হারুলিয়া মসজিদ
| হারুলিয়া মসজিদ | |
|---|---|
| অবস্থা | সক্রিয় |
| অবস্থান | |
| অবস্থান | |
| স্থাপত্য | |
| প্রতিষ্ঠাতা | শাইখ মুহাম্মদ ইয়ারই |
হারুলিয়া মসজিদ বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের হারুলিয়া গ্রামে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।[১] এটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট ছোট আকারের স্থাপনা। মসজিদটির সঠিক নির্মাণকাল বা ইতিহাস সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে নির্দিষ্ট তথ্য জানা যায় না। স্থানীয়ভাবে এটি গাইনের মসজিদ নামেও পরিচিত।[২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]হারুলিয়া মসজিদের নির্মাণকাল নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, মসজিদটি প্রায় ১২০০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল। তবে গবেষকদের মতে, স্থাপত্যশৈলী ও অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, মসজিদটি ১৭০০ খ্রিস্টাব্দের পর কোনো সময় নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।[৩]
এলাকাবাসীর দাবী, মসজিদে একটি পাথর ছিল যাতে আরবি ও ফারসি ভাষায় সেটিতে আরবিতে একটি সন লিখা ছিলো। দুই বছর আগে সেটি চুরি হয়ে যায়। স্থানীয়রা তারা হিজরি ওই সনটি হিসেবে করে ১২০০ খ্রীস্টাব্দ বের করেন।[৪] মসজিদের বর্তমান ইমাম মো. নিজাম উদ্দিন জানান, তার পূর্বসূরি ইমাম উক্ত পাথরটি দেখেছিলেন এবং সেখানে হিজরি সন উল্লেখ ছিল।[৫]
কিছু জনশ্রুতি অনুযায়ী, মুঘল শাসনামলে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজীর এক অনুসারী শাইখ মোহাম্মদ ইয়ার নামের ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এ সম্পর্কিত কোনো সরকারি উদ্যোগ বা গবেষণা না থাকায় মসজিদটির প্রকৃত ইতিহাস এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।[৬]
স্থাপত্যকলা
[সম্পাদনা]মসজিদটির মোট আয়তন জমির প্রায় ৭ শতাংশের ওপর বিস্তৃত। এর চার কোণায় চারটি পিলার রয়েছে, যার শীর্ষভাগে কলসাকৃতি গম্বুজাকৃতির কারুকাজ দেখা যায়।[৭] চৌকোণ নকশার এই মসজিদের ছাদে একটি বড় গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে তিনটি দীর্ঘাকার দরজা রয়েছে।[৮] এর সামনের অংশে একটি ছোট চৌচালা টিনের ঘর সংযোজিত হয়েছে, যা মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে নির্মিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।[৯] নির্মাণশৈলী ও অবকাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মসজিদটি পোড়ামাটি, লালি, চুন, চিনি, চিটাগুড়, কস এবং একটি রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছিল।[১০]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Sangbad, Protidiner। "কেন্দুয়ার হারুলিয়া ৮২০ বছরের প্রাচীন মসজিদ"। Protidiner Sangbad। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "হাওরবেষ্টিত প্রাচীন মসজিদটি এখনও টিকে আছে স্বমিহমায়"। banglanews24.com। ১ জুন ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "৮২৪ বছরের পুরোনো নেত্রকোনার হারুলিয়া মসজিদ"। www.ntvbd.com (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ মার্চ ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ৮২৫ বছর পূর্বের মুঘল আমলের হারুলিয়া মসজিদ"। এটিএন বাংলা। ২৮ মে ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন "হারুলিয়া মসজিদ"-এর সঠিক ইতিহাস আজো অজানা | জাতীয়"। BSS। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ জাগো নিউজ। "৮১৭ বছরের পুরনো নেত্রকোনার হারুলিয়া মসজিদ"। জাগো নিউজ। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ নিউজ, সময়। "৮০০ বছরের পুরনো গাইনের মসজিদ | বাংলাদেশ"। Somoy News। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "নেত্রকোনায় কালের সাক্ষী হিসেবে এখনো দাঁড়িয়ে আছে ৮২৪ বছরের পুরানো হারুলিয়া মসজিদ" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "৮২০ বছরের ঐতিহ্যের ধারক হারুলিয়া মসজিদ" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "৮২০ বছরের পুরনো হারুলিয়া মসজিদ"। www.shomoyeralo.com। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।