হিপোক্যাম্প (প্রাকৃতিক উপগ্রহ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হিপোক্যাম্প
Hippocamp-heic1904b.jpg
২০০৯ সালে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ থেকে তোলা আলোকচিত্রগুলির মিশ্রণ। ছবিতে নেপচুনের বলয় ও হিপোক্যাম্প (বৃত্তচিহ্নিত) অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক উপগ্রহগুলিকে দেখা যাচ্ছে।[ক]
আবিষ্কার[১]
আবিষ্কারকএম. আর. শোঅল্টার
আই. ডে পিটার
জে. জে. লিসায়ার
আর. এস. ফ্রেঞ্চ
আবিষ্কারের তারিখ১ জুলাই, ২০১৩
বিবরণ
উচ্চারণ/ˈhɪpəkæmp/[২]
নামকরণের উৎসἱππόκαμπος hippokampos (হিপোক্যাম্পাস)
বিকল্প নামসমূহএস/২০০৪ এন ১
বিশেষণহিপোক্যাম্পীয় (ইংরেজি: Hippocampian /hɪpəˈkæmpiən/; হিপোক্যাম্পিয়ান)[৩]
কক্ষপথের বৈশিষ্ট্য[৫]
যুগ ১ জানুয়ারি, ২০২০ (জুলিয়ান দিন ২৪৫৮৮৪৯.৫)
অর্ধ-মুখ্য অক্ষ১,০৫,২৮৩কি.মি.
উৎকেন্দ্রিকতা০.০০০৮৪±০.০০০৩২
কক্ষীয় পর্যায়কাল০.৯৫ d (২২.৮ h)
গড় ব্যত্যয়৩২৯.৯০১°
নতি০.০৬৪১°±০.০৫০৭°° (নেপচুনের নিরক্ষরেখার প্রতি)[৪]
0.0019° (স্থানীয় লাপ্লাস সমতলের প্রতি)[৫]
উদ্বিন্দুর দ্রাঘিমা১১০.৪৬৭°
অনুসূরের উপপত্তি৩০৫.৪৪৬°
যার উপগ্রহনেপচুন
ভৌত বৈশিষ্ট্যসমূহ
গড় ব্যাসার্ধ১৭.৪±২.০কিমি[৪]
ভর(১.০২৯–৩০.৮৭)×১০১৫ কিলোগ্রাম[৫]
গড় ঘনত্ব১.৩g/cm3 (অনুমিত)[৬]
ঘূর্ণনকালসমলয়
প্রতিফলন অনুপাত০.০৯ (অনুমিত)[৪]
আপাত মান২৬.৫±০.৩[৬][৭]

হিপোক্যাম্প (ইংরেজি: Hippocamp) হল নেপচুন গ্রহের একটি ক্ষুদ্রাকার প্রাকৃতিক উপগ্রহ। ২০১৩ সালের ১ জুলাই তারিখে আবিষ্কৃত এই উপগ্রহটিকে নেপচুন ১৪ (ইংরেজি: Neptune XIV) নামেও অভিহিত করা হয়। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ থেকে তোলা ও অভিলেখাগারে সংরক্ষিত নেপচুনের আলোকচিত্রগুলি বিশ্লেষণ করে জ্যোতির্বিজ্ঞানী মার্ক শোঅল্টার এটিকে খুঁজে পান। উপগ্রহটি এতটাই অনুজ্জ্বল যে ১৯৮৯ সালে নেপচুন ও তার উপগ্রহগুলির কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ভয়েজার ২ স্পেস প্রোবের ক্যামেরাতেও তা ধরা পড়েনি। হিপোক্যাম্পের ব্যাস প্রায় ৩৫ কিমি (২০ মা) এবং নেপচুনকে একবার প্রদক্ষিণ করতে এটির সময় লাগে প্রায় ২৩ ঘণ্টা অর্থাৎ পৃথিবীর হিসেবে এক দিনেরও কম। নেপচুনের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ উপগ্রহ প্রোটিয়াসের অস্বাভাবিক নৈকট্যের কারণে বিজ্ঞানীরা এই তত্ত্ব প্রস্তাব করেন যে, হিপোক্যাম্প সম্ভবত কয়েক লক্ষ কোটি বছর আগে প্রোটিয়াসে একটি সংঘর্ষের ফলে উৎক্ষিপ্ত বস্তু থেকে সৃষ্ট একটি উপগ্রহ। অতীতে এটির অস্থায়ী নামকরণ করা হয়েছিল এস/২০০৪ এন ১ (ইংরেজি: S/2004 N 1)। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাচীন গ্রিক দেবতা পসেইডনের প্রতীকস্বরূপ পৌরাণিক সামুদ্রিক-অশ্বের নামানুসারে এটির নামকরণ করা হয় "হিপোক্যাম্প"।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

আবিষ্কার[সম্পাদনা]

