হিজরঁ কা খানকাহ
| হিজরঁ কা খানকাহ | |
|---|---|
দেয়াল, মসজিদ এবং সমাধিসমূহ | |
| ধর্ম | |
| অন্তর্ভুক্তি | সুন্নি ইসলাম |
| ধর্মীয় অনুষ্ঠান | সুফিবাদ |
| যাজকীয় বা সাংগঠনিক অবস্থা | খানকাহ, মসজিদ, এবং সমাধি |
| অবস্থা | সক্রিয় |
| অবস্থান | |
| অবস্থান | মহরৌলি, দক্ষিণ দিল্লি জেলা, দিল্লি |
| দেশ | ভারত |
| স্থানাঙ্ক | ২৮°৩১′১৯″ উত্তর ৭৭°১০′৪৩″ পূর্ব / ২৮.৫২১৯৪° উত্তর ৭৭.১৭৮৬১° পূর্ব |
| স্থাপত্য | |
| ধরন | ইসলামি স্থাপত্য |
| প্রতিষ্ঠাতা | সিকান্দার লোদি |
| সম্পূর্ণ হয় | ১৫শ শতাব্দী |
| উপাদানসমূহ | বেলেপাথর |
হিজরঁ কা খানকাহ হলো একটি সুফি খানকাহ কমপ্লেক্স, যা একটি মসজিদ এবং কিছু সমাধি নিয়ে গঠিত। এটি ভারতের দিল্লির দক্ষিণ দিল্লি জেলার মহরৌলিতে অবস্থিত। ১৫শ শতাব্দীতে নির্মিত এই স্থাপনাটি মহরৌলি গ্রামের প্রত্নতাত্ত্বিক পার্কের ভেতরে অবস্থিত অসংখ্য স্মৃতিস্তম্ভের একটি।
কমপ্লেক্সটি পুরান দিল্লির (তৎকালীন শাহজাহানাবাদ) তুর্কম্যান গেটের হিজড়াদের দ্বারা সুন্দরভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। ২০শ শতাব্দী থেকে এই স্মৃতিস্তম্ভটি তাদের অধীনে রয়েছে।[১][২]
নামকরণ
[সম্পাদনা]'হিজরঁ কা খানকাহ' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো "হিজড়াদের আধ্যাত্মিক আশ্রস্থল"। 'হিজরঁ' (হিন্দিতে হিজড়া শব্দের বহুবচন) শব্দটি দ্বারা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে থাকা ট্রান্সজেন্ডার নারীদের একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে বোঝানো হয়।
খানকাহ হলো একটি ফার্সি শব্দ যার অর্থ এমন একটি ধর্মীয় ইমারত যেখানে সুফি ঐতিহ্যের মুসলিমরা আধ্যাত্মিক শান্তি অর্জন এবং চরিত্র গঠনের জন্য সমবেত হন।[৩]
হিজরঁ কা খানকাহ হলো প্রাক-মুঘল বা লোদি আমলের একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা ১৫শ শতাব্দীর। এটি তার শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত। লোদি রাজবংশের শাসনামলে দিল্লির বেশ কিছু হিজড়াকে এখানে সমাহিত করা হয়েছিল।[১][২][৪] বলা হয় যে, তুর্কম্যান গেটের হিজড়ারা যারা বর্তমানে এই স্মৃতিস্তম্ভের মালিক। তারা বিশেষ ধর্মীয় দিনগুলোতে এখানে এসে দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন।[২]
হিজড়া সম্প্রদায়
[সম্পাদনা]
হিজড়া সাধারণত উত্তর ভারতের ট্রান্সজেন্ডার নারীদের একটি সুসংগঠিত আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক সম্প্রদায়কে (হিন্দু বা মুসলিম উভয় ধর্মীয় ঐতিহ্যের) বোঝায়। ঐতিহাসিক অর্থে এটি খোজা বা নপুংসক অর্থেও ব্যবহৃত হতো যারা রাজকীয় আদালতে কর্মরত থাকতেন। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস এবং সাহিত্যে উভয়েরই বর্ণনা পাওয়া যায়। প্রাচীন হিন্দু মহাকাব্য মহাভারতে শিখণ্ডী নামক এক চরিত্রের উল্লেখ আছে। আবার ১৪শ শতাব্দীর শুরুর দিকে আলাউদ্দিন খিলজির শাসনামলে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে একজন খোজার দায়িত্ব পালনের কথা জানা যায়। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবও তার বন্দি বাবা শাহজাহানকে তদারকি করার জন্য একজন খোজাকে নিযুক্ত করেছিলেন বলে উল্লেখ আছে। অন্যদিকে, বর্তমান হিজড়া সম্প্রদায় মুঘল আমলের রাজকীয় আদালতের ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত।
