আটকায় এবং টিস্যুতে হেমোসিডারিন হিসাবে সঞ্চয় করে।[৩] হেমোসিডারিন ফেরিটিনের অস্বাভাবিক বিপাকীয় পথ থেকেও উৎপন্ন হয়।[৩]
এটি শুধুমাত্র কোষের ভিতরে পাওয়া যায় (রক্তে প্রবাহিত হওয়ার বিপরীতে) এবং এটি ফেরিটিন, বিকৃত ফেরিটিন এবং অন্যান্য উপাদানের একটি কমপ্লেক্স বলে মনে হয়।[৪][৫] হেমোসিডারিনের জমা হওয়া ভিতরের আয়রন শরিরের প্রয়োজন হলে আয়রন সরবরাহের জন্য খুব কম পরিমানের হয়। পার্লস প্রুশিয়ান ব্লু স্টেইন দিয়ে হিস্টোলজিক্যালি হেমোসিডারিন শনাক্ত করা যেতে পারে; হেমোসিডারিনের আয়রন পটাসিয়াম ফেরোসায়ানাইডের সংস্পর্শে এলে নীল থেকে কালো হয়ে যায়।[৬] স্বাভাবিক প্রাণীদের মধ্যে, হেমোসিডারিন জমা ছোট এবং বিশেষ দাগ ছাড়া সাধারণত অদৃশ্য। হেমোসিডারিনের অত্যধিক জমা সাধারণত মনোনিউক্লিয়ার ফ্যাগোসাইটিক সিস্টেমের (এমপিএস) কোষের ভিতরে বা মাঝে মাঝে যকৃত এবং বৃক্কের এপিথেলিয়াল কোষের ভিতরে শনাক্ত করা যায়।
বিভিন্ন রোগ প্রক্রিয়ার ফলে টিস্যুতে বেশি পরিমাণে হেমোসিডারিন জমা হয়; যদিও এই জমাগুলি প্রায়শই কোনো লক্ষণ সৃষ্টি করে না, তবে এগুলি অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।
হেমোসিডারিন প্রায়শই ম্যাক্রোফেজে পাওয়া যায় এবং বিশেষ করে রক্তক্ষরণের পরিস্থিতিতে প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা পরামর্শ দেয় যে এর গঠন লোহিত রক্তকণিকার এবং হিমোগ্লোবিনের ফ্যাগোসাইটোসিসের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। হেমোসিডারিন বিভিন্ন অঙ্গে বিভিন্ন রোগে জমা হতে পারে।
শরীরের অনেক রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য আয়রন প্রয়োজন (যেমন, জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া) কিন্তু সঠিকভাবে আবদ্ধ না থাকলে বিষাক্ত। এইভাবে, আয়রন সঞ্চয়ের অনেক পদ্ধতি বিকশিত হয়েছে।
রোগবিকাশতত্ত্ব
[সম্পাদনা]হেমোসিডারিন প্রায়শই রক্তক্ষরণের (হেমোরেজ) পরে তৈরি হয়।[৭] যখন রক্ত একটি ফেটে যাওয়া রক্তনালী ছেড়ে যায়, তখন লোহিত রক্তকণিকা মারা যায় এবং কোষের হিমোগ্লোবিন কোষের বাইরে অবস্থিত স্থানে মুক্ত হয়। ফ্যাগোসাইটিক কোষ (মনোনিউক্লিয়ার ফ্যাগোসাইটিক সিস্টেমের) যাদের ম্যাক্রোফেজ বলা হয়, হিমোগ্লোবিনকে ভেঙে ফেলার জন্য এটিকে গিলে ফেলে (ফ্যাগোসাইটোসিস), যার ফলে হেমোসিডারিন এবং বিলিভার্ডিন উৎপন্ন হয়। হেমোসিডারিনের অনেক গুলো তন্ত্রে জমা হয় যেমন যকৃৎ, ফুসফুস, প্লীহা, বৃক্ক, লসিকা গ্রন্থি এবং অস্থি মজ্জাতে
ম্যাক্রোফেজে ঘটতে পারে। এই জমাগুলি অত্যধিক লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস (হেমোলাইসিস), অত্যধিক আয়রন গ্রহণ/হাইপারফেরেমিয়া বা হ্রাসকৃত আয়রন ব্যবহার (যেমন, তামার বিষক্রিয়ার অ্যানিমিয়া) গ্রহণ হাইপোফেরেমিয়া (যা প্রায়শই আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তাল্পতার দিকে পরিচালিত করে) দ্বারা সৃষ্ট হতে পারে।