২০১৩ সালের ১ জুলাই সেটি ইনস্টিটিউটের মার্ক শোঅল্টারের নেতৃত্বাধীন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল হিপোক্যাম্প আবিষ্কার করে। শোঅল্টার নেপচুনের বলয় বৃত্তচাপগুলি পর্যালোচনার অঙ্গ হিসেবে ২০০৯ সালে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ থেকে তোলা এবং অভিলেখাগারে সংরক্ষিত নেপচুনের নথিগুলি পরীক্ষা করছিলেন। নেপচুনের অভ্যন্তরীণ উপগ্রহ ও বলয় বৃত্তচাপগুলি দ্রুত গ্রহটিকে প্রদক্ষিণ করে বলে শোঅল্টার একটি বিশেষ পদ্ধতির উদ্ভাবন ও প্রয়োগ ঘটান। এই পদ্ধতিটি ছিল প্যানিং-এর অনুরূপ, যাতে একাধিক স্বল্প-এক্সপোজারের ছবি একত্রিত করে ডিজিটাল উপায়ে সেগুলি অফসেট করে কক্ষীয় গতির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখা হয় এবং একাধিক ছবির সঞ্চয়নের ফলে অস্পষ্ট অনুপুঙ্খ তথ্যগুলিও বেরিয়ে আসে।[৮][৯] খেয়ালের বশে শোঅল্টার তাঁর পরীক্ষার ক্ষেত্রটি নেপচুনের বলয় মণ্ডলীর বাইরে প্রসারিত করেন। তারপরই তিনি একটি অস্পষ্ট কিন্তু অদ্ব্যর্থক সাদা বিন্দুর আকারে হিপোক্যাম্প উপগ্রহটিকে খুঁজে পান।[৮][১০]

এটিকে উপগ্রহ হিসেবে নিশ্চিত করার জন্য এরপর শোঅল্টার ২০০৪ সালে গৃহীত ও অভিলেখাগারে সংরক্ষিত ১৫০টি হাবল আলোকচিত্র বিশ্লেষণ করেন।[৮] জানা যায় যে, এক সপ্তাহের মধ্যেই শোঅল্টার সেই ছবিগুলিতে হিপোক্যাম্পকে খুঁজে পেয়েছিলেন এবং ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত দশটি পৃথক পর্যবেক্ষণেও উপগ্রহটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।[৭][১১] এছাড়া শোঅল্টার ১৯৮৯ সালের নেপচুন ফ্লাইবাইয়ের সময় ভয়েজার ২ মহাকাশযান থেকে গৃহীত আলোকচিত্রগুলিও পরীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু বস্তুটি এতটাই অনুজ্জ্বল যে সেই ছবিগুলি থেকে এটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। যদিও অভিলেখাগারে সংরক্ষিত অনেকগুলি হাবল চিত্রই এই উপগ্রহটির কক্ষপথ নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট ছিল।[৭][৮][১০] ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই ইন্টারন্যাশানাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়নের সেন্ট্রাল ব্যুরো ফর অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টেলিগ্রামস কর্তৃক প্রকাশিত একটি নোটিশ এবং সেই সঙ্গে স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউটের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হিপোক্যাম্প আবিষ্কারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।[৭][৮] শোঅল্টার কর্তৃক পরীক্ষাকৃত প্রাসঙ্গিক চিত্রগুলি জনসাধারণের প্রাপ্তিসাধ্য হওয়ায় জানা গিয়েছে যে, এই আবিষ্কারটি যে কেউ করতে পারত।[১০]

নামকরণ[সম্পাদনা]

উপগ্রহটির নামকরণ করা হয়েছে গ্রিক পৌরাণিক জীব হিপোক্যাম্পাসের নামানুসারে।[১২] ঊর্ধ্বাঙ্গ ঘোড়ার ও নিম্নাঙ্গ মাছের আকৃতিবিশিষ্ট এই জীবটি একাধারে গ্রিক সমুদ্রদেবতা পসেইডন ও রোমান সমুদ্রদেবতা নেপচুনের প্রতীক।[১২][১৩] রোমান পুরাণে কথিত হয়েছে যে, নেপচুন প্রায়শই হিপোক্যাম্পিতে টানা একটি সামুদ্রিক রথে ভ্রমণ করেন।[১২]

উপগ্রহটি আবিষ্কারের কথা ঘোষিত হওয়ার পরে এটির অস্থায়ী নামকরণ করা হয়েছিল এস/২০০৪ এন ১। এই অস্থায়ী নামটির অর্থ এই উপগ্রহটি ২০০৪ সাল থেকে গৃহীত আলোকচিত্রগুলিতে শনাক্ত করা প্রথম নেপচুনীয় উপগ্রহ।[৭] ২০১৬ সালে শোঅল্টার হাবল চিত্রগুলিতে হিপোক্যাম্পকে পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরবর্তীকালে সেটি পুনরুদ্ধার করে মাইনর প্ল্যানেট সেন্টার থেকে সেটিকে স্থায়ীভাবে রোমান সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।[১৪][১৫] ২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর হিপোক্যাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে নেপচুন ১৪ সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এটিই ছিল উপগ্রহটির পোষাকি নাম।[১৫]

