বিষয়বস্তুতে চলুন

হারুন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-হাশিমি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হারুন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-হাশিমি
هارون بن محمد بن إسحاق الهاشمي
হেজাজের আব্বাসীয় গভর্নর
কাজের মেয়াদ
৮৭০ এর দশক/৮৮০ এর দশক  ৮৯১/২
সার্বভৌম শাসকআল-মুতামিদ
আমির আল-হাজ্জ
কাজের মেয়াদ
৮৭৮–৮৯২/৯৩
সার্বভৌম শাসকআল-মুতামিদ
ব্যক্তিগত বিবরণ
মৃত্যুআগস্ট/সেপ্টেম্বর, ৯০১/২
মিশর
সম্পর্কআব্বাসীয়,
বনু হাশিম
পিতামাতামুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুসা ইবনে ইসা

আবু মুসা হারুন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুসা ইবনে ঈসা আল-হাশিমি ( আরবি: أبو موسى هارون بن محمد بن إسحاق بن موسى بن عيسى الهاشمي ; মৃত্যু ৯০১) ছিলেন নবম শতাব্দীর একজন আব্বাসীয় ব্যক্তিত্ব এবং সরকারি কর্মকর্তা। তিনি মক্কা, মদিনাতায়েফের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বার্ষিক ইসলামি তীর্থযাত্রা হজ্জের দীর্ঘদিনের আমির (পরিচালনাকারী) ছিলেন।

জীবনী

[সম্পাদনা]

হারুন আব্বাসীয় বংশের তুলনামূলকভাবে একজন গৌণ সদস্য ছিলেন। তিনি বংশগতভাবে ঈসা ইবন মুসার বংশধর ছিলেন, যিনি প্রথম দুই আব্বাসীয় খলিফা আল-সাফ্ফাহ ও আল-মনসুরের ভ্রাতুষ্পুত্র ছিলেন।[] এই পারিবারিক সম্পর্কের মাধ্যমে হারুন আব্বাসীয় শাসনপরিবারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি সরাসরি খিলাফতের উত্তরাধিকারী শাখার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না; বরং তিনি রাজপরিবারের এক পার্শ্বশাখার সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে তার পঞ্চম চাচাতো ভাই খলিফা আল-মুতামিদের আমলে হারুনকে হজ্জের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। এর পর থেকে ৮৯২ বা ৮৯৩ সাল পর্যন্ত প্রায় দেড় দশক ধরে তিনি ধারাবাহিকভাবে এই দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রতি বছর হজ্জযাত্রীদের নেতৃত্ব দেন।[] একটি অনির্দিষ্ট সময়ে তাকে মক্কার গভর্নর হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি তাকে মদিনা ও তাইফ নগরীরও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়। ফলে হারুন কার্যত হিজাজ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পবিত্র ও কৌশলগত শহরের প্রশাসনিক দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। এই পদে থেকে তাকে শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়; বরং নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ভারসাম্যও বজায় রাখতে হতো।[]

তার গভর্নরত্বের সময় মক্কার নিরাপত্তা বারবার হুমকির মুখে পড়ে এবং তিনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার পুনরাবৃত্ত পর্যায়ের মোকাবিলা করতে বাধ্য হন। ৮৮১/৮৮২ সালে আবুল মুগীরা আল-মাখযুমি নামক এক দস্যুনেতা তার বাহিনী নিয়ে মক্কার দিকে অগ্রসর হয়। হারুন একটি বাহিনী গঠন করে তার অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও আবুল মুগীরা পরবর্তীতে ‘আইন মুশাস’ ও জেদ্দা অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এর ফলে মক্কার পানীয় জলের বড় একটি উৎস নষ্ট হয়ে যায় এবং খাদ্যসংকট দেখা দেয়; বিশেষ করে রুটির দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তীব্র প্রভাব ফেলে। []