কোষীয় আয়রন হয় ফেরিটিন বা হেমোসিডারিন হিসাবে পাওয়া যায়। পার্লস বা প্রুশিয়ান ব্লু বিক্রিয়া দ্বারা কোষে এটি শনাক্ত করা হয়, যাতে আয়নিক আয়রন অ্যাসিড ফেরোসায়ানাইডের সাথে বিক্রিয়া করে নীল রঙ দেয়।[৮][৯]
হেমোসিডারিন জমার সাথে যুক্ত রোগ
[সম্পাদনা]হেমোসিডারিন আয়রন মাত্রাতিরক্তার সাথে সম্পৃক্ত রোগে জমা হতে পারে।[১০] এই রোগগুলি সাধারণত এমন রোগ যেখানে দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণে ঘন ঘন রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়, যেমন সিকেল সেল অ্যানিমিয়া এবং থ্যালাসেমিয়া।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Hemosiderin"। Definition, Staining, Function and Treatment। ৪ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১৯।
- ↑ Kalakonda, Aditya; John, Savio (২৭ অক্টোবর ২০১৮)। "Physiology, Bilirubin"। NCBI Bookshelf। পিএমআইডি 29261920। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১৯।
- 1 2 Litwack, Gerald (২০১৮)। "Micronutrients (Metals and Iodine)"। Human Biochemistry। Elsevier। পৃ. ৫৯১–৬৪৩। ডিওআই:10.1016/b978-0-12-383864-3.00019-3। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১২-৩৮৩৮৬৪-৩। এস২সিআইডি 90250940।
- ↑ Richter, Goetz (১ আগস্ট ১৯৫৭)। "A Study of Hemosiderosis with Aid of Electron Microscopy"। The Journal of Experimental Medicine। ১০৬ (2): ২০৩–২১৮। ডিওআই:10.1084/jem.106.2.203। পিএমসি 2136742। পিএমআইডি 13449232।
- ↑ Fischbach, FA; Gregory, DW; Harrison, PM; Hoy, TG; Williams, JM (ডিসেম্বর ১৯৭১)। "On the structure of hemosiderin and its relationship to ferritin."। Journal of Ultrastructure Research। ৩৭ (5): ৪৯৫–৫০৩। ডিওআই:10.1016/S0022-5320(71)80020-5। পিএমআইডি 5136270।
- ↑ Kumar, Abbas, Aster, Vinay, Abul K., Jon C. (২০১৫)। Robbins & Cotran Pathologic Basis of Disease, 9th Edition। Elsevier। পৃ. ৬৫০। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৫৫৭-২৬১৩-৪।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ "Forensic Pathology"।
- ↑ "Hemosiderin - an overview | ScienceDirect Topics"। www.sciencedirect.com।
- ↑ Saito, Hiroshi; এবং অন্যান্য (২০১২)। "Determination of ferritin and hemosiderin iron in patients with normal iron stores and iron overload by serum ferritin kinetics" (পিডিএফ)। Nagoya Journal of Medical Science। ৭৪ (1–2): ৩৯–৪৯। ডিওআই:10.18999/nagjms.74.1-2.39।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}:|last2=-এ "et al." এর সুস্পষ্ট ব্যবহার (সাহায্য) - ↑ "Hereditary haemochromatosis through 150 years"। Tidsskrift for den Norske Legeforening (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১৮।