ইন্টারন্যাশানাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়নের (আইএইউ) নামকরণ নির্দেশাবলি অনুযায়ী, নেপচুনের প্রাকৃতিক উপগ্রহগুলির নাম গ্রিকো-রোমান পুরাণের এমন কোনও চরিত্রের নামে রাখতে হয়, যার সঙ্গে পসেইডন বা নেপচুনের সম্পর্ক রয়েছে।[১৩][১৬] শোঅল্টার ও তাঁর দল আবিষ্কারের সময় থেকেই নামের সন্ধানে ছিলেন। যে নামগুলির কথা ভাবা হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল পসেইডন ও থুসার দৈত্যাকার একচক্ষুবিশিষ্ট পুত্র পলিফেমাসের নাম।[১৭] পরে সামুদ্রিক ঘোড়ার গণ হিপোক্যাম্পাস-এর কথা জানতে পেরে তিনি হিপোক্যাম্প নামটিই স্থির করেন। এই নামকরণের পিছনে ছিল স্কুবা ডাইভিং ও প্রাণীটি সম্পর্কে তাঁর ব্যক্তিগত অনুরাগ।[১৮] শোঅল্টার কর্তৃক প্রস্তাবিত নামটি ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আইএইউ-এর নামকরণ সমিতি অনুমোদন করে এবং স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউটের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তা ঘোষিত হয়।[১৬][১৯]

উৎস[সম্পাদনা]

নেপচুনের সাতটি অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক উপগ্রহের আকারের তুলনা

নেপচুনের প্রাকৃতিক উপগ্রহগুলির মধ্যে ভরের বণ্টন ব্যবস্থা সৌরজগতের সব ক’টি দানব গ্রহের উপগ্রহ মণ্ডলীগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একটি মাত্র উপগ্রহ ট্রাইটন উপগ্রহ মণ্ডলীটির প্রায় সমগ্র ভর নিয়ে গঠিত; অন্যদিকে অপরাপর উপগ্রহগুলি একযোগে মোট ভরের এক শতাংশের এক তৃতীয়াংশ মাত্র নিয়ে গঠিত। বর্তমান নেপচুনীয় মণ্ডলীর এই অসামঞ্জস্যের কারণ হল, নেপচুনের আদি উপগ্রহ মণ্ডলীটি সৃষ্টির পর ট্রাইটন যখন কাইপার বেষ্টনী থেকে নেপচুনের মাধ্যাকর্ষণে বাঁধা পড়ে তখন সেই বাঁধা পড়ার প্রক্রিয়ায় আদি উপগ্রহ মণ্ডলীটির অনেকটাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অনুমিত হয় যে, বাঁধা পড়ার অব্যবহিত পরে ট্রাইটনের কক্ষপথটি ছিল অতি মাত্রায় উৎকেন্দ্রিক, যা হয়তো নেপচুনের আদি অভ্যন্তরীণ উপগ্রহগুলির কক্ষপথে বিঘ্নসংকুল বিশৃংখলা সৃষ্টি করেছিল এবং সেই কারণে কয়েকটি উপগ্রহ ছিটকে গিয়ে পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল।[২০][২১] মনে করা হয়, ট্রাইটনের কক্ষপথ জোয়ার-সংক্রান্ত মন্দীভবনের পর বৃত্তের আকার ধারণের পর নেপচুনের বর্তমান অভ্যন্তরীণ উপগ্রহগুলির মধ্যে অন্তত কয়েকটি উপগ্রহ পূর্বোক্ত সংঘাতের ফলে উৎক্ষিপ্ত নুড়িপাথর ত্বরায়ণের ফলে উদ্ভূত হয়েছে।[২২]