এছাড়া তিনি মিশরের শক্তিশালী গভর্নর আহমদ ইবন তুলুন ও সিজিস্তানের শাসক আমর ইবনুল লাইসের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষারও সম্মুখীন হন। উভয়ই মক্কার তত্ত্বাবধান নিজেদের হাতে নিয়ে মর্যাদা বৃদ্ধি করতে আগ্রহী ছিলেন। ৮৮১ ও ৮৮৩ সালে ইবনে তুলুন ও ইবনুল লাইস সশস্ত্র।বাহিনী পাঠিয়ে মক্কায় নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন, যার ফলে নগরীতে অস্থিরতা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। উভয়ক্ষেত্রেই হারুন তার বাহিনী নিয়ে প্রতিরোধ করেন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম হন। বিশেষ করে ৮৮৩ সালের মক্কার যুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং মিশরীয় বাহিনীকে নগরী থেকে বিতাড়িত করতে সহায়তা করেন।[]

৮৮৪/৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ঐ সময়ে জুবাইদাহ বিনত জা'ফরের পূর্বতন মালিকানাধীন একটি বাড়ি হঠাৎ ধসে পড়ে। এই ধসের ফলে মসজিদুল হারামের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত দশজন হাজী নিহত হন। এই দুর্ঘটনার পরপরই মক্কার গভর্নর হারুন ও শহরের কাজি ইউসুফ ইবন ইয়াকুব পুরো ঘটনার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন রাজধানী বাগদাদে পাঠান। সে সময় খলিফার প্রতিনিধি ও অভিভাবক আল-মুওয়াফ্‌ফাক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি অবিলম্বে মসজিদের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের নির্দেশ দেন এবং এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করে পাঠান। পরবর্তী বছরেই মেরামতের কাজ সম্পূর্ণ হয়। পুনর্নির্মাণ শেষ হলে মসজিদে হারামের ভেতরে আল-মুওয়াফ্‌ফাকের সম্মানে দুটি স্মারক ফলক স্থাপন করা হয়। এর একটি ফলকে হারুনের নাম উৎকীর্ণ ছিল এবং অন্যটিতে কাজি ও প্রকল্প-স্থপতির নাম উল্লেখ করা হয়।[]

হারুন দীর্ঘদিন মক্কার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ৮৯১/৮৯২ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল ছিলেন। কিন্তু ঐ সময় শহরে এক অস্থিরতা ও গৃহদ্বন্দ্ব দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই বিশৃঙ্খলার ফলে তিনি মক্কা থেকে বিতাড়িত হন। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার কারণে তিনি মক্কা ত্যাগ করে মিশরে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে তিনি মিশরেই বসবাস করতে থাকেন এবং অবশেষে ৯০১ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বর মাসে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। []

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Ibn Hazm 1982, পৃ. 32–33; Yarshater 1985–2007, v. 38: p. 5 n. 31.
  2. Yarshater 1985–2007, v. 36: pp. 199, 207; v. 37: pp. 11, 64, 79, 127, 145, 148, 152, 154, 155, 158, 161, 163, 175; 38: p. 5 and Ibn Kathir 2010, পৃ. 331 state that he led the pilgrimage for sixteen years between 878 and 893. Al-Mas'udi 1877, পৃ. 74 claims that his last pilgrimage was in 892, while Ibn Hazm 1982, পৃ. 33 says that he was the leader of the hajj from 877 to 892.
  3. Yarshater 1985–2007, v. 37: pp. 79, 161 refers to him as the governor of Mecca in 882, and as governor of Mecca, Medina and al-Ta'if in 890. Ibn Kathir 2010, পৃ. 313 likewise states that he was the governor of the Haramayn and al-Ta'if. Ibn Hazm 1982, পৃ. 33, without specifying any dates, calls him the governor of Medina and Mecca.
  4. Yarshater 1985–2007, v. 37: p. 79; Wüstenfeld 1861, পৃ. 204–05.
  5. Yarshater 1985–2007, v. 37: pp. 63-64, 127; Bosworth 1994, পৃ. 189; Wüstenfeld 1861, পৃ. 205.
  6. Wüstenfeld 1861, পৃ. 205–06; Bloom 1989, পৃ. 146; Pedersen 1991, পৃ. 673.
  7. Ibn Hazm 1982, পৃ. 33; Ibn Kathir 2010, পৃ. 363.

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]