হাসান ইবনে সাহল
হাসান ইবনে সাহল الحسن بن سهل | |
|---|---|
| ইরাকের আব্বাসীয় গভর্নর | |
| কাজের মেয়াদ ৮১৩ – ৮১৮/১৯ | |
| সার্বভৌম শাসক | আল-মামুন |
| পূর্বসূরী | নতুন পদবী |
| উত্তরসূরী | পদ বিলুপ্ত |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | খোরাসান, আব্বাসীয় খিলাফত |
| মৃত্যু | আনু. ৮৫০/৫১ ওয়াসিত, আব্বাসীয় খিলাফত (বর্তমান ইরাক) |
| দাম্পত্য সঙ্গী | অজ্ঞাত |
| সন্তান | বুরান |
| পিতামাতা | সাহল (পিতা) |
হাসান ইবনে সাহল ( আরবি: الحسن بن سهل; মৃ. ৮৫০/৫১) ছিলেন একজন আব্বাসীয় কর্মকতা, যিনি চতুর্থ ফিতনার সময় খলিফা আল-মামুনের ( শা. ৮১৩–৮৩৩) শাসনামলে একজন সামরিক নেতা ও ইরাকের গভর্নর ছিলেন।
জীবনী
[সম্পাদনা]হাসানের পিতা একজন ইরানি জরথুষ্ট্রীয় ধর্মাবলম্বী ছিলেন, যিনি পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর ভাই খ্যাতনামা উজির ফাদল ইবনে সাহলের সঙ্গে তিনি আব্বাসীয় দরবারে প্রবেশ করেন এবং প্রসিদ্ধ বারমাকি অভিজাত আল-ফাদল বিন ইয়াহিয়ার অধীনে কাজ শুরু করেন। তখন আব্বাসীয় খলিফা ছিলেন হারুনুর রশিদ (শা. ৭৮৬–৮০৯)।[১] চতুর্থ ফিতনার গৃহযুদ্ধকালে যখন খলিফা আল-মা'মুন তাঁর ভাই আল-আমিনের (শা. ৮০৮–৮১৩) বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন, তখন হাসানকে ভূমি-কর বা খারাজ দপ্তরের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ, যা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল।[১]
আল-মামুনের সৈন্যরা যখন খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ দখল করে, তখন হাসানকে ইরাকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য পশ্চিমাঞ্চলে পাঠানো হয়। এদিকে মা'মুন ও তাঁর ভাই ফাদল তখন মার্ভে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ৮১৫ খ্রিষ্টাব্দের শুরুতে কুফায় জায়েদি আলীয় বিদ্রোহ শুরু হয়, যার নেতৃত্ব দেন ইবনে তাবাতাবা ও আবু সারায়া আল-শায়বানি। বিদ্রোহ দ্রুত দক্ষিণ ইরাক জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। হাসান এই বিদ্রোহ দমনে কার্যকরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে বিদ্রোহীরা বাগদাদকেও হুমকির মুখে ফেলে। শেষ পর্যন্ত দক্ষ সেনাপতি হারসামা ইবনে আয়ানের হস্তক্ষেপে বিদ্রোহ দমন করা সম্ভব হয়।[১][২]
এদিকে খিলাফতের উপর ফাদল ও তাঁর অনুসারী খুরাসানি কর্মকর্তাদের প্রভাব অত্যধিক বেড়ে গেলে প্রাচীন আরব অভিজাত শ্রেণির মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। তারা মামুনকে পরামর্শ দেয়, যেন একজন আরব গভর্নর নিয়োগ করা হয়। তখন হাসান ও আরব অভিজাতদের পারস্পরিক বৈরিতা একটি স্লোগানে প্রতিফলিত হয়: “আমরা একজন জরাথুস্ট্রবাদীর সন্তান হাসান ইবনে সাহলকে মেনে নেব না; তাকে খুরাসানে ফিরে যেতে বাধ্য করব। এভাবে শেষ পর্যন্ত হাসানকে বাগদাদ ত্যাগ করতে হয় এবং বিভিন্ন দলীয় নেতা শহরের ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেন।[৩]
এক বছর পর তাঁর ভাই ফাদল রহস্যজনকভাবে নিহত হন; সম্ভবত একই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রে। ৮১৭ সালের জুলাই মাসে যখন খবর আসে যে, খলিফা মামুন আলীয় নেতা আলি ইবন মুসা আর-রিদাকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছেন, তখন বাগদাদের লোকেরা তাঁর চাচা ইব্রাহিম ইবনে মাহদিকে খলিফা ঘোষণা করে।[৪][১]
৮১৮ সালে ফাদলের হত্যাকাণ্ড এবং ৮১৯ সালে মামুনের বাগদাদে প্রত্যাবর্তনের পর ধারণা করা হয়, যে হাসান তাঁর ভাইয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়ে উজির হবেন। কিন্তু ভাইয়ের মৃত্যুর শোকে মর্মাহত হাসান রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান এবং ওয়াসিতের পাশে নিজের সম্পত্তিতে অবসর জীবন যাপন করতে থাকেন। সেখানেই তিনি ৮৫০/৮৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তবে ৮২৫ সালে খলিফা আল-মামুন তাঁর কন্যা বুরানকে বিয়ে করেন। কন্যার মোহরানা হিসেবে তিনি হাসানকে বাগদাদের দক্ষিণে অবস্থিত কাসর আল-হাসানি প্রাসাদ উপহার দেন, যা পরবর্তীতে খলিফাদের অন্যতম আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।[১]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- Kennedy, Hugh N. (২০০৪)। The Prophet and the Age of the Caliphates: The Islamic Near East from the 6th to the 11th Century (Second সংস্করণ)। Harlow, UK: Pearson Education Ltd.। আইএসবিএন ০-৫৮২-৪০৫২৫-৪।
- Sourdel, Dominique (১৯৭১)। "al-Ḥasan b. Sahl"। Lewis, B.; Ménage, V. L.; Pellat, Ch.; Schacht, J. (সম্পাদকগণ)। The Encyclopaedia of Islam, New Edition, Volume III: H–Iram। Leiden: E. J. Brill। পৃ. ২৪৩–২৪৪।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}: অজানা প্যারামিটার|lastauthoramp=উপেক্ষা করা হয়েছে (|name-list-style=প্রস্তাবিত) (সাহায্য); অবৈধ|ref=harv(সাহায্য)