পুনঃত্বরায়িত উপগ্রহগুলির অন্যতম প্রোটিয়াস নেপচুনের বর্তমান অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক উপগ্রহগুলির মধ্যে বৃহত্তম ও সর্ব-বহিঃস্থ। প্রোটিয়াসের বুকে ফারোস নামে একটি বৃহৎ অভিঘাত খাদ অবস্থিত। ২৫০ কিমি (১৬০ মা) ব্যাসবিশিষ্ট এই অভিঘাত খাদটির ব্যাস প্রোটিয়াসের ব্যাসের অর্ধেকেরও বেশি। প্রোটিয়াসের তুলনায় ফারোসের এই অস্বাভাবিক বৃহৎ আকার ইঙ্গিত করে যে এই অভিঘাত খাদটি সংঘর্ষের যে ঘটনার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় তা হয়তো প্রোটিয়াসকে প্রায় বিচূর্ণ করে ফেলেছিল এবং তার ফলে গুরুত্বপূর্ণ পরিমাণে ধ্বংসাবশেষ উৎক্ষিপ্ত হয়েছিল।[৪][২৩] প্রোটিয়াসের বর্তমান কক্ষপথটি তুলনামূলকভাবে হিপোক্যাম্পের কক্ষপথের অনেকটাই কাছে রয়েছে। হিপোক্যাম্পের কক্ষপথ প্রোটিয়াসেরটির ঠিক ১২,০০০ কিমি (৭,৫০০ মা) অভ্যন্তরে অবস্থিত। দুই উপগ্রহের প্রায়-পরাক্ষগুলির মধ্যে পার্থক্য মাত্র দশ শতাংশের, যা ইঙ্গিত করে অতীতে দুই উপগ্রহই সম্ভবত একই অবস্থান থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনার অপর প্রমাণ হল দুই উপগ্রহের নিজ নিজ বহির্মুখী কক্ষীয় অভিপ্রয়াণের হার। এই হারও ইঙ্গিত করে যে অতীতে হিপোক্যাম্প ও প্রোটিয়াস আরও অনেক কাছে অবস্থিত ছিল।[২৪] সাধারণ ক্ষেত্রে অসম আকারের দু’টি পাশাপাশি বস্তুর ক্ষেত্রে হয় ক্ষুদ্রতর বস্তুটি উৎক্ষিপ্ত হয়ে যায় নয়তো বৃহত্তর বস্তুটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। কিন্তু হিপোক্যাম্প ও প্রোটিয়াসের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি।[১২][১৬]

এই প্রমাণের ভিত্তিতে শোঅল্টার ও তাঁর সহকর্মীরা যে তত্ত্বটি প্রস্তাব করেছিলেন তা হল, যে ধূমকেতু সংঘাতের ফলে প্রোটিয়াসের বুকে সেটির বৃহত্তম অভিঘাত খাদ ফারোসের সৃষ্টি হয়, সেই সংঘাতের ফলে উৎক্ষিপ্ত আবর্জনা থেকেই হিপোক্যাম্পের উদ্ভব। এই ঘটনাপরম্পরার ক্ষেত্রে হিপোক্যাম্পকে নেপচুনের তৃতীয় প্রজন্মের উপগ্রহ বলে ধরে নিতে হয়, যা ট্রাইটন বাঁধা পড়ার পর নেপচুনের পুনঃসৃজিত কোনও নিয়মিত উপগ্রহে সংঘটিত সংঘাতের ফলে সৃষ্ট।[১২] মনে করা হয় যে, নেপচুনের নিয়মিত উপগ্রহগুলি বহু বার ধূমকেতু সংঘাতের ফলে চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে। একমাত্র প্রোটিয়াসই ফারোস সৃষ্টির সময় প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে হতে টিকে যায়।[২০] এই সংঘাতের ফলে উৎক্ষিপ্ত আবর্জনা প্রোটিয়াসের ১,০০০–২,০০০ কিমি (৬২০–১,২৪০ মা) অভ্যন্তরে একটি সুস্থির কক্ষপথে স্থাপিত হয় এবং সেই আবর্জনাই জোটবদ্ধ হয়ে হিপোক্যাম্প উপগ্রহটির সৃষ্টি হয়।[৪] যদিও ফারোস সৃষ্টিকারী সংঘর্ষের ঘটনার ফলে উৎক্ষিপ্ত বস্তুর মাত্র দুই শতাংশই হিপোক্যাম্পে সঞ্চিত হয়েছে এবং অবশিষ্ট আবর্জনার হারিয়ে যাওয়ার কারণটি অজ্ঞাতই থেকে গিয়েছে।[২৪]

নেপচুনের অন্যান্য ক্ষুদ্রাকার অভ্যন্তরীণ উপগ্রহ সম্পর্কে যেমন ভাবা হয়, প্রোটিয়াস থেকে উৎক্ষিপ্ত আবর্জনা জোটবদ্ধ হয়ে হিপোক্যাম্প সৃষ্টি হওয়ার পরেও সম্ভবত শেষোক্ত উপগ্রহটি বারংবার ধূমকেতু সংঘাতের ফলে চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে। প্রোটিয়াসে বৃহদাকার অভিঘাত খাদগুলির গঠনের হারের ভিত্তিতে অনুমান করা হয় যে, বিগত চারশো কোটি বছরে হিপোক্যাম্প প্রায় নয় বার বিচূর্ণ হয়েছিল এবং ধ্বংসাবশেষ থেকে পুনঃত্বরায়িত আবার উপগ্রহের আকার ধারণ করেছিল।[২৫] এই সব সংঘাতের ফলে উপগ্রহটির কক্ষীয় উৎকেন্দ্রতা ও নতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাসপ্রাপ্ত হয় এবং সেই কারণেই প্রোটিয়াসের এত কাছে থেকেও বর্তমানে হিপোক্যাম্পের বৃত্তাকার কক্ষপথের একটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এই সব সংঘাতের ফলে সম্ভবত হিপোক্যাম্প খানিকটা ভরও হারিয়েছিল। সেটাই সম্ভবত ফারোস সৃষ্টিকারী সংঘাতের ফলে উৎক্ষিপ্ত পদার্থের মূল ভরের খানিকটা অংশ হারিয়ে যাওয়ার কারণ।[১৮] নেপচুনের সঙ্গে জোয়ার-সংক্রান্ত ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়ার ফলে প্রোটিয়াস সেই থেকে গ্রহটির থেকে ১১,০০০ কিমি (৬,৮০০ মা) দূরত্বেরও বেশি সরে গিয়েছে; অন্যদিকে হিপোক্যাম্প তার আদি সৃষ্টিকালীন অবস্থানের অনেকটা কাছেই অবস্থান করছে। কারণ, ক্ষুদ্র আকারের জন্য এটির অভিপ্রয়াণের গতি অনেকটাই কম।[৪]