হিজড়া একটি সুসংগঠিত সম্প্রদায়। সম্প্রদায়ের অনেক সদস্য নিজেদের তৃতীয় লিঙ্গের অন্তর্ভুক্ত বলে বর্ণনা করেন এবং পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তারা এই স্বীকৃতি লাভ করেছেন। উত্তর ভারতে তারা অত্যন্ত পরিচিত একটি সম্প্রদায়, বিশেষ করে বিয়ে বা সন্তান জন্মের অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি শুভ বলে গণ্য করা হয়। পারিবারিক অনুষ্ঠানে তাদের নাচ, গান এবং নবজাতক বা নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করার মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। একটি হিসাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র মুম্বই এবং দিল্লিতে তাদের সংখ্যা প্রায় ৫০,০০০।[৫][৬]
স্থাপত্য ও কাঠামো
[সম্পাদনা]
একটি সরু গেট দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভের প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর মার্বেল পাথরের সিঁড়ি বেয়ে একটি বড় চত্বরে পৌঁছানো যায়, যেখানে সাদা রঙের সমাধিগুলো দেখা যায়। সমাধির পাশেই একটি ছোট বারান্দা রয়েছে। পশ্চিম দিকে কিবলার মুখে একটি দেয়াল-মসজিদ দ্বারা এই সমাধিগুলো ঘেরা।[৪]
এখানে হিজড়াদের অনেকগুলো সাদা রঙের সমাধি থাকলেও প্রধান সমাধিটি 'মিয়াঁ সাহেব' নামক একজন হিজড়ার বলে গণ্য করা হয়, যাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।[২]
মহরৌলি গ্রামের সরু ও আঁকাবাঁকা প্রধান রাস্তা থেকে একটি ছোট গেটের মাধ্যমে এই কমপ্লেক্সে পৌঁছানো যায়। সমাধিতে প্রবেশাধিকার কিছুটা সংরক্ষিত। দক্ষিণ দিল্লিতে অবস্থিত মহরৌলি গ্রামটি সড়ক, রেল এবং আকাশপথে দেশের সব অংশের সাথে যুক্ত। নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন হলো নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশন (১৮ কিমি দূরে) এবং দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ১৭ কিমি দূরে অবস্থিত। স্মৃতিস্তম্ভটি মহরৌলি প্রধান সড়কের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের 'চাট্টা ওয়ালী গলি' নামক একটি সরু লেনে অবস্থিত।[২]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Peck, Lucy (২০০৫)। "Hijron Ka Khanqha"। Delhi -A thousand years of Building। New Delhi: Roli Books Pvt Ltd.। পৃ. ২৩৪। আইএসবিএন ৮১-৭৪৩৬-৩৫৪-৮। ১২ মার্চ ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০০৯।
- 1 2 3 4 5 Mehta, Vinod (২০০৬)। "Hijron ka Khnanqah"। Delhi & NCR City Guide। Outlook Publishing (India) Private Limited। পৃ. ৩১৭। আইএসবিএন ৮১-৮৯৪৪৯-০৪-৪।
- ↑ "Khanqah"। Kosmix। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০০৯।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;retreatনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;Hinduনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;Freilichনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]
উইকিমিডিয়া কমন্সে হিজরঁ কা খানকাহ সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।