ভৌত বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

শিল্পীর কল্পনায় নেপচুন ও তার ক্ষুদ্রতম উপগ্রহ হিপোক্যাম্প

হিপোক্যাম্প হল নেপচুনের জ্ঞাত উপগ্রহগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতম। এটির ব্যাস পরিগণিত হয়েছে ৩৪.৮ কিমি (২১.৬ মা)। উপগ্রহটির উপপ্রমিত প্রজনয়িতা প্রোটিয়াসের তুলনায় এটির ভর ১,০০০ ভাগ ও ঘনত্ব ৪,০০০ ভাগ কম।[৪][১৬] হিপোক্যাম্পের পরিগণিত আপাত ঔজ্জ্বল্য ২৬.৫। এই পরিমাপের ভিত্তিতে মনে করা হত যে উপগ্রহটির আদি ব্যাস ছিল প্রায় ১৬–২০ কিমি (১০–১২ মা)। তবে সাম্প্রতিকতর পর্যবেক্ষণের ফলে এই পরিমাপটিকে পরিমার্জনা করে দ্বিগুণ করা হয়।[৪][৭] তা সত্ত্বেও উপগ্রহটি অন্যান্য উপগ্রহগুলির সঙ্গে বিরাট পার্থক্য সৃষ্টি করে এবং হিপোক্যাম্প নেপচুনের অভ্যন্তরীণ, নিয়মিত ও সামগ্রিক ভাবে সকল উপগ্রহের মধ্যে ক্ষুদ্রতমই থেকে যায়।[২৪]

হিপোক্যাম্পের পৃষ্ঠভাগের বৈশিষ্ট্যগুলি এখনও অজ্ঞাত। কারণ আলোর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য, বিশেষত প্রায়-অবলোহিত বর্ণালিতে এটিকে বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হয়নি। অনুমান করা হয় যে, হিপোক্যাম্পের পৃষ্ঠভাগ নেপচুনের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ উপগ্রহগুলির মতোই অন্ধকারাচ্ছন্ন। এগুলির জ্যামিতিক প্রতিফলন অনুপাত ০.০৭ থেকে ০.১০-এর মধ্যে এবং গড় প্রায় ০.০৯।[৪][২৬] হাবল স্পেস টেলিস্কোপের নিকমোস যন্ত্রটি নেপচুনের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ উপগ্রহগুলিকে প্রায়-অবলোহিতে পর্যবেক্ষণ করে সেগুলির পৃষ্ঠভাগে ক্ষুদ্রাকার বহিঃস্থ সৌরজাগতিক বস্তুর বৈশিষ্ট্য অন্ধকারাচ্ছন্ন লালচে পদার্থের উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছে। এই তথ্যটি সি-এইচ এবং/অথবা সি≡এন বন্ধন দু’টি সমৃদ্ধ জৈব যৌগগুলির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হলেও অনুগুলিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বর্ণালিগত রেজোলিউশন যথেষ্ট ছিল না।[২৭] সৌরজগতের বাইরের দিকে জলীয় বরফ প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। হিপোক্যাম্পেও তা আছে বলে মনে করা হয়। কিন্তু তার বর্ণালিগত সাক্ষর পর্যবেক্ষণ করা যায়নি, যেমন করা গিয়েছে ইউরেনাসের ক্ষুদ্রাকার প্রাকৃতিক উপগ্রহগুলির ক্ষেত্রে।[২৮]

কক্ষপথ[সম্পাদনা]

ট্রাইটনের বহির্ভাগে নেপচুনের প্রাকৃতিক উপগ্রহগুলির কক্ষপথের রেখাচিত্র, হিপোক্যাম্পের কক্ষপথটি বিশেষভাবে চিহ্নিত

নেপচুনকে একবার প্রদক্ষিণ করতে হিপোক্যাম্পের সময় লাগে ২২ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট (পৃথিবীর হিসেবে ০.৯৫ দিন), যা ১,০৫,২৮৩ কিমি (৬৫,৪২০ মা) প্রায়-পরাক্ষ বা কক্ষীয় দূরত্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।[৭] তুলনামূলকভাবে এই দূরত্ব প্রায় ৪.৩ নেপচুন ব্যাসার্ধসমূহ বা পৃথিবী-চাঁদ দূরত্বের এক চতুর্থাংশের কিছু বেশি।[খ] হিপোক্যাম্পের নতিউৎকেন্দ্রতা শূন্যের কাছাকাছি।[৪] এটির কক্ষপথ লারিসা ও প্রোটিয়াসের কক্ষপথে মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। তাই এটি নেপচুনের নিয়মিত উপগ্রহগুলির মধ্যে দ্বিতীয় সর্ব-বহিঃস্থ। এই অবস্থানে এটির ক্ষুদ্র আকার অন্যান্য নিয়মিত নেপচুনীয় উপগ্রহগুলির প্রবণতার বিপরীত; সেগুলির ক্ষেত্রে প্রথমটি থেকে দূরত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাসের বৃদ্ধিও লক্ষিত হয়।[৬]

আকারে অনেকটাই বড়ো উপগ্রহ প্রোটিয়াসের আপেক্ষিকভাবে নিকটে থাকার দরুন হিপোক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রোটিয়াসের মাধ্যাকর্ষণের দ্বারা প্রভাবিত হয়।[৪] এটি কক্ষপথ নির্দিষ্টভাবে প্রোটিয়াসের ভরের প্রতি সংবেদনশীল; প্রোটিয়াসের অনুমিত বিভিন্ন ভরসমূহের ব্যবহার করে কক্ষীয় সমাধানগুলির মাধ্যমে দেখা গিয়েছে যে হিপোক্যাম্পে প্রায় ১০০ কিমি (৬২ মা) ব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ-অভ্যন্তরীণ পার্থক্য দেখা যায়। এর মাধ্যমেই বিগত কয়েক দশকেরও বেশি সময় ধরে হিপোক্যাম্পের কক্ষপথের উপর প্রোটিয়াসের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে প্রোটিয়াসের ভর পরিগণনা সম্ভব হয়েছে।[৫]

প্রোটিয়াস ও হিপোক্যাম্পের গড়-গতীয় অনুরণনের পরিমাণ প্রায় ১১:১৩। এর কারণ সম্ভবত প্রোটিয়াসের ভরের প্রতি হিপোক্যাম্পের সংবেদনশীলতা।[৫] দু’টি উপগ্রহই নেপচুন-সমলয় কক্ষপথের (নেপচুনের আবর্তনের কাল ০.৬৭ দিন বা ১৬.১ ঘণ্টা) বাইরে অবস্থিত এবং সেই কারণে নেপচুন কর্তৃক জোয়ার-সংক্রান্ত কারণে ত্বরায়িত হয়ে বাইরের দিকে সরে যাচ্ছে।[৩০] প্রোটিয়াসের ভর বেশি হওয়ায় নেপচুনের সঙ্গে এটির জোয়ার-সংক্রান্ত ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়াও বেশি জোরালো। তাই হিপোক্যাম্পের তুলনায় প্রোটিয়াস অনেক দ্রুত নেপচুনের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এটির কক্ষীয় অভিপ্রয়াণের হারের ভিত্তিতে গণনা করে দেখা গিয়েছে যে ১ কোটি ৮০ লক্ষ বছরে প্রোটিয়াস নেপচুনের থেকে ৪০ কিমি (২৫ মা) সরে গিয়েছে, যার ফলে হিপোক্যাম্পের সহিত এটি প্রকৃত ১১:১৩ অনুরণনে প্রবেশ করেছে।[৫] সেই সঙ্গে লারিসা ও হিপোক্যাম্পের বর্তমান কক্ষীয় পর্যায় ৩:৫ কক্ষীয় অনুরণনের এক শতাংশের মধ্যে রয়েছে।{{efn|উপগ্রহ দু’টির পর্যায়কাল যথাক্রমে ০.৫৫৪৬৫ ও ০.৯৫ দিন হওয়ায় প্রকৃত অনুপাত ২.৯২:৫.০০।[২৯]}

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. উপগ্রহগুলির আপেক্ষিক ঔজ্জ্বল্য উচ্চ ও নিম্ন এক্সপোজারের ছবির মিশ্রণে নির্মিত এই মিশ্রচিত্রে বর্ধিত করে দেখানো হয়েছে। নেপচুনের রঙিন ছবিটি হাবল স্পেস টেলিস্কোপ থেকে ২০০৯ সালের অগস্ট মাসে পৃথকভাবে গৃহীত হয়েছিল।
  2. নেপচুনের ব্যাসার্ধ ২৪,৬০০ কিলোমিটার[৫] এবং চাঁদের প্রায়-পরাক্ষ ৩৮৪,৪০০ কিলোমিটার।[২৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "প্ল্যানেটারি স্যাটালাইট ডিসকভারি সারকামস্ট্যান্সেস"জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি। ২৮ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০২০ 
  2. "Hippocamp"লেক্সিকো ইউকে ডিকশনারি (ইংরেজি ভাষায়)। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস 
  3. অজ্ঞাতনামা (১৮৯৯) "ইনভোকেশন টু নেপচুন", পোয়েমস, নিউ ইয়র্ক, পৃ. ৮৪
  4. শোঅল্টার, এম. আর.; ডে পিটার, আই.; লিসায়ার, জে. জে.; ফ্রেঞ্চ, আর. এস. (ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "দ্য সেভেনথ ইনার মুন অফ নেপচুন"নেচার৫৬৬ (৭৭৪৪): ৩৫০–৩৫৩। ডিওআই:10.1038/s41586-019-0909-9পিএমআইডি 30787452পিএমসি 6424524অবাধে প্রবেশযোগ্যবিবকোড:2019Natur.566..350S  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |year= / |date= mismatch (সাহায্য)
  5. ব্রোজোভিক, এম.; শোঅল্টার, এম. আর.; জেকবসন, আর. এ.; ফ্রেঞ্চ, আর. এস.; লিসায়ার, জে. জে.; ডে পিটার, আই. (মার্চ ২০২০)। "অরবিটস অ্যান্ড রেসোনেন্সেস অফ দ্য রেগুলার মুনস অফ নেপচুন"। ইকারাস৩৩৮ (১১৩৪৬২)। arXiv:1910.13612অবাধে প্রবেশযোগ্যডিওআই:10.1016/j.icarus.2019.113462বিবকোড:2020Icar..33813462B 
  6. "প্ল্যানেটারি স্যাটেলাইট ফিজিক্যাল প্যারামিটারস"জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০২০ 
  7. "নিউ স্যাটেলাইট অফ নেপচুন: এস/২০০৪ এন ১" (PDF)সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইলেকট্রনিক টেলিগ্রামস। ইন্টারন্যাশানাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন। ১৫ জুলাই ২০১৩। বিবকোড:2013CBET.3586....1S। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০২০ 
  8. "হাবল ফাইন্ডস আ নিউ নেপচুন মুন"HubbleSite। স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউট। ১৫ জুলাই ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৩ 
  9. গ্রসম্যান, লিসা (১৫ জুলাই ২০১৩)। "নেপচুন'স স্ট্রেঞ্জ নিউ মুন ইজ ফার্স্ট ফাউন্ড ইন আ ডিকেড"। NewScientist। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুলাই ২০১৩ 
  10. বেটি, কেলি (১৫ জুলাই ২০১৩)। "নেপচুন'স নিউয়েস্ট মুন"। স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১৭ 
  11. শোঅল্টার, মার্ক (১৫ জুলাই ২০১৩)। "হাও টু ফোটোগ্রাফ আ রেসহর্স …অ্যান্ড হাও দিস রিলেটস টু আ টাইনি মুন অফ নেপচুন"কসমিক ডায়রি। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুলাই ২০১৩ 
  12. "হাবল হেল্পস আনকভার অরিজিন অফ নেপচুন'স স্মলেস্ট মুন হিপোক্যাম্প"Spacetelescope.org। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  13. "প্ল্যানেট অ্যান্ড স্যাটেলাইট নেমস অ্যান্ড ডিসকভারারস"গেজেটিয়ার অফ প্ল্যানেটারি নোমেনক্লেচার। ইউএসজিএস অ্যাস্ট্রোজিওলজি সায়েন্স সেন্টার। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২০ 
  14. শোঅল্টার, মার্ক (অক্টোবর ২০১৫)। "নেপচুন'স ইভলভিং ইনার মুনস অ্যান্ড রিং-আর্কস"মিকুলস্কি আর্কাইভ ফর স্পেস টেলিস্কোপস। স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউট। বিবকোড:2015hst..prop14217S। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০২০ 
  15. "এম.পি.সি. ১১১৮০৪" (PDF)মাইনর প্ল্যানেট সার্কুলার। মাইনর প্ল্যানেট সেন্টার। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০২০ 
  16. "টাইনি নেপচুন মুন স্পটেড বাই হাবল মে হাভ ব্রোকেন ফ্রম লার্জার মুন"HubbleSite। স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউট। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২০ 
  17. বিলিংস, লি (১৮ জুলাই ২০১৩)। "নেপচুন'স নিউ মুন মে বি নেমড আফটার ওয়ান অফ সি গড'স মনস্টারাস চিল্ডরেন"সায়েন্টিফিক আমেরিকান। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০২০ 
  18. বেটি, কেলি (২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "মিট হিপোক্যাম্প, নেপচুন'স স্মলেস্ট মুন"স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০২০ 
  19. "নেম অ্যাপ্রুভড ফর নেপচুনিয়ান স্যাটেলাইট: হিপোক্যাম্প"গেজেটিয়ার অফ প্ল্যানেটারি নোমেনক্লেচার। ইউএসজিএস অ্যাস্ট্রোজিওলজি সায়েন্স সেন্টার। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২০ 
  20. গোল্ডরেইখ, পি.; মারে, এন.; লঙ্গারেটি, পি. ওয়াই.; ব্যানফিল্ড, ডি. (অগস্ট ১৯৮৯)। "নেপচুন'স স্টোরি"। সায়েন্স২৪৫ (৪৯১৭): ৫০০–৫০৪। ডিওআই:10.1126/science.245.4917.500পিএমআইডি 17750259বিবকোড:1989Sci...245..500G  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  21. আগনোর, গ্রেইগ বি.; হ্যামিলটন, ডগলাস পি. (মে ২০০৬)। "নেপচুন'স ক্যাপচার অফ ইটস মুন ট্রাইটন ইন আ বায়োনারি–প্ল্যানেট গ্র্যাভিটেশনাল এনকাউন্টার"। নেচার৪৪১ (৭০৯০): ১৯২–১৯৪। ডিওআই:10.1038/nature04792পিএমআইডি 16688170বিবকোড:2006Natur.441..192A 
  22. ব্যানফিল্ড, ডন; মারে, নর্ম (অক্টোবর ১৯৯২)। "আ ডায়নামিক হিস্ট্রি অফ দি ইনার নেপচুনিয়ান স্যাটেলাইটস"। ইকারাস৯৯ (২): ৩৯০–৪০১। ডিওআই:10.1016/0019-1035(92)90155-Zবিবকোড:1992Icar...99..390B 
  23. ক্রফট, স্টিভেন কে. (অক্টোবর ১৯৯২)। "প্রোটিয়াস: জিওলজি, শেপ, অ্যান্ড ক্যাটাস্ট্রফিক ডেস্ট্রাকশন"। ইকারাস৯৯ (২): ৪০২–৪১৯। ডিওআই:10.1016/0019-1035(92)90156-2বিবকোড:1992Icar...99..402C 
  24. ভারবিস্কার, অ্যানি জে. (২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "আ নিউ মুন ফর নেপচুন"নেচার৫৬৬ (৭৭৪৪): ৩২৮–৩২৯। ডিওআই:10.1038/d41586-019-00576-1অবাধে প্রবেশযোগ্যবিবকোড:2019Natur.566..328V। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২০ 
  25. হাইনস, কোরে (২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "মিট নেপচুন'স নিউ মুন, হিপোক্যাম্প"অ্যাস্ট্রোনমি ম্যাগাজিন। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২০ 
  26. কারকোশকা, এরিক (এপ্রিল ২০০৩)। "সাইজ, শেপস, অ্যান্ড অ্যালবেডোজ অফ দি ইনার স্যাটেলাইটস অফ নেপচুন"। ইকারাস১৬২ (২): ৪০০–৪০৭। ডিওআই:10.1016/S0019-1035(03)00002-2বিবকোড:2003Icar..162..400K 
  27. ডুমাস, সি.; টেরাইল, আর. জে.; স্মিথ, বি. এ.; স্নেইডার, জি. (মার্চ ২০০২)। "অ্যাস্ট্রোমেট্রি অ্যান্ড নিয়ার-ইনফ্রারেড ফোটোমেট্রি অফ নেপচুন'স ইনার স্যাটেলাইটস অ্যান্ড রিং আর্কস"। দি অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নাল১২৩ (৩): ১৭৭৬–১৭৮৩। আইএসএসএন 0004-6256ডিওআই:10.1086/339022অবাধে প্রবেশযোগ্যবিবকোড:2002AJ....123.1776D 
  28. ডুমাস, সি.; স্মিথ, বি. এ.; টেরাইল, আর. জে. (অগস্ট ২০০৩)। "হাবল স্পেস টেলিস্কোপ নিকমোস মাল্টিব্যান্ড ফোটোমেট্রি অফ প্রোটিয়াস অ্যান্ড পাক"। দি অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নাল১২৬ (২): ১০৮০–১০৮৫। আইএসএসএন 0004-6256ডিওআই:10.1086/375909অবাধে প্রবেশযোগ্যবিবকোড:2003AJ....126.1080D  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  29. "প্ল্যানেটারি স্যাটেলাইট মিন অরবিটাল প্যারামিটারস"জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি। ১৭ জুলাই ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২০ 
  30. ঝ্যাং, কে.; হ্যামিলটন, ডি. পি. (জানুয়ারি ২০০৮)। "অরবিটাল রেজোন্যান্সেজ ইন দি ইনার নেপচুনিয়ান সিস্টেম: ২। রেজোন্যান্ট হিস্ট্রি অফ প্রোটিয়াস, লারিসা, গ্যালাটিয়া, অ্যান্ড ডেসপাইনা"। ইকারাস১৯৩ (১): ২৬৭–২৮২। আইএসএসএন 0019-1035ডিওআই:10.1016/j.icarus.2007.08.024বিবকোড:2008Icar..193..267Z